নোংরামির মধ্যেই পুণ্যের সন্ধান | করে বেড়ান অঘোরী সাধুরা | নামের মতো এঁদের চেহারা বা আচরণ, সবই সাধারণদের চোখে বিটকেল | লম্বা চুল‚ কালো পোশাকের অঘোরী সাধকদের দেখলেই ভিড়ের মধ্যে আলাদা করা যায় |

অবশ্য শিব এবং কালীর এই উপাসকরা বড় একটা ভিড়ে থাকেন না | তাঁদের পছন্দ নির্জনতা | হিমালয়ের গুহা‚ সুন্দরবনের জঙ্গল‚ পশ্চিম ভারতের মরুভূমি এসব জায়গাই তাঁদের পছন্দ | তবে অঘোরীদের সবথেকে পছন্দের সাধনার জায়গা শ্মশানস্থল |

অঘোরীরা বিশ্বাস করেন‚ কালী-সাধনায় দরকার মাংস এবং যৌনতা | এবং এই মাংস-তে কোনও বাছবিচার থাকলে চলবে না | মৃত মানুষের দেহ থেকে মাংস খান অঘোরীরা | কখনও কাঁচা | কখনও ঝলসে | তারপর সেই দেহের উপর বসে চলে সাধনা | কোনও কোনও সময়ে ওই দেহের সঙ্গেও মিলিত হন যৌন সঙ্গমে |

খাদ্যাভ্যাসেও কোনও ঘেন্নার বালাই নেই এই শক্তি সাধকদের | নির্দ্বিধায় তাঁরা খেয়ে নেন মানুষের বর্জ্য | শ্মশানের পাশে বসে একই সঙ্গে খাবার ভাগ করে খান কুকুর বিড়াল বা অন্য কোনও প্রাণীর সঙ্গে | কারণ অঘোরীদের দর্শন হল‚ মনে ঘেন্না থাকলে ঈশ্বর চিন্তা সম্পূর্ণ হয় না | ঘেন্নার বেড়াজাল অতিক্রম করতে পারলেই সাধনায় মিলিত হওয়া যায় আরাধ্যের সঙ্গে |

আর এক দর্শন হল‚ বিকৃত কাজ করতে করতেও ঈশ্বরের ধ্যান করা | সেইজন্যে বেছে নেওয়া হয় মৃতদেহের উপর বসে ধ্যান অথবা মৃতদেহের সঙ্গে সঙ্গমের মতো আপাত ঘৃণ্য কাজ | এরকম কাজ করতে করতেও যে ঈশ্বরের কথা ভাবতে পারবে‚ সে-ই হল প্রকৃত অঘোরী |

অঘোরী সাধক-সাধিকা নিজেদের মধ্যেও সঙ্গম করেন | তখন সাধিকাকে রজঃস্বলা হতে হবে | এবং স্বেচ্ছায় মিলিত হতে হবে সাধকের সঙ্গে | কোনও জোর জুলুম চলবে না | এই সাধনায় নাকি অতিপ্রাকৃত শক্তি লাভ হয় |

আসলে অঘোরীদের বিশ্বাস‚ লজ্জা ঘৃণা ভয়‚ তিন থাকতে সাধনা নয় | তাই লজ্জাকে ঝেড়ে ফেলতে নামমাত্র একটুকরো কাপড় জড়িয়ে রাখেন তাঁরা | কখনও তাও নয় | সারা গায়ে মাখা থাকে শুধু ছাই | ঘেন্নাবোধ মুছে ফেলতে যা আয়োজন থাকে‚ তা তো আগেই পড়লেন | আর ভয়? সেটাকে ভুলতেই তো শ্মশানের মতো জায়গায় সাধনা উপাসনা |

আরও পড়ুন:  রহস্যময় অজ্ঞাত কারণে এই শিবলিঙ্গের উচ্চতা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে

এভাবেই নোংরার মধ্যে থেকে পবিত্রতার আরাধনা করে যান অঘোরী সাধকরা |

( পুনর্মুদ্রিত )

Sponsored
loading...

NO COMMENTS