আপনি যদি শুধুমাত্র অরগ্যানিক ফল ও শাক সব্জি খান তাহলে ঠিক আছে | কিন্তু তা যদি না হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই ফল আর শাক সব্জি ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে খাওয়ার আগে |

সম্প্রতি কয়েকজন সুইডিশ বিজ্ঞনী প্রমাণ করে দিয়েছেন ফল ও শাক সব্জিতে যে কীটনাশক‚ ছত্রাকনাশক আর প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর থাকে তা বাচ্চা এবং বড় দুজনের শরীরেরই ক্ষতি করে | কিন্তু মাত্র যদি দু সপ্তাহ এই কীটনাশক বোঝাই করা ফল ও সব্জি না খান তাহলেই দেখা গেছে শরীর থেকে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বেরিয়ে গেছে |

কেন ফল ও শাক সব্জি খাওয়ার আগে ভালো করে পরিষ্কার করা উচিত?

# সুস্থ ব্রেনের জন্য : পরীক্ষা নীরিক্ষার পর জানা গেছে যে কীটনাশক যুক্ত ফল ও শাক সব্জি খেলে পার্কিনসনস ডিজিজ হওয়ার প্রবণতা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে |

# ক্যান্সারের রিস্ক কমাতে : সারা পৃথিবী জুড়ে গ্লাইফোসেট নামের কীটনাশকের ব্যবহার সব থেকে বেশি মাত্রায় হয় | পরে এই কেমিক্যাল মানুষের রক্তে এবং ব্রেস্ট মিল্ক-এ পাওয়া গেছে | আর এই কেমিক্যালকে সরাসরি যুক্ত করা হয় ক্যান্সারের সঙ্গে | এছাড়াও বিভিন্ন কীটনাশক আছে যা শরীরে টিউমারের জন্ম দেয় এবং একই সঙ্গে টিউমারের বাড়বাড়ন্তে সাহায্য করে |

# বাচ্চার শরীর সুস্থ রাখতে : যেহেতু বাচ্চাদের শরীরের এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঠিক ডেভলপমেন্ট তখনো সম্পূর্ণ হয় না তাই টক্সিন আর কেমিক্যাল থেকে ওদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেশি থাকে | অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে কীটনাশক যুক্ত ফল ও সব্জি খাওয়ার ফলে বাচ্চার শরীর খারাপ হয়েছে |

ফল ও শাক সব্জি কী করে পরিষ্কার করবেন?

) ঠান্ডা জলে ভালো করে ঘষে ঘষে ধুতে হবে : দ্য সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের মতে ৭৫% থেকে ৮৫% অবধি কীটনাশক ঠান্ডা জলে ধুলে চলে যায় |

কিন্তু কয়েকটা ফল যেমন আপেল‚ পেয়ারা‚ আঙুর‚ প্লাম‚ আম‚ পিচ‚ ন্যাসপাতি এবং সব্জির মধ্যে টমেটো ‚ভিন্ডি আর শাকপাতাকে অন্তত তিন বার ঠান্ডা জলে ধুতে হবে |

ভালো করে ফল আর সব্জির গা ঘষে ঘষে ধুতে হবে | অনেক সময় ফলের মুখের কাছে কীটনাশক জমে থাকতে পারে সেই অংশ কেটে বাদ দিয়ে দিন বা ভালো করে ধুয়ে নিন | অন্তত ৩০ সেকেন্ড ঠান্ডা জলের তলায় ঘষে ঘষে ধুতে হবে |

) নুন জলের মিশ্রণ : নুন জল দিয়ে যদি ফল ও শাক সবজি ধোয়া হয় তাহলে তা আরো পরিষ্কার হবে | ২ টেবিল চামচ নুন ৪ কাপ গরম জলে মিশিয়ে নিন | জল ঠান্ডা করে তাতে ৩০-৬০ মিনিট ফল ও শাক সব্জি ডুবিয়ে রাখুন | এরপর ঠান্ডা জলের তলায় ভালো করে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে |

স্ট্রাবেরি বা চেরি ফলের মতন নরম ফল নুন জলে না ডুবিয়ে রাখাই ভালো কারণ তা ফলের মধ্যে সোক করে ঢুকে যেতে পারে | এইসব ফলের জন্য এমনি ঠান্ডা জলের মধ্যে তা ভিজিয়ে রাখুন |

) ভিনিগার-এ ভিজিয়ে রাখুন : নুন জলের বদলে ভিনিগারের মধ্যেও ভিজিয়ে রাখতে পারেন | এছাড়াও ভিনিগারের বদলে লেবুর রস ও ব্যবহার করতে পারেন |

একটা বড় পাত্রে চার ভাগ জল আর এক ভাগ ভিনিগার দিন | এতে এবার ফল ও শাক সব্জি ভিজিয়ে রাখুন | ৩০-৬০ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর ভালো করে ঘষে ঠান্ডা জলের তলায় ধুয়ে নিন | ভিনিগার ব্যবহার করলে ফল ও শাক সব্জি বেশি দিন তাজাও থাকবে |

) ঘরে তৈরি ফল ও শাক সব্জির স্প্রে : যদি তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকেন তাহলে নুন জল বা ভিনিগারের মধ্যে না ভিজিয়ে রেখে‚ এই স্প্রে ব্যবহার করুন |

একটা স্প্রে বোতলে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস‚ এক টেবিল চামচ ভিনিগার আর এক কাপ জল ভালো করে মিশিয়ে নিন | বোতল ভালো করে ঝাঁকিয়ে ফল ও শাক সব্জির গায়ে স্পে করুন |

২ মিনিট রেখে‚ অন্তত ৩০ সেকেন্ড ঘষে ঠান্ডা জলের তলায় ধুয়ে নিন |

) খোসা ছাড়িয়ে ট্রিম করে নিন : এই পদ্ধতিই হয়তো সব থেকে কার্যকর যার সাহায্যে কীটনাশক এবং অন্য ক্ষতিকারক কেমিক্যাল পেটে যাওয়ার থেকে রক্ষা পাবে | কিন্তু সব ফল ও শাক সব্জির ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয় কারণ অনেক ফল ও সব্জির খোসা থাকে না |

বাসন ধোয়ার ডিশ ওয়াশ বা সাবান বা ব্লিচ ব্যবহার করবেন না | ফল ও শাক সব্জির গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না | সাবান দিয়ে ধুলে বা ব্লিচ করলে তা কিন্তু সব্জি ও ফলের মধ্যে চলে যেতে পারে | এর ফলে কিন্তু উপকারের বদলে অপকারই বেশি হবে |

আরও পড়ুন:  জেনে রাখুন চোখের তলার বলিরেখা দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি
Sponsored
loading...

NO COMMENTS