স্কুলে পড়েছেন বৈদিক সভ্যতার সপ্ত ঋষির নামে আকাশে জ্বলজ্বল করে সপ্তর্ষিমণ্ডল | আকাশপাঠের পাশাপাশি আসুন একবার খোঁজার চেষ্টা করি সেই সাত ঋষিকে |

হিন্দু পুরাণের নানা উৎসে সাত ঋষির নাম পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে | তবে সবথেকে বেশি স্থানে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের কথাই বলব | সেই সাত ঋষি হলেন ভৃগু‚ অত্রি‚ অঙ্গীরা‚ বশিষ্ঠ‚ পুলস্থ্য‚ পুলহ ও ক্রতু |

এই পর্বে অঙ্গীরার কথা |

আদি বৈদিক গ্রন্থ ও সূত্রে ঋষি অঙ্গীরাকে বলা হয়েছে অঙ্গীরস | অগ্নির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রগাঢ় | হতে পারে হয়তো অঙ্গীরা থেকে অঙ্গার কথাটি উদ্ভূত | তন্ত্র মন্ত্র উচাটনের জন্য বেদের যে অংশ প্রখ্যাত সেই অথর্ব বেদের অধিকাংশ স্তোত্র রচনা করেছেন এই ঋষি অথবা তাঁর উত্তরসূরীরা |

সপ্তর্ষির অন্যান্য মহা ঋষির মতো অঙ্গীরাকেও বলা হয় ব্রহ্মার মানসপুত্র রূপে | তবে তাঁর জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আরও কিছু তথ্য আছে | কোথাও বর্ণিত তিনি জন্ম লাভ করেছেন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে | কোথাও বলা হয়েছে ব্রহ্মার বীর্য পড়েছিল জ্বলন্ত অঙ্গারে | তার থেকেই আবির্ভূত হলেন অঙ্গীরস বা অঙ্গীরা |

প্রাচীন নদীমাতৃক সভ্যতাগুলো একে অপরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত ছিল তার প্রমাণ ঋষি অঙ্গীরা | পরিস্ফুট হয় সিন্ধু সভ্যতা ও প্রাচীন ইরানীয় সভ্যতার মেলবন্ধন |

প্রাচীন পারস্য বা ইরান সভ্যতার প্রধান পথ প্রদর্শক ছিলেন রাতু জোরাথ্রুস্টিয়ান | ভাষাবিদরা অনেকেই মনে করেন এই রাতু আসলে সংস্কৃত ঋষি শব্দ থেকেই জাত |

খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০ থেকে ১৭০০ অব্দে জোরাথ্রুস্ট ছিলেন উত্তর পূর্ব ইরানে | তিনি আলোকিত হয়েছিলেন আহুরা মাজদা দ্বারা | ইরানীয় সভ্যতায় এই আহুরা মাজদাই হলেন একমাত্র ঈশ্বর | আহুরা কথার অর্থ আলোক এবং মাজদা হল জ্ঞান | দুয়ে মিলে হল জ্ঞানালোক | গবেষকরা বারবার বলে এসেছেন বৈদিক রীতিনীতির সঙ্গে জোরাথ্রুস্টিয়ান মতবাদের বহুল সাদৃশ্য বিদ্যমান |

সিন্ধু সভ্যতার আর্য-বৈদিক এবং পারস্যের আর্য-আবেস্তান এই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভূত বিরোধ ছিল | সে সম্বন্ধে জেন্দ আবেস্তা ( প্রাচীন পারসিক ধর্মগ্রন্থ ) এবং বৈদিক সাহিত্য‚ দুটি উৎস থেকেই জানা যায় | তবে তার জন্য সাংস্কৃতিক বা জ্ঞানালোকের আদানপ্রদানে বাধা আসেনি |  

জেন্দ আবেস্তা নিয়েও একটা চমকপ্রদ দাবি করেন প্রাচ্যবিদরা | এই প্রাচীন গ্রন্থ আসলে ভার্গব বেদ | যেটি হল ভৃগু-অঙ্গীরস সংহিতার হারিয়ে যাওয়া অংশ | এই ঘরানার বিশেষজ্ঞদের ধারনা‚ ঋষি ভৃগু ও বশিষ্ঠের ধারায় এক ঋষি হলেন জোরাথ্রুস্টিয়ান |

প্রাচীন পারস্য ও সংস্কৃত ভাষার বহু শব্দও একরকম | দেবভাষা ভাল করে না জানলে পাঠোদ্ধার করা যায় না জেন্দ আবেস্তারও | জেন্দ আবেস্তার গাথা আসলে ঋক বৈদিক সমকালীন | সর্বোপরি‚ পারস্যের প্রাচীন দেবতা আহুরা মাজদাকেও মনে করা হয় বৈদিক দেবতা বরুণ-এর এক অবতার রূপেই |

এই নিয়ে দ্বিমত থাকতেই পারে | তবে দুই সভ্যতার মিল নিয়ে বেশ কিছু শব্দ আলোচিত হয়েছে পণ্ডিতদের রচনায় | সেরকম কিছু উল্লেখ করলাম নিম্নে |

সংস্কৃত : অহম
প্রাচীন পারসিক : আজেম
অর্থ : আমি

সংস্কৃত : জিহ্বা
প্রাচীন পারসিক : হিজভা
অর্থ : জিভ

সংস্কৃত : সপ্ত
প্রাচীন পারসিক : হপ্তা
অর্থ : সাত

সংস্কৃত : হিম
প্রাচীন পারসিক : জাইম
অর্থ : বরফ বা শীতল

সংস্কৃত : যজ্ঞ
প্রাচীন পারসিক : যস্ন
অর্থ : দেবতার উদ্দেশে আগুনে উৎসর্গ

এই প্রসঙ্গে :  তাঁর শাপে ব্রহ্মা নরলোকে পুজো পান না‚ বিষ্ণুকে জন্ম নিতে হয় নানা অবতারে‚ শিব পূজিত হন লিঙ্গরূপে http://banglalive.com/why-is-rishi-bhrigu-famous-in-hindu-mythology/

আরও পড়ুন:  অবর্ণনীয় অনটনে কেটেছিল এই প্রতিভাবান, বরেণ্য অভিনেতার শেষবেলা

ঋষিপত্নীর সতীত্বের পরীক্ষা নিতে এসে ত্রিদেবকে জন্মাতে হল এই ঋষির পুত্র হয়েই http://banglalive.com/brahma-vishnu-shiva-were-born-as-sons-of-rishi-atri/

NO COMMENTS