হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, শ্রীরাধিকা বা শ্রীমতি আসলে লক্ষ্মীর অংশ | তাঁর আর কৃষ্ণর প্রেমকে দেখানো হয়েছে ভক্তির চরম বা সর্বোচ্চ চরণ হিসেবে | তাই এই জুটি চির প্রেমিক জুটি | যাঁদের আবদ্ধ করা যায়নি কোনও বৈবাহিক বন্ধনে |

রাধার বাবার নাম বৃষভানু | মায়ের নাম কমলাবতী | বৃন্দাবন থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে বরসানা গ্রামে তাঁর জন্ম | কোনও কোনও পৌরাণিক সূত্র অনুযায়ী রাধা বিবাহিত ছিলেন না | তাঁর সঙ্গে কৈশোরে বহু রাসলীলা থাকলেও কৃষ্ণ তাঁকে বিয়ে করেননি |

বলা হয়, রাধাকে বৃন্দাবনে রেখেই কংসকে নিধন করতে মথুরা চলে যান কৃষ্ণ | আর ফেরেননি | পরে একাধিক বিয়ে করেন | সন্তানের জনক হন | মহাভারতের যুদ্ধে ভূমিকা নেন | কিন্তু বৃন্দাবনে আর ফিরে আসেননি | রাধিকা তাঁর চির বিরহে দিন কাটিয়ে গেছেন |

জনশ্রুতি, মথুরা যাওয়ার আগে কৃষ্ণকে আকুল প্রশ্ন করেন শ্রীরাধিকা | কেন কৃষ্ণ তাঁকে বিয়ে করে মথুরা নিয়ে যাচ্ছেন না?

উত্তরে কিছু না বলে এগিয়ে যান শ্রীকৃষ্ণ | তাতে রেগে আরও অধৈর্য হয়ে পড়েন শ্রীমতি | এর পরে বাসুদেব উত্তর দেন, বিয়ে করার জন্য দুটো আলাদা আলাদা আত্মা বা সত্ত্বার দরকার হয় | তিনি রাধিকাকে বিয়ে করবেন কী করে ? তাহলে তো পীতাম্বরকে নিজের সঙ্গে নিজেকে বিয়ে করতে হয় | অর্থাৎ রাধা-কৃষ্ণ আসলে একটাই সত্ত্বা | তাঁরা একাত্মা |

পৌরাণিক অন্য সূত্র বলে, রাধিকা ছিলেন আয়ান ঘোষের স্ত্রী এবং সম্পর্কে কৃষ্ণের মামিমা | একজন বিবাহিত নারীর তো দ্বিতীয়বার বিয়ে হতে পারে না | আসলে, কৃষ্ণ হচ্ছেন ভগবান এবং রাধা তাঁর পরম ভক্ত | এবং নিখাদ প্রগাঢ় ভক্তির সমার্থক শব্দ হল প্রেম | রাধা-কৃষ্ণর প্রেমের পথে আসা বাধা বিঘ্ন আসলে ভগবানকে লাভের পথে ভক্তের সামনে আসা বাধা বিপত্তি | তাই ভক্তি, আত্মত্যাগ, স্বার্থ বিসর্জন এবং উৎসর্গের নিদর্শন এই যুগলকে কোনও নিছক সম্পর্কের নিগড়ে বাঁধা হয়নি | দেওয়া হয়নি কোনও ছক বাঁধা সম্পর্কের তকমা |

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পরম ভক্ত রাধিকাকে আশীর্বাদ করেন | বলেন,রাধার নাম সবসময় তাঁর নামের আগে উচ্চারিত হবে | তাঁদের যুগলের মন্দির যেখানেই থাকবে, বলা হবে রাধা-কৃষ্ণর মন্দির | কৃষ্ণ-রাধার মন্দির নয় | তাই ‘দেবী’ না হয়েও ‘কলঙ্কিনী’ রাধিকা পূজিতা হন |

আরও পড়ুন:  রাখীর জন্যই হিদাসপিসের তীরে সম্রাট আলেকজান্ডারের বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন রাজা পুরু ?
Sponsored
loading...

NO COMMENTS