দংশন

    0
    41
    বাংলাদেশের মানুষ। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে থাকেন। ছোট গল্প লেখেন।

    নবীনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নাল খাঁ ফজরের জামাজ শেষ মতিকে প্রায় হাঁক দিয়ে ডাকলেন—

    ‘মতি! মতি—’
    মতির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে জয়নাল খাঁ’র মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেল। মতি মুখে নিমের ডাল নিয়ে শেওড়া গাছের পিছনে প্রসাব করতে বসেছে। সে প্রায় অর্ধেক প্রসাব শেষ না করেই উঠতে গিয়ে লুঙ্গির কিছু অংশ ভিজিয়েই ফেললো। তলপেটে চিনচিনে একটা ব্যথা নিয়ে কোনো মতে ছুটে আসলো। জয়নাল খাঁ মতিকে পেয়ে কড়া ধমক লাগালেন –
    ‘থাহচ কোতায়? কামের সময় পাই না।’

    ধমকের চোটে মতির হাত থেকে নিমের ডালটি পড়ে গেল। অন্য সময় হলে মতিকে একটা চড় খেতে হতো। জয়নাল খাঁ, স্থানীয় হাই স্কুলের হেড মাস্টার সালাম বেপারী (এম.এ) এবং মতিকে নিয়ে বিখ্যাত বড় হুজুর মাওলানা খলিলুর রহমান ছাহেবকে আনতে গেলেন। মতিকে নিয়ে যাচ্ছেন কারণ বড় হুজুর সব সময় একটা ট্রাংক নিয়ে চলাফেরা করেন। লোকমুখে শোনা যায় – টাইটেল পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পুরস্কার হিসাবে কলকাতার বিখ্যাত দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল নিজে তাকে একখানা কোরান শরীফ, একটি জায়নামাজ এবং একটি তসবী উপহার দিয়েছেন। ট্রাংকের মধ্যে তিনি ঐ মূল্যবান জিনিসগুলো রাখেন। এছাড়াও আরো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আছে।

    খাসের হাট আলীয়া মাদ্রাসার পাশে তার বাড়ি। যাদের বয়স ত্রিশ পঁয়ত্রিশের নিচে তারা অনেকে হুজুরের নামই জানে শুধু ‘বড় হুজুর’ নামেই চেনে। ওজু ছাড়া বড় হুজুরের নাম নেওয়া যে বিরাট গুনাহর কাজ, এটা সবাই মানে। তার যে বিভিন্ন ধরনের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে তা নিয়ে উচ্চ শিক্ষিত মানুষের মনেও কোনো সন্দেহ নাই। ইলেকশনের আগে এমন কোনো পার্টি নাই যে তার কাছে দোয়া চাইতে আসে না। মানুষের চেহারা দেখে তিনি অনেক কিছু বলতে পারেন। জ্বিন-পরীর সাথে তার ওঠা বসা, এলাকায় এমন কথা চালু আছে। তার দোয়ায় কত মানুষের যে দুরারোগ্য ব্যাধি ভালো হয়েছে, তার কোনো উপায় নাই। এত বড় একজন কামেল মানুষের দোয়া পাওয়া নসিবের ব্যাপার।

    নবীনগর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে আজ হাজার হাজার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসেছে, এখনও আসছে। মসজিদের সামনে বিরাট সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। মসজিদের মাঠের সীমানা পার হয়ে খালের ঐ পারে ফসলের ক্ষেতেও মানুষ পাটি, জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়েছে। মুসুল্লীরা সব অপেক্ষা করছেন। আজ এখানে বিখ্যাত বড় হুজুর ছাহেব জুম্মার নামাজে ইমামতি করবেন এবং নামাজ শেষে বশির মোল্লার রোগমুক্তির জন্য দোয়া খায়ের হবে। মাইক দিয়ে এই কথা প্রচার করা হয়েছে। এই বিশাল দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন ইউনিয়নের মেম্বার চেয়ারম্যানরা যেমন নিজ নিজ দায়িত্বে চলে এসেছেন তেমনি অনেক মসজিদের মাওলানা, মৌলভী এবং ইমামগণও উপস্থিত হয়েছেন। ঘটনাটি ইউনিয়নের ছগীর চেয়ারম্যান বশির মোল্লার অনেক দিনের বন্ধু মানুষ। বড় হুজুরকে নিয়ে জয়নাল খাঁ এখনও কেন পৌঁছায়নি, এতে তিনি খুবই বিরক্ত। যদিও হাতে সময় আছে। কিন্তু তারপরেও সব বিষয় তো এক রকম না। ওদিকে তিনি এমপি সাহেবকে দাওয়াত দিয়ে এসেছেন। এমপি সাহেব এক কথায় রাজি হয়েছেন। আর হবেনই বা না কেন? বশির মোল্লা কি তার ইলেকশনে কম করেছেন?

    চারিদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। উপস্থিত এই হাজার হাজার মানুষের উদ্দেশ্যে কিছু বলা দরকার। দোয়া মাহফিল না হলে ছগীর চেয়ারম্যান নিজেই মাইক নিয়ে আবেগময় এক বক্তৃতা দিয়ে মানুষকে কাঁদিয়ে ফেলতো। কিন্তু এই অবস্থায় তিনি কী করবেন ঠিক বুঝতে পারছেন না। কুন্তিপাড়া ছাপড়া মসজিদের ইমাম সেকান্দার মুন্সীকে মাইকে দু’চার কথা বলার জন্য ডেকে আনলেন। সেকান্দার মুন্সী মুসুল্লীদের নিয়ে প্রথমে দরূদ শরীফ পাঠ করে তারপর বললেন – ‘আপনার হয়তো সকলেই জানেন – নবীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব বশির মোল্লা খুবই অসুস্থ। তিনি দানা পানি ছেড়ে দিয়েছেন আজ নয় দিন। মুখ জল নাই বললেই চলে। শুধুমাত্র স্যালাইনের উপরে আছেন। ঢাকা, মাদ্রাজ থেকে বড় বড় ডাক্তাররা তাকে ফেরত দিয়ে বলেছেন – ‘ভালো মন্দ যা খেতে চায় খাওয়াবেন।’

    সেকান্দার মুন্সী একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার বলতে শুরু করলেন –
    ‘তারপরেও আল্লার হুকুম ছাড়া কিছুই হবে না। আল্লাহ সর্ব শক্তিমান। তিনি মুর্দাকে জিন্দা করতে পারেন আবার জিন্দাকে মুর্দা। আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি তার জন্য আল্লাহ বা রা’ব্বুল আলা’মীনের কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করার জন্য। তার অবস্থা দেখে এমন মানুষ নাই, যে চোখের পানি ধরে রাখতে পারে। ভাইসব, বশির মোল্লা গত ২৯ বছর যাবৎ এই এলাকার চেয়ারম্যান। এর মধ্যে দুই দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। অত্র এলাকার প্রথম হাজী। এলাকার জন্য তিনি কী করেন নাই! রাস্তাঘাট, হাট-বাজার সবই করেছেন। আল্লাহর ইচ্ছায় এবং তার নেক চেষ্টায় একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বলেন – ‘সোবহান আল্লাহ।’
    সবাই সমস্বরে বলে উঠলো – ‘সোবহান আল্লাহ।’
    ‘তারই একান্ত চেষ্টায় হাটে একটা পোস্ট অফিস হলো। ইস্‌! কী দিল দরিয়া জনদরদী মানুষই না তিনি! তার মতো এত বড় সমাজসেবক, পরোপকারী ইনছান নবীনগরের বাইশ গ্রামে আর একটাও পয়দা হয় নাই।’

    সেকান্দার মুন্সী আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বশির মোল্লার ব্যাপারে আর কী বলা যায় এখন আর তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। মাইক হাতে পেলে এই জীবনে কোনো দিন কথার অভাব অনুভব করেননি। কিন্তু আজ করছেন। তাই কোনো উপায় না দেখে বশির মোল্লার রোগ মুক্তির জন্য সবাইকে আল্লার কাছে দোয়া চাইতে বলে বয়ান শেষ করলেন। ছগীর চেয়ারম্যান তৎক্ষণাৎ ছুটে এসে একটা কড়া ধমক দিয়ে বললেন –
    ‘যে মানুষটা তোমাগো গত ২৯টা বছর সেবা করেছেন তাঁর জন্য ২৯ মিনিটও বয়ান করতে পারো না? ঐ মিয়া! কেমন মাওলানা তুমি? কেমন নিমকহারাম মানুষ তোমরা?’

    সেকান্দার মুন্সী কী উত্তর দিবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। বড় হুজুর চলে এসেছেন এই খবরে সবাই বেশ নড়ে চড়ে বসলো। চারিদিকে একটাই রব উঠেছে –
    ‘বড় হুজুরের দোয়ায় বশির মোল্লা আজ ভালো হয়ে যাবেন।’

    যারা মনে করেছিল বড় হুজুর হয়তো আসবেন না তারাও এখন বলতে শুরু করেছে –
    ‘যাউক উনি যেহেতু একবার আইছেন আর ভয়ের কিচ্ছু নাই। বশির মোল্লাকে আল্লাহ এইবার হালাইয়া যাইবো। বড় হুজুর কোনো দিন ফেইল কেইস হাতে লন না।’

    মসজিদের পাশের বাড়িই বশির মোল্লার। বড় হুজুর দোয়া মাহফিলে যাওয়ার পূর্বে তাকে দেখতে গেলেন। বশির মোল্লা মাঝে মাঝে চোখ খুলছেন আবার বন্ধ করে রাখছেন। নড়াচড়া করতে না পারলেও কথা বলার মতো শক্তি যে একেবারে নাই তা নয়। কিন্তু কারো সাথে তার কথা বলতে ইচ্ছে করে না। বড় হুজুর বশির মোল্লার বাড়ির উঠোনে পা দিয়েই কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেলেন। অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন একটা অসম্ভব সুন্দর বিশাল বাড়ি। বাড়িটির নির্মাণে আভিজাত্যের এবং সৌখিনতার ছাপ খুবই স্পষ্ট। উঠোনের মাঝখান পর্যন্ত দুর্বা ঘাসে ছেয়ে গেছে। সিঁড়িতে শ্যাওলা গজিয়ে উঠেছে। এ বাড়িতে কোনো মানুষজন থাকে বলে মনে হয় না। একটা গা ছমছমে ভুতুড়ে ভাব আছে।

    বড় হুজুর সাদা ধবধবে পায়জামা পাঞ্জাবীর সাথে সাদা গোল টুপি আর সবুজ পাগড়ি পরেছেন। বড় হুজুরের গা থেকে আফগানী আতরের ঘ্রাণ আসছে। বুক পর্যন্ত সাদা দাড়ি আর সোনালী ফ্রেমের চশমায় বড় হুজুরকে সাক্ষাৎ আওলিয়া দরবেশের মতো লাগছে। তিনি জয়নাল খাঁ’কে বললেন –
    ‘ঘরে কোনো মেয়েছেলে থাকলে তাদের অন্দরে যেতে বলেন জনাব।’
    ‘ঘরে একজন কাজের মহিলা ছাড়া আর কোনো মানুষ নাই হুজুর।’
    ‘তাকে যেতে বলেন।’

    জয়নাল খাঁ কাজের মহিলাকে চলে যেতে বললেন এবং সোনার রুপার পানি ছিটিয়ে ঘর পাক-পবিত্র করলেন। বড় হুজুর ঘরে প্রবেশ করে বশির মোল্লাকে দেখে আরো বেশী গম্ভীর হয়ে গেলেন। প্রায় ছয় ফুটের কাছাকাছি লম্বা একটি কংকালের গায়ে চাদর দিয়ে রাখা হয়েছে। কংকালকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। কংকালের মাথার পাশে ছোট্ট একটা ক্যাসেট প্লেয়ারে কোরান তিলওয়াত চলছে। কংকালটা যেন তাকে দেখে নড়াচড়া করার চেষ্টা করছে। আস্তে আস্তে কংকালের চোখ উজ্জ্বল এবং চঞ্চল হয়ে উঠেছে। এটা লক্ষ্য করে হুজুরের বিভিন্ন ক্ষমতা সম্পর্কে জয়নাল খা’র নানান কথাবার্তা মনে পড়ে গেল। যেমন – বড় হুজুর দাফন কাফন হয়ে যাওয়া লাশও খাড়া করে ফেলেছেন। এই কামেল মানুষটার ক্ষমতা অত্যধিক কিন্তু সাধারণত তিনি তা দেখান না। বশির মোল্লা নিজে জয়নাল খাঁ’কে বলেছেন –
    ‘একমাত্র বড় হুজুরই তাকে বাঁচাতে পারে।’

    তাইতো এই বিশাল দোয়া মাহফিলের আয়োজন। জয়নাল খাঁ কায়মনে আল্লার কাছে বশির মোল্লার জানটা ভিক্ষা চাইলেন। আজকে তার বাড়ি ঘর, জমি জিরেত, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবই এই মানুষটার বদৌলতে। বশির মোল্লা যা তাকে বলেছেন তিনি তাই করেছেন। স্নেহও পেয়েছেন ভাইয়ের চেয়ে অধিক। বড় হুজুর জয়নাল খাঁ এবং সালাম বেপারীকে ইশারায় বাইরে যেতে বললেন। তারা বাইরে চলে গেলেন। উঠোনের কোনায় পুরানো বেল গাছটার নীচে এসে সালাম বেপারীও চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলেন না।

    ঘরের একটা দেয়ালে মক্কা শরীফ আর অন্য দেয়ালে আজমীর শরীফের বিশাল ছবি। বড় হুজুর বাড়ির দেয়াল, জানালা দেখে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করছেন। তিনি স্থির চোখে বশির মোল্লার দিকে তাকিয়ে আছেন। বড় হুজুর ভরাট কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘জনাব আপনার সমস্যা কত দিন থেকে?’
    ‘প্রায় বছর চারেক।’
    একটা কংকাল যে এত স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারে, এটা দেখে বড় হুজুর এক রকম হকচকিয়ে গেলেন। একেবারে সুস্থ মানুষের মতো কথা বলছে। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘সমস্যাটা বলুন।’
    ‘এখন থেকে প্রায় বছর চারেক আগে একদিন রাতে স্বপ্নে দেখি একটা সাপ ফেমিলি আমাকে তাড়া করছে।’

    ‘সাপ ফ্যামিলি মানে কী?’
    ‘দুইটা বৃদ্ধ বাবা-মা সাপ, একটা জুয়ান মর্দা সাপ, একটা জুয়ান মেয়েছেলে সাপ আর একটা কম বয়সী মেয়ে সাপ। মোট পাঁচটা।’
    ‘তারপর কী হলো?’
    ‘এই সাপ ফেমিলি আগে শুধু ঘুমালেই আসতো। এখন আর যায় না। এখন চব্বিশ ঘণ্টাই আমার আশে পাশে থাকে, আমার কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখে। আর ঘুমালে শত শত সাপ নিয়ে আসে।’
    ‘আর কী করে?
    ‘আমার নাম ধরে ডাকে। কথা বলে।’
    ‘কী কথা বলে?’
    ‘যা বলে তা বেশির ভাগই অশ্রাব্য কথাবার্তা। মুখে আনার মতো না।’

    বড় হুজুর পকেট থেকে ছোট্ট একটা নোটবুক ও কলম বের করলেন। তার মনে হচ্ছে কেইসটা জটিল। তাই নোট নেওয়া দরকার। তিনি সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখলেন ‘বশির মোল্লার সর্প রোগ’।
    ● উঠোনে পুরানো বেল গাছ
    ● বাড়ির দেয়াল, জানালা এবং কার্নিশ
    ● গ্রামের নাম নবীনগর
    ● রোগী শারীরিক ভাবে অচল কিন্তু ব্রেইন খুবই অ্যাকটিভ
    ● চারদিকে মশা মাছি থাকলেও গায়ে বসছে না
    ● ক্যাসেট প্লেয়ারে কোরান তেলওয়াত

    বড় হুজুরের মনে হলো বশির মোল্লা সাপের বলা কথাগুলি বলতে চান না। কিছু একটা গোপন ব্যাপার আছে। কথাগুলি শোনা গেলে সমস্যার হয়তো একটা কুল কিনারা করা যাবে। সুস্থ মানুষের চেহারা দেখে অনেক কিছু বোঝা যায় কারণ মুখের মাংসপেশিতে যে ভাঁজ পড়ে তা-ই অনেক কিছু বলে দেয়। কিন্তু এই কংকালের চেহারায় তো কোনো মাংস নাই শুধুমাত্র কোঁচকানো চামড়া। একে দেখে তো কিছু অনুমান করাও সম্ভব নয়। তাই তিনি আবারো জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘সাপের বলা দু’একটা কথা বলেন জনাব।’

    ‘বছর চারেক আগের কথা। আমার একমাত্র ছেলে পাশ করে আসলো আলীগড় থেকে। এদিকে তার বিবাহের যোগাড়যন্ত্র দিন তারিখ পুরোপুরি ফাইনাল। ছগীর চেয়ারম্যানের মেয়ের সাথে বিবাহ। কী নিষ্পাপ রূপবতী কন্যা! রাত পোহালেই বিবাহ। বাড়ি ভর্তি আত্মীয়-স্বজন। আমি ঘুমাতে গেলাম একেবারে শেষ রাতে। সাপ স্বপ্নের ভয়ে আমি তখন খুব একটা রাতে ঘুমাই না। সেই দিন ছিলাম ভীষণ ক্লান্ত। শোয়া মাত্র ঘুম এবং স্বপ্নে দেখি ঐ সাপ ফেমিলির বাবা সাপটা আমাকে বলছে –
    ‘তোর ছেলেটাকে আজ খাবো।’

    ‘কী ভয়ংকর সেই সাপ! আমি ভয়ের চোটে ঘুমের মধ্যে চিৎকার দিয়ে উঠি। প্রায় সাথে সাথে শুনতে পাই সত্যি সত্যি আমার ছেলেকে সাপে কামড় দিয়েছে। বাড়িতে দৌড়াদৌড়ি পড়ে গেছে। ওঝা বৈদ্য আনা হল। তারা কী সব তন্ত্রমন্ত্র পড়ে উল্টাপাল্টা হাত পা ছোঁড়াছুড়ি করলো, দড়ি নাকি ডোর বেঁধে টানাটানি করলো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। ততক্ষণে ঘাটবমি হয়ে গেছে। হাসপাতালে নেয়া হলো। ডাক্তাররা ধমক-ধামক দিয়ে যা বললেন তা হলো –
    ‘যদি ওঝা বৈদ্য তন্ত্রমন্ত্রই বিশ্বাস করবেন তাহলে এখানে এনেছেন কেন? যান। এখন বাড়ি নিয়া যান। নিয়ে এসেছেন তো লাশ।’

    বড় হুজুর জীবনে বহু উদ্ভট স্বপ্নের কথা, জটিল সমস্যার কথা শুনেছেন। কিন্তু এরকম কখনও শোনেননি। এই ধরনের সর্প বিষয়ক ঘটনা বিভিন্ন রূপকথায় পাওয়া যায় বলে শুনেছেন। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি ঘটনাটাকে ‘একটি ভীত মনের কল্পনা এবং কাকতালীয় বিষয়’ বলে মনে করলেন। তিনি আবার নোট নিলেন –
    ● সাপ কথা বলে
    ● পুত্র বিয়োগ
    ● রোগী প্রায় শুদ্ধ ভাষায় গুছিয়ে কথা বলে

    বশির মোল্লাকে কী প্রশ্ন করবেন তা ঠিক করতে একটু সময় লাগছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘এরপর কী হলো?’
    ‘এরপর তো অনেক কিছুই হলো, কোনটা রেখে কোনটা বলবো?’
    ‘যেগুলো বলা প্রয়োজন মনে করেন, সেইগুলো বলেন।’
    ‘বছর তিনেক আগের কথা। তখন শীতকাল। শীতকালে এমনিতেই সাপখোপ কম দেখা যায়। কিন্তু আমার বাড়ি তখন সাপে ভরা। যেখানে যাই শুধু সাপ আর সাপ। দিনে রাইতে সবখানে শুধু সাপ।’
    ‘এই সাপ কি শুধু আপনিই দেখেছেন?’
    ‘না। তাহলে তো কোনো কথাই ছিল না। অনেকেই দেখেছে। আমাদের পাড়া প্রতিবেশীরাও দেখেছে।’
    ‘ঐগুলো কী সাপ ছিল? কখনও মারার চেষ্টা করেছেন?’
    ‘বেশিরভাগ সাপই অচেনা। তবে গোখরা দেখেছি বেশ কয়েকটা। মারার চেষ্টা করেছি, বাইদ্যা এনে ধরার চেষ্টাও করা হয়েছে। কেউ একটা সাপও মারতে পারেনি। উল্টা সাপ মারতে গিয়ে জয়নাল খাঁর পোলার মাথায় লাগলো পিটান। তারপর থেকে পোলাটার মাথা খারাপ হয়ে গেল। এখন তারে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। আর বাইদ্যা? সাপ একটা ধরেছিল তারা বটে। বাসু বাইদ্যা সাপটির মাথা টিপে উঁচু করে ধরে মাপছিল। বোধ করি সাড়ে তিন হাত তো হবেই। হঠাৎ সাপটি ছুটে মারলো ছোবল তার মাথায়। বাসু জায়গায় শেষ। সাপ গেল চলে।’
    ‘সেটা কী সাপ ছিল?’
    ‘কেউ চিনতে পারে নাই।’
    ‘বাইদ্যারাও না?’
    ‘না। বাইদ্যারাও না।’
    ‘সেটা কি ঐ সাপ ফ্যামিলির কেউ?’
    ‘হু। আমি ভয়ে কাছে যাই নাই। তবে দূর থেকে দেখেছি। জুয়ান মেয়েছেলে সাপটা। এরপর আর কোনো বাইদ্যাকে এ বাড়িতে আনতে পারি নাই।’

    বড় হুজুর এরপরও এটাকে ‘রোগীর চরম মানসিক অসুস্থতা এবং রগী কর্তৃক সর্পভীতি সংক্রমণ ও বিস্তার’ বলে মনে করছেন। কিন্তু এত বড় একজন নামডাকওয়ালা মানুষের মাথার পাশে ক্যাসেট প্লেয়ারে কোরান তেলাওয়াত হচ্ছে, এটা দেখে একটু খটকা লাগলো। তাই জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘ক্যাসেট প্লেয়ারে কোরান খতম চলছে কেন? মাদ্রাসার ছাত্ররা কোথায়?’
    ‘কেউ আসতে চায় না হুজুর। সবাই ভয় পায়। দেখেন না বাড়িটা কী খালি?’
    ‘ও আচ্ছা।’

    হুজুর যা ভেবেছিলেন তাই। এখন তার মনে হচ্ছে চিকিৎসা সম্পর্কিত দু’একটা প্রশ্ন দরকার –
    ‘কোনো মানসিক ডাক্তারকে কি দেখিয়েছেন?’
    ‘হু। কয়েকজনকে দেখিয়েছি। তারা শুধু ঘুমের ঔষধ দেয়। ঘুমাবো কী করে বলেন? ঘুমালে তো আরো বেশী সাপ আসে। আর আমার তো ঘুমের সমস্যা নাই। সমস্যা তো সাপ।’
    ‘সাপের ব্যাপারে আর কী কিছু করেছেন?’
    ‘করেছি। সরকারী কলেজের এক প্রফেসরের ঘরে কার্বলিক এসিড রাখতে বলেছিলেন। সারা মাদারীপুরে যতটুকু কার্বলিক এসিড পাওয়া গেছে সবটুকু কেনা হয়েছে। শুধু ঘরেই না সারা বাড়িতে পাঁচ হাজার টাকার কার্বলিক এসিড রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এমনকি গাছের গোড়ায় গোড়ায় ছোট ছোট শিশিতে বাঁধা আছে। আমার খাটের চার পায়ার সাথে চার বোতল। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় নাই। এই ঘরে এখনও সাপ আছে।’

    বড় হুজুর মাথা নিচু করে শিশিগুলো দেখলেন। একটা শিশি নাকের কাছে এনে গন্ধ নিয়ে কার্বলিক এসিড কিনা পরীক্ষা করলেন। এই জিনিসের গন্ধে সাপের বংশশুদ্ধ পালানোর কথা। তাই তিনি সাপের উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্বাস করলেন না। ভ্রু কুঁচকে এক মুহূর্ত চিন্তা করে প্রসঙ্গ ঘোরাবার জন্য তিনি এবার অন্য প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘আপনার স্ত্রী, কন্যা কোথায়?’
    ‘আমার মেয়ে মারা গেল বাসু বাইদ্যা মারা যাবার অল্প কয়েকদিন পর। তারে সাপে কাটলো দিনের বেলা। সোজাসুজি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ডাক্তাররা জিজ্ঞেস করলো –
    ‘কী সাপে কামড় দিয়েছে?’
    ‘এটা কোনো কথা হইলো বলেন? সাপে কামড় দেওয়ার সময় কি মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখে এইটা কী সাপ? আর কামড় দিয়া কি সাপই বসে থাকে? ডাক্তাররা নাকি ক্ষতস্থানে সাপের দাঁতের চিহ্ন দেখে বুঝতে পারেন এবং সেই মোতাবেক ইনজেকশন দেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তারা তেমন কিছু বুঝতে পারলেন না। তারপরও রোগীর অবস্থা কারাপ দেখে কী যেন একটা এন্টিভেনম ইনজেকশন দিলেন। ইনজেকশন দেওয়ার দশ মিনিটের মাথায় মেয়েটা আমার মারা গেল।’

    মেয়ে মারা যাবার ঘটনা শুনে বড় হুজুর এক রকম নিশ্চিত যে স্ত্রীও মারা গেছেন এবং এটিও আরেকটি সর্প দংশন বৃত্তান্ত। তাই জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘আপনার স্ত্রীও কি সাপের কামড়ে মারা গেছেন?’
    ‘না। সেটা অন্য রকম ঘটনা। সে ছিল অতি সহজ সরল অসম্ভব ভীতু একজন মহিলা। রাতের বেলা দড়িকেও সাপ মনে করে লাফিয়ে উঠতো। পুত্র-কন্যা শোকে বেচারা নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতো। গত বছর সে আমাকে সাফ জানিয়ে দিলো – সে আর এই সাপের মুল্লুকে একদিনও থাকবে না। তার ইচ্ছায় চলে গেলাম তার ভাইয়ের বাড়িতে। কিন্তু নিস্তার পাইলাম কই? সাপের গোষ্ঠী সেখানেও হাজির। আমি যাই যেখানে সাপ যায় সেখানে। ঐ বাড়িতে থাকাকালীন সে একদিন সন্ধ্যায় চিৎকার দিয়ে দৌড়ে এসে পড়লো ঘরের দুয়ারে। সবাই বললো –
    ‘তারে সাপে কামড় দিয়েছে।’

    হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তাররা বললো –
    ‘সে ইন্তেকাল করেছে।’
    ডাক্তার রিপোর্তে দেখলাম – সে হার্ট ফেল করে মারা গেছে। আসলে অন্ধকারে বাঁশের কঞ্চিতে খোঁচা খেয়েছিল। ভয়ের চোটে হার্ট ফেল করেছে। অল্প দিনের মধ্যেই শ্বশুর পক্ষের লোকেরা আমাকে বিদেয় করে দিলো। তারপর অনেকের বাড়িতে একটু থাকার জন্য অনুরোধ করেছি। কেউ রাজি হয় নাই। সবাই ভয় পায়। তাই এখন আমি আবার এই সাপের মুল্লুকে একা। এক দণ্ড শান্তিতে ঘুমাতে পারি না গত চারটা বছর। একজন মানুষ কি না ঘুমিয়ে বেঁচে থাকতে পারে বলেন? এটাই আমার অসুখ। হুজুর! এটাই আমার অসুখ।’

    বশির মোল্লা কাঁদছে। বড় হুজুর তাঁর নোট নেয়া পয়েন্টগুলোকে ভালো করে দেখছেন। একটা পয়েন্টে চোখ আটকালো। তা হচ্ছে এরকম একজন রোগীকে তো মাছিতে ছেঁকে ধরার কথা কিন্তু মাছি তার গায়ে বসছে না কেন?

    ওদিকে জুম্মার নামাজের সময় হয়ে এলো। মসজিদ প্রাঙ্গণে কী কী বলবেন তার একটা প্রস্তুতি দরকার ছিল। কিন্তু সময় নাই। তার ওঠা দরকার। কিন্তু ওঠার আগে বশির মোল্লাকে একটা প্রশ্ন না করে যেতে চাচ্ছেন না। তিনি প্রশ্নটা করলেন –
    ‘আপনার বাড়ি ঘর দেখে তো মনে হচ্ছে এটা একটা হিন্দু জমিদার বাড়ি ছিল। যদ্দূর জানি, আপনার বাবার তেমন কিছু বিষয় সম্পত্তি ছিল না। এই বাড়ি, বাজারের দোকানপাট, হাটে আড়ত এত কিছু কীভাবে করলেন?’

    বশির মোল্লা কোনো উত্তর দিলেন না। বড় হুজুর ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সত্যি সত্যি একটা সাপকে তাঁর পায়ের মাঝখান দিয়ে বশির মোল্লার দিকে যেতে দেখলেন। তিনি চমকে উঠলেন। জীবনে কোনোদিন এরকম সাপ দেখেছেন বলে মনে করতে পারলেন না। একবার ভাবলেন দৃষ্টিভ্রম হচ্ছে কিনা? আবার তাকালেন, তিনি সাপটিকে তখনও দেখলেন। আয়াতুল কুরছি পড়তে পড়তে তিনি মসজিদে চলে গেলেন।

    বশির মোল্লা ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে নিতে চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তাঁর গভীর ঘুম পাচ্ছে। স্বপ্নে সেই সাপ ফ্যামিলিটি আবার এসেছে। কিন্তু মুহূর্তেই সাপগুলো মানুষ হয়ে গেল। বহু বছর পর তিনি রাজমোহন শাহ, কাকীমা, প্রফুল্ল, কৃষ্ণা আর বীণাকে দেখলেন। রাজমোহন শাহ বশির মোল্লাকে জিজ্ঞেস করলেন –
    ‘কেমন আছিস বশির?’
    ‘ভালো নেই কাকাবাবু।’
    ‘কেন রে বশির? আমরা তো তোকে দেখেই রেখেছিলাম। প্রফুল্ল আর তোকে তো আলাদা করে বড় করিনি। লেখাপড়া শিখিয়েছি। তোর বাবাও তো আমাদের বাড়িতেই মানুষ। সে ছিল আমাদের একজন বিশ্বস্ত কর্মচারী।’

    খানিক বাদে কাকিমা বলে উঠলেন –
    ‘মাত্র দুই দিনের কলেরায় তোমার বাবা মা দু’জনেই মারা গেল। তুমি পড়লে আমাদের হাতে। মনে আছে তোমার? তোমার বয়স তখন মাত্র নয় কি দশ। আমরা কি কোনো দিন তোমাকে কোনো অযত্ন করেছি বলো?’
    ‘না কাকীমা। তা করেননি।’
    ‘তোমার তো এখন অনেক নাম কাম। তুমি তো আমাদের সব জায়গা জমিই নিজের করে নিয়েছো। তা আমাদের ঐ কালী মন্দিরটা ভেঙে মসজিদ বানাতে গেলে কেন?’
    ‘এই নাম কাম আমি আর চাই না কাকীমা।’

    কাকাবাবু বলে উঠলেন –
    ‘এলাকার নামটিও পরিবর্তন করে ফেলেছিস বশির? এটা তো ছিল ব্রাহ্মন্দী, তুই বানালি নবীনগর। এই গ্রামে তোরা এক ঘর হিন্দুকেও থাকতে দিলি না? তুই না অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতি বশির?’
    ‘আমাকে মাফ করেন কাকাবাবু।’
    ‘কোনটা মাফ করবো বশির? আমি কি মাফ করে দেবো সেই রাত্রির ঘটনা? যে রাতে তুই দরজা খুলে দিয়েছিলি আর তোর হুকুমে জয়নাল যেভাবে প্রফুল্লকে শাবল নিয়ে মেরেছিল? নাকি তোর পরিকল্পনা মতো আমাকে আর তোর কাকীমাকে বেঁধে কৃষ্ণা আর বীণাকে নিয়ে গেলি?’

    বশির মোলা স্বপ্নে এক এক করে সব দেখতে পাচ্ছেন। কৃষ্ণা আর বীণাকে তারা নিয়ে গেলো কালী মন্দিরের পিছনে। সে নিজের জন্য রাখলো বীণাকে আর জয়নাল, ছগীর, সালামকে দিলো কৃষ্ণাকে। তেরো বছরের ছোট্ট বীণা ভয়ে ‘বশির দাদা’ ‘বশির দাদা’ বলে পা দুটি জড়িয়ে ধরেছিল। সে কী কান্না! কী আকুতি মিনতি!
    অথচ সেই দিন সন্ধ্যায়ই কাকাবাবুকে সে অভয় দিয়েছিল –
    ‘এই বশিরের গায়ে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে আপনাদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।’

    কাকীমা খুশি হয়ে বশিরের পাতে কাতলা মাছের মাথাটা তুলে দিচ্ছিলেন আর বলেছিলেন –
    ‘তুমি আমাদের আর একটা ছেলে। তুমি আছ বলেই এই ব্রাহ্মণ পাড়ায় এখনও কেউ আসেনি।’

    রাত পোহাবার আগেই রাজমোহন শাহ’র পরিবারকে বশিররা বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করলো। বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা গেলেও, এত কষ্ট এত অপমান নিয়ে রাজমোহন শাহ পরিবারকে বেঁচে থাকতে কেউ বাধ্য করতে পারলো না। পরদিন পুরো পরিবারটি আত্মহত্যা করেছিল।

    বড় হুজুর মসজিদে প্রবেশ করলেন। এদিকে এমপি সাহেব আসার সময় ডিসি সাহেবকেও নিয়ে এসেছেন। জয়নাল খাঁ, সালাম বেপারী এবং অন্যান্যরা বশির মোল্লাকে খাটিয়াতে তুলে মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসলো। জুম্মার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই বড় হুজুর খাটিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বশির মোল্লার শীর্ণকায় দুটি কংকাল হাত ধরে মাইকে দোয়া শুরু করলেন। হাজার হাজার মানুষ বলাবলি করতে লাগলো –
    ‘হুজুরের দোয়ায় চরম খরাতেও বৃষ্টি নেমেছে। কত মানুষ সুস্থ হয়ে গেলো। এই তো এখনই বশির মোল্লা উঠে বসবেন।’

    বশির মোল্লা আর উঠে বসলেন না। দোয়া চলাকালীন বড় হুজুরের হাতের মধ্যে হাত রেখেই তিনি মারা গেলেন। বড় হুজুর নিজে এবং উপস্থিত জনতা স্তম্ভিত হয়ে গেল। সমবেত জনতা বড় হুজুরের কাছে এই সর্প বিষয়ক রহস্য সম্পর্কে জানতে চাইলো। তিনি অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে শুধু বললেন –
    ‘সাপে দংশন করিলে না হয় ব্যবস্থা আছে জনাব কিন্তু অভিশাপ দংশন করিলে কি চিকিৎসা করাবেন বলুন?’

    SHARE

    LEAVE A REPLY