ভাগীরথীর তীরে জোব চার্নকের কুঠি তৈরি হতে তখনও আড়াইশো বছর বাকি | দিল্লির মসনদে মুঘল সম্রাট | কলকাতা-গোবিন্দপুর-সূতানটী থেকে দূরে হুগলির পরঞ্চপুর গ্রামে ঘোষ পরিবার তখন বেশ বর্ধিষ্ণু | গৃহদেবতা শ্রী মধুসূদন হলেও জাঁকজমক করে দুর্গোৎসব করতে পিছুপা হত না ঘোষ পরিবার | গ্রামে সব জিনিস পাওয়া যেত না | বাগবাজারের ঘাট থেকে নৌকো করে গঙ্গা বয়ে পুজোর জিনিস যেত পরঞ্চপুর গ্রামে |

ক্রমে পরঞ্চপুর গ্রাম থেকে ঘোষ পরিবারের এক শাখা চলে এল কলকাতায় | তাদের সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক পুজো চলে এল হুগলির পরঞ্চপুর গ্রাম থেকে এই শহরে | আজকের মানিকতলায় দাঁড়িয়ে আছে ঘোষ পরিবারের সেই বাড়ি | বাড়ির ঠাকুরদালানে প্রথম দুর্গাপুজো হয় ১৮৫৬-এ | বাড়ির ছেলে গিরীশ তখন ১২ বছরের |

বাড়ির গরিমার সঙ্গে বাড়তে লাগল গিরীশের যশও | তখন তিনি তিরিশের যুবক | নাট্যাচার্য হওয়ার মাশুল দিতে হয়েছে পারিবারিক জীবনে | খ্যাতি-যশ এলেও চলে গেছে তাঁর ব্যক্তিগত শান্তি | হারিয়েছেন দুই স্ত্রী এবং সন্তানদের | সংসারের ঘাত প্রতিঘাতে গিরীশ তখন পুরোপুরি নাস্তিক | বিশ্বাস হারিয়েছেন ঈশ্বরের প্রতি | পরবর্তী কালে তাঁর লক্ষ্যভ্রষ্ট জীবনে আলোর দিশা দেখান রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব |

এখনও দুর্গাপুজো ঘোষ পরিবারের অন্যতম মিলনোৎসব | প্রাচীন রীতিনীতি সবই পালিত হয় পুজোয় | শুধু গিরীশ চন্দ্র ঘোষ একটাই পরিবর্তন এনেছিলেন | সন্ধি পুজোর পরিবর্তে শুরু করেছিলেন কল্যাণী পুজো | ১০৮ টি প্রদীপ এই পুজোতেও জ্বলে | শুধু নাম সন্ধি পুজোর বদলে‚ কল্যাণী পুজো | কথিত‚ অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে প্রয়াত হয়েছিলেন গিরীশ ঘোষের গুরু | তাই‚ তিনি বাড়ির দুর্গা পুজোয় বন্ধ করে দেন সন্ধি পুজো | বাকি সব রীতি‚ কুমারী পুজো থেকে ধুনো পোড়ানো‚ সবই পালিত হয়ে আসছে সেই ট্র্যাডিশন মেনে |

আরও পড়ুন:  তাঁদের প্রাসাদে তাঁরাই ব্রাত্য‚ ইভাঙ্কার সম্মানে আয়োজিত ভোজসভায় আমন্ত্রণ না পেয়ে মর্মাহত শেষ নিজামের নাতি

NO COMMENTS