রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
তাঁর কর্মজীবন শুরু ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে স্কটিশ চার্চ কলেজে | তারপর তিনি আজকাল সংবাদপত্রে যুক্ত হন সহকারী সম্পাদক রূপে | সেখান থেকে সহকারী সম্পাদক রূপে আনন্দবাজার পত্রিকায় | বর্তমানে তিনি যুক্ত সংবাদ প্রতিদিন-এর সঙ্গে | তবে এখন তাঁর প্রধান পরিচয় সাহিত্যিক হিসেবে | তাঁর বেস্টসেলার বইগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাণসখা বিবেকানন্দ ( দু খণ্ড)‚ কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড নোট‚ রবি ও সে ‚ আমি রবি ঠাকুরের বউ‚ রবি ও রাণুর আদরের দাগ‚ নায়ক রবি ( ১ ম খণ্ড)‚ দ্বারকানাথ থেকে রবীন্দ্রনাথ; ঠাকুরবাড়ির গোপনকথা‚ প্লাতা নদীর ধারে; রবীন্দ্র-ওকাম্পোর প্রণয়কথা | সম্প্রতি ‘রাধা ও রবি’, ‘স্বামী’-সহ একাধিক সংগ্রহে সমাদৃত হয়েছে তাঁর ভাষ্যপাঠ |

সম্ভবত তৈত্তিরীয় উপনিষদেই প্রথম ব্যবহার হল শব্দটি |
একটি মেয়ের নাম |
হাজার হাজার বছর আগে এমন আধুনিক এমন বিদগ্ধ নাম একটি মেয়ের ? কী সেই শব্দ যা ব্যবহার হল এক পরমাসুন্দরীর নামে ?
কখনও তো পৃথীবীর আর কোনও মেয়েকে কোনওদিন কেউ এই নামে ডাকেনি !
জানিনা আজও কেন কোনও মেয়েকে আমরা ডাকি না এই উপনিষদিক নামে !
কী নাম তোমার যদি জিগ্যেস করি আর সেই মেয়ে যদি বলে বৈরচনী—-আমার নাম বৈরচনী—‚তাহলে আমার কাছে অনন্ত থেমে যাবে সময় | আমার সমস্ত অন্তর
জুড়ে জ্বলে উঠবে যজ্ঞাগ্নি‚ আর সেই পবিত্র সুবর্ণ আগুন থেকে প্রকাশিত হবে সেই বহ্নিবালা যার নাম বৈরচনী

Banglalive

কী মানে এই নামের ?
কী মানে এই শব্দটির ?
বিরোচন থেকে বৈরচনী
বিরোচন মানে সূর্য |
বিরোচন মানে অগ্নি |
তাহলে তো বৈরচনী মানে সেই মেয়ে যে আগুনের মতো |
আগুনের মতো চোখ-ঝলসানো মেয়ে |
আগুনের মতো মন-ঝলসানো যে মেয়ের মেধা |
অর্থাৎ এই পরমা একই সঙ্গে রুপে ও ধীময়্তায় সূর্যের মতো উজ্জ্বল !
এমন মেয়ে পাব কোথায় ?
কেন তৈত্তিরীয় উপনিষদেই পাবেন তো |
এই মেয়েরই তো আর এক নাম দুর্গা !

বৈরচনী আক্ষরিক অর্থে বহ্নিবালা | অগ্নিকন্যা |
তৈত্তিরীয় উপনিষদের দুর্গাকেই বলা হয় অগ্নিকন্যা |

তামাগ্নিবর্ণাং তপসা জলন্তীং
বৈরচনী কর্ম ফলেষু মুষ্টাম
দুর্গাং দেবী শরণমহং প্রপদ্যে
সুতরসি তরস নমঃ |

ওই তামাগ্নিবর্ণা শব্দটি আমার মনে আনে শেক্সপিয়র :

‘Mislike me not for my complexion,
 The shadowed livery of the burnished sun’

আমার তাম্রবর্ণকে ঘৃণা কোরো না তুমি | আমি সূর্যর দেশের মানুষ | আমার গায়ের রং ওই জ্বলন্ত সূর্যের চিরায়ত অবদান |
দুর্গাও তো সূর্যের দেশের মেয়ে |
সে গৌরী বটে‚ কিন্তু সে ঠান্ডা দেশের তুষারকন্যাদের মতন ফ্যাকাসে সাদা নয় |
সে আগুনে পোড়া সোনা |
তাই তার আর এক নাম হিরন্ময়ী |

প্রশ্ন হল‚ আমি কালীর কথা লিখতে নিয়ে দুর্গাকে প্রথমে টেনে আনলাম কেন ?
ওই বৈরচনী নামটির প্রেমে পড়ে ?
না‚ তা ঠিক নয় কিন্তু |
তবে একথাও ঠিক‚ যদি কোনও বৈরচনীর সঙ্গে সত্যি কোনওদিন পরিচয় হয় আমার‚ তার প্রেমে আমি পড়তেই পারি | শুধু ওই নাম ধরে তাকে ডাকার জন্যে |
আসলে‚ আমি সেই কঠিন কাজটি কেমন করে করি যা করতে পারেনি উপনিষদ ?
কী সেই কাজ ?
কালী আর দুর্গাকে সম্পূর্ণ আলাদা করার কাজ |
কিছুতেই করা না এই দুই মেয়েকে পৃথক |
কোথায় এমন মিল আছে কালী আর দুর্গা মধ্যে যে ওদের আলাদা করে ভাবা যায় না ?
বরং অমিলটাই তো চোখে পড়ার মতো |
ওতো বাইরের অমিল | অন্তরের চোরাস্রোতে কালী-দুর্গা একাকার হয়ে আছে |
মহাকালের কোলে এসে দুর্গা হল মহাকালী—-একথা নজরুলের |
কালী-দুর্গার মিলনের নিহিত বার্তাটি এইভাবে দিলেন নজরুল |
এতো আমাদের কাছের কবির কথা |
আর অনেক দূরের কবি‚ উপনিষদের কবি‚ কী বলছেন আর দুর্গা‚ এই দুই ধীময়ী পরমার বিষয়ে ?
উপনিষদের ঋষি-কবি বলছেন :

দুর্গা মধ্যাহ্ন সূর্যের তেজ
কালী সন্ধ্যাসূর্যের স্ফুলিঙ্গিনী |
কালী ও দুর্গাকে কী করে আলাদা করবে বলো ?
দুই কন্যাই যে সূর্যশক্তির বাহিকা

প্রাচীন ভারত‚ এক আশ্চর্য কাণ্ড ঘটিয়েছিল | যজ্ঞের  আগুনের সাতটি শিখার কথা বলছে উপনিষদ | এবং‚ শুধু বলছে না‚ সাতটি শিখাকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করছে !
সাতটি শিখা হল যজ্ঞাগ্নির সাতটি লেলিহান জিভ |
আর সবচেয়ে উঁচু‚ সবচেয়ে সুন্দর শিখাটিই হল কালী !
দুর্গা নয়‚ কালী !
আমাদের দেশে কেন যে কালো মেয়ের কদর নেই বুঝি না | বাঙালি পুরুষ শুধু বোকা হ্যাংলার মতো ফরসা-ফরসা জপ করে | আর সেই জপ সৌজন্যে হাবিজাবি মেখে যারা দেশজুড়ে ফরসা হওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে!
কালো মেয়ের রূপের কথা জানতে বাঙালি পুরুষকে কিন্তু উপনিষদ পড়তেই হবে |
ঋষিরা কিন্তু নারীরূপের অব্যর্থ ঋত্বিক ছিলেন—-একথা মনে রাখবেন |
উপনিষদের ঋষিরা কী বলছেন‚ শুনুন :

যজ্ঞের সবচেয়ে উজ্জ্বল শিখাটি হল কালী !
সবচেয়ে উজ্জ্বল ও মনোহরা |
একী ! কালো কন্যাই এত রূপবতী ?এতো দুর্গাকে অপমান !
না‚ যজ্ঞের কুণ্ডের মধ্যে এবার নিক্ষেপ করন দৃষ্টি |
সেখানে জ্বলছে সোনারবরণ আগুন !
ওই আগুনই দুর্গা !
কেউ জিতছে না‚ কেউ হারছে না |
দুর্গা থেকেই বেরিয়ে এসেছেন কালী |
লক্ষ করে দেখুন যে সুন্দরতম শিখটি যজ্ঞাগ্নি থেকে উঠে এসেছে তার ডগাটি নীল থেকে ক্রমশ কালো !
ওই তো কালী !

ভারতের প্রাচীন অদ্বৈতদর্শন বলছে কালী ও দুর্গা একই শক্তির দুই রূপ |
তাই কালীর কথা বলতে গিয়ে দুর্গা দিয়েই শুরু করলাম | তবে‚ এটাও সত্যি‚ বৈরচনী নামের মায়ার টানেও হয়তো দুর্গা দিয়েই শুরু ! আশা করি আমার এই বিশেষ প্রবণতা ক্ষমাযোগ্য অপরাধ |

কালী নাম কেন ?
কালো মেয়ের আবার কী নাম হবে কালী ছাড়া ?
ব্যাপারটা অত সহজ নয় কিন্তু |
উপানিষদ ছাড়া গতি নেই আমাদের্—-একমাত্র আলো ওই উপনিষদ |
উপনিষদ-ই  তো বলছে‚ কে বলেছে কালী কালো ? যজ্ঞের যে শিখাটি লাগিয়ে উঠল আরও ছ্টি শিখার উপরে‚ সে তো অগ্নিশিখা |
আগুনের রং কি কালো ?
ওই সবচেয়ে উঁচু শিখাটিই তো কালী |
ঠিক ঠিক‚ তার ডগার দিকটি কালো !
ওই  শিখাশিখরই তো ছুঁয়ে আছে মহাকালকে |
তা-ই কালো |
মহাকালের কোলে এসে দুর্গাই যেন কালী !
মহাকাল ?
আচ্ছা‚ মহাকালের সঙ্গে কালীর কোনও সর্ম্পক নেই তো ?
একেবারে নিবিড় গূঢ় বহু দ্যোতনায় প্রতত সম্পর্ক !
কালী কালো বলে কালী নয় |
কালী মহাকালকে কলন করেন তাই কালী |
কলন মানে ?
কলন মানে হিসেব করা‚ যাকে বলে সময় দেখা |
আমরা যখন ঘড়ি দেখি‚ কাল গুনি‚ সপ্তা‚ মাস‚ বছর‚ দিনরাত্তিরের হিসেব করি‚ কালী তেমন মহাকালের হিসেব রাখেন |
কলন থেকে কালী | কালো থেকে নয় |
কালীর কোনও আইডেনটিটি কার্ড নেই ?
পরিচয়পত্র ?
আছে‚ তাও আছে |
কোনও ধানাইপানাই নেই পরিচয়পত্রে |
কালী নিজেই নিজের পরিচয় দিচ্ছেন এই ভাষায়:

একৈবাহং জগত্যত্র দ্বিতীয়া কা মমাপরা |
এই মহাবিশ্বে আমি আছি‚ একাই আমি‚ আমি ছাড়া আর কেউ নেই !
আমার কোনও দ্বিতীয়া নেই | আমি অদ্বিতীয়া |

–তাহলে এই যে আমাদের চারপাশে এতকিছু দেখাছি সেসব চোখের ভুল ?
–না না‚ চোখের ভুল হবে কেন ? এইসব কিছু মৎ বিভূতয় | আমার বিভূতি‚ বলছেন কালী |
–বিভূতি শব্দটার ঠিক কী অর্থ?
–বিভূতি মানে ঐশ্বর্য |
–চারপাশে যা কিছু দেখছিস সব আমার ঐশ্বর্য‚ মৎ বিভূতয় বলছেন কালী |
–মা‚ তুমি কে ? ছোট করে বলো মা‚ যাতে বুঝতে পারি |
–আমি রাষ্ট্রী | এরচেয়ে ছোটো উত্তর হয় না‚ বললেন কালী |
–রাষ্ট্রী ? একেবারে অভিনব শব্দে সংক্ষিপ্ততম পরিচয় !
–দেবসূক্তে আমি নিজের পরিচয় দিয়েছি ওই একটি শব্দে | কোড ল্যাঙ্গুয়েজও বলতে পারিস | ডিকোড করলে দাঁড়ায় আমিই রাষ্ট্রের অধীশ্বরী!
–ওরে বাবা ! এখানেও রাজনীতি ! রাষ্ট্র মানেই তো দলবাজি‚ রক্তপাত‚ ক্ষমতার লড়াই |
— না‚ শুনে রাখ‚ আমার রাষ্ট্র কোনও রাজনীতিনিপীড়িত‚ আর্ত‚ বিপন্ন ভূখণ্ড নয় | আমার রাষ্ট্র এই অনত মহাবিশ্ব ! আমিই তার একমাত্র অধিশ্বরী | সব ক্ষমতা আমার | আমারই ইচ্ছায় সৃষ্টি-স্থিতি-লয় | আমার ইচ্ছা ছাড়া পাতা নড়ে না গাছের‚ মৃত্য হয় না একটা পিঁপড়েরও !
আমি দান করি পার্থিব বাড়বাড়ন্ত !
আমি দান করি অপার্থিব ভোগ |
আমি দান করি সীমিত সুখ |
আমিই নিয়ে যাই অনন্ত আনন্দযজ্ঞে |
আর আমিই শেষপর্যন্ত দান করি মোক্ষ | সমস্ত দুঃখ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি |
–তবে আর কেন অন্য দেবদেবীর পুজো করি ? তোমার পুজো করলেই তো সব পুজো হয়ে গেল |

–আমিই তো চিকিতুষী |
–সেটা আবার কী মা ?
–যে শক্তি থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে‚আমিই সেই আদিশক্তি | তাই আমিব্রহ্মবিদ্যাস্বরূপিণী |
–একটু খোলসা করে বলো মা |
ভুরিস্থাত্রাং ভূর্যাবেশয়ন্তীং |
–কিছুই তো বললাম না | সোজা বাংলায় বলো মা |
–আমিই নিজেকে নানা ভাবে প্রকাশ করেছি ভুবনপ্রপঞ্চে |
–এটা সহজ বাংলা হল ? ভুবনপ্রপঞ্চে–এই তো
মেরে দিলে মা | একবারে কুপোকাৎ|
–তুই যে দেখছি গোমূর্খ | সংস্কৃতের জানিস না বাছা | প্রপঞ্চ মানে বিস্তার‚বুঝলি ? কীসের বিস্তার ? মায়ার বিস্তার | এই ময়াময় বিস্তৃস্তির মধ্যে আমিই নিজের নানা রূপ প্রকাশ করে চলেছি | তা-ই তাং মা দেবা ব্যদধুঃ পুরুত্রা | মনে রাখবি‚ আমি বিশ্বত্মিকা | যত দেবদেবীকে তোরা পুজো করিস‚সব পুজা আমাতেই অর্পিত হচ্ছে | সব দেবদেবীর মধ্যে আমাকেই পুজো করেছিস তোরা | আরও একটা কথা বলি‚ যখন মহাপ্রলয়ে সৃষ্টি ধ্বংস হবে‚ তখন কালীতেই লীন হবে সব কিছু | কিছুই থাকবে না |থাকব শুধু আমি |
তমোময়ী আদি শক্তি | সৃষ্টেরাদ্যৌ ত্বমেকাসীৎ তোমারূপম অগোচরম | সেই অগোচর অদৃশ্য আদিশক্তি থেকে আবার তৈরি হবে নব মহাবিশ্ব |
–মা‚ সব তো বুঝলাম | তবুও আরো এক প্রশ্ন | হে‚ অনন্ত শক্তির অধিকারিণী‚ কী প্রয়োজন ছিল কালীরূপ ধরবার ?
উপাসকনাং কার্য্যার্থং শ্রেয়সে জগতাম অপি‚ দানবানাং বিনাশায় ধা নানাবিধৎসেস্তনুঃ | এই হল তোর প্রশ্নের উত্তর | বুঝিয়ে দিচ্ছি | যারা উপাসনা করে‚ অর্থাৎ যারা সাধক‚ তাদের সিদ্ধিদান করার জন্য রূপ গ্রহণ করেছি | রূপগ্রহণ করেছি জগতের কল্যাণের জন্য | যুগে যুগে আমিই ফিরে এসেছি দানবদের নাশ করার জন্য | গীতায় কৃষ্ণের রূপে আমিই বলছি‚হে ভারত‚যখনই দেখা যাবে ধর্মের গ্লানি‚জেগে উঠবে অধর্ম‚তখনই আমি নিজেকে সৃষ্টি করব‚অবতীর্ণ হব সাধুদের পরিত্রাণ ও দানবের বিনাশের জন্য‚ ধর্মসংস্থাপনের জন্য | চণ্ডীতে আমিই মহাদেবী রূপে বলছি‚ যখনই খারাপ মানুষের প্রাদুর্ভাব হবে‚অসুরকে নাশ করতে আমিই আসব |

–মা‚তুমি শিবকেও পাত্তা দিলে না ? তোমার শক্তি কি তাঁর চেয়েও বেশি ?

–শোন বাছা‚ আমি শিবের সতী বা পার্বতী বা উমা নই | আমি কালী | আমার সেই পরিচয়ই সবচেয়ে বড় পরিচয় | তোরা তো নারীস্বাধীনতার কথা আজকাল খুব বলছিস | তাকিয়ে দ্যাখ‚ এই কালো মায়ের শক্তির দিকে | এই কালো মেয়েটি স্বয়ং শিবকেও চলনা করছে ! শিব এই কালো মেয়ের প্রভাবে মোহাচ্ছ্ন্ন | তিনি আমারই সঙ্গে এক হয়ে আছেন | তিনি আদি দেব মহাদেব | অনন্ত তাঁর শক্তি | কিন্তু সেই শক্তিকে তিনি বুকের মধ্যে ধারণ করে আমার পায়ের তলায় ! আমার দিকে তাকিয়ে তিনি নিজেকে নিষ্ক্রিয় শবের মতো সমর্পণ করে শুয়ে আছেন !

–মা‚তোমার কাছে আমার শেষ প্রশ্ন—তোমাকে কোন রূপে ডাকলে তুমি সহজে আসবে ?

শক্ত্যাত্মকরং হি মে রুপম অনায়াসেন মুক্তিদং | আমার কালিকারূপই সহজে মুক্তি দান করে তাই ব্রক্ষা-বিষ্ণু-শিব কালীর উপসনা করেন | এবার তোকে একটা গোপন কথা বলি -তন্ত্রে একথা বলা
আছে‚ কালৌ কালী‚কালৌ কালী নান্যদেব কলৌযুগ | কলিকালে আর কোনও দেবদেবী নয় | শুধু কালীর উপসনা কর | আর একটা কথা | স্বয়ং শিব কী  বলছেন জানিস ?

–কী বলছেন মা ?

–বলেছেন‚কলিকালে আদ্যাকালীর মন্ত্রই সিদ্ধমন্ত্র |
–শিবের মুখের কথাটি তোমার মুখে একবার শুনতে চাই মা | জানি বুঝবো না | তবু স্বয়ং শিবের উচ্চরিত বাণীর শব্দমাহাত্ম্যের জন্যই শুনতে চাই |
–বাছা‚শুধু শুনলেই হবে না | বুকের মধ্যে ধারণ করবি স্বয়ং শিব-উচ্চারিত এই কটি আমোঘ শব্দ :

আদ্যা কালিকা মন্ত্রাঃ সিদ্ধমন্ত্রাঃ সুসিদ্ধিদাঃ |

(পুনর্মুদ্রিত)

আরও পড়ুন:  মুড়ি ঘন্ট

NO COMMENTS