ফাল্গুন মাসে জন্ম বলে নাম রাখা হয়েছিল ফাল্গুনী | নামের সঙ্গে তাঁর কাজেরও বড় মিল | মিষ্টি প্রেমের গানের আবেশে সবাইকে বুঁদ করে রাখাই তাঁর তুরূপের তাস | শুধু ফাল্গুন মাসের বদলে তাঁর রাজপাট শিখরে ওঠে আশ্বিন-কার্তিকে | নবরাত্রি অনুষ্ঠানের সময়ে | তিনি ফাল্গুনী পাঠক | মহারাষ্ট্র গুজরাত-সহ দেশের পশ্চিম অংশে গরবা আর ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানকে মিথের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি |

ফাল্গুনী আদতে মুম্বইয়ের খারের বাসিন্দা | চার মেয়ের পরে আবার এক কন্যার জন্ম মেনে নিতে পারেনি পাঠক পরিবার | নাম ফাল্গুনী রাখা হলেও ছোট মেয়েকে সাজিয়ে রাখা হতো ছেলেদের পোশাকে | সেটাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি | নবরাত্রিতে চারদিকে যখন রঙিন বাহারি ঘাগড়া চোলির মেলা বসে‚ ফাল্গুনী স্বতন্ত্র জিন্স-শার্ট-জ্যাকেট-ছোট চুলে হেয়ারব্যান্ডে | জানিয়েছেন‚ ঘাগড়া চোলি তো দূর অস্ত | তিনি কোনওদিন মেয়েদের আটপৌরে ফ্রক সালোয়ার কামিজ বা স্কার্টও পরেননি | এখন আর নতুন করে তাতে অভ্যস্তও হতে পারবেন না | মেয়েদের পোশাক যেটা তিনি পরেছেন তা হল স্কুলের ইউনিফর্ম | কারণ সেটা না পরে উপায় ছিল না |

মিষ্টি গলায় গান গেয়ে ছোট থেকেই অনুষ্ঠান করতেন ফাল্গুনী | সেটাই হয়ে যায় জীবিকা | নয়ের দশকের শেষে বা পরের শতকের শুরুতে হিট মিউজিক ভিডিও মানেই ফাল্গুনী পাঠক | পরে প্লেব্যাকেও এসেছিলেন | কিন্তু নবরাত্রি পরবই হয়ে ওঠে তাঁর ইউএসপি |

১৯৯৪ সালে তৈরি হয় ফাল্গুনীর ব্যান্ড তা থইয়া | বছরভর থাকে বিদেশে অনুষ্ঠান | সঙ্গে চলে ডান্ডিয়া স্পেশাল গানের জন্য কারিগরি | গুজরাতের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে লোকগীতি সংগ্রহ করে তাঁর দল | তারপর তাকে নতুন করে সাজানো হয় | খেয়াল রাখা হয় যাতে সহজেই পা মেলাতে পারেন আপামর দর্শক শ্রোতা | এখনও ফাল্গুনীর এক একটা ডান্ডিয়া নাইটের জন্য বিক্রি হয় কয়েক কোটি টাকার টিকিট |

নয়ের দশকের গোড়ায় অনেকেই ফাল্গুনীর সঙ্গে এসেছিলেন প্লে ব্যাকের বাইরে অন্য হিন্দি গানের পসরা নিয়ে | তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই হারিয়ে গেছেন | কিন্তু ফাল্গুনী স্বমহিমায় উজ্জ্বল | বাকিদের সামনে প্রেমের ডালিতে মিষ্টি গান সাজিয়ে দিতে দিতে ফাল্গুনীর নিজের বয়স হয়ে গেল ৫২ বছর | এখনও সিঙ্গল | তার উপর আবার তাঁর গানে মেয়েদের বন্ধুত্ব একটা বিশেষ জায়গায় থাকে | বিশেষ করে মেরি চুনড় উড় উড় যায় মিউজিক ভিডিওর কথা ভাবুন | কিশোরী আয়েষা টাকিয়া সেখানে দেওয়ালে টাঙানো স্খলিতবসনা নারী প্রতিকৃতির দিকে তাকিয়ে বিভোর | নতুন জায়গায় থাকতে এসে সবসময় উন্মনা হয়ে থাকেন বান্ধবী ফাল্গুনীর কথা ভেবে |

কিংবা ম্যায়নে পায়েল হ্যায় ছনকাই | সেখানেও একদল কিশোরীর ত্রাতা মধুসূদন তিনি | যদিও নায়িকাকে সেখানে আর এক কিশোরের প্রতি মুগ্ধ দেখানো হয়েছে | আর ফাল্গুনীর কাল্ট চুড়ি যো খনকি ‘… সেখানে তো মুনমুন-কন্যাকে মঞ্চেই ডেকে নেন গায়িকা ফাল্গুনী | এসব কি অন্য কোনও বিশেষ বার্তা বয়ে আনছে ?

নিন্দুক ছিদ্রান্বেষীদের এ সব তির্যক প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে গেছেন ফাল্গুনী | উত্তরে দিয়েছেন তাঁর আদি অকৃত্রিম মিষ্টি হাসি | কেন বিয়ে করেননি‚ এর উত্তরে জানিয়েছেন‚ এই বেশ ভাল আছেন | দিব্যি আছেন | একা একা |

আরও পড়ুন:  মহাচোরের বিয়ের ভোজসভায় আপ্যায়িত এক হাজার চোর-ছিনতাইবাজ

NO COMMENTS