স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটে থেকে দূরত্ব কয়েক গজ মাত্র | সবুজ ঘাসের উপর চলত যুবকদের শরীর চর্চা | বাইরে থেকে শুধু সেটা দেখা গেলেও ভিতরে ভিতরে সেটা ছিল দেশের জন্য মুক্তিসংগ্রাম | ব্যায়াম সমিতি-র নামে সেখানে চলত অনুশীলন সমিতির বৈঠক |

একদিন সমিতির সদস্য অতীন্দ্রনাথ বোস প্রস্তাব করলেন‚ দুর্গাপুজো করলে কেমন হয় ? সেই শুরু | দেশ মায়ের স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ ছেলেরা শুরু করলেন মৃন্ময়ী মায়ের পুজো | ১৯২৬ সালে শুরু হল সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজো | কমিটির প্রধান ছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস |

কিন্তু ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে দুর্গা পুজোর আড়ালে চলছে অন্য কিছু | ১৯৩২-এ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজো | ৩ বছর বাদে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় | নতুন করে পুজো শুরু হয় ১৯৩৯-এ | অগ্রণী ভূমিকা নেন স্বামী বিবেকানন্দের ভাই মহেন্দ্র দত্ত | সেই ঐতিহ্য মেনে আজও হয়ে চলেছে সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজো |

কলকাতার প্রথম বারোয়ারি দুর্গোৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম হল এই সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজো | এই পুজোয় এখনও সবার আগে গুরুত্ব পায় সাবেকিয়ানা‚ সনাতনী রূপ এবং ঐতিহ্য | তার মানে এই নয়‚ শুধু প্রবীণরা এর সঙ্গে যুক্ত | পুজো কমিটির বেশিরভাগ দায়িত্বে থাকে নতুন প্রজন্ম | নবীনে-প্রবীণে মিলেমিশে বাঁধা হয় আগমনীর সুর |

আরও পড়ুন:  দাদা যুধিষ্ঠিরকে বধ করতে চেয়েছিলেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অর্জুন !

NO COMMENTS