সৌরভ মুখোপাধ্যায়
শূন্য-দশকে উঠে-আসা কথাকারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম। জন্ম ১৯৭৩, আশৈশব নিবাস হাওড়ার গ্রামে, পেশায় ইংরাজি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক। গত দেড় দশক নিয়মিতভাবে সমস্ত অগ্রণী বাংলা পত্রিকায় গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। পাঠক-প্রশংসিত উপন্যাস ‘ধুলোখেলা’, ‘সংক্রান্তি’ ও ‘প্রথম প্রবাহ’ এবং অনেক জনপ্রিয় ছোটগল্প তাঁকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। লিখতে ভালবাসেন ছোটদের জন্যেও, ‘মেঘ-ছেঁড়া রোদ’ তাঁর এক স্মরণীয় কিশোর-উপন্যাস। সাহিত্য ছাড়াও সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রে অনুরাগ প্রবল। ঘোর আলস্যবিলাসী ও আড্ডাপ্রিয়।

                    

                          “মৃত্যু যেদিন বলবে, ‘জাগো, প্রভাত হল তোমার রাতি’—

                          নিবিয়ে যাব আমার ঘরের চন্দ্র-সূর্য দুটো বাতি।

                          আমরা দোঁহে ঘেঁষাঘেঁষি

                          চিরকালের প্রতিবেশী,

                          বন্ধুভাবে কণ্ঠে সে মোর জড়ায়ে দেবে বাহুপাশ,

                          বিদায়কালে অদৃষ্টেরে করে যাব পরিহাস।”

এই ‘বিদায়কাল’টি কেমন হবে, তা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের মনে নানা রঙের চিন্তা খেলা করেছে আকৈশোর।  তাঁর বিভিন্ন পর্যায়ের রচনায় মৃত্যু ও তার স্বরূপ নিয়ে বিভিন্ন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কখনও মরণকে ‘শ্যাম সমান’ মনে করেছেন, কখনও  মৃত্যুর চরম অজ্ঞাত রূপটি তাঁকে সন্দিহান করেছে (‘কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়’), আবার জীবন থেকে মৃত্যুতে উত্তীর্ণ হওয়াকে ‘স্তন হতে তুলে নিলে কাঁদে শিশু ডরে,/ মুহূর্তে আশ্বাস পায় গিয়ে স্তনান্তরে’ এমন অকল্পনীয় চিত্রকল্পে মুড়ে সমস্ত সংশয় অতিক্রম করার ভাবনাও ফুটে উঠেছে তাঁরই কলমে। নিজের জীবনে এত বেশি মৃত্যুর ঘটনা সামনে থেকে দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সম্ভবত মৃত্যু নিয়ে কিছুটা নির্লিপ্ত ভাবও জন্মেছিল তাঁর একটা সময়। মৃত্যুর আঘাতকে তুচ্ছজ্ঞান করে তিনি এমনও বলেছিলেন, ‘আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো’।

          কিন্তু, মৃত্যু একেবারে চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়েছে যখন— শেষ নিশ্বাসটি পড়ার প্রায় একশো ঘন্টা আগে (তার মধ্যে শেষ বাহাত্তর ঘন্টা বাক্‌রহিত, অচেতনপ্রায় ছিলেন), তিনি মুখে-মুখে যে-কবিতাটি রচনা করলেন, তার শেষ পঙক্তিগুলি এইরকম :

                           “ভয়ের বিচিত্র চলচ্ছবি—

                           মৃত্যুর নিপুণ শিল্প বিকীর্ণ আঁধারে।”

           এ লেখার তারিখ উনত্রিশে জুলাই, উনিশশো একচল্লিশ। চারদিন আগে গুরুতর অসুস্থ কবিকে আনা হয়েছে কলকাতায়, ত্রিশ তারিখে অপারেশন হবে জোড়াসাঁকোতেই। চলে আসার সময়ে শান্তিনিকেতনে ছিল প্রায় মৃত্যুশোকেরই আবহ, তিনি নিজেও সম্ভবত জানতেন এই তাঁর অগস্ত্য-যাত্রা, হাত জোড় করে বিমর্ষমুখে বিদায় জানিয়ে এসেছেন সকলকে। অপারেশনের সাফল্য-সম্ভাবনা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যেই রয়েছে মতভেদ। কবিকে যখন আশ্বাস দিতে চাইছেন ডাক্তার— “সাবধানের মার নেই” এই বলে, কবি তার উত্তরে বলছেন, “মার যখন আসে তারও সাবধান নেই হে।” মৃত্যু-জল্পনার ছায়া বিস্তৃত রয়েছে চারপাশে। রবীন্দ্রনাথও কি শেষ মুহূর্তে ভয় পেয়েছিলেন মৃত্যুকে, যেমন সাধারণ মানুষ পায়? ‘ভয়ের বিচিত্র চলচ্ছবি’, ‘ত্রাসের বিকট ভঙ্গি’, ‘ভয়ের মুখোস’— বার বার এই ধরণের শব্দবন্ধ ঘুরে এল কেন মৃত্যু-পূর্ববর্তী বারো লাইনের কবিতায়? হয়তো আসন্ন অন্তিম, তার অজ্ঞেয় অন্ধকার— মুহূর্তের জন্যেও টলিয়ে দিয়েছিল আজীবনের স্থিতধী আস্তিকতার ভিত!

          কিন্তু, না। অপারেশনের টেবিলে ওঠার আগে, ত্রিশে জুলাই সকালে মুখে-মুখে অশীতিপর মুমূর্ষূ রবীন্দ্রনাথ রচনা করলেন আর-একটি কবিতা। তাঁর চেতন-মস্তিষ্কের শেষ দান। সেই কবিতায় তিনি পেরিয়ে গেলেন সব ভয়-সন্দেহ-দোলাচল। বললেন,

                            “…কিছুতে পারে না তারে প্রবঞ্চিতে।

                                       শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে

                                               আপন ভাণ্ডারে।

                             অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে

                                      সে পায় তোমার হাতে

                                            শান্তির অক্ষয় অধিকার।।”

#

এই প্রসঙ্গে আর-একটি লেখার কথা না বললেই নয়। সেটি কবিতা নয়, গান। মৃত্যুর দু-বছর আগেই রবীন্দ্রনাথ একটি গানকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন— তাঁর মৃত্যুমুহূর্তে বা তার পরে যেন সেই গানটিই গাওয়া হয়। সে গানে লিখেছিলেন :

                             “সমুখে শান্তি-পারাবার,

                                       ভাসাও তরণী হে কর্ণধার। …

                              মুক্তিদাতা, তোমার ক্ষমা তোমার দয়া

                                       হবে চিরপাথেয় চিরযাত্রার। …”

          শেষ পুরস্কার হিসেবে পেতে চেয়েছিলেন ‘শান্তির অক্ষয় অধিকার’, চিরযাত্রার চিরপাথেয় হিসেবে শান্তি-পারাবারের কর্ণধারের কাছে প্রাথনা করেছিলেন দয়া।

          কলকাতার শতসহস্র বাঙালি নাগরিক তাঁর অন্তিম লগ্নে তাঁকে সেই ‘শেষ পুরস্কার’ পেতে কেমন সহযোগিতা করেছিল? তাঁর চিরযাত্রার দিনে, সেই অবিস্মরণীয় বাইশে শ্রাবণে কেমন শান্তি-পারাবারের স্বাদ পেয়েছিল বাংলার শ্রেষ্ঠ কবির আত্মা, পাথেয় হিসেবে কেমন ‘দয়া’ পেয়েছিল দেশবাসীর কাছ থেকে? বিদায়কালে অদৃষ্টকে সত্যিই কি পরিহাস করে যেতে পেরেছিলেন রবীন্দ্রনাথ?

          বহু-চর্চিত, বহু-বিতর্কিত সেই সব ঘটনার কথা আর-একবার নেড়েচেড়ে দেখা যাক, কোনও নতুন আলো মেলে কি না।  

#

বাইশে শ্রাবণ, তেরোশো আটচল্লিশ বঙ্গাব্দে— ঠিক কী ঘটেছিল, জোড়াসাঁকোয় আর নিমতলায়?

           কবির মৃত্যুলগ্ন ও তৎপরবর্তী সময়-খন্ডটি জুড়ে— শবযাত্রা ও অন্তিম সংস্কারকে ঘিরে যে অভাবিত বিতর্ক ছেয়ে আছে, অন্য কোনও ইন্দ্রপতনের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। তাঁর শেষযাত্রার সঙ্গে তুলনীয় আগের-পরের আরও কয়েকটি, যেমন চিত্তরঞ্জনের, শ্যামাপ্রসাদের, উত্তমকুমারের, সত্যজিৎ রায়ের— যেগুলিতে বাংলার জনজোয়ার ভেঙে পড়েছিল— কারও শেষযাত্রাই মৃতের পক্ষে প্রতি পদে ও সর্বাঙ্গীনভাবে এতটা অবমাননাকর ও বিতর্কিত হয়ে ওঠেনি। একটা মহল থেকে আজও বলা হয়— রবীন্দ্রনাথকে এই বঙ্গদেশ জীয়ন্তে যত না অপমান করেছে, মরণে অপমান করেছে তার চেয়ে ঢের বেশি।

           আমরা এই ‘অপমানের’ প্রেক্ষাপটটি আগে একটু বুঝে নিই বরং।

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ৮)

           কবিকে নিয়ে জোড়াসাঁকো আর শান্তিনিকেতনের একটা টানাপড়েন অনেকদিন ধরেই চালু ছিল। আন্তর্জাতিক খ্যাতির অধিকারী এই জিনিয়াস যে আসলে তাঁদেরই ‘নিজস্ব’ জন, এটা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী ছিল দু’পক্ষই, হয়তো বা সম্পত্তির অধিকার ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত কিছু দ্বন্দ্বও জড়িত ছিল এই ঠোকাঠুকিতে। কবির শেষ বয়সে এই দ্বন্দ্ব তিক্ত আকার নেয়, মৃত্যুলগ্নে এসে তা রীতিমতো লড়াইয়ে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ নিজে ঝুঁকে ছিলেন শান্তিনিকেতনের দিকে। একেবারে গোড়া থেকেই নাগরিক জীবনের শুকনো প্যাঁচপয়জারে তাঁর বিতৃষ্ণা ছিল, তারপর পরিণত বয়স পর্যন্ত শহুরে বৌদ্ধিক জগৎ, এমন কী বৃহত্তর ঠাকুর-পরিবারের কাছ থেকেও নানা আঘাত পেয়ে মনটা তেতো হয়ে উঠেছিল তাঁর।  আশ্রমেই ছিল তাঁর প্রাণের আরাম, আত্মার শান্তি। শেষ ক্রিয়াকর্ম যেন তাঁর সাধনক্ষেত্র শান্তিনিকেতনেই হয়, উদার প্রকৃতির কোলে— এমনই সাধ ছিল তাঁর। কিন্তু, ভাগ্যের পরিহাস— আধুনিক চিকিৎসার দায়ে তাঁকে শেষ আশ্রয় নিতে হল সেই কলকাতাতেই, শেষ শ্বাসটিও রেখে যেতে হল ক্লিন্ন নাগরিক বাতাসেই।

          কবির মৃত্যু-সংশ্লিষ্ট যে-‘কদর্যতা’র ইতিবৃত্ত আমরা শুনে এসেছি— তার মূলে জোড়াসাঁকো বনাম শান্তিনিকেতনের এই বিবাদই অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন অনেকে। বোলপুরের একটা মহল থেকে অভিযোগ ওঠে, একরকম জেদ-জবরদস্তি  করেই কলকাতা-শিবিরের লোকজন আশ্রম-শিবিরকে হঠিয়ে দিয়ে, তাঁদের বক্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে, এমনকী কবির ইচ্ছার মর্যাদাও  না রেখে— মৃতদেহ দখল করেছেন এবং সম্পূর্ণ নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতায় শবযাত্রা ও দাহকর্ম সংঘটিত করে দিয়েছেন। বিপরীতে, কলকাতার কোনও কোনও বিশিষ্ট মানুষ জানান, এই সব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া;  যা ঘটেনি, কিংবা অতি নগণ্য পরিমাণে ঘটেছে— তাকেই ফেনায়িত করে অপপ্রচার করছেন কিছু কবি-ঘনিষ্ঠ ও জনাকয়েক আশ্রমিক।

         ইতিহাসে ও জনমানসে অবশ্য স্থায়ী হয়েছে অভিযোগগুলিই।  বহু-পঠিত, বহু-জল্পিত, বহু-ধিক্কৃত সে সব কাহিনি।  

         রবীন্দ্র-ঘনিষ্ঠ অনেকেই সে শেষ মুহূর্তের ও শেষ দিনটির নানা ধরণের বিবরণ রেখে গেছেন। বুদ্ধদেব বসু তো উপন্যাসেও অমর করে রেখেছেন সেই শ্রাবণদিনের হাহাকার। নির্মলকুমারী মহলানবীশের বিখ্যাত স্মৃতিকথায়, অমিতা ঠাকুর ও আরও কয়েকজনের বয়ানে বিস্তর মর্মান্তিক মুহূর্ত লিপিবদ্ধ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হল শব-দর্শনার্থী জনতার উন্মত্ত নির্লজ্জতা— কবির মৃতদেহ স্নান করানোর নিভৃত মুহূর্তটিতে রুদ্ধদ্বার ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়া। এমন কী, জীবিত কবির শেষ কয়েকটি মুহূর্তও বিশৃঙ্খল জনতার উৎপাতে জর্জর হয়েছিল, এই অভিযোগও মেলে। যে-জয়ধ্বনি কবির অনভিপ্রেত ছিল, সেই ‘রবীন্দ্রনাথ কি জয়’ চিৎকারে গগন বিদীর্ণ হচ্ছিল— উচ্ছৃঙ্খল ভিড় লোহার গেট ভেঙে উঠে এসেছিল দোতলার বারান্দায়, তাঁর শেষ শয্যার অনতিদূরে। শান্তিনিকেতনের ছাপ মিলছে এমন লোকজনকে বেছে বেছে অপমান করছিল ভিড়ের মধ্যে একদল লোক, সত্যজিৎ রায় প্রমুখ সাক্ষ্য দিয়েছেন। সবচেয়ে বহুল প্রচারিত যে কলঙ্ক— ইতিহাসবিদ তপন রায়চৌধুরী সহ একাধিক বিশ্রুত ব্যক্তি যার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করেছেন— তা হল, কবির মৃতদেহ থেকে চুল ও দাড়ি ছিঁড়ে নেওয়ার ঘটনা। শবের পাশে বসে নন্দলাল বসু নাকি পাখার বাঁট দিয়ে সেই ‘স্মারক’-লুব্ধ ভক্তদের তাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, বিবরণে এমনও আছে।

         অভিযোগের পরবর্তী স্তরে উঠে আসে শবযাত্রার চূড়ান্ত অব্যবস্থার কথা। প্রিয় কবিকে দূরদূরান্ত থেকে অনুরাগীরা দেখতে আসছিলেন, তার আগেই অস্বাভাবিক দ্রুততায় একদল ‘অভিসন্ধিপরায়ণ’ লোক পুরো প্রক্রিয়াটিকে কব্জা করে ঝড়ের গতিতে দেহ নিমতলা শ্মশানে নিয়ে চলে যায়। উপযুক্ততর স্থান ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানের বদলে কে বা কারা নিমতলায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, এবং এত ঝটিতি কার্যকর করলেন— তা বুঝে ওঠেননি অনেকেই। শেষযাত্রার ডকুমেন্টেশন-ছায়াচিত্রেও এই ‘অস্বাভাবিক’ দ্রুত গতিটি ধরা আছে, দেখতে পাওয়া যায়। বহু ভক্ত সেই শোকমিছিলের অবিশ্বাস্য বেগের কাছে পরাস্ত হন, তাঁদের ফুল মালা হাতেই রয়ে যায়। অভিযোগ, শ্মশানের ছবিটি ছিল ভয়াবহ। এমন একজন অসামান্য ব্যক্তির দেহ কীভাবে সম্মানজনক ভাবে সৎকার করতে হয়, শ্মশান বা কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কেউই তার জন্য প্রস্তুতি রাখেননি। একটা বেড়া পর্যন্ত ছিল না মৃতদেহের সুরক্ষার জন্য। কর্দমাক্ত প্রায়ান্ধকার শ্মশানে কবির দেহ শুইয়ে রাখা হয়, এবং উচ্ছৃঙ্খল লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত হয় নানাভাবে। চুল-দাড়ি ছেঁড়া তো ছিলই, পদদলিত হওয়ার অভিযোগ— বা চিতা নির্বাপনের সময় অর্ধদগ্ধ অস্থি সংগ্রহের জন্য জনতা পাগল হয়ে উঠেছিল বলেও উল্লেখ করেছেন, পরবর্তীকালে, অ্যান্ড্রু রবিনসনের মতো কেউ কেউ। 

         যে কথাটি অনেকেই শুনলে চমকে ওঠেন আজও তা হল— কবির শেষ সৎকারটুকুও তাঁর একমাত্র পুত্রের হাতে হয়ে উঠতে পারেনি। ছেলের হাতের আগুন পাননি রবীন্দ্রনাথ? হ্যাঁ, এইই নির্মম সত্য! ভিড়ের চাপে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্মশানে পৌঁছতেই পারেননি, কেউ কেউ জল্পনা করেন তাঁকে ইচ্ছা করেই আটকে দেওয়া হয় মাঝরাস্তায়। শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পৌত্র সুবীরেন্দ্রনাথ। আরও গুরুতর কথা আছে। শ্মশানে হিন্দু জনতার প্রাধান্য ছিল, সেই জনতা একরকম জোর করে সুবীর ঠাকুরকে বাধ্য করে আদি ব্রাহ্ম-মতের বদলে হিন্দু-মতে মন্ত্রপাঠ মুখাগ্নি ও সৎকার করতে। কবি নিজে এবং তাঁর উত্তরাধিকারীরা একান্তভাবেই নিজেদের রীতি অনুযায়ী  ব্রহ্মোপাসনা ইত্যাদি সহকারে শান্ত সম্ভ্রান্ত শেষকৃত্য চেয়ে এসেছিলেন বরাবর— কিন্তু সে ইচ্ছার মর্যাদা রাখা হয়নি, উগ্র ‘বলোহরি হরিবোল’ চিৎকারের মধ্যেই আগুন দেওয়া হয় শবদেহে। হিন্দু-ব্রাহ্মের পুরোনো রেষারেষি এইভাবে শ্মশানেও উৎকট চেহারায় ফুটে উঠেছিল, বলেন অনেকে।

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ৯)

          যে-কবির কল্পনায় ‘শান্তিপারাবারে’র ছবি আঁকা ছিল, বাঙালি তাঁর প্রয়াণের কালে তাঁকে অশান্তির সাগরে ডুবিয়ে ছেড়েছে— এ কথাটি এক স্থায়ী কলঙ্ক হয়ে রয়ে গিয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে।

#

কিন্তু, সত্যিই কি ততটাই ঘটেছিল— যতখানি রটনা? শোকের মুহূর্তে এতটা পৈশাচিক তাণ্ডব, এতরকম অনাচার সত্যিই ঘটিয়েছিল বাংলার মানুষ?

          এই বিপুল-প্রচারিত গ্লানিকর বিবরণীর বিপরীতে কি কারও কোনও বক্তব্য উঠে আসেনি?

          হ্যাঁ, তাও আছে এদিক-ওদিক। ক্ষীণ কিছু প্রতিবাদের স্বর শোনা যায়, যেগুলি গড্ডলধারার বাইরে বেরিয়ে কিছু নিরপেক্ষ সত্য শোনায়, ঘটনাক্রমের একটু অন্যধরণের বিশ্লেষণ তুলে ধরে, গুজব থেকে প্রকৃত বাস্তবকে ছেঁকে নিতে চেষ্টা করে। অনেকেরই দাবি, অধিক-প্রচারপ্রাপ্ত তথাকথিত ‘প্রত্যক্ষদর্শী’রা আপন মনের মাধুরী মিশিয়েছেন, কেউ কেউ অপরের মুখে শোনা কথা নিজের অভিজ্ঞতা বলে চালিয়েছেন, ফলে সত্যে খাদ মিশেছে অনেক। উদাহরনস্বরূপ, কবির এক নিকট-আত্মীয়ার দেওয়া বেশ কৌতূহলকর একটি পালটা বয়ান যেমন ‘দাড়ি-ছেঁড়া’র চালু গল্পটিকে নস্যাৎ করেছে : চূড়ান্ত অসুস্থতার সময় কবির দাড়ি একেবারে ছোট করে ছেঁটে দেওয়া হয়েছিল, টেনে ছেঁড়ার মতো দৈর্ঘ্যই ছিল না! এ নিয়েও বিতর্কের অবকাশ রয়ে গেছে বিস্তর।

          এই সব পালটা বক্তব্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে জোরালো, বস্তুনিষ্ঠ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যেটি, সেটি আমরা একটু ছুঁয়ে দেখব এখন।

          এই প্রতিবাদ-নিবন্ধটি লিখেছিলেন সজনীকান্ত দাস, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যার ‘শনিবারের চিঠি’র ‘সংবাদ-সাহিত্য’ শীর্ষক সম্পাদকীয় কলামে। একটি অসামান্য ডিফেন্স-আরগুমেন্ট হিসেবে বাঙালির কলঙ্ক-স্খালনে এই রচনার ভূমিকা উজ্জ্বল হয়ে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু খুব বেশি প্রচারের আলোয় আসেনি এই সব পালটা যুক্তিজাল। শেষ লগ্নের প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রত্যক্ষ অংশভাক হিসেবে সজনীকান্তের এই নিবন্ধ অবশ্যই এক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।  

          একেবারে পয়েন্ট ধরে ধরে অভিযোগ খণ্ডন করেছেন সজনীকান্ত। সারমর্ম এইরকম:

          ১।  কবির প্রাণবিয়োগের আগেই জনতা দোতলায় উঠে এসে ‘ব্যাঘাত’ করেছিল, এ কথা সত্য নয়। সকাল থেকেই সময়-সময় কবির মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ চাউর হওয়ার দরুণ গেটের বাইরে অপেক্ষমান বিপুল জনতার উদ্বেগ আর চাঞ্চল্য বেশি ছিল ঠিকই, কিন্তু তারা ধৈর্যও ধরেছিল। কর্তৃপক্ষ বেছে বেছে বিশেষ লোকজনকে কবিসন্নিধানে যেতে দিচ্ছেন দেখে তারা অসহিষ্ণু হয়, তারাও প্রিয় কবিকে দেখার দাবি জানায়। এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষ হঠকারীর মতো ঠাকুরবাড়ির লোহার গেট বন্ধ করে দেন, তাতেই জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে, ধাক্কার চোটে গেটও ভেঙে যায়। ‘যাহারা ভিড়ের সম্মুখে ছিল, তাহাদের নিষ্ক্রিয়তা সত্ত্বেও গেট ভাঙিয়াছিল এবং সেই হতভাগ্যদের লাঞ্ছনা হইয়াছিল সর্বাধিক। বিপুল জনতা একটি নিরেট বস্তুর মতো গেটে চাপ দিয়াছিল… … অসম্মান করার প্রবৃত্তি দেখি নাই।’              

          ২।  কলকাতা-শিবির কবির শবযাত্রা ‘হাইজ্যাক’ করেছে এই প্রচার উড়িয়ে দিয়ে সজনীকান্ত বলছেন, ‘নিঃসংশয়ে বলা যায় সমগ্র বাংলাদেশ সেদিন রবীন্দ্রনাথের শবদেহ বহন করিয়াছিল— ঠাকুরবাড়ি, শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতী বা ব্রাহ্মসমাজের কোনও বিশেষ দাবি টেকে নাই, টিকিতে পারে না… … ইহা আনন্দের কথা, ইহাতে কাহারও অভিমান হওয়া উচিত নয়।’ বরং আপামর জনতার কাঁধে-কাঁধে ছুটে-চলা ও আবেগের তরঙ্গে ভাসমান এই শবযাত্রাকে কবির অসীম জনপ্রিয়তা ও সৌভাগ্যের লক্ষণ বলেই চিহ্নিত করেছেন সজনীকান্ত।

          ৩।  কেন অমন দ্রুত শ্মশানে চলে গেল শব, তাও কর্তাব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে— নেতৃত্বহীন জনতার হাতে? সজনীকান্তের ব্যাখ্যা, দীর্ঘদিন সেবাযত্ন –উদ্বেগ-প্রার্থনার পর যখন অন্তিম পরাজয় এল— তখন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ও স্বজনবর্গ একেবারে হতোদ্যম বিমূঢ় আর চিন্তাশক্তিহীন হয়ে পড়েন। ক্লান্তি-হতাশা-অবসাদের দরুণ তাঁরা কিছুতেই আর বাধা দেননি। জনতার তাৎক্ষণিক বিবেচনাতেই নিমতলায় যাওয়া স্থির হয়। কবির ইচ্ছা, পরিজনদের অভিপ্রায়, কর্তাদের মনোভাব— এসব নিয়ে কথা উঠতেই পায়নি, শুধু রথীন্দ্রনাথ জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের কুলপ্রথা অনুযায়ী শবদেহ বেশিক্ষণ গৃহে রাখা হয় না, সেই কথাটি মেনেই কাজ হয়েছিল।

          ৪।  আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন সজনী— কলকাতা পুলিশ থেকেও অনুরোধ এসেছিল যাতে অন্ধকার নামার আগে এই বিপুল জনাকীর্ণ ‘ইভেন্ট’টি সমাধা করা যায়, কারণ তখন যুদ্ধকালীন ব্ল্যাক-আউট ব্যবস্থা চালু ছিল শহরে। এই সব মিলেই সম্ভবত, অমন ত্বরিতগতিতে মিছিল ধেয়ে গিয়েছিল নিমতলার দিকে। ‘জনতার কাছে সেদিন এক রবীন্দ্রনাথ ব্যতীত অপর কোনও ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের কোনও বৈশিষ্ট্য বা প্রাধান্য ছিল না; মৌলভী ফজলুল হক, সার্‌ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ্‌, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র বসু প্রভৃতি প্রধানেরা সকলেই সাড়ে বত্রিশ ভাজার মত জনতার মধ্যে মিশাইয়া গিয়াছিলেন।’ জনতার ঠেলায় শবযাত্রা একটি অভাবিত ও অনিয়ন্ত্রিত গতি পায়, ফলে পূর্ব-অনুমিত সময়ের অনেক আগেই শব-বাহক ও অনুগামীরা শ্মশানে উপস্থিত হন। শ্মশান-কর্তৃপক্ষ স্বভাবতই অপ্রস্তুত ছিলেন, বেড়া দেওয়ার সময়টুকুও পাননি। বস্তুত, এতে কাউকেই নির্দিষ্ট করে দোষারোপ করা চলে না। 

আরও পড়ুন:  পরের প্রজন্ম

          ৫।  সারা দিনের বৃষ্টিতে শ্মশান কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল ছিল, সঙ্কীর্ণ জায়গায় প্রচুর ভিড়। ঠেলাঠেলিতে হয়তো অসহায় হয়েই দু’একজন হুমড়ি খেয়ে শবাধার স্পর্শ করেন, হয়তো চিতার সামনে শায়িত শবদেহেও তাঁদের অঙ্গ ছুঁয়েছিল। কিন্তু সজনীকান্ত জোর দিয়ে বলছেন, সেটা অনিচ্ছাকৃত অপরাধ— ‘স্মারক’ হিসেবে চুল-দাড়ি ছেঁড়ার ঘটনা একেবারেই ঘটেনি, পদদলনের রটনাও মিথ্যা। বরং অপ্রতুল পরিকাঠামো ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও যে সৎকারে বাধা হয়নি, তার জন্যে তিনি জনতার প্রশংসাই করেছেন।

         ৬।  রথীন্দ্রনাথকে ঘিরে যে জল্পনা, তাও আদতে মিথ্যে— বলছেন ‘শনিবারের চিঠি’র সম্পাদক। আগে থেকেই অত্যন্ত অসুস্থ ও মুহ্যমান ছিলেন রথী, তিনি যে শেষকৃত্য করবেন না, এমনকী শ্মশানেও যাবেন না, তাঁর বদলে নাতি সুবীরেন্দ্রর প্রস্তুতি— এই সমস্তই পূর্বাহ্নে স্থির করা ছিল। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে স্বয়ং অবনীন্দ্রনাথ এই অগ্রিম বিধান দিয়েছিলেন। পরে নিতান্ত অস্থির হয়ে রথীন্দ্রনাথ শ্মশানের দিকে রওনা হয়েছিলেন, ভিড়ের চাপে মাঝপথে আটকে পড়েছিলেন এও ঠিক— কিন্তু তাঁর ফিরে আসার কারণ সেটা নয়। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার দরুণই তিনি ফিরে আসেন, এতে অন্যের কোনও দোষ ছিল না।

         ৭।  হিন্দু-মতে সৎকার, হরিধ্বনি ইত্যাদি প্রসঙ্গ উড়িয়ে সজনীকান্ত জোর দিয়ে বলছেন, আদি ব্রাহ্ম মতের সৎকাররীতি ‘হিন্দুমতের প্রায় অনুরূপ’। হ্যাঁ— মুখাগ্নি, চিতায় জল ঢালা, গঙ্গায় অস্থি-ভাসানো সবই হয়েছিল— ‘ইহাতে কি প্রমাণিত হয়, অধিকারীদের অনিচ্ছাক্রমে হিন্দুমতে তাঁহাকে দাহ করা হইয়াছে? উপাসনাদি মন্ত্রপাঠ সকলেই দেখিয়াছেন, শ্মশানে হরির নামেও আপত্তি হইবার কথা নয়।’

               শেষে জানাচ্ছেন সজনীকান্ত, যে-গান তাঁর দেহাবসানে গাওয়ার জন্য কবি চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন, সেই গান গাওয়াও হয়েছিল, সেই বাইশে শ্রাবণেই— বোলপুরের আশ্রমে। আবার, শ্রাবণ-সংক্রান্তিতে, কবির শ্রাদ্ধবাসরেও স্বজন-অনুরাগীরা গেয়েছিলেন— “সমুখে শান্তিপারাবার।”

#

সেকালের সংস্কৃতি-জগতের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, একজন বহুজনমান্য লেখক-সমালোচক ও প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার দায়িত্বশীল সম্পাদক সজনীকান্ত যেভাবে বলিষ্ঠ ভঙ্গিতে সমকালের এক কলঙ্ক-প্রচার খণ্ডন করেছিলেন— সমগ্র বাংলা সাহিত্যে তার জুড়ি মেলা ভার। মনে রাখতে হবে, এই রচনাটি লেখা হচ্ছে দশ-বিশ বছর পেরিয়ে এসে নয়, ঘটনার অব্যবহিত পরেই, ছাপা হচ্ছে ভাদ্র মাসে। তিনি আত্মবিশ্বাসী স্বরে বলছেন, ‘যাঁহারা মিথ্যা রটনা করিতেছেন, তাঁহাদের কথার জবাব দিবার আবশ্যক ছিল না। কলিকাতার জনসাধারণের প্রতি যে-অকারণ দোষারোপ করা হইয়াছে, তাহার প্রতিবাদেই এই প্রসঙ্গ লিখিত হইল ; সত্যই ইহা লিখিবার মত বিষয় নয়। অপোগণ্ড ছাত্রদের দুই একটি অশোভন আচরণ যদি কোথাও ঘটিয়া থাকে, তাহার জন্য সমগ্র জাতিকে অপরাধী করা চলে না।’ 

          লক্ষণীয়, এই রচনা অমন বিখ্যাত একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরেও কিন্তু এই লেখার পালটা কোনও যুক্তি-তর্ক বা খণ্ডনের চেষ্টা উঠে আসতে দেখা যায়নি সমকালীন ব্যক্তিদের কাছ থেকে। সে সময় পান থেকে চুন খসলেই বিরুদ্ধমতাবলম্বীরা অন্যান্য সাময়িকীতে ফাটাফাটি কাণ্ড বাধিয়ে দিতেন, আর সজনীকান্তের শত্রুও কম ছিল না। অথচ কোনও প্রতিবাদ দেখা যায়নি কোথাও। ধরে নেওয়াই যায়, সম্পাদকের লিখনে সত্যতা ছিল অকাট্য। বরং যে-সব স্মৃতিকথা বা রচনা ‘কলঙ্কজনক’ কাহিনিগুলি বিবৃত করে, সে-সবই আলোর মুখ দেখেছিল ঢের পরে। কিন্তু, আশ্চর্য, জনমানসে দৃঢ় হয়ে গেঁথে রয়েছে সেইগুলিই। কথায় কথায় সেই অবমাননাকর গল্পগুলিই উঠে আসে, বিশেষ-বিশেষ রবীন্দ্র-ঘনিষ্ঠদের বলে-যাওয়া সেই সব ‘আঁখো-দেখি’ই মুখে মুখে ছড়ায়।

          নেতিবাচক জল্পনার বিপরীত মেরুতে দাঁড়ানো, সমসময়ের মাটিতে দৃঢ় পা রেখে উচ্চারিত সজনীকান্তের এই ব্যতিক্রমী সদর্থক বক্তব্যটি উপেক্ষার অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ ‘গোপ্পে’ বাঙালি এই অসামান্য যুক্তিসমৃদ্ধ ভাবনার হদিশই পায়নি— পেলেও ততটা ‘মুচমুচে’ নয় বলেই হয়তো সরিয়ে রেখেছে, জাতির মুখে পাঁক-মাখানো গুজবকেই চেটেপুটে আস্বাদন করেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। হ্যাঁ, বিদায়কালের এই পরিহাসই জমা ছিল কবির অদৃষ্টে।

          বাঙালি স্বভাবতই ‘স্ক্যান্ডালমঙ্গার’, কেচ্ছাকাহিনির ভক্ত— এই সিদ্ধান্তেই কি আমাদের ঠেলে দিয়ে গিয়েছে সাড়ে সাত দশক আগের সেই বাইশে শ্রাবণ?

          আজকের বাংলাবাজারে বেস্ট-সেলিং রগরগে ‘রবীন্দ্র-কেচ্ছা’-গ্রন্থগুলির গর্বিত লেখক, ধুরন্ধর প্রকাশক ও লুব্ধ পাঠকদের দিকে তাকিয়ে আমরা কী উত্তর দেব?  

Sponsored
loading...

NO COMMENTS