মানুষের শরীর এমনভাবে তৈরি যাতে একই সঙ্গে সে কয়েক হাজার কাজ করতে পারে | আর সবাই আলাদা ভাবে কাজ করলেও সবার মধ্যেই কিন্তু সঠিক ব্যালেন্স বজায় থাকে | তবে যখনি এর মধ্যে একটা বা একাধিক প্রক্রিয়ায় বাধা পড়ে আমাদের শরীর কিন্তু বিভিন্ন সংকেত পাঠায় | কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সেই সংকেতকে অবহেলা করি | সঠিক সময়ে এইসব সিগ্যানালের প্রতি দৃষ্টি দিলে বড় রকমের ক্ষতি বা জটিলতার হাত থেকে বাঁচা যায় |

নীচে দেওয়া হলো এমন দশটা সিগ্যানাল যা থেকে আন্দাজ করা যেতে পারে শরীরে কোন ভিটামিনের কমতি ঘটেছে  :

) মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে : বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিটামিন C-এর কমতি হলে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে | এমনটা হলে বেশি করে রসুন‚ ফল এবং সব্জি খান | এছাড়াও এটা ক্যান্সারের ইঙ্গিতও হতে পারে |

) হাতের কনুইয়ের চামড়া শুকিয়ে যাওয়া : ভিটামিন A আর ভিটামিন C-এর কমতি হলে এমনটা হয় | এই ক্ষেত্রে বেশি করে ফল এবং সব্জি যেমন কুমড়ো‚ গাজর‚ কমলা লেবু‚ মুসাম্বি খেতে হবে |

) ভঙ্গুর চুল এবং নখ : সহজেই চুল আর নখ ভেঙে যাওয়া মানে শরীরে ক্যালসিয়াম আর ভিটামিন D এর ঘাটতি হয়েছে | এই সময় এমন খাবার খান যাতে বেশি করে এই দুটো উপস্থিত আছে যেমন আলু‚ whole grains ‚ কড়াইশুঁটি এবং দুধ |

) ড্রাই স্কিন : ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া মানে শরীরে ভিটামিন E কমে গেছে | শরীরে ভিটামিন E এর লেভেল ঠিক করতে বেশি করে বাদাম‚ ভেজিটেবিল অয়েল আর মাছ খেতে হবে |

) বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া‚ পায়ে ক্রাম্প হওয়া কিন্তু ম্যাগনেসিয়াম আর পটাশিয়ামের ডেফিসিয়ান্সির লক্ষণ | ম্যাগনেসিয়াম লেভেল বাড়াতে বেশি করে বাদাম বিশেষত আমন্ড বাদাম‚ সূর্যমুখী ফুলের বিজ আর লিনসিড খেতে হবে | আর পটাসিয়ামের মাত্রা বাড়াতে সবুজ পাতা যুক্ত সব্জি যেমন বিভিন্ন ধরণের শাক খেতে হবে | এছাড়াও বিট আর প্লামের মধ্যে পটাশিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম দুটোই উপস্থিত আছে |

) টক খাবারের প্রতি আসক্তি হলে : এর থেকে আন্দাজ করতে হবে লিভার আর গলব্লাডারের অ্যাডিশনাল স্টিমুলেশন দরকার | বেশি করে লেবু খেলেই এই সমস্যার সমাধান হবে |

) হঠাৎ করে সি ফুড খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে গেলে : বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে শরীরে আয়োডিনের কমতি হলে এমনটা হয় |

) কাঁচা খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে : লিভার এবং হজম শক্তি কমে গেলে কাঁচা খাবার ইচ্ছা জাগে | এমনটা হলে কদিন raw ডায়েট মেনে চললে ক্র্যাম্প হওয়া কমবে এবং পেট ঠান্ডা হবে |

) মিষ্টি খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে : শরীর ক্লান্ত থাকলে বা অহেতুক নার্ভাস বোধ করলে তখন মিষ্টি খাবার খেতে ইচ্ছা করে | এই সময় শরীরে গ্লুকোজ কমে যায় ফলে এমনটা হয় | এই সময় একটুখানি ডার্ক চকোলেট খেতে পারেন |

১০) নোনতা খাবারের প্রতি আসক্তি বেড়ে গেলে : শরীরে ইনফেকশন বা ইনফ্ল্যামেশন হলে এমনটা হয় | বিশেষত urogenital system আক্রান্ত হলে |

আরও পড়ুন:  বর্ষাকালের ভরসা দেওয়া মেকআপ টিপস
- Might Interest You

NO COMMENTS