১৩ তারিখ নাকি আনলাকি? ১৯৫২-র অগাস্টের সেই ১৩ তারিখে জন্ম গীতা বালির ভাইঝি যোগিতা বালির | লাকি একেবারেই নয়, পারিবারিক জীবনেও খুব সুখী ছিলেন না | দু-দুবার বিয়ে করেছিলেন যোগিতা | আশ্চর্যজনকভাবে তার দুই স্বামী-ই বাঙালি | কিশোর কুমারের সঙ্গে প্রথম বিয়ে ১৯৭৬-এ |  ১৯৭৮-র ৪ অগাস্ট মাত্র দুবছরে সেই বিয়ে ভেঙ্গে যায় | এরপর ১৯৮০-তে বিয়ে হয় মিঠুন চক্রবর্তী-র সঙ্গে | সেখানেও অনেক ওঠাপড়া, ঝড়ের ঝাপটা সইতে হয়েছিল |

অভিনয় জীবনের শুরুটা একেবারে হেলাফেলার মত ছিল না যোগিতার | তার প্রথম ছবি-ই ছিল অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে | শত্রুঘ্ন সিনহা, দেব আনন্দ, সঞ্জীবকুমারের মত অভিনেতার সঙ্গে একের পর এক কাজ করেছেন | সবটাই উল্টে গেল যেই কিশোর জীবনে এলেন | ‘সাবাস ডাডি’তে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই যোগিতা প্রেমে পরেছিলেন কিশোরের | সেই প্রেমের টানে এতটাই ভেসে গিয়েছিলেন, কেরিয়ার বিসর্জন দিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন যোগিতা |

কিন্তু বিয়ে করার মানসিকতা আদৌ ছিল যোগিতা বালির? বোধহয় না | তাই কিশোরের থেকে তার বেশি টান ছিল নিজের মায়ের প্রতি | কিশোর বয়সেও অনেকটাই বড় ছিলেন | তাই সম্পর্ক গড়তেও যেমন সময় লাগেনি, ভাঙতেও |

কিশোরের সঙ্গে থাকতে থাকতেই যোগিতা জড়িয়ে পড়েন বলিউডের দ্বিতীয় ‘অমিতাভ বচ্চন’ মিঠুন  চক্রবর্তী-র সঙ্গে | সেই রাগে কিশোর মিঠুনের লিপে গান গাওয়া বন্ধ করে দিলেন | এই সময় হিন্দি গানের দুনিয়ায় উঠে এলেন বাপ্পি লাহিড়ি | মিঠুনের লিপে বেশ কিছু হিট গেয়ে | যোগিতা যখন মিঠুনের জীবনে এলেন, মিঠুন-ও তখন ঘা খেয়েছেন ব্যক্তিগত জীবনে | ১৯৮০-তে বিয়ের সময় দুজনেই তখন ২৬ | সবাই ভেবেছিলেন এই বিয়ে সুখের হবে | হয়েওছিল | তত দিনে রিমো-মিমোর জন্ম হয়েছে | দুই ছেলের বাবা মিঠুন নতুন করে প্রেমে পড়লেন শ্রীদেবীর | ঘরোয়া যোগিতার একফোঁটাও টের পাননি |

এদিকে মিঠুন শ্রীদেবী সম্পর্কে অনেকটাই এগিয়েছেন | কিন্তু যোগিতা-কে ঘরে রেখে শ্রীদেবী-কে বিয়ে করেন কী করে? অগত্যা বাইরে মিথ্যে রটিয়ে দিলেন, তাঁর আর যোগিতার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে | সেই খবর কানে পৌছল শ্রীদেবীর-ও | এবার তিনি রাজি মিঠুনকে বিয়ে করতে | দুজনে লুকিয়ে বিয়েও সারলেন মন্দিরে | এবার সবটাই কানে গেল যোগিতার | মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল শুনে | কী করবেন এবার?

আরও পড়ুন:  রোজকার জীবনে ছেলে তৈমুরের সব কাজ কি করিনাই করেন?

অভিনয় কবেই ছেড়ে দিয়েছেন | নতুন করে আর কে জায়গা দেবে তাঁকে? বাধ্য হয়ে দুই ছেলের হাত ধরে বেরিয়ে এলেন যোগিতা | মায়ের জিম্মায় রিমো-মিমোকে রেখে আত্মহত্যার পথে এগোলেন | বাড়িতে ফিরে যোগিতা, দুই ছেলেকে না দেখে খটকা লেগেছিল মিঠুনের মনে | সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে নিয়ে এসেছিল যোগিতার মায়ের কাছে | সেখানে এসেই জানতে পারেন সব কিছু | যোগিতার ঘরের বন্ধ দরজা ভেঙ্গে মিঠুন উদ্ধার করেন যোগিতাকে | ফিরিয়ে নিয়ে যান নিজের ঘরে |

মিঠুন-যোগিতার মধ্যে যখন এরকম টালমাটাল চলছে তখন এক বাঙালি জ্যোতিষী মিঠুনকে সাবধান করে বলেছিলেন, ‘সরে আসুন শ্রীদেবীর থেকে | উনি থাকলে আপনার সর্বনাশ হবে | যোগিতা ভীষণ পয়মন্ত | উনি আপনার ভাগ্য ধারণ করে এসেছেন | যোগিতার ভাগ্যেই আপনার জীবনে নাম-যশ-অর্থ সব আসবে | যোগিতাকে দুঃখ দেবেন না |’ জ্যোতিষীর এই কথা যেন সাপের মাথায় ধুলো ফেলেছিল | অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে শ্রীদেবীর থেকে দুরে সরে গিয়েছিলেন | উপায় না দেখে শ্রীদেবী তখন বনি কাপুরের ঘরনি হলেন | দাঁড়ি পড়ল মিঠুন-বনি বন্ধুত্বে | মধুরেণ সমাপয়েতের মতই এই সময় পৃথিবীর আলো দেখেছিল মিঠুন-যোগিতার তৃতীয় সন্তান |                                  

যোগিতা কোনদিনই কেরিয়ারিস্ট ছিলেন না | বরাবর তিনি ঘর চেয়েছিলেন | বর চেয়েছিলেন | ১৯৬৫-১৯৮৫ পর্যন্ত বলিউড তাঁকে পেয়েছিল | কিন্তু পাঞ্জাবিদের মত ভারী চেহারার জন্য পরিচালকেরা যোগিতাকে সেক্স বম্ব হিসেবে দেখতেন | যখন রিনা রায়, হেমা মালিনী-র মত নায়িকাদের পাওয়া যেত না তখন ডাক পরত যোগিতার | নয়তো পর্দায় তিনি হয় বার সিঙ্গার, নয় সহ নায়িকা | যদি ভাগ্য মানেন তাহলে জন্মের সময় থেকেই যোগিতার কপালে এত ওঠাপড়া লিখেছিলেন বিধাতা | যদি সংস্কার মানেন তাহলে দায়ী আনলাকি থার্টিন | ১৩ তারিখে না জন্মালে বোধহয় অন্য তারাদের মত যোগিতাও জ্বলজ্বল করতেন বলিউডের আকাশে |

1 COMMENT