আপনি সন্তানের বাবা বা মা হলে খুব স্বাভাবিক কখনো সখনো আপনি মেজাজ হারিয়ে সন্তানের ওপর চিৎকার করবেন | চিৎকার করার আগে আপনি হয়তো দুবারও ভাববেন না বাচ্চার ওপর এর কী প্রভাব পড়ছে | আজকাল অনেক বাবা মা বাচ্চার গায়ে হাত তোলেন না‚ হয়তো আপনারা মনে করেন গায়ে হাত তোলার বদলে তাদের ওপর চিৎকার করে বা বাচ্চাকে বকাঝকা করলে তা অনেক বেশি কার্যকারী হবে | এইভাবে হয়তো শারীরিকভাবে সে আঘাত পাবে না কিন্তু বাচ্চার মেন্টাল ওয়েল বিয়িং এবং আত্মসম্মান বোধ কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে | আজকাল বেশিরভাগ সাইকোলজিস্ট মনে করেন বাচ্চার ওপর চিৎকার করলে‚ অহেতুক পরামর্শ দিলে‚ অন্য বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করলে তা প্রবলভাবে বাচ্চার ওপর প্রভাব ফেলে | তাই এরপর বাচ্চাকে শাস্তি দেওয়ার সময় এগুলো এড়িয়ে চলুন |

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে সন্তান জন্মানোর পর মায়ের পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হওয়ার ফলে সে তার সদ্যজাত বাচ্চার ওপর চিৎকার করছে | কিন্তু মাথায় রাখুন এইভাবে মোটেই কিন্তু সুরাহা হবে না | উপরন্তু আপনি আরো বিরক্ত বোধ করবেন | সদ্যোজাত বাচ্চারা কিছুই বুঝতে পারে না | উল্টে আপনার চিৎকারে বাচ্চার sleeping cycle নষ্ট হয়ে যেতে পারে |

এক থেকে তিন বছরের মধ্যে যখন বাচ্চার বয়স থাকে তখন কিন্তু সে সব থেকে বেশি vulnerable থকে | ফলে আপনি তার সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করছেন তার ছাপ পরবর্তীকালে কিন্তু মুছে ফেলা কঠিন হবে | একজন সাইকোলজিস্টের কথায় এই সময় আমরা বাচ্চাদের ওপর চিৎকার করি তাদের ডিসিপ্লিনিড করার জন্য নয় | বাচ্চারা যাতে সুরক্ষিত থাকে এটাই আমাদের প্রধান চিন্তা থাকে এই সময় | যেমন ধরুন সে যাতে ভেজা মেঝের ওপর না দৌড়য় এই কারণে হয়তো আপনি তার ওপর চিৎকার করে উঠলেন | বা টয়লেট ট্রেনিং দিতে গিয়ে আপনি তার ওপর চিৎকার করলেন | বা খাবার খেতে না চাইলে আপনি তার ওপর চিৎকার করলেন | কিন্তু আপনি কেন চিৎকার করছেন আপনার বাচ্চার কিন্তু তা বোঝার ক্ষমতা নেই | এর ফলে বাচ্চারা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠবে | আর অত্যধিক বকাঝকার ফলে তার আত্মবিশ্বাস একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে | অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চাকে সবসময় ভীত এবং চুপচাপ হয়ে যেতেও দেখা গেছে |

তাহলে এই ক্ষেত্রে কী করবেন? বাচ্চার ওপর চিৎকার বা বকার পর বাচ্চাকে বুঝিয়ে দিন আপনি তাকে খুব ভালোবাসেন | এবং তার ভালোর জন্যই আপনি যে তাকে বকেছেন তাও বুঝিয়ে দিন |

বাচ্চার বয়স যখন তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে থাকে তখন কিন্তু সে সবসময় আপনার ব্যবহার অন্যদের সঙ্গে তুলনা করবে | তাই আপনি বাচ্চার সঙ্গে কীভাবে কথা বলছেন তা সে তুলনা করবে তার দাদু‚ ঠাকুমা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে | এই সময় বাচ্চার ওপর চিৎকার করলে বা বকলে আপনার এবং আপনার সন্তানের সম্পর্ক কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে | এই সময় বাচ্চারা তাদের মা বাবাকে খুশি করার জন্য সব কিছু ঠিক মতো করার চেষ্টা করবে | এটা কিন্তু বাচ্চার বিকাশের জন্য মোটেই ভালো নয় | এছাড়াও আপনি যাতে তাকে না বকেন এর জন্য সে আপনাকে মিথ্যা বলাও শুরু করবে | এর ফলে আপনিও যেমন আপনার বাচ্চাকে আর বিশ্বাস করবেন না তার ক্ষেত্রেও কিন্তু একই জিনিস হবে |

এই ক্ষেত্রেও বাচ্চাকে বকলে বা শাস্তি দিলে তাকে বুঝিয়ে দিন আপনি এমনটা কেন করলেন | যেমন ধরুণ আপনার বাচ্চা যদি কিছু জিনিস ভেঙে ফেলে তাহলে দুজনে মিলে একসঙ্গে তা পরিষ্কার করুন | বাচ্চার সঙ্গে এমনভাবে মিশুন যাতে সে আপনকে তার বন্ধু মনে করে |

তবে একটা জিনিস মাথায় রাখুন এর মানে কিন্তু এই নয় যে আপনি আপনার বাচ্চাকে কোনরকম শাসনই করবেন না | তার ওপর সবসময় চিৎকার করা বা শাস্তি দেওয়া যেমন খারাপ তেমনি তাকে অত্যধিক আদর দেওয়াও খারাপ | ছোটবেলায় বাচ্চাকে বেশি আদর দিলে পরবর্তী কালে কিন্তু সে আপনার শাসন মানবে না | এর ফলে বাচ্চার মধ্যে স্মোকিং‚ বা দেওয়ালে মাথা ঠোকা‚ সব কিছুতে বিরক্ত হওয়া বা নিজেকে সব কিছুর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে | সব থেকে ভালো হয় আগে থেকে প্ল্যান করে নিন কোন সময়ে বাচ্চার সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করবেন | বাচ্চাকে শাসন করলে বা বকলে তার কিছুক্ষণ পরে তাকে কাছে টেনে আদর করতে ভুলবেন না যেন |

আরও পড়ুন:  বর্ষাকালে ত্বকের সমস্যা হয় সবচেয়ে বেশি‚ কীভাবে ভালো রাখবেন জেনে নিন
- Might Interest You

NO COMMENTS