অপ্রয়োজনেও,হাতের গুলি নাচায়; ওর চাহনিতে মহিলারা এমনিই দাঁড়িয়ে পড়ে
ছিন্নমস্তা সার্কিট রেস ’১৬

(অম্বা লাফাইয়ের সাথে একটা কফি শপে ঠেক মারতে গিয়ে দ্যাখে ওর মাথায় একটা মশা। ডেঙ্গি হতে পারে আতঙ্কে অম্বা কফিশপেরই রান্নাঘর থেকে গরমাগরম একটা ফ্রাইং প্যান ছোঁ মেরে লাফাইয়ের মাথার মশাকে, মানে লাফাইকেই তাড়া করে। কফি শপ ছেড়ে ওরা দৌড়তে থাকে।) (ধরতাই) 

 

বেশ খানিকটা দৌড়ের পর অম্বার সম্বিৎ ফেরে। হাঁপাতে হাঁপাতে ওর উপলব্ধি হয়, এই দৌড়ের কোনো মানে হয় না। এতক্ষণ দৌড়ানোর পর-ও লাফাইয়ের মাথায় যে মশাটা বসে আছে, যদি থাকে, সেটা আর যাই-ই হোক, মশা নয়, ডেঙ্গি, কালাজ্বর, এইডসছড়াইটিস যাই-ই হোক না কেন। অম্বার মানসচক্ষে ভেসে উঠল, লাফাইয়ের তেল চকচকে টাকে বসা মশাটা ওকে হুল দিচ্ছে।

আর দূর্ঘটনাচক্রে পাশেই একটা দেয়ালে ঠেস দিয়ে অ্যাই লম্বা জিব বার করে হাঁপাতে গিয়েও লাফাই জিব ঢুকিয়ে নেয়, যদি অম্বা দেখে ফেলে!! … কোনোক্রমে ওকে টেক্সট করে, হানি, দ্যাট ইস টিকি,নট মশা; প্লিজ …

অম্বা হাতের ফ্রাইং প্যানটার দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্ত ভাবে, … আগে বললেই হত… তারপর মেস-এ ফিরতে শুরু করে। প্যানটা ফেরৎ দিতে যাওয়া অমূলক। থাক ওটা, পরে কাজে লাগতে পারে।

 

আসলে লাফাইকে ও যেটা বলতে এসেছিল সেটাই বলা হল না… ওদের প্রমীলা বাইক রেস্‌টার কথা।

সব ব্যবস্থাই হয়ে এসেছে। আটটা মেয়েকে নির্বাচন করা হয়ে গেছে। ড্রেস কোড জিন্‌স্‌, টি শার্ট আর অরকিক লেখা হেলমেট। কেটারার, ডেকরেটার সব ফিট। আর দু সপ্তাহ পরেই ছিন্নমস্থা এক্সপ্রেসওয়েতে ওদের বাইক রেস। ওদের মানে অম্বাদের। যার  উদ্যোক্তা অরকিক। অম্বা, রম্ভা, কিস্বে আর কম্‌বা। বাকি পুলিশ পার্মিশন, ফ্ল্যাগ অফ-এর জন্য নায়ক স্‌ব্বোজিতের সাথে যোগাযোগটা রেখে যাওয়া; “আপনি না; উম্‌ম্‌ম্‌ …”, আর বাইকের পেছনে চড়াবার জন্য প্রপ হিসাবে কটা সেক্সি ছেলে যোগাড় করা।

মজা হল থানায়। মাখনটা রম্ভাই ভালো লাগায়, (বাই প্রফেশন। টেলিকলার।) চালু ছকে হ্যাল্লো স্যর বলে শুরু করে। আমরা ‘অরকিক’ বলে একটা অর্গানাইজেশন থেকে এসেছি। আমরা উইমেন্‌স্‌ রাইট্‌স নিয়ে কাজ করছি।

ইন্সপেক্টর  পি পি দাস (প্রবল্প্রতাপ; কিন্তু বিনয়ী, তাই দাস) মাথা তুলে তাকায়।

– এটা কি নারী স্বাধিকার কমিটির অফিস বলে মনে হচ্ছে আপনার।

– না না, ওটা আমাদের সম্বন্ধে ইন্ট্রো দিচ্ছিলাম। আসলে আপনি তো আমাদের চেনেন না, রম্ভা মিষ্টি করে হাসে, আমাদের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে স্যর, আর তাতে আপনার মূল্যবান সময় আমাদের কাছে ভীষণ মূল্যবান; আর তা নষ্ট করার জন্য আমরা দুঃখিত…

– ওরকম কল সেন্টার মার্কা কথা বলবেন না। তাড়াতাড়ি বলুন আমার কী করার আছে আপনাদের এই ‘বিস্‌আল কর্মযজ্ঞে’!… প্রপার কাগজপত্র আছে?

-ধন্যবাদ স্যর। আমাদের প্রতিনিধি আগামী ২৪ ঘন্টার … শেষ করার আগেই পেছনে একটা হালকা চিমটি; “এক্সকিউজ মি স্যর” বলে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ‘অ্যাই, কল-এ আছি না!’ বলেই কেলোটা বুঝতে পারে; আর ১৮০ ডিগ্রির পুণঃঘূর্ণন শেষের আগেই কিস্বে ওকে একটা হালকা ড্যাশে সাইডলাইনে চিয়ারগার্ল বানিয়ে দেয়; আর সামনের অফিসারকে নখ্‌রাফ্যাসা গলায় বলে, সমস্যাটা তো সেখানেই। এটা আমাদের প্রথম কাজ। সোসাইটি হিসাবে রেজিস্ট্রি করতে গেলেই ওরা বলছে আগেকার কিছু অ্যাক্টিভিটি আছে? আর আপনি … কাগজ… ।

আরও পড়ুন:  আলোঝাপসা
এটা কি নারী স্বাধিকার কমিটির অফিস বলে মনে হচ্ছে আপনার
এটা কি নারী স্বাধিকার কমিটির অফিস বলে মনে হচ্ছে আপনার

আমি কাগজ নই, আমি প্রবল্প্রতাপ। অফিসার মাথা উঠিয়ে নামিয়ে একবার কিস্বে কে আপদমস্তক মেপে নেয়। তার পাশে আরেকটা মেয়ে, দুটোই বেশ ডাঁটোসাটো, একটা কালো, আফ্রিকান মার্কা, আরেকটা বেশ ধোলো, কিন্তু সুন্দরী জার্মান বুলডগ জাতীয়; এটার হাতে আবার একটা বড়সড় কিছু…

– ওটা কি?

– ফ্রাইং প্যান। সারাতে বাজারে যাব; বলে একটু হেসে দরকারের থেকে সামান্য একটু বেশী জোরে টেবিলের ওপর ফ্রাইং প্যানটা রাখে অম্বা।

– ও, বলে অফিসার একটু পিছনে হেলে বসে।

– আমরা একটা বাইক রেস করতে চাই, কিস্বে বলে যায়, প্রমীলা বাইক রেস। ছিন্নমস্তা এক্সপ্রেসওয়েতে, দুর্গাবাড়ি থেকে রথতলা অবধি। শুধু দুদিকে দুটো স্টেজ। ক্রাউড আর সাংবাদিকরা। ফ্ল্যাগ অফ করবেন প্রখ্যাত অভিনেতা স্‌ব্বোজিৎ আর পুরস্কার বিতরণ আপনার হাতে।

– তা এর সাথে উইমেন্‌স্‌ রাইট্‌স্‌ এর কী সম্পর্ক? কোনো সেলাই স্কুল, ফ্রি ক্লিনিক এসব নেই আপনাদের?

– ও সব ব্যাকডেটেড। মানে মহিলা মানেই দুঃস্থ এমনটা তো নয়। আমরা সেল্‌ফ কনফিডেন্স আর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং নিয়ে কাজ করছি। কিস্বে বলে।

– বাইক চালিয়ে? কী, মানে, কোনটা হবে?

– দুটোই হবে আঙ্কল, কম্বা বলে। আমি সিক্কিমের মেয়ে। আমি দেখেছি, এখানকার মেয়েরা ভীষণ বেশী বেশী ফেমিনাইন। দে হ্যাভ টু কাম আউট অ্যাজ আ হিউম্যান বিয়িং। ফার্স্ট দে আর আ পারসন, তারপর তো একজন মেয়ে!

ইন্সপেক্টর দাশ মনে মনে একমত না হয়ে পারে না। ওর নিজের ‘ঘেমে চান চটে লাল ঠান্ডা মাথা’র স্ত্রীর মুখ মনে পড়ে, যে প্রথমে একটা বেসরকারি সংস্থার বড় অফিসার এবং তারপর ওদের পরিবারের সিওও, বাজার সরকার, বাচ্চাদের টিউট্যর, আত্মীয়-স্বজন-অতিথি সৎকার সমিতির একনায়িকা, ওদের বাড়িতে বসা সাপ্তাহিক বন্ধুদের মদের আড্ডার একাধারে প্রধান পৃষ্ঠপোষিকা, রাঁধুনি এবং বার গার্ল; এবং এত কিছুর পরও সময় বার করে মমতাময়ী মা, অনবদ্য হার্বাল ক্লিনিকের পোস্টারগার্ল শয্যাসঙ্গিনী। প্রবল্প্রতাপ আর চাকরির পর সময় পায় কোথায়! …ওর বউ কে দিয়েই চ্যাম্পিয়ন্‌স্‌ ট্রফিটা দেওয়ানো উচিৎ… মাই হোমেজ টু হোমফ্রান্ট… নিজেরই গর্ববোধ হয় নিজের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে…..

– ঠিক হ্যায়, কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে… আমার স্ত্রীকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্‌স্‌ ট্রফিটা…

– হেঁ হেঁ, এতো অবভিয়াস, গদগদ অম্বা তাড়াতাড়ি প্যানটা টেবল থেকে তুলে নেয়।

– হ্যাঁ হ্যাঁ, অবভিয়াসের জেঠ্‌মা; সবাই খিলখিলিয়ে ওঠে।

– আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ, আপনার দিনটি শুভ হোক, রম্ভা রিনরিনে গলায় গড়গড় করে বলে যায়।

– আমাদের আরেকটা আর্জি ছিল স্যর, সুপারস্টার স্‌ব্বোজিতকে যদি আপনি একটা ফোন করে দিতেন; কিস্বে আলতো করে কোমড়ে একটা ভাঁজ মারে।

– এই যে বললে উনি তোমার, মানে আপনাদের ফ্ল্যাগ অফ করবেন!

– অবশ্যি স্যর, শুধু আপনার আন্তরিক সহায়তা আমরা নায়ক দেখার পরিষেবার সাথে যুক্ত করতে চাই। রম্ভা বলে।

আরও পড়ুন:  আলোঝাপসা

আবার কে একটা চিমটি কাটে রম্ভাকে। রম্ভা ‘উফ্‌, চু…!’ বলেও তাড়াতাড়ি ‘দুঃখিত’ বলে নেয়।

 

নেমন্তন্ন পত্র যায় সংবাদপত্রের অফিস গুলোতে, টিভি চ্যানেল গুলোতে। কার্ড যায় কংগ্রেস-সিপিএম মার্কা আজন্মবিরোধী বিশুদ্ধ আর দৃকসিদ্ধ দুটো প্রধান নারীবাদী সংস্থায়।

স্‌ব্বোজিতের ব্যাপারটা কিস্বেই সামলেছে। বাজারে খবর স্‌ব্বো সমকামী, তাই মেয়ে দিয়ে নয়, আপাততঃ ওর জন্য একটা সামার স্যুট ডিজাইন করে আর বিদেশী পত্রিকা থেকে নকশা ঝেড়ে এক জোড়া সাড়ে তিন ইঞ্চির হিল তোলা জুতো বানিয়ে দিয়েছে; পরে ছেলে পাঠিয়ে দেবে, সেক্রেটারিকে নাকি বলে এসেছে।

আটটা ছেলেও বেছে ফেলা সারা। চাবুক চেহারা – ৪০+, ২৮-৩০, ৩২-৩৬। এদের ড্রেস হবে আদুর গা, জাঙ্গিয়ার রিব দ্যাখানো জিন্‌স্‌ আর মাথায় অরকিক লেখা ফেট্টি। লাফাইকে নেবার কথা সবাই বললেও অম্বা প্রবল আপত্তি জানায়। নারায়ণ ঘরে সুন্দর, কৃষ্ণ বাগানে। রম্ভা বলে, সব নারায়ণই বিছানায় কৃষ্ণ, মাস্‌সি আমার!! কিস্বে এদের মধ্যে নারায়ণ-কৃষ্ণ খেলার কনোসিয়ার, গম্ভীর ভাবে বলে, মা অম্বা, আর গুঁজিস না মা আমার! … অম্বা কিছুতেই রাজি হয় না। তার বদলে ও বাজারের তেলেভাজার দোকানে নতুন দাঁড়াতে শুরু করা ছেলেটাকে তুলে দেয়। ভালো মালটা; মালিকের ছেলে। নাইট কলেজের বি কম্‌। তেলেভাজা দেবার সময়, বা অপ্রয়োজনেও, হাতের গুলি নাচায়; ওর চাহনিতে মহিলারা এমনিই দাঁড়িয়ে পড়ে।

স্পনসর পাওয়া দায়। স্থানীয় প্রসাধণী কোম্পানিগুলোতে দম নেই, একটা আমলকী হর্তুকি বয়রার ক্রিম বানিয়ে আর টিভিতে নায়িকা কোন ছাড়, মেকআপ-ম-ম মালকিন্‌ পরচুলা-চূড়া মালিকদের মুখ দেখাতেই বাজেটের নাভিশ্বাস; আর বড় বড় রং-সাবান-ন্যাপকিন-নারীপুষ্টির কোম্পানিগুলোর অফিস সব শালা বম্বেতে!!

 

রেস-এর দিন ফাটাফাটি কান্ড। পাঁচজন সাংবাদিক, চ্যানেলের দুটো ওবি ভ্যান আর স্বেচ্ছাসেবিকারা ফিনিশিং পয়েন্টের ডায়াসের আশেপাশে ভীড় জমায়। আর ওবি ভ্যান দেখে পিল পিল করে গোটা দশেক শনিবারের হাফ ছুটি ফুল ছুটির সাজুগুজু করা বাবু-বিবিরা; পারলে ছানা নিয়েই! আর এক্সপ্রেস কলোনি মাঠে ফুটবল পেটানো ক’টা পুরুষানুক্রমে রিফিউজি ছেলেপিলে; প্যাংলারোগা।

স্টেজে স্থানীয় (বিরোধী দলের হলেও) বিধায়িকা, প্রবল্প্রতাপ, তার স্ত্রী সহিয়ষী। স্‌ব্বোজিত আর উদ্যোক্তাদের তরফে কিস্বের জন্য দুটো ফাঁকা চেয়ার।

আর স্টার্ট পয়েন্টের দু পাশে দুই নারীবাদী সমিতির প্রতিনিধিরাই স্লোগান ব্যানার ফেস্টুন আমরা কী ও কেন পুস্তিকা নিয়ে চেঁচিয়ে মেচিয়ে নরক গুলজার করতে থাকে শুরুর আধা ঘন্টা আগে থেকেই। ডায়লগ ছাড়া এ পক্ষ ও পক্ষ অবিকল এক, কে আসল কে জেরক্স বোঝা দায়!

— কে বলেছে মেয়েদের ছেলেদের মতই সব করতে হবে?

— বেশ করেছে, ছেলে মেয়ে আলাদা কিসের?

— আরো সংরক্ষণ চাই, বিয়ে বাড়ি আর র‍্যাশনের লাইনে। নারী শক্তির সম্মানের সাথে সাথে সংরক্ষণও দাবী করে।

— নারী শক্তি সৌরশক্তির মত, অঢেল… শুধু প্রয়োগ করুন মা-বোনেরা। বাইকও চালান, পার্লারেও যান।

চলতে থাকে।

ফ্ল্যাগ অফ করার পর স্‌ব্বো উপস্থিত আন্দোলিকাদের উৎসাহব্যাঞ্জক ফ্লাইং কিস্‌ আর দেদার অটোগ্র্যাফ বিলিয়ে কিস্বের বাইকের পেছনে চড়ে সামার কোট ঘোরাতে থাকে। যা গরম; পরবে কি মতি! বেচারা হিল্‌জুতো পরে তবে কিস্বের মাথায় মাথায়! কিস্বে রেসের ট্র্যাক ছেড়ে একটু পাড়ায় পাড়ায় প্রোমো রাইড দিয়ে বারান্দা থেকে ঝাঁকি মারা মা বোনদের একটু ঝাঁকিয়ে দিয়ে স্টেজে এসে ওঠে।

আরও পড়ুন:  আলোঝাপসা
স্‌ব্বো উপস্থিত আন্দোলিকাদের উৎসাহব্যাঞ্জক ফ্লাইং কিস্‌ আর দেদার অটোগ্র্যাফ বিলোতে থাকে
স্‌ব্বো উপস্থিত আন্দোলিকাদের উৎসাহব্যাঞ্জক ফ্লাইং কিস্‌ আর দেদার অটোগ্র্যাফ বিলোতে থাকে

আর স্‌ব্বোরা এসে পৌঁছতেই প্রায় ঘাড়ে ঘাড়ে হুড়মুড়িয়ে সাতটা বাইক এসে ফিতে ছোঁয়। আট নম্বরের পেছনের ছেলেটা বেশী মাস্‌ল্‌ ফোলাতে গিয়ে উলটে মাথা ফাটিয়ে কেলোর কীর্তি করেছে।

ছেলেগুলো তাড়াতাড়ি নিজের নিজের বাইকিনির হেলমেট ধরে হিপ পকেট থেকে টিস্যু আর রাখতে দেওয়া মোবাইলগুলো বার করে দেয়। আটজন স্বেচ্ছাসেবিকা; তোয়ালে আর ডাবের জল নিয়ে। যে বাইকটা শেষ করতে পারে নি তার স্বেচ্ছাসেবিকা “অফিসে কাজ নেই তাই ফেসবুক করছি” মুখে ক্ষমাঘেন্না করে ছেলেগুলোকে ঝাড়ি করে; আর স্‌ব্বো তেলেভাজা ছেলেটাকে। …উফ্‌, ইয়াম্মি।

তৃতীয় হওয়া বাইকিনি উদ্যোক্তাদের বারবার রিকোয়েস্ট করে, প্লিজ, আমার চারপাশে কিন্তু ছেলেদের ভিড় করতে দেবেন না, খুব ক্লস্টোফোবিক লাগে।

– আগামী চার ঘন্টা, স্যরি, অতি দুঃখিত, আর চার মিনিটের মধ্যেই আপনার সার্ভিস অ্যাক্টিভেট হয়ে যাবে বলেও রম্ভা অস্ফুটে বলে ফ্যালে কে আমার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রে!! বাইকিনি শুনতে পায় না, ব্রা এর স্ট্র্যাপ ঠিক করে।

একজন বাইকিনি আয়না না পেয়ে, অগত্যা, বাইকের আয়নাতেই তিন-চারখান মুখব্যাদান করে নিজের লুক্‌স্‌ সম্পর্কে আপডেট নিয়ে নেয়।

 

সব ভালো যার শেষ ভালো। ফোটো সেশন, নামমাত্র প্রাইজ মানি আর অনেক প্রশংসা। প্রবল্প্রতাপ দম্পতির খুশী মুখ, এক্সপ্রেস কলোনির চ্যাংড়া গুলোর হাঁ মুখ, স্‌ব্বোর ‘আমিই হিরো’ মুখ, বিধায়িকার ‘কাছের মানুষ কাজের মানুষ’ মুখ, আন্দোলিকাদের ‘আমি এখন শুধু দেখে যাচ্ছি …’ আর বাবু বিবিদের ‘রেসটাই তো দেখতে পেলাম না’, ‘কিন্তু সাক্ষী তো থাকলাম’, ‘স্‌ব্বো এখনো ফাটাফাটি’। অম্বা-রম্ভাদের মাটিতে পা পড়ে না। ফলে স্‌ব্বো আবার হাইটে মার খেয়ে অম্বা আর কিস্বে-র থুতনীর কাছে… দে দে চুমা দে দে!!

বিরোধিতা সত্ত্বেও সামনের বার ‘জায়গা’ মত খেটে একটা ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়’ লেখা বিজ্ঞাপন এনে দেবার আশ্বাস দেন বিধায়িকা।

এক সাংবাদিনী বলেন, সামনের বার জন অ্যাব্রাহামকে আনিয়ে দেবে। এমনিই তো সারা বছর ছেলেটা বসে থাকে!

সহিয়ষী কোনোরকমে গরমের মধ্যেও বালুচরী সামলে রাখেন। গদগদ প্রবল্প্রতাপ কিস্বের সাথে সহিয়ষীর আলাপ করিয়ে দেয়, আমাদের শহরের বাডিং ফ্যাশান ডিজাইনার! আর, ইনি, মাই গ্রেট এমপাওয়ারড ওয়াইফ। বউকে “এ আমার ইন্সপিরিশ্যন” বলে কিস্বেকে দেখাতে গিয়ে পিপি খেয়াল করে ও বউকে ‘কিস্বে’ দেখিয়ে ফেলেছে। তাড়াতাড়ি থুড়ি বললেও ততক্ষণে সহিয়ষীর গোলাপি মেক আপ বেগুনী হয়ে টপটপাতে শুরু করেছে। না না, দ্যাট গোওজ উইথাউট সেয়িং বলে কিস্বে মানে মানে চম্পট দেয়।

দুই লড়াইপ্রিয় নেত্রী ডাবের জল খেতে খেতে ফরেন গ্রান্টের বাজারের ইনফো লেনদেন করে।

 

রাত্রে সুপারহিট তেলেভাজা ছোকরাকে পাওয়া যায় না। খবর, স্‌ব্বো নাকি ইলোপ করেছে। অগত্যা, বাইকের পেছনে চড়া অন্য তিনটে মাল, প্রবল্প্রতাপের ছায়া, নরম-গরম পানীয় আর মোমবাতি-ডিনার করে অরকিক সারাদিন যা যা কিছু ঘটল সবটাই সেলিব্রেট করে। আসছে বছর… আবার হবে…

 

আগের পর্বের লিঙ্ক – http://banglalive.com/the-animated-story-of-an-animated-alpha-male-his-animated-girlfriend-and-animated-surroundings/

অমল রায়
তেনার ইচ্ছেয় জীবন–মরণ। তেনার ইচ্ছেয় পেট আর পেটের দু আঙুল নীচে। আমরা মাঝখানে বেঁচে বর্তে থাকি। আর থাকে এল ও সি; মানে বেল্ট আর কি; কখনো কষে বাঁধি, কখনো আলগা দিই। ঠিক ঠাক গাঁটের খোঁজে অমল রায়। পোস্ট ফরটি এক বিদগ্ধ বেরসিক।

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ