গোটা ভারতবর্ষে পার্বতী পূজিত হন একা | ব্যতিক্রম পূর্ব ভারতের বঙ্গদেশে | এখানে পার্বতী হয়ে গেছেন দুর্গা | পূজিত হন সন্তান-সন্ততি নিয়ে‚ সপরিবারে | এহেন বঙ্গভূমিতে ব্যতিক্রমী হিসেবে বাগবাজার হালদারবাড়িতে দুর্গা পূজিত হন একা | ৪০০ বছর আগে সেই মূর্তি খুঁজে পেয়েছিলেন এই বংশের এক পূর্বপুরুষ |

তখন অবশ্য তাঁরা থাকতেন ওড়িশার সাহেবগঞ্জে | স্বপ্নাদেশ পান হালদার বংশের পূর্বপুরুষ | এক মৎস্যজীবীর বাড়িতে মাটির নীচে পোঁতা আছেন দেবী | তাঁকে উত্তোলন করে আনতে হবে |

সেইমতো খনন শুরু হল মৎস্যজীবীর বাড়িতে | দিনভর খুঁড়েও কিছু পাওয়া গেল না | শেষে‚ সূর্যাস্তের ঠিক আগে ঠং করে কুঠার লাগল কিছুতে | উদ্ধার করে আনা হল কষ্টিপাথরের দেবী-মূর্তি |

সেই মাতৃমূর্তি পরবর্তী কালে হালদার পরিবারে পূজিত হয় তাদের বাগবাজারের বসতবাড়িতে | দু ফিট উঁচু মূর্তির সঙ্গে আছেন মহাকাল এবং জয়া-বিজয়ার মূর্তিও | তবে দুর্গা এখানে একাই অধিষ্ঠিত | সঙ্গে নেই কোনও সন্তান সন্ততি | খননকার্যের প্রমাণ স্বরূপ মূর্তির পিছনে এখনও আছে বড় গর্ত |

একসময় মূর্তিতে পরিবর্তন আনেন পরিবারের প্রাণপুরুষ বাবু প্রাণকৃষ্ণ হালদার | যিনি ছিলেন উনিশ শতকের কলকাতার অন্যতম বাবু | কষ্টি পাথরের মূর্তির বদলে তাঁর আমলে পূজিত হতে থাকে মাটির মূর্তি | জাঁকজমকের এই পুজোয় তখন পায়ের ধুলো পড়ত গোরা সাহেবদেরও |

এখন অবশ্য বনেদী এই পরিবারে সুপ্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তিই পূজিত হয় | ঐতিহ্য-নিয়ম-নিষ্ঠার এই পুজোর বড় আকর্ষণ নারকোল নাড়ু | দেবীর প্রসাদ তো বটেই | অতিথি-অভ্যাগতদের আপ্যায়নেরও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই প্রসাদী নাড়ু |

সাবেক কলকাতার বাগবাজারে কালিপ্রসাদ চক্রবর্তী স্ট্রিটে হালদার পরিবারের বসতভিটায় কষ্টিপাথরের দেবীমূর্তিতে শারদোৎসবের আনন্দ এখনও নিখাদ | ঠিক কষ্টিপাথরে যাচাই করা সোনার মতোই |

আরও পড়ুন:  তার পর থেকে নিজের বাড়ির দুর্গোৎসবে সন্ধি পুজো বন্ধ করে দিলেন নাট্যাচার্য গিরীশ চন্দ্র ঘোষ

NO COMMENTS