ইয়াকুবমামাকে আমি কোন দিন দেখিনি। কেনই বা তাকে মামা বলতে হবে, সে প্রশ্নও আমার মনে কোনদিন আসেনি। ছোট থেকে কারো কথা শুনে শুনে মনের মধ্যে একটা ছবি তৈরি হয়ে যায় না? পরে সত্যি সত্যি চোখের সামনে দেখলে এ ছবিটা প্রায়ই মেলে না। ইয়াকুবমামার বেলায় ছবি মেলাবার কোন সুযোগই আমি পাইনি। সত্যি বলতে কি, ইয়াকুবমামার কোন ছবিই আমার মনে তৈরি হয়নি, শুধু একটা ফাঁকা খোপ , যার গায়ে লেখা ইয়াকুবমামা।

তবে ছবি না থাক, খোপটা একেবারে ফাঁকা ছিল না। ইয়াকুবমামার নানান কীর্তিকলাপ সেটাকে  ভরানোর জন্যে যথেষ্ট ছিল। ইয়াকুবমামার মূল খ্যাতি ছিল মাতাল হিসেবে। সে ছিল মাঠাইপুর গ্রামের সবচেয়ে কীর্তিমান মাতাল। ওহ, বলতে ভুলে গেছি আমার মামারবাড়ির গ্রামের নাম মাঠাইপুর। যাই হোক, মাতাল হিসেবে তার বেশ আভিজাত্য  ছিল। তাকে কেউ কখনো মদ খেয়ে ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখেনি। একবার কালীপুজোর লাইটিং –এ দেখেছিলাম, ড্রেনের ধারে একটা মাতাল পড়ে আছে, আর কুকুর এসে তার মুখে পেচ্ছাপ করছে। ইয়াকুবমামার এমন অবস্থা কক্ষনো হয়নি। মদ ছাড়া অন্য বহুবিদিত “ম” র দোষও তার ছিল না। এমন কখন শোনা যায়নি যে সে মদ খেয়ে গাঁয়ের বউ-ঝিদের উত্যক্ত করেছে বা তাদের গায়ে গিয়ে পড়েছে। গ্রাম, শহর, মফসসল- সব অঞ্চলেরই নিজস্ব পাগল ও মাতাল থাকে, সে এমন কিছু নতুন কথা নয়। কিন্তু এ কথা হলফ করে বলা যায়, ইয়াকুবমামার মত এত ভদ্র ও অভিজাত মাতাল খুব কম জায়গাতেই আছে।

ইয়াকুবমামার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য ছিল তার ইংরেজিপ্রিয়তা। তবে সে যে সবসময় ইংরেজি বলত তা নয়, মদ যখন তার মাথায় চড়ে যেত, তখনি ইংরেজি তার জিভে ভর করত। যেহেতু সে কখন স্কুলের  মুখও দেখেনি, তাই তার ইংরেজি জ্ঞানের সবটাই তার সোপার্জিত বলা যায়। কিন্তু এমন জোড়াতালির বিদ্যেতেও সে এত ব্যকরণগতভাবে নির্ভুল ইংরেজি কীভাবে বলত তা এক বিস্ময়ের বস্তু। তার নির্দশন দেব তৃতীয় বৈশিস্ট্য নিয়ে আলোচনার সময়।

ইয়াকুবমামার তৃতীয় বৈশিষ্ট্য তার স্বদেশানুরাগ। যে কোন দেশেই সংখ্যালঘুর দেশভক্তিকে স্বাভাবিকের চেয়ে হয় অনেক বেশি, নয় অনেক কম করে দেখান হয়। এ দেশেও ব্যাপারটা সেরকম।  “মাই নেম ইজ খান” বলার পর “আই অ্যা ম নট আ টেররিস্ট’ বলাটাই দস্তুর। কিন্তু মাঠাইপুর গ্রামে এমনটা কখন হয়নি। যারা ইয়াকুবমামার ইংরেজি শুনে হেসে লুটিয়ে পড়েছে, তারা কখনো ভাবেনি লোকটা একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। সেটা ভাবলাম আমি, যে মাঠাইপুর গ্রামের কেউ নয়, শহরের  সন্দেহপ্রবণতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিষ নিয়ে ইয়াকুবমামার এমন বিশ্লেষণ আমি ছাড়া আর কে-ই বা করবে? তবে এ ব্যাপারে আমার বিশেষ কিছু করার ছিল না। ইয়াকুবমামা  সর্বাধিক যে বাক্যটি বলত, সেটি হল “আই অট টু লাভ মাই কান্ট্রি দ্যাট ইজ ইন্ডিয়া” |

ছোটবেলা থেকেই এই অট, শুড ভার্বগুলোকে যথেষ্ট  গোলমেলে মনে হত। কখনো অট দিয়ে কোন বাক্য লিখেছি বা বলেছি বলে তো মনে পড়ে না। সেখানে ইয়াকুবমামা, সত্যি, কীকরে! তারপর ওই “অট”-এর সঙ্গে ভারতবর্ষকে জড়িয়ে নেওয়া! কম বেশি সবাই নিজের দেশকে ভালবাসি। কিন্তু দেশকে ভালবাসা যে একটা আবশ্যিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে, সেটা এই বাক্যটা না শুনলে বুঝতেই পারতাম না। লক্ষ্য করুন ইয়াকুবমামা এখানে শুড ব্যবহার করেনি, বলেনি -আই শুড লাভ মাই কান্ট্রি দ্যাট ইজ ইন্ডিয়া, করেছে অট ব্যবহার, অর্থাৎ দেশকে ভালবাসা উচিত – রাজনৈতিক নেতাদের মতো এমন কোন বাণী দিয়েই সে ক্ষান্ত হচ্ছে না,  একধাপ এগিয়ে বলছে দেশকে ভালবাসতেই হবে। এইখানে এসে আমার বিস্ময়ের সীমা- পরিসীমা থাকে না। ইয়াকুবমামার স্বদেশভক্তি আমার কাছে একটা খুব উজ্জ্বল দৃস্টান্ত হয়ে থাকে এবং নাগরিক সন্দেহবাতিকে এও মনে না হয়ে পারে না, ইয়াকুবমামার নাম ইয়াকুব বলেই তার ভারতপ্রীতিকে এত বেশি করে জাহির করতে হচ্ছে।  তবে সন্দেহ, দ্বেষ, হিংসা – এসব নিয়ে মানুষ চিরকাল বাঁচতে পারে না। শেষ পর্যন্ত  ইয়াকুবমামা লেখা স্মৃতির খোপে দেখি  তিনটে শব্দ-  অট, লাভ আর ইন্ডিয়া। আর তার ওপর পড়ে শরতের তীব্র সোনালি রোদ। ভাবছেন কেন শরত, তাই তো? আসলে সারা বছরের অন্য সময়ে দু-একবার মাঠাইপুর যাওয়া হলেও , লম্বা ছুটি ছিল সেই শরতেই। তখনো পৃথিবীটা এত ব্যস্ত হয়ে অঠেনি যে পুজোর ছুটিটাকে কেটে অর্ধেক করে দেওয়া হবে। পঞ্চমী থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত একটা  লম্বা ছুটি পাওয়া যেত আর সে ছুটির পুরোটাই খরচ হত মাঠাইপুরে। সঙ্গে নতুন জামাকাপড়ের সঙ্গে এক ব্যাগ বইখাতাও যেত, সেগুলো ওইভাবেই অস্পৃষ্ট ফিরে আসত। ফেরার ট্রেনে বিকেল কখন  সন্ধেয় গড়িয়ে যেত, একমাস আগে যে পৃথিবীকে শরতের রোদে ঝলমল করতে দেখে গেছি, তার ওপর হেমন্তের ছায়া পড়তে শুরু করেছে। সন্ধেটাকে আরও ভারি, আরও বিষণ্ণ করে তুলত ওই না-ছোঁয়া বই ভর্তি ব্যাগটা।

আরও পড়ুন:  অস্ট্রেলিয়ায় দুর্গাপুজো

যাই হোক, ষষ্ঠীর দিন মাঠাইপুরে পা রেখেই প্রথম যে কথাটা শুনতে হত – “জানিস তো, তোর ইয়াকুবমামা কী করেছে? মদ খেয়ে আমাদের বাড়ির সামনে আনসান বকছিল, বাবা বেরিয়ে গিয়ে বলল, ইয়াকুব বাড়ি যাও, অমনি সুড়সুড় করে চলে গেল। যাবার আগে কী বলল জানিস? বলল গ্রামের এই একটা লোক কেই আমি রেস্পেক্ট করি। রেস্পেক্টের র টা যদি শুনতিস!”

না শুনেও ইয়াকুবমামার ওপর আমার রেস্পেক্ট বেড়ে গেল। তবে ওই পর্যন্তই। কারণ মাঠাইপুরের একমাত্র বারোয়ারি পুজোমণ্ডপে তখন ঢাক বাজছে। পাশের যুগের যাত্রী ক্লাব থেকে মাইকে প্রথম চান্স পাওয়া পুঁটে কিংবা মন্টু বলছে “যারা যারা এখনো মহাষষ্ঠীর অঞ্জলি দিতে পারেননি” ইত্যাদি ইত্যাদি। ইয়াকুবমামা অমনি ফেড আউট হয়ে গেল। কিন্তু ইয়াকুবমামাকে একদম ভুলে মাঠাইপুরে থাকা অসম্ভব। সেবার আমার কুমারীপুজো হয়েছে,  সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ আমার পায়ে ফুল-বেল পাতা দিয়ে প্রণাম  করেছেন-দেখে আমি রোমাঞ্চিত।  লাল শাড়ি, চন্দনের সেই সাজ কি বৃথা যেতে দেওয়া যায়? অতএব আমাকে নিয়ে যাওয়া হল মনুমামার ফটোফিনিশ স্টুডিওয় (এমন সার্থকনামা দোকান সত্যিই খুব কম দেখেছি)। ইয়াকুবমামা যেমন মাঠাইপুরের এক মাত্র আগমার্কা মাতাল, তেমনি  মনুমামা সেই সময়ের, মানে যখন অঞ্জলি দিতে দিতে মোবাইলে সেলফি তুলে রাখার ট্রেন্ড চালু হয়নি) মাঠাইপুরের এক এবং এক মাত্র মুহূর্ত সংগ্রাহক। “শিলরি বিনা চাটনি ক্যায়সে বনি” গানের সঙ্গে ভাসানের উদুম নাচ বলো, বা খাদি মন্দিরের চারু ভান্ডারীর শবযাত্রা কিংবা আলুর গুদামের জলোর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি- সবকিছুতেই মনুমামা। তার ধৈর্য অসীম এবং তার শিকারদের ধৈর্য অসীমতর। সে নাকি একবার বিস্টুপুর শ্মশানের উদ্দেশে রওনা হওয়া, খাটিয়ায় শায়িত নাড়ুর ঠাকুরদার মরদেহকে বলেছিল “ইসমাইল” তাই শুনে এতক্ষণ কাঁদতে কাঁদতে স্যাচুরেশনে পৌঁছে যাওয়া পরিবার পরিজন সবাই থার্টি টু অল আউট করে (কেউ কেউ বলে ওলাউটো) হেসেছিল। বিশ্বাস না হলে, সে ছবির এক কপি এখনো ফটোফিনিশ স্টুডিওর শোকেসে সাজান আছে, দেখে আসতে পারেন।

আরও পড়ুন:  ভূতের খোঁজে

মনুমামা আবার অনেকের বিপদে আপদে সাহায্য করত। যেমন সত্য, জ্ঞান ও শান্তি- মণ্ডল বাড়ির এই  তিন ছেলে অনেক পাস দিলেও জীবিত বাবার সঙ্গে তাদের কোন ছবি ছিল না, আর সে কথা তাদের মনে পড়ল বাবা মারা যাবার তিন সেকেন্ড পর। তারা  মনুকে ধরে পড়ল। মনুমামা সেই সদ্য মৃত গোবর্ধন মণ্ডলকে চেয়ারে বসিয়ে , তিন ছেলেকে দিয়ে জড়িয়ে টড়িয়ে প্রত্যেকের মুখে হাসি আনিয়ে এমন ছবি তুলে দিল যে জ্যান্ত মরা ধরে কার বাপের সাধ্যি! না। এর অবশ্য প্রমাণ দিতে পারব না। কারণ কোন এক রহস্যময় কারণে ফোটোফিনিশ স্টুডিওয় এর কোন কপি নেই। আর জ্ঞান, সত্য আর শান্তি কী এক চিটফান্ডে অনেকের টাকা মেরে কোথায় যে গা ঢাকা দিল। যাই হোক, সেই বিখ্যাত  মনুমামার কাছে আমাকে তো ছবি তুলতে নিয়ে যাওয়া হল। মনুমামা সাধারণ ফোকাস ঠিক করতে এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় নিত। আর আরও সূক্ষ্ণ কাজ পেতে চাইলে সেটা দাঁড়াত পাক্কা তিন ঘন্টা। আমার সৌভাগ্য, আমার ফোকাস এক ঘন্টা কুড়ি মিনিটে হয়ে গেছিল। এই এক ঘন্টা কুড়ি মিনিটে আমার যে কতবার হিসি পেল, জলতেষ্টা পেল, খিদে পেল-তার ইয়ত্তা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, নতুন কড়কড়ে শাড়িতে আমি ঘেমেনেয়ে একশা হয়ে গেলাম। আমাকে ভুলিয়ে রাখার জন্যে অতএব আবার সেই ইয়াকুবমামা। “জানিস তো, ইয়াকুব কাল কী করেছে? পঞ্চার দোকানে গিয়ে দেখে তখনো চপ ভাজা হয়নি, অমনি কি ইংরেজি বুকনি। বলে কিনা, পঞ্চা, ডোন্ট আন্ডার এস্টিমেট বাংলা। ইট ইজ কলড কান্ট্রি লিকার ইউ নো। আই অট টু লাভ মাই কান্ট্রি অ্যান্ড অলস কান্ট্রি লিকার।  বিগ ট্রাডিশন হুঁ হুঁ বাবা।“

আপনারা ভাবছেন, মনু মামা তো ফোকাস ঠিক করতে ব্যস্ত ছিল, তাহলে  এ গল্পটা আমাকে কে শোনাল? এতক্ষণ এ প্রশ্নটা আপনাদের মাথায় আসেনি কেন বুঝতে পারছি না। ভাবছেন, মাঠাইপুর গ্রামের অধিবাসীবৃন্দ প্রত্যেকে আমার কানের কাছে ইয়াকুবমামার নাম জপে যেত? মোটেই তা নয়। মাঠাইপুর গ্রামের বৈশিষ্ট্য হল, সেখানে সব ভাল জিনিসই এক পিস করে ছিল। সেখানে একটাই স্ট্যান্ডার্ড মাতাল। একটাই বারোয়ারি পুজো, একটাই মনু মামা, এবং একজনই ইয়াকুবমামার গুণগ্রাহী ও প্রচারক। সে আমার ছোটমামা। ইয়াকুবমামার প্রতিভা মহাদেশে সে ছিল একমাত্র কমম্বাস। সে এমন একটা সময় ছিল, যখন মনে রাখতে হবে বাংলাকে ধেনো, চোলাই, ধান্যেশ্বরী ইত্যাদি নানা নামে ডাকলেও বিষমদ কেউ বলত না এবং সে খেয়ে কেউ মারা গেলে টাকাও পাওয়া যেত না। আর মদ খেয়ে অন্তত মাঠাইপুরের কেউ মারা গেছে বলে শুনিওনি।

আরও পড়ুন:  ডুগডুগি (পর্ব ১৫)

ইয়াকুবমামা মারা গেছিল মদ খেয়ে নয়, কিছু খেতে না পেয়ে। এভাবে মৃত্যুর কোন  গরিমা নেই। না খেয়ে মরা? ছো এরকম তো কতই হয়!  তাই ইয়াকুবমামার এত কীর্তির কথা শুনলেও কবে সে মারা গেল জানতেও পারিনি। অবশ্য মাঠাইপুরের সঙ্গে যোগাযোগ কমতে কমতে প্রায় নেই হয়ে গেছিল। আমি দীর্ঘকাল বিদেশে, তারপর ফিরে এলেও, যা হয় অফিস , সংসার, বাচ্চা; মাকেই দেখতে যাওয়া হয় না, তা মামারবাড়ি। তবে গত মাসে একবার যেতে হল। দিদার শ্রাদ্ধ। অনেক অসুবিধে ছিল, তবু ঠিক করেছিলাম, যাবই। এবার না গেলে, মাঠাইপুরে হয়তো আর কোনদিন যাওয়া হবে না।

গিয়ে দেখলাম, মাঠাইপুর গ্রামটা শহরের মতো বিশেষত্বহীন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা, কেবল টিভি, মোবাইল – সব আছে, অথচ কী যেন নেই, কারা যেন নেই। দাদুর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হল , কে যেন বলেছিল, গ্রামের মধ্যে এই একটা লোককেই। বিকেলে চলে আসব, গাড়িতে উঠতে যাচ্ছি, ছোটমামা হঠাত বলল। “ইয়াকুবমামাকে মনে আছে তোর? ওই দেখ ইয়াকুবের বড় ছেলে’ বেশ নম্র চেহারার একটি ছেলে,  পরিস্কার জামা আর লুঙ্গি পরা, শুনলাম শিয়ালদায় সব্জির ব্যবসা করে, রোজ ভোরের ট্রেনে যায়। কী ভীষণ বর্ণহীন হয়ে গেছে মাঠাইপুর। আমার হতাশ মুখের দিকে তাকিয়ে ছোটমামা বলল “ ভাগ্যিস, ছেলেগুলো বাবার মত হয়নি। হতচ্ছাড়া তো খেতে না পেয়ে”|

সামনের  সপ্তায় পুজো। যুগের যাত্রী ক্লাবের নামে ছোটমামা ৫০১ টাকা চাঁদা নিয়েছে এক ফাঁকে, আবার মহাষষ্ঠীর অঞ্জলি এখনো যারা দেননি, কুমারী পুজো, মনুমামার ছবি, শুধু ইয়াকুবমামা নেই। আমি গাড়িতে উঠে পড়লাম। নতুন বাইপাস হয়েছে। গাড়ি সেই রাস্তা ধরল। দু’পাশে ভারতবর্ষের কত নাম-না-জানা গ্রাম, জনপদ ফেলে আসতে আসতে আমি যেন দেখতে পেলাম একটি অর্জুন গাছের তলায় গাছের তলায় ইয়াকুবমামা শুয়ে আছে। তার মৃত্যুর ছায়া পড়া মুখে শরতের রোদ। সে জড়ানো গলায় বলছে “আই অট টু লাভ মাই কান্ট্রি দ্যাট ইজ ইন্ডিয়া” |

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ