১৯০২ সালের ১৭ মে গ্রিক পুরাতাত্ত্বিক ভ্যালেরিও স্তাইস খননে খুঁজে পেয়েছিলেন এক ধাতব খণ্ড | গবেষণায় জানা গেল ওটা আসলে বিশ্বের প্রাচীনতম কম্পিউটারের একটা অংশ  | ব্যবহৃত হতো ২০০০ বছর আগে | পরিচিত অ্যান্টিখাইথেরা মেক্যানিজম নামে |

প্রাচীন এই Analogical Computer-এর সাহায্যে গ্রিক সভ্যতায় মাপা হতো চন্দ্র সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান | গণনা হতো চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ‚ সেইসঙ্গে পরবর্তী অলিম্পিকের দিনক্ষণও | এই সিস্টেম পারত যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ | নির্ধারণ করে দিত কোন রাশিতে অবস্থান করছে চন্দ্র সূর্য |

আয়তনে একটা জুতোর বাক্সের মতো | তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টের জন্মের অন্তত ২০০ বছর আগে | এতে ছিল ব্রোঞ্জের তৈরি মোট ৩০ টি গিয়ার | পুরো যন্ত্রটা রাখা ছিল যে বাক্সে সেটাও তৈরি ছিল কাঠ আর ব্রোঞ্জে |

আবিষ্কার-পর্বও বেশ অভিনব | ১৯০২ সালে মে মাসে পুরাতাত্ত্বিক ভ্যালেরিও ছিলেন গ্রিসের অ্যান্টিখাইথেরা অঞ্চলে | তারও দু বছর আগে সেখানে আবিষ্কৃত হয়েছিল প্রাচীন রোমান কার্গো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ | খ্রিস্টের জন্মের ৬০ বছর আগে ডুবে গিয়েছিল সেই জাহাজ |

ভগ্নাবশেষে ব্রোঞ্জের ওই খণ্ড দেখে অবাক হয়ে যান ভ্যালেরিও | তাঁর মনে হয়েছিল এটা গণনার যন্ত্র | পরে জানা যায় ওটা একটা কম্পিউটারের অংশ | অত্যন্ত জটিল পদ্ধতি হলেও গবেষকরা নিশ্চিত ওই যন্ত্র তার সমসাময়িক অন্য যন্ত্রের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল | ঐতিহাসিকদের ধারণা‚ রোডস আইল্যান্ডে তৈরি হয়েছিল এই যন্ত্র | কিন্তু যেখানে পাওয়া গিয়েছিল‚ সেই জায়গার নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয় | অবশ্য একে প্রাচীন গ্রীকরা কী বলে ডাকত‚ তা জানা যায়নি |

সেরকমই‚ কেন অন্ধকারে চলে গেল এর ব্যবহার‚ তা নিয়েও সদুত্তর পাননি ঐতিহাসিকরা | কিন্তু মনে করা হয়‚ যদি এই যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ না হতো‚ তবে আরও হাজার বছর এটা দাপটের সঙ্গে শাসন করতেই পারত গণনাশাস্ত্র | অন্তত যতদিন না মধ্যযুগে ইউরোপের গির্জায় এসেছিল ঘড়ি |

প্রাচীন এই কম্পিউটারের অংশ রাখা আছে আথেন্সের জাতীয় জাদুঘরে | এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ১১৫ বছর পূর্তির ঘটনা ডুডল বানিয়ে স্মরণ করেছে গুগল |

আরও পড়ুন:  গোরুর মুখের খবর
- Might Interest You

NO COMMENTS