ভাদ্র মাসে অঝোর বর্ষণে ভেসে যাচ্ছে পাড়াগাঁ | খুদকুড়োটুকু অবধি নেই গরিব ব্রাহ্মণ ক্ষুদিরাম ভট্টাচার্যর হেঁসেলে | খিদের চোটে পেট জ্বলে যায় দুই ভাই নেপাল আর গোপালের | বড়জন ১২ বছরের‚ ছোটজনের বয়স ১০ | বহুকষ্টে গ্রামের সীমান্তে পুকুরের পাড় থেকে তাল যোগাড় করে এনে দিয়েছিল জ্যোতি পিসিমাকে | ঘন কালো রঙের উৎকৃষ্ট তাল | কারণ জ্যোতিপিসিমার বাড়িতে তালনবমী ব্রতপালন হয় যে | 

জ্যোতি পিসিমার মুখার্জি পরিবার গ্রামে উচ্চবিত্ত | লোকে মান্যিগন্যি করে বেশ | তাদের বাড়িতেই মহা সমারোহে পালিত হয় তালনবমী ব্রত | কিন্তু গ্রামের মধ্যে একটাও তালগাছ ছিল না | ঝুঁকি নিয়ে তাল পেড়ে এনে পিসিমাকে দিয়েছিল নেপাল | বিনিময়ে নেয়নি এক পয়সাও | যদি তাদের নেমন্তন্ন না করেতাই | দুই ভাইয়ের পেটে সীমাহীন খিদের জ্বালা | চোখে ভরপেট তালের বড়া‚ তালের ফুলুরি‚ তালক্ষীর‚ তালের পায়েস আর তিলপিটুলি খাওয়ার স্বপ্ন | পূর্ণ হয়নি সেই সাধ | তাদের সামনে দিয়ে গ্রামের অনেকে সেই নেমন্তন্ন রক্ষা করতে গিয়েছিল | অভুক্ত বালকদের পেটের খিদে আর মনের সাধ রয়েই গিয়েছিল | তালনবমীর নেমন্তন্ন আর আসেনি |

অসামান্য কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনবদ্য ছোটগল্প তালনবমী | আদ্যন্ত গ্রামের মেঠো গন্ধ মাখা ব্রতকে অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন তিনি | তাকে উপজীব্য করে  সহজ পাঠের গপ্পো ছবি বানিয়েছেন পরিচালক মানসমুকুল পাল | বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে আদায় করে নিয়েছে প্রশংসা | ছবির দুই শিশুশিল্পী নুর ইসলাম ও সমিনুল আলম নির্বাচিত হয়েছে সেরা শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় পুরস্কারের জন্য |

যে ব্রত ঘিরে এত কিছু‚ সেই তালনবমী কিন্তু দেবী দুর্গার ব্রত | দেবীর এক নাম তালুজা | সেই থেকেই হয়তো অপভ্রংশ রূপ তালনবমী | কিন্তু বাংলা উড়িষ্যার গ্রামে তা হয়ে গেছে তালের প্রতীক | তালের নানা পদ বানিয়ে খাওয়া ব্রতর মূল অঙ্গ | ভাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষে রাধাষ্টমীর পরদিন নবমী থিতিতে পালিত হয় এই ব্রত | দিনভর উপবাস রেখে সন্ধ্যায় চাঁদ দর্শনের পরে ভঙ্গ করা হয় উপবাস | এদিনই দুর্গোৎসব বা দশেরার প্রস্তুতি শুরু হয় গৃহস্থের অন্দরমহলে | প্রধানত পূর্ব ভারতে হলেও দেশের অন্য অংশেও পালিত হয় এই ব্রত |

আরও পড়ুন:  স্মার্টফোন অর্ডার করেছিলেন অনলাইনে‚ প্যাকেট খুলে হাসবেন না কাঁদবেন ভেবে পেলেন না যুবক !

NO COMMENTS