জানি এই বিষয়ে কথা বলাটা বেশ কঠিন | কিন্তু আমাদের এটা করতেই হবে | বাচ্চার ভালোর জন্য অস্বস্তি কাটিয়ে ফেলতেই হবে আপনাকে | এমন অনেক মা-বাবা আছেন যারা ব্যক্তিগত ভাবে ছোটবেলায় যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন | নিশ্চই মা হিসেবে আপনি চাইবেন না আপনার বাচ্চার সঙ্গে তেমনটা হোক | তাই বাচ্চাকে ছোট থেকে গুড টাচ আর ব্যাড টাচ কি জিনিস সেটা শেখান | অবশ্য শুধু মায়েরাও নয় বাবারাও এই ব্যাপারে মায়েদের সাহায্য করুন |

আজকে রইলো ১০টা টিপ্স যার সাহায্যে বাচ্চাকে ভালো স্পর্শ আর অভিসন্ধিমূলক স্পর্শ সেখাতে পারবেন |

) ছোট থেকেই বাচ্চাকে শেখান তার শরীরে একমাত্র শুধু তারই অধিকার আছে বাচ্চার যখন ১৭ বা ১৮ মাস বয়েস তখন থেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন এটা | ওদের বোঝান ওদের শরীরে হাত দেওয়ার অধিকার কারোর নেই | ২ বছর বয়স থেকেই বাচ্চাকে শেখান শরীরের কয়েকটা অংশ প্রাইভেট পার্টস | একই সঙ্গে এটাও শেখান কেউ যদি তার হাত ধরতে চায়‚ বা জড়িয়ে ধরতে চায় বা চুমু খেতে চায় তার না বলার পুরো অধিকার আছে |

) সঠিক ভাষা ব্যবহার করুন : অনেক মায়েরা আছে যারা বাচ্চার বডি পার্টসের বিভিন্ন নামকরণ করে থাকেন | এতে কোনো ভুল নেই | কিন্তু শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঠিক নাম জানাটা বাচ্চার জন্য কিন্তু খুব দরকারী |

) বাচ্চার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলুন যাতে তারা সেটা বুঝতে পারে : বাচ্চা কে ভয় দেখিয়ে বা প্রচন্ড সিরিয়াস হয়ে কোনদিন ব্যাড টাচ গুড টাচ শেখানোর চেষ্টা করবেন না | জানি এটা মজা করে শেখানোর বিষয় নয় | কিন্তু মাথায় রাখুন বাচ্চা যেন আপনার সঙ্গে কথা বলতে বা কোনো প্রশ্ন করতে ভয় না পায় | যতটা পারবেন সহজ ভাবে কথা বলুন‚ যেমন ধরুন তাকে চান বা পটি করানোর সময় এই বিষয়ে কথা বলতে পারেন |

) সুইম স্যুট রুল মেনে চলুন : অনেক বাচ্চাই ছোট থেকে সাঁতার শেখে | তাদের এইভাবে বোঝান সুইম শ্যুট শরীরের যে অংশ ঢেকে রাখে তা অন্য কাউকে না দেখাতে | বা সেইসব জায়গা যদি কেউ স্পর্শ করে তাহলে সে যেন আপনাকে জানায় | আর যারা সুইমিং শেখে না তাদের মা বাবারা বাচ্চাদের এমনি জামাকাপড়ের উদাহরণ দিতে পারেন | জামাকপড়ের আড়ালে শরীরের যে অংশ থাকবে তা প্রাইভেট | অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যারা বাচ্চাদের মোলেস্ট করে তারা প্রথমেই বাচ্চার প্রাইভেট পার্টসে হাত দেয় না | হয়তো প্রথমে পিঠে হাত বুলোবে বা চুল ঘেঁটে দেবে | এইসব জায়গা তো আর ঢাকা থাকে না তাই সুইম শ্যুট রুল খাটবে না | ফলে বাচ্চাকে বোঝান কেউ তার গায়ে হাত দিলে তার যদি অস্বস্তি হয় তাহলে আপনাকে এসে জানাতে | একই সঙ্গে বাচ্চাকে বোঝান আপনি এবং ওর বাবা তার রক্ষক তাই আপনাদের যেন এইসব বলতে সে ভয় না পায় |

একই সঙ্গে বাচ্চাকে শেখান mouth বা তার ঠোঁটেও কেউ হাত দিলে তক্ষণাৎ সে যেন এসে আপনাদের তা জানায় |

) ভালো স্পর্শ বা গুড টাচ কী বাচ্চাকে তা বোঝান : অনেক সময় বাচ্চার শরীরে হাত দেওয়ার প্রযোজন পড়ে | যেমন ধরুণ বাচ্চার নিতম্বে ইনজেকশন দিতে হয় ডাক্তারকে‚ ইদ্যাদি | বাচ্চাকে বোঝান কেউ তার গায়ে হাত দিলেই তা ব্যাড টাচ নয় | এই নিয়ে বাচ্চার বেশ কনফিউশন থাকতে পারে তাই ধৈর্য ধরুন | সেফ সাইডে থাকার জন্য বাচ্চার গায়ে কেউ হাত দিলে তা সে ভালো উদ্দেশ্যেই দিক বা মন্দ উদ্দেশ্যে তা যেন আপনাকে জানানো হয় |

) বাচ্চাকে ‘না’ বলতে শেখান : বাচ্চাকে জোর দিয়ে শেখান কেউ যদি তার শরীরে হাত দেয় আর সেটা যদি তার পছন্দ না হয় তাহেলে সে যেন তক্ষুণি না বলতে পারে | এবং এই ঘটনার কথা সে যেন আপনাকে জানায় | তাদের প্রাইভেট এরিয়ার গুরুত্ব ছোট বয়স থেকেই শেখানোর চেষ্টা করুন |

) বইয়ের সাহায্য নিন : বইয়ের সাহায্য নিয়ে বাচ্চাকে গুড টাচ আর ব্যাড টাচ বোঝান | যেমন ধরুন কোনো একটা বইতে হিউম্যান বডির ছবি দেওয়া আছে সেই ছবি দেখিয়ে বাচ্চার শরীরের কোন অংশে কারুর হাত দেওয়া উচিত নয় এটা শেখান | নিজে ছবি এঁকেও তা দেখাতে পারেন |

) জোর করবেন না : অনেকেই ভালোবাসা দেখাতে বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরে বা আদর করে | বাচ্চার যদি এটা অপছন্দ হয় তাহলে ওকে জোর করবেন না | জানি বাচ্চাকে ছোঁয়া মানেই সেটা খারাপ নয় | কিন্তু এইভাবে বাচ্চা বুঝতে পারবে তার শরীর একান্তই তার নিজের |

) বাচ্চার ফিলিংসকে সম্মান করুন : হয়তো বাচ্চা আপনাকে এসে জানালো কেউ তার শরীরে ছুঁয়েছে | এটা হেসে বা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দেবেন না | থেরাপিস্টরা মনে করেন যে কোনো ছোঁয়াই হোক তা যদি বাচ্চার অস্বস্তির কারণ হয় তাহলে সেটা কিন্তু অবশ্যই ব্যাড টাচ |

১০) বাচ্চার সঙ্গে রোল প্লে করুন : খেলাচ্ছলেই বাচ্চা কে শেখান কেউ তার শরীর ছুঁলে সে কী করবে | বা রোল রিভার্সাল করুন | আপনি বাচ্চা সেজে তাকে বোঝান শরীরের কোন অংশে কারুর হাত দেওয়ার অধিকার নেই |

আরও পড়ুন:  জানেন কি খালি পেটে কী কী করতে নেই?

NO COMMENTS