অপূর্ণিম

    শ্বেতা চক্রবর্তী
    সাউথ পয়ন্ট স্কুলে পড়ান। দীর্ঘদিন ধরে কবিতা লিখছেন। পেয়েছেন কৄত্তিবাস পুরস্কার। দেশ সহ বিভিন্ন প্ত্র প্ত্রিকায় নিয়মিত কবিতা লেখেন। ১০টর ওপর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

     

    তারপর অন্ধকার হয়ে এলো চরাচর,
    ভগিনী-নদীর দু পাশ জুড়ে পড়ে রইলো ময়ূরপুচ্ছ..
    জেগে রইলো বংশীবিরহ..
    তীব্র গেরুয়া রঙে তখন কাপড় ছোপানো শেষ রাধা বৈষ্ণবীর..
    রক্তপ্রবাহ মানে ভোর আবার সন্ধ্যা,সে জানতো..

    বীরভূমের একটি প্রথাগত গ্রাম,বিশ্ববাহিনী চিলতে চিলতে সমালোচনা..
    তার মাঝে লুণ্ঠিত রাধা বৈষ্ণবী,
    অন্ধকারে পথে বেরিয়ে পড়েছে..
    গত চোদ্দ বছর সহবাস শেষে প্রধান মোহান্ত অবশেষে কণ্ঠীবদলে রাজি হয়েছেন,
    সেবাদাসী এবার সম্মানিত হবে,নূপুরের নাম হবে বিবাহ,চুম্বনের নাম হবে সমাজ..

    কিন্তু,কাল যার বিয়ে,সে এতরাতে পথে কেন?
    মোহনচূড়ার অহংকারের দিনে ফাগুন পূর্ণিমায় সে হনহন করে কোথায় চলেছে..?

    বৈষ্ণবী ছুটছে..নিদারুণ বিরহ আজ..কাল তার বিয়ে..
    ভোরের আগেই এ গ্রাম ছাড়তে হবে..
    মোহান্তর ব্যবহৃত একটি ধূসর ধুতি তার ক্ষুদ্র ঝোলায়,মাঝে মাঝে গন্ধ নিচ্ছে..নিজের বলতে আর কিছুই নেই..

    এই গভীর নিশীথ জানে প্রেমকে সম্মানিত দেখতে গেলে বিবাহ শব্দ কেটে দিতে হয়,
    খড়ের বেদনায় লিখতে হয় আগুন,
    আগুনের বেদনায় লেলিহান,

    বিরহ ছাড়া বিয়েও বৃথা,বৃথা নীলমাধবও..

    আমায় ক্ষমা করে দিয়ো,মোহান্ত..

    SHARE

    LEAVE A REPLY