সময় পিছিয়ে যদি ১৯৮০ সালে পৌঁছে যাওয়া যায়‚ তাহলে দেখবেন পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের  কর্জ  সেই বছরের অন্যতম সফল ছবির মধ্যে একটা ছিল | ৩৭ বছর হয়ে গেলো কিন্তু এই ছবির গান  এক হাসিনা থি এক দিওয়ানা থা  এখনো জনপ্রিয় | এই ছবির মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন ঋষি কপূর‚ টিনা মুনিম এবং সিমি গারেওয়াল | পূর্বজন্মের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবি মুক্তি পাওয়া মাত্র দর্শকদের মনে ছাপ ফেলে |

এই ছবির নির্মাতাদের কাছে কিন্তু কামিনী চরিত্রের জন্য একজন যথাযথ অভিনেত্রী খুঁজে পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল | অবশেষে অনেক ভাবনা চিন্তার পর ঠিক হয় এই চরিত্রে সব থেকে ভালো মানাবে সিমি গারেওয়ালকে | কিন্তু সিমি কিছুতেই এই চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হলেন না | উনি সুভাষ ঘাইকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন নেগেটিভ চরিত্রে উনি কিছুতেই অভিনয় করবেন না | সুভাষ ও ছাড়ার পাত্র নন | উনি বারবার সিমিকে অনুরোধ করতে থাকলেন এই ছবিটা করার জন্য | এই করে এক বছর কেটে গেলো কিন্তু সিমি কিছুতেই রাজি অলেন না |

পরে সিমি এই ছবি করার অভিজ্ঞতার কথা একটা ওয়েবসাইটকে জানিয়েছিলেন | উনি শেষ অবধি কী করে এই ছবি করার জন্য রাজি হলেন তা ওঁর মুখ থেকেই শুনে নিন | সিমির কথায়  আমাকে স্বীকার করতে হবে কার্জ সম্পর্কে আমার ধারণা ভুল ছিলো | আমি বারবার সুভাষকে ফিরিয়ে দিয়েছি | ওর অসীম ধৈর্য | একবছর ধরে ও আমাকে রাজি করানোর চেষ্টা করে | কিন্তু আমি ওই নেগেটিভ চরিত্র করতে রাজি ছিলাম না | অবশেষে সুভাষ একদিন আমায় বললো আমি যদি এই ছবি করতে রাজি না হই তাহলে ও কোনদিন আর এই ছবি বানাবে না | ওর আন্তরিকতা আমার মন ছুঁয়ে যায় | আমার পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি অবশেষে এই ছবি করতে রাজি হই | 

অবশেষে ছবি তৈরি হলো | আর ছবি মুক্তির পরে সিমির অভিনয়ের প্রশংসা সব থেকে বেশি হলো | সিমি জানিয়েছিলেন  আমার মনে আছে যেখানেই আমি যেতাম শুনতে পেতাম এক হাসিনা থি গানটা বাজানো হচ্ছে | এমনকি এই গানের সুর তখন অনেকেই গিটারেও বাজাতে পারতো | আমি ভাবতে পারি নি আমি এত প্রশংসিত হবো | আমি সুভাষকে বড় একটা ফুলের তোড়া পাঠিয়েছিলাম | সঙ্গে একটা থ্যাঙ্ক ইউ লেটারও লিখে পাঠাই | সেই চিঠিতে আমি লিখেছিলাম  তুমি ঠিক ছিলে সুভাষজি | তোমাকে ধন্যবাদ | কামিনী সারাজীবন বেঁচে থাকবে | 

যাক যা হয়েছিল ভালোর জন্যেই হয়েছিল | কামিনীর চরিত্রে অন্য কোনো অভিনেত্রীকে কল্পানাই করা যায় না | তাই না?

আরও পড়ুন:  উদয় চোপড়ার এখনকার ছবি দেখলে অবাক হয়ে যাবেন

NO COMMENTS