কথিত‚ অযোধ্যার সুবর্ণবণিকদের একটি শাখা নানা জায়গার পরে বসত করে কলকাতায় | ক্রমে প্রতিপত্তির জেরে তাদের উপাধি লাভ হয়‚ রায় | সেই বংশের এক পুরুষ হলেন বদন চাঁদ রায় | ব্রিটিশ আমলের এই মুৎসুদ্দির গরিমা এমন শিখরে পৌঁছয় তিনি পরিচিত হন বাবু বদন চাঁদ রায় নামে | ১৮৫৮ সালে‚ সিপাহি বিদ্রোহের ঠিক পরের বছর বদনচাঁদ কলকাতায় বিশাল বাড়ি তৈরি করেন | আজও‚ সেই অট্টালিকা ইতিহাস বলে চলেছে কলুটোলার ২ নম্বর গোপালচন্দ্র লেন-এ দাঁড়িয়ে |

১৮৫৮ সালে পুজো শুরু হয় এই বাড়িতে | লক্ষ্মী নারায়ণ গৃহদেবতার বাড়িতে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয় বৈষ্ণব মতে | জনশ্রুতি‚ এই বংশের এক পূর্বপুরুষ হলেন রাজা সুখময় রায় | তাঁর কথা বংশলতিকায় উল্লেখ থাকলেও বর্তমান রায় পরিবার নিশ্চিত নয়‚ তাদের দুর্গাপুজোর সঙ্গে রাজা সুখময়ের পুজোর কোনও যোগ আছে কি না |

বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই সাত মহলা বাড়ি | বেয়াল্লিশের মন্বন্তরে এই বাড়িতে বসেছিল অন্নের ভাণ্ডারা | আবার এই বাড়ির এক সদস্য প্রয়াত তারাচাঁদ রায়‚ পরবর্তী কালে ভূষিত হন তাম্রফলকে | স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ |

এই বনেদি বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য‚ অষ্টমী এবং সন্ধি পুজোয় ধুনো পোড়ানো | বাড়ির মহিলা মাথায় জ্বলন্ত ধুনো নিয়ে বসেন প্রতিমার সামনে | সংসারের মঙ্গলকামনায় |

এখনও অবধি বদন রায়ের পুজো ভাগ হয়নি | কোন পালা পড়ে না | একদিক দিয়ে এই পরিবারের সঙ্গে জড়িত নৃত্যশিল্পী ডোনা গাঙ্গুলির পিতৃ-পরিবার | স্ত্রীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির পুজোয় অনেকবার এসেছেন মহারাজ নিজেও |

১৮৫৮ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও অবধি একবারই মাত্র এই বাড়িতে পুজো হয়নি | সেটা ১৯৪৬ সাল | সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার জেরে বদন চাঁদ রায়ের পুজো হয়েছিল সেবার চিৎপুরের এক বাড়িতে | পরের বছর তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রায়বাহাদুর সত্যেন মুখার্জির তত্ত্বাবধানে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয় এই ঠাকুরদালানে | তারপর থেকে এই পুজোর নিরবচ্ছিন্ন ধারা প্রবহমান |

আরও পড়ুন:  ' প্রাকৃতিক নয়‚ মানুষের তৈরি রামসেতু ছিল'‚ কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন বিশ্বাসে বৈজ্ঞানিক শিলমোহর ?

NO COMMENTS