সম্পাদকীয় – গৌতম দত্ত

    0
    93
    গৌতম দত্ত
    জন্ম ১৯৫৯ | ইংরাজি ও বাংলা দুই ভাষায় লেখেন।প্রকাশিত পাঁচটি কবিতার বই | 'বরফে হলুদ ফুল'-এর জন্য ২০০৫ সালে পেয়েছেন জসীমউদ্দিন পুরস্কার | ২০০৮ সালে সুধীন্দ্রনাথ পুরস্কার "গৃহযুদ্ধের দলিল" কাব্যগ্রন্থের জন্য। ভাষানগর পুরস্কার ২০১৭ সাল। তাঁরই প্রচেষ্টার ফসল 'উড়ালপুল' |

    শুভ বাংলা নববর্ষ। আস্তে ধীরে পায়ে ব্যথা নিয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে উড়ালপুল নববর্ষ এপ্রিল সংখ্যা প্রকাশিত হল। গত সংখ্যা ও এই সংখ্যার মধ্যে অনেকগুলো চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে পৃথিবীজুড়ে। আমেরিকার রক মিউজিশিয়ান ও গীতিকার বব ডিলান পেয়েছেন সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার। টনি মরিশনের দীর্ঘদিন পরে আর একজন আমেরিকান সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার পেলেন। তাও আবার গান লিখে! এই নির্বাচন নিয়ে অনেকেই খুশি নন। বিশ্বজুড়ে এক দক্ষিণী রক্ষণশীল ঝড় বইছে। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই দক্ষিণী ঝড় মানুষের প্রগতিকে পেছনের দিকে টেনে ধরতে চাইছে। তবে পৃথিবীর ব্যক্তিস্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রী মানুষেরা প্রতিবাদে, মিছিলে, বিতর্কে গণতন্ত্রকে বাঁচার নিঃশ্বাস দিচ্ছেন – প্রগতি একটু থমকে দাঁড়ালেও পিছু হটবে না বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। বাংলাদেশে এখনও চলছে উগ্রপন্থী ইসলামিক ধর্মান্ধতা – যা একের পর এক মুক্তকণ্ঠ লেখকদের খুন করছে। অন্যদিকে কলকাতায় কবি শ্রীজাত ও সুবোধ সরকারের কবিতা নিয়ে গোঁড়া হিন্দুদের গাল ভারি ও গাল পাড়ি। ভুললে চলবে না, মাত্র চারশো পাঁচশো বছর আগেও ক্রিশ্চান ধর্মের পতাকা তুলে সারা পৃথিবীতে যিশুর নামে বয়েছিল রক্তবন্যা। ধর্মকে ধারণ না করে অনেক মানুষ এখনও ধর্মের বর্মের মধ্যে নিজেকে আটকে রেখে বোবা কালা অন্ধ হয়ে রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের কত কমিউনিস্টের মুখে শুনি, ‘মোল্লাদের কী বাড়টাই না বেড়েছে মমতার আমলে’! ইসরায়েলে গিয়ে দেখেছি সেকুলার ইসরায়েলি হয় না – একজন ইসরায়েলি আগে ইহুদি তারপর সেকুলার। তেমনি ইসলামিক সেকুলারিজম – বেশিরভাগ আগে মুসলমান পরে সেকুলার। আসলে ভালো লাগুক বা না-লাগুক মানুষের একে অপরের সঙ্গে নির্ভয়ে তর্ক ও বিতর্ক করা উচিৎ। বেরিয়ে আসুক মনের মধ্যে অন্ধকারে চাপা রাখা চিন্তাভাবনা – দ্বন্দ্ব হোক শতসহস্র চিন্তার – হোক না ভুল – করুক না খিস্তি। আর বাংলা সাহিত্যে চাই আর একজন বুদ্ধদেব বসু। বাংলা লেখার পারস্পরিক পিঠ চাপড়াচাপড়ি বন্ধ হয়ে তৈরি হোক সুস্থ সমালোচনা – তা যতই কড়া হোক না কেন। আজ আমাদের প্রকাশ্যে সত্যি কথা বলার মানুষের বড় দরকার।
    উড়ালপুল হয়ে উঠুক এই সত্যি বলার সাহসের মাধ্যম।

    SHARE

    LEAVE A REPLY