রামভক্ত হনুমানের কিন্তু পাঁচটি মুখ | বিপদতারণ হনুমানের এই পঞ্চমুখের পিছনে আছে আকর্ষণীয় গল্প | রামায়ণের অসংখ্য গল্পের মধ্যে একটি আখ্যান | এবং এই গল্প জড়িয়ে আছে রাম-রাবণের যুদ্ধের সঙ্গে |

রামের বিরুদ্ধে জয়ী হতে রাবণ সাহায্য চান মহীরাবণ এবং অভিরাবণের | তাঁরা দুজনেই ছিলেন লঙ্কারাজ রাবণের ভাই | পাতালের শাসক | মহীরাবণ রূপ ধারণ করেন বিভীষণের | আসেন রাম-লক্ষ্মণের কাছে | দুজনকে অপহরণ করে নিয়ে যান পাতালে |

রাম-রামানুজকে খুঁজতে হনুমান যান পাতালে | গিয়ে দেখেন দ্বারে প্রহরায় আছেন মকরধ্বজ | এই মকরধ্বজের জন্ম নিয়েও আছে কাহিনি | রামায়ণ অনুযায়ী মকরধ্বজের জন্মের পিছনে হনুমানের অবদান আছে |

স্বর্ণলঙ্কায় অগ্নিকাণ্ডের পরে লেজের আগুন নেভাতে হনুমান লেজ চুবিয়েছিলেন সমুদ্রের জলে | তখন তাঁর এক ফোঁটা ঘাম থেকে মকরধ্বজের জন্ম | তাই‚ মকরধ্বজ হনুমানকে নিজের পিতা ভাবতেন |

যাই হোক‚ পাতালের প্রবেশপথে মকরধ্বজকে দেখে হনুমান নিজের পরিচয় তাঁকে দেন | সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে প্রণাম করে পথ ছেড়ে দেন মকরধ্বজ |

হনুমান পাতালে প্রবেশ করে দেখেন মহীরাবণ এবং অভিরাবণকে বিনাশ করতে হলে পাঁচটি দীপ নেভাতে হবে | তাদের মুখ আবার পাঁচদিকে | তাই‚ হনুমান পাঁচটি মুখ ধারণ করলেন |

একটি মুখ হল বরাহ-মুখের মতো | সেই মুখটি থাকল উত্তরদিকে | নরসিংহের মতো দেখতে মুখ থাকল দক্ষিণ দিকে | গরুড়রূপী মুখ থাকল পশ্চিমে | হয়গ্রীবা মুখ হল আকাশমুখী | আর‚ হনুমানের নিজস্ব মুখ থাকল পূর্বমুখী হয়ে |

এই পঞ্চমুখ নিয়ে পাতালে প্রবেশ করে হনুমান পাঁচদিকে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলেন পাঁচটি দীপ | তারপর বিনাশ হল মহীরাবণের | উদ্ধার পেলেন রাম-লক্ষ্মণ | রামচন্দ্রের নির্দেশে পাতালের শাসক হলেন মকরধ্বজ | তাঁকে দায়িত্ব অর্পণ করলেন হনুমান |

এইভাবে‚ রামচন্দ্রের সেবায় পঞ্চমুখের অধিকারী হন ভক্ত হনুমান |

আরও পড়ুন:  ভাইদের মৃতদেহ খেয়ে জীবনধারণ করে বাবার হাড় থেকে পাশার ঘুঁটি বানিয়ে প্রতিশোধের খেলা খেলতে থাকেন শকুনি

NO COMMENTS