আরে ছ্যা ছ্যা ছ্যা !

এগুলো কিনা লোভনীয় খাবার | এখনকার মোগলাই খানাপিনা দেখলে নির্ঘাৎ বলতেন মুঘল সম্রাটরা | তাঁরা তো আর জানতেন না একদিন বিরিয়ানি আর রুমালি রুটির মতো খাবার কিনা পরিচিত হবে মোগলাই খাবার বলে !

ঐতিহাসিকরা একমত‚ তুর্ক-মুঘল প্রাসাদে মোটেও ঠাঁই পেত না এই দুটি খাবার | বিরিয়ানি ছিল শ্রমিকদের পেট ভরাবার খাবার | যখন কোনও বড় স্থাপত্য ( তাজমহল‚ লালকেল্লা বা ফতেপুর সিক্রির মতো ) নির্মাণে শয়ে শয়ে শ্রমিক দিনরাত এক করে খাটত‚ তখন তাদের জন্য একসঙ্গে রান্না হতো | বড় হাঁড়িতে চাল-মাংস-মশলা সব দিয়ে ঢিমে আঁচে চাপিয়ে রাখা হতো | তারই ভালনাম বিরিয়ানি | কেউ কেউ মনে করেন শব্দটি এসেছে পারসিক শব্দ বিরিনজ থেকে | যার অর্থ ভাত | আবার অনেকে বলেন এর উৎস হল পারসিক বেরিয়ান বা বিরয়ান শব্দ | যার অর্থ রোস্ট করা |

এ বার আসি রুমালি রুটির কথায় |

সবাই জানে এর নামকরণ রুমাল থেকে | কিন্তু এটা জানেন কি‚ শুধু চেহারাতে নয় | কাজেও এটা আদপে রুমালই ছিল | আটা ময়দা মিশিয়ে বানানো পাতলা পাতলা এই রুটি মুঘলদের কাছে সত্যি রুমাল হয়েই ব্যবহৃত হতো | চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় খাওয়ার সময়ে দরকারে রুমালি রুটিতে হাত মুছতেন মুঘল অভিজাতরা | ভোজসভায় রুমালি বানানো হতো খাদ্য হিসেবে নয়‚ হাতমুখ মোছার রুমাল হিসেবে |

প্রচুর তেল-মশলা-চর্বি দিয়ে বানানো মাংসবহুল খাবার খেয়ে হাত মুছতে অব্যর্থ ছিল রুমালি রুটি | আটা ময়দার মতো স্টার্চে দূর হতো খাবারের তেল মশলা |

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে রুমালি রুটিকে বলা হয় লম্বু রুটি | ওয়াজিরিস্তানে প্রচলিত আছে পাশতি বা পাশোতি চাপাটি | রুমালি রুটির সমগোত্রীয় | বড় নিমন্ত্রণ আসরের জন্য কাঠকয়লার আঁচে বানানো হয় এই খাবার |

আরও পড়ুন:  জাগ্রত কালীঘাটের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত জাফনারও আর এক পরিচয় সতীপীঠ রূপে

NO COMMENTS