কাবেরী রায়চৌধুরী
অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত লেখিকা | প্রকাশিত বেশ কিছু বই | সাত পুতুলের সাত কথা‚ চাতক জল‚ যে যেখানে দাঁড়িয়ে‚ অর্ধেক আকাশ‚ শরীরী উল্লেখযোগ্য রচনা |

– আপনি! আপনি করলেন? … বিশ্বাস করতে পারেন স্যর?’ দুঁদে গোয়েন্দা অফিসার নাজমুল হক তার ঊর্ধ্বতন অফিসার শাকিব আহমেদের দিকে তাকিয়ে বললেন। ধারালো কঠিন ইস্পাতের চাহনি শাকিবের তখন স্বপ্নশাকিলের মুখের ওপর নিবদ্ধ।

ভাবলেশহীন মুখে বসে আছে স্বপ্নশাকিল। দৃষ্টি দেওয়ালের ওপর নিবদ্ধ হলেও উধাও!

– স্বপ্নভাই! আপনি এ কাজ করলেন ক্যামনে? যত ভাবছি অবাক লাগতেছে ভাই। একটা ক্রিয়েটিভ মানুষ ! এইভাবে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত হইলেন আর আমরা শালার পুত কিসুই আঁচ করতে পারলাম না ! আল্লাহ! খোদার কসম ভাই !

-কদ্দিন ধরে এইসব চলতেছে শাকিল ভাই?’ শীতল কন্ঠস্বর শাকিব আহমেদের। ‘শয়তান ভর করল কেন? দিব্যি তো গল্প কবিতা লিখতে ছিলেন। ‘চাইরডা ফিলিম হলো না? অ্যাকটিংও তো ভালই করতে ছিলেন! পোলাপানদের হার্টথ্রব হয়েছেন এই অল্প সময়েই!

– একটা ভোরের গল্প লিখব। বুঝলেন?

– কী? কী কন মিঞা? আপনি তো দাগী ক্রিমিনাল মাইন্ড! শাকিব আহমেদ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে। ‘ভোরের গল্প’ লিখবেন? আপনার ভবিষ্যৎ কী হইতে পারে আঁচ করতে পারতেছেন?

প্রথমে অল্প একটু বিস্তৃত হল হাসির রেখা। তারপর হো হো করে হেসে ফেলল স্বপ্নশাকিল। হাসতে হাসতে বলল,

-একটা নতুন ভোরের গল্প ভাই। আসেন আপনারাও আমাকে সহযোগিতা করেন। দেশকে ভালোবাসেন না? ধর্মকে? তাহলে দেরী করতেছেন কেন? হাহঃ!ক্যাম্নে ভাই আপনারা তাহলে ভাই আপনারা, দেশটার দুর্দশা দেখেন? ভারত আমাদের ক্যামনে শুষে নিচ্ছে দেখতে পাননা? তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ক্যামনে লঙ্ঘন করতেছে দ্যাখেন না! পানির অভাবে আমাদের চাষবাস শস্য কীভাবে মার খাইতেছে! বাংলা মায়ের এই বঞ্চনা সহ্য করেন ক্যামনে ভাই? আসেন হাত মেলান। শুধু কি তিস্তার পানি? আমাদের ছিটমহল? তার কোনো মীমাংসা নাই! আমাদের সরকার পুরাই চলতেছে ভারতের নির্দেশে। ‘র’ যা বলবে সেই মত চলতেছে -! আল্লাহ হো আকবর!

– এই মিঞা চুপ করেন। জাস্ট শাটআপ। যা যা প্রশ্ন করব উত্তর দ্যান।

-বলেন।

– নাজমুল ভাই আপনার সাথে তো ফ্রেইন্ডশিপ ছিল উনার।

 আপনি করেন প্রশ্ন। আমি আছি।

– কী স্যার।

– কবে থেকে এই দলের সঙ্গে যুক্ত হইলেন?

– পাঁচ বছর হইল।

– তার আগে কী করতেন? মানে কুন দল?

– ছাত্র লীগ করতাম।

– আর তলে তলে জামাত? ব্বাহ মিঞা! লোকেরে ঘোল খাওয়াইছেন ভালই।

– বি. এন. পি!

– ওই একই হইল।

– বি. এন. পি. তো নিষিদ্ধ দল নয়! তা হইলে?

– গনতন্ত্র মাড়ায়েননা মিঞা। একাত্তর ভুলে গ্যাছেন দেখি! ওই যুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে না থাকলে আজ আর এত বড় বড় লেকচার মাড়াইতে পারতেননা।

– ভারত তার নিজের স্বার্থে আমাদের সাহায্য করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ হলে তার কর্ত্তত্ব কায়েম করবে বলে ওইসব নাটক। বাংলাদেশকে হাতের মুঠোয় রেখে পাকিস্তানকে চাপে রাখা যাবে, তাই!

– আল্লাহ্‌! স্যর কী বলে দ্যাখেন!

শাকিব আহমেদের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। চোয়াল শক্ত। মাথা নাড়লেন শুধু। অফিসার নাজমুলকে চোখের ইশারা করলেন, ক্যারি অন।

– ভারত আমাদের শত্রু। ভারতের দাদাগিরির জন্যই আজও আমরা এগোতে পারি নাই। দেশ আজও ভারতের চামচাগিরি করে চলতেছে বলে বিপরীত শক্তির জাগরণ হবেই।

– আল্লাহ্‌! কী বলেন! ভাই আপনার তলে তলে এত!

– আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করব আবার। আর এটাই হবে প্রকৃত স্বাধীনতা। একাত্তরের যুদ্ধ একটা জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেবের যুদ্ধ ছিল।

– আরে ভাই! ব্রেন ওয়াশ তো ভালই হয়েছে আপনার।

– আমার বাবা মুক্তি যোদ্ধা ছিলেন একজন।

– ছি ছি ছি! আপনি একজন মুক্তি যোদ্ধার ছেলে হয়ে এই কুপুত্তুর হয়েছেন!

– আমার মায়ের ডাকে হয়েছি। আমার আম্মা!

– আপনার আম্মা আপনাকে দেশদ্রোহী হইতে বলসে? তাজ্জব! আজব! তিনি কোথায় এখন?

আরও পড়ুন:  সৎকারের জন্য স্ত্রীর দেহ কাঁধে বয়ে নিয়ে যাওয়া কালাহান্ডির দানা মাঝিকে মনে আছে ? কেমন আছেন তিনি ও তাঁর মেয়েরা ?

– নাই!

– মারা গ্যাসেন?

– হ।

– মরে বাঁচছেন হয়ত খালাম্মা! কী বলেন স্যার?

শাকিব আহমেদ হাতের ডাণ্ডাটা নিয়ে এতক্ষন লোফালুফি করছিলেন। এবার হাল্কা করে হাঁটুতে আঘাত করলেন স্বপ্নশাকিলের। আচমকা আঘাতে ‘আঃ’ করে চিৎকার করে উঠলো সে। আহত পশুর দৃষ্টি তার।

– লাগলো নাকি মিঞা?

– দেখেন আমি সৃষ্টিশীল মানুষ। নরম সরম প্রকৃতির। মাইরধোর করেননা যেন। আমি যা করতেছি সেটা দেশের ভালর জন্য। পরাধীন দেশকে স্বাধীন করব বলে।

– আপনার লজ্জা হয়না? আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে হয়ে -। ছিঃ! ছিঃ মিঞা! আপনারা সৃষ্টিশীল মানুষ যদি এই কাজকাম করেন।

– বেশ করি। বেশ। আমি কোনো খানকির ছেলেকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই। আমি কারুর খাইনা। পরিও না।

সজোরে লাঠির আঘাত নেমে এল এবার স্বপ্নশাকিলের হাঁটু সন্ধিতে।

‘উরি মাগো!’ আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হল কক্ষের প্রতিটি দেওয়াল থেকে দেওয়ালে।

– মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গোয়েজ। এটা আপনার বাসা নয়।

– অ্যাই খানকির বাচ্চা। অ্যাই লটির বাচ্চা। আমি কী করি আর না করি তোকে শালী জবাবদিহি করতে হবে?

– ছিঃ। তোমার পরিচয় তোমার মুখের ভাষা। আর কখনো কবিতা লিখোনা।

– তোর থেকে শিখব নাকি এখন? শালী বেশ্যা মাগী। তোর থেকে আমার কিছু শেখার নেই শুনে রাখ।

– না নেই। শিখতে গেলে যে মন দরকার তা তোমার নেই।

– আই মিঞা মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গোয়েজ। কার সাথে এভাবে কথা বলতেছেন জানেন? মাথা দেখি পুরাই নষ্ট।

– স্যর ! পাগল না স্যর। লোকটা ড্রামা করতেছে ।

– ওর হিস্ট্রি?

গড়গড় করে পড়তে শুরু করলেন নাজমুল হক, বর্তমান বাসা সাড়ে দশ। সাড়ে দশে থাকে স্যর।

– বলে যান।

– বাড়ি বাগেরহাট। পিতা শেখ মনোয়ারউদ্দিন। মাতা খালেত্বা বেগম। দুই ভাই। মোটের ওপর তিন ভাই। দুই ভাই বাগেরহাটেই বসবাস করে। কিছু জমিজমা আছে। কিন্তু দুই ভাই মাদকাসক্ত। ফেনসিডিল খায় স্যর। একজন, শেখ কামালউদ্দিন আবার ড্রাগ নিত। পুলিশ হেফাজতে ছিল দুই বৎসর আগে। ইনি ঢাকায় পড়াশোনা করেছিলেন। ঢাকা ভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে এম. এ.। কিছুদিন চিটাগাং ভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছিলেন। লেখালেখি করার অভ্যাস ছুট থেকে। পত্রপত্রিকায় ল্যাখালেখি করত। চারটা সিনেমায় অভিনয় করসেন। দুইটাতে নায়ক আর দুইটাতে সাইড আর্টিস্ট স্যর।

– বিয়ে শাদি বাচ্চা কাচ্ছা?

– প্রথম বউ বিয়ের দুই বৎসরে পলায়ছে স্যর। ডিভোর্স। নাম শর্মিমালা। ওকালতি পড়ত তখন। দ্বিতীয়বার বিবাহ করে খুলনার এক ডাক্তারকে।

– ব্বাহ! মিঞা জোশ আছে বলতে হবে। তা দ্বিতীয় বউ আছে না ভেগেছে?

– অফিসিয়ালি যায়নি স্যর। কিন্তু সে তার বাবার বাসায় থাকে। এক বৎসর হল। নাম মেহেরজবীন। সে বাসাতেই প্র্যাকটিস করে।

– দেখা করেছেন তার সাথে?

– জী স্যর। খুবই শালীন মহিলা। পসার মোটামুটি ভালই। এলাকায় তার অনেক সুখ্যাতি স্যর। খুবই সুন্দরী। তবে ওনার বিষয় তুলতেই ভারী বিরক্ত। বললেন, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। অফিসিয়ালি ডিভোর্স হয় নাই। প্রথমে কিছু বলতে চায়নি স্যর। বললাম, পুলিশকে সহায়তা করা তার কর্তব্য। তখন আস্তে আস্তে ম্যাডাম বললেন, দ্যাখেন, তার মত স্বার্থপর জটিল মনের মানুষ আমি জন্মে দেখি নাই। সে যে কী ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর! সে কারোরে বিশ্বাস করে না। আপনি তার জন্যে ভাল কিছু করেন সে বলবে, ও আমার জন্যে এত কিছু করতেছে কেন? নিশ্চয়ই কিছু উদ্দেশ্য আছে। তার রাজনৈতিক মতাদর্শ যথেষ্ট কনফিউজিং।

– মারধোর করে নাকি বউকে?

– হ্যাঁ স্যর। পান থেকে চুন খসলে অকথ্য গালিগালাজ আর শারীরিক টর্চার।

– ব্বাহ! অনেক গুন তো মিঞার।

– স্যার মেহেরজবীন ম্যাডাম বলছিল, ওর ইনকামের সোর্সটা একবার চেক করেন। সিনেমায় অভিনয় করে ইদানীং কিছু রোজগার পাতি হইতেছে, কিন্তু তা ছাড়াও ওনার ইনকাম আছে স্যার। বিদেশ থেকে অর্থ আসে।

আরও পড়ুন:  গৌরী লঙ্কেশ – একটি দিনগত মৃত্যু

– ওনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ করে দ্যান এখনই। … কী মিঞা যা বলতেছে তা সব সত্য কী না! বউয়ের গায়ে হাত তোলেন? বউয়ের গায়ে হাত তোলে তো কাপুরুষেরা। তা কেন? মাইরধোর কেন? বউরা খারাপ?

– অসম্ভব ঝগড়াটে আর লোভী ছিল শর্মি। তার চোদ্দগুষ্টি লোভী ছিল স্যর। আমার অল্প আয়ে সে খুশী ছিলনা।

– তো তার জন্য বউ পিটাবেন? আর মেহেরজবীন ম্যাডাম? সে তো ডাক্তার!

– খুব উদ্ধত স্যর। সারাক্ষন আমাদের ডমিনেট করার চেষ্টা করছে। তার পোশাক আসাক চালচলন অশ্লীল অশ্লীল।

– তার জন্য শারীরিক নির্যাতন করবেন? আর পয়সাকড়ি আসতেছে কোত্থেকে? কে পাঠায়? বিদেশে কে আছে? কে? কে পাঠায়? কারা পাঠায়? দেশের বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র করতেছেন?

– আপনার আব্বার ফ্যামিলিতে কে কে আছে?

– আপনার আম্মার ফ্যামিলিতে?

– দেশে যে বড় বড় হামলা হইতেছে তার সঙ্গে আপনি কীভাবে জড়িত?

– মেহেরজবীন চলে গেল কেন?

– ক্যামনে থাকবে ভাই? তার উপরে টর্চারের নমুনা দেখাইছে সে। ব্লেড দিয়ে তার হাত কেটে দিয়েছিল সে চাইর পাঁচ বার।

হা হা করে হাসছে স্বপ্নশাকিল রক্ত! রক্ত! চারপাশে রক্তের স্রোত!

বিস্ফোরণ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। রক্ত! দাঙ্গা! সংঘর্ষ! উত্থান হচ্ছে নতুন শক্তির। ‘জয় বাংলা! জয় বাংলা’ বলে চিৎকার করে উঠল স্বপ্নশাকিল।

বিছানা থেকে এক লাফে নামল। দু’বাহু তুলে কয়েক পা নাচল সে। হাসছে। অট্টহাসি। আমিই … আমিই হব নতুন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী। আমার হাতে গড়া হবে … হাঃ হাঃ … প্রতিশোধ … প্রতিশোধ … অ্যাই মাগী … ! অ্যাই লটির বাছা … আয় … আয় … দেখে যা …।

 *   *    *    *    *    *

– স্বপ্ন! মাথা ঠাণ্ডা করে শোন যা বলতেছি

– কী খালামনি?

– তোর আব্বা বিয়া করসে আবার।

পায়ের তলা থেকে জমিটা সরে গেল নিমেষে। মাথার ভেতরটা হা-শূন্য। কানের ভেতর দিয়ে লাভা উদগীরণ হচ্ছে।

– বাবা! মাথা ঠাণ্ডা রাখো এই সময়।

– কোথায়? কাকে?

– অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এক বিধবাকে। বাচ্চা আছে একটা। আমাকে তোর আব্বাই খবর দিল। বলল, আমাকে পারলে ক্ষমা করে দিও নুরী। ক্যামনে হয়ে গেল যেন। তোদের কাছে ও ক্ষমা চাইছে।

– আম্মা! জানে?

– হাঁ। বড় আপাকে বলসি। ঘটনা ঘটসে আগেই এক সপ্তাহ হয়ে গ্যাসে। তুমি ঢাকায় … ল্যাখাপড়ার ক্ষতি হবে বলে জানাইনি। … আমাদের ধর্মে তো এসব হয়। নিয়ম আসে।

চেনা মুখগুলো হঠাৎ তার চারপাশ ঘিরে ধরল। ঝাঁপিয়ে পড়ল একদঙ্গল মুখ। হাসছে। ব্যঙ্গ করছে। উপহাস করছে। হা হা … হি হি হো হো … হা হা হা …

– কোথায় যাচ্ছিস স্বপ্ন? কোথায় যাচ্ছিস বাবা?

ছুটছে সে। ছুটতে ছুটতে সে ফুটবল মাঠের কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। হাঁপাচ্ছে। দম যেন বেড়িয়ে যাবে।

– কীরে স্বপ্ন? কবে এলি? তোর আম্মা ক্যামন আসে?

চমকে ঘাড় ফেরাতেই আমিরুল চাচা।

‘পালা স্বপ্ন। পালা …’  কে যেন বলল। ছুটছে সে ছুটছে।

– অ্যাই। অ্যাই স্বপ্ন। কনে যাচ্ছিস?

– স্বপ্ন। স্বপ্ন। অ্যাই হালার পুত ছুটতেছিস ক্যানে?

শহরের প্রতিটি দেওয়াল থেকে প্রশ্ন ছুটে আসছে। তার ছোটার সাথে ছুটছে তীরের ফলার মত প্রশ্নরা।

আওয়ামী লিগের প্রতিষ্ঠা দিবস। মঞ্চে বক্তৃতা দিতে উঠেছেন মনোয়ার উদ্দীন। বরাবর মৃদুভাষী মনোয়ার উদ্দীন বক্তৃতা দিচ্ছেন। হাততালি পড়ছে ঘনঘন। সুবক্তা তিনি। রক্তে খুন চেপে গেল যেন। হাত নিসপিস করছে। একটা বন্দুক যদি থাকত। তাতে একটা মাত্র গুলিও যদি থাকত!

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ১০)

##################

প্রতিশোধ ! প্রতিশোধ !

মনোয়ার উদ্দীন ঘুরছেন পথে পথে রিক্সায় চেপে।

– স্বপ্ন। তোর আব্বা এসেছিল। আমার হাত ধরে ক্ষমা চাইসে। বইললো, সালেত্রা ক্যামনে যেন ভুল হইয়ে গেল। তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই। স্বপ্নকে বোলো আমায় যেন ক্ষমা করে দেয়।

– নাহ! না আম্মা। আমি এর প্রতিশোধ নেব। বদলা নেব।

– বদলা খুব খারাপ জিনিস বাবা। ক্ষমা কইরে দাও তোমার আব্বুরে।

– না। ওই লটির বাচ্চাকেও আমি দেখে নেব। বেশ্যা মাগী।

– কী করবি?

– ওর দল সব জানে আম্মা। তারপরেও তাকে কোনোরকম কৈফিয়ৎ চায়নি শুয়োরের বাচ্চারা। আমরা আর ওদের ভোট দেব না আম্মা। এখন থেকে আমরা আলাদা দল। পৃথিবীর কোনো মাগীকে আর বিশ্বাস করিনা।

– চুপ বাবা। চুপ।

 * *  *  *  *  *

করোটির মধ্যে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের পোকাগুলো কিলবিল করছে। সাদা সাদা কালো কালো কৃমি কীটের মত পোকা।

– অ্যাই লটির বাচ্চা। কলেজের মাঠে কার সঙ্গে অত ঢঙ করতেছিলি।

শর্মিমালার মুখে যাবতীয় ঘৃণা। বলল, গালাগাল দিয়া কথা বলবেনা বলে দিসসি

– চুপ শালী। আমার খাস … আমার পড়িস … জুতো মেরে মুখ ভেঙে দেব। বেরো আমার বাড়ি থেকে –।

* *  *  * * * *

– তুমি না মাথার ডাক্তারের পরামর্শ নাও। অসুস্থ। সিক মেন্টালিটি।’ মেহেরজবীন অবিশ্বাস আর হতবাকের দৃষ্টি নিয়ে দেখছে।

ব্লেড নিয়ে তেড়ে এসেছে স্বপ্নশাকিল।

*   *  *  * * * *

– তাহলে বদলা নিতেই? শাকিব আহমেদ প্রশ্নটা ছুড়ে দিলেন।

– হাঁ। পার্টি কি আমাকে দোষারোপ করতে পারতনা? বলেন? পার্টি আম্মা আর ওর ওই বেশ্যা বউকে সাপোর্ট করল।

– আপনার আব্বা তো ফিরেই এসেছিল।

– আমি তাকে ফিরিয়ে নিইনি।

– এটাই কি যুক্তি হতে পারে?

– না। ভারত তোষণ। ভারতকে এই দল তোষণ করে। ভারতের উন্নতি দেখেছেন? পশ্চিমবাঙলার বাঙালিদের দেখেছেন? আর আমাদের দ্যাখেন।

– ভারত আমাদের বন্ধু।

– না। শত্রু। … সব শালা শত্রু। কাউকে বিশ্বাস করিনা। কাউকে না। শুনে রাখুন নতুন দল গড়বোই। নতুন দেশ। যেখানে মনোয়ারউদ্দীনরা থাকবেনা।

 *  *  *  * * * *

– তুমি তোমার আব্বাকে ঘৃণা করোনা? কাজ কিন্তু তুমি তোমার আব্বার চেয়েও খারাপ করতেছ।

– কী করেছি আমি? হাঁ? কী?

– তুমি বন্যার সঙ্গে শুয়েছ। সে নিজে আমায় বলসে। শুয়েটুয়ে এখন আর তাকে পাত্তা দিচ্ছনা।

– অ্যাই মাগী! অ্যাই চোপ!

মেহেরজবীনের পেটে লাথি কষিয়ে দিল সে।

 *  *  *  * * * *

মাথাটা খারাপ হয়ে গেছিল বুঝলেন? হ্যাঁ। কিছুদিন যাবৎ ওর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখসি। অতটা বুঝি নাই। তাবলে সুইসাইড করবে এতটা … নাহ! মিঞা এ যেন নিয়তির শিকার। ট্যালেন্ট সিলো।

– … তবে বড্ড উদ্ধত। কী অহঙ্কার!

– … ভালো ছিলনা ভাই। খুব ধান্দাবাজ। ধান্দা ছাড়া কোনো কামকাজ করতোনা।

– … দুইটা বউই অপূর্ব সিলো। মাইরধোর করে তাড়াইসে। এমন লোকের এমন শাস্তিই দেয় আল্লাহ্‌!

* *  *  * * * * * *

– আমি সব্বাইকে জানিয়ে দেব তুমি কোন দল করো। তোমার টাকা কোথা থেকে আসে। আমার ওপর অত্যাচার! আর না। অনেক হইসে –।’ মেহেরজবীন চলে গেছে।

ঘরের কোনো আলো জ্বালেনা সে এক সপ্তাহ হয়ে গেছে।

মেল আসছে। বিস্ফোরকের ছক দিয়ে। বিস্ফোরণ হয়ে চলেছে। তার কাজ টেকনিক্যাল দিক দেখা। রক্ত -! রক্তপাত! পুলিশ আসছে … আব্বা হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছে তাকে … না। ক্ষমা করবে না সে। … এত অন্ধকার! এত শূন্যতা কেন? … দরজায় করাঘাত হয়ে চলেছে। পুলিশ? তাহলে পুলিশ? একের পর এক প্রশ্নও দিয়ে আক্রমন করছে পুলিশ। … ন্নাহ! এঘর ওঘর ছুটে বেড়ালো সে। আর তারপর রক্তে ঘিলুতে মাখামাখি হয়ে গেল তার দেহ।    

NO COMMENTS