একজন সন্ন্যাসী হয়ে কি না তিনি আমিষ খাচ্ছেন ! রে রে করে উঠেছিল কলকাতার তথাকথিত ব্রাহ্মণ সমাজ |

সে খবর পৌঁছেছিল স্বামী বিবেকানন্দের কাছে | তখন তিনি আমেরিকায় | শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে যোগ দিতে | সেই তির্যক বক্রোক্তিতে স্বামীজি বলেছিলেন‚ বেশ তো ! আমাকে আতপ চাল‚ তরকারি আর ব্রাহ্মণ রসুই পাঠান | আমি নিরামিষ খাচ্ছি |

বলা বাহুল্য তা হয়নি | যে দেশ তাঁর আমেরিকা ভ্রমণের ব্যয়্ভার সম্পূর্ণ বহন করতেই অপারগ‚ তারা টিপ্পনি কাটা ছাড়া আর কী ই বা করতে পারে | ১৮৯৩ সালে‚ যে সময়ে স্বামীজি গিয়েছিলেন পাশ্চাত্যে‚ তখন আমেরিকায় সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ নিরামিষ খাবার কার্যত পাওয়া যেত না | তিনি আমিষ খাবার ভক্ষণ করেছিলেন | এবং নিঃসঙ্কোচে |

খাবার নিয়ে কোনওরকম ছুৎমার্গ ছিল না তাঁর | বলতেন খাবার এবং পোশাকের সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই | মাছ মাংস খেলে ঈশ্বর লাভ হয় না‚ এই বৈষ্ণব গোঁড়ামি স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে ছিল না | বরং বলতেন‚ যাঁদের কায়িক পরিশ্রম করতে হয় তাঁদের মাংস খাওয়াই উচিত |

স্বামীজি বারবার বলে এসেছেন‚ আধ্যাত্মিকতার জন্য নিরামিষ আহারের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ব্রহ্মচর্য গ্রহণ | মানুষ নিজের দুর্বলতা ঢাকতে ব্রহ্মচর্য থেকে নজর ঘুরিয়ে দেয় নিরামিষ খাদ্য গ্রহণের দিকে |

পরিব্রাজনের সময়েও খাওয়া নিয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয় স্বামীজির | আদতে তিনি ছিলেন মিষ্টিভক্ত | কিন্তু পরিব্রাজনের সময়ে অভ্যস্ত হলেন কাঁচালঙ্কা খেতে | ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঝাল খাবারের বহু চল রয়েছে | স্বামীজি নিজেকে অভ্যস্ত করে নিয়েছিলেন | নির্দ্বিধায় লঙ্কা খেতেন তিনি | মনে করতেন‚ সংসারত্যাগী সন্ন্যাসীর খাবার নিয়ে অত বাছবিচার থাকলে চলবে না | সবরকম খাবার এবং ছোঁয়াছুঁয়ির কথা না ভেবে যেকোনও জল খেতে অভ্যস্ত হতে হবে |

তবে যৌবনের খাদ্যরসিক নরেন আমূল পাল্টে গিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ হওয়ার পরে | অত্যন্ত পরিমিত আহার করতেন | দেশে থাকলে খেতেন নিরামিষ খাবার | কিন্তু প্রশ্রয় দিতেন না কোনও গোঁড়ামি বা ছুঁৎমার্গকে |

আরও পড়ুন:  পরীক্ষায় বসার জন্য পরীক্ষার্থিনীকে খুলতে হল অন্তর্বাস ‚ কাটতে হল জিন্সের বোতাম !
- Might Interest You

NO COMMENTS