ইলিশের জন্য় ১৪ কোটি

79

দেশের মৎ্স্য়বিজ্ঞানীদের এখন নাওয়া-খাওয়া নেই | তাঁ্রা নজরদারি শুরু করতে চলেছেন্ | লক্স্য় রাখবেন algae আর plankton-এর উপর্ | কিন্তু হঠাৎ মাছ ছেড়ে গুল্ম-লতা কেন? আসলে এগুলো সব মাছের খাবার্ | যে সে মাছ নয়্ | খোদ ইলিশ মাছের খাদ্য় | ইলিশের উৎ্পাদন বাড়াতে তাদের খানা-পিনা সম্বন্ধে আরও জানতে চান বিজ্ঞানীরা | গবেষণা করতে চান ইলিশ্-পরিযাণের উপরেও | যাতে এই মাছের উৎ্পাদন বাড়ানো যায়্ | যদি কোনওভাবে কৃত্রিম উপায়ে বাড়ানো যায় জলের রুপোলি শস্য়ের উৎ্পাদন্ | সোজা কথায় যদি সম্ভব হয় ‘ইলিশ চাষ’ |

ইলিশের বিদেশি স্বজাতি হল salmon | ইউরোপে বহু আস্বাদিত এই মাছও মূলত সমুদ্রের্ | কিন্তু ডিম পাড়তে ঢোকে নদীতে | গবেষণায় দেখা গেছে এই মাছের মধ্য়ে অদ্ভুত ধারা আছে | এদের মধ্য়ে ‘মা মাছ’ যেখানে ডিম পাড়তে যায়, পরবর্তী সময়ে তার ছানারাও বড় হয়ে সেই জায়গায় ডিম পাড়তে যায়্ |
বং্শবিস্তারের জন্য় বেছে নেয় নির্দিষ্ট নদীর নির্দিষ্ট অং্শ |ইলিশ কি কোনওভাবে সেই পথ অনুসরণ করে?জানতে আগ্রহী বিজ্ঞানীরা |

কলকাতায় বিজ্ঞান্-কং্গ্রেসে জানা গেল এই ইলিশ্-যজ্ঞের কথা | The Indian Council of Agricultural Research বা ICAR শুরু করতে চলেছে ১৪ কোটি টাকার প্রোজেক্ট্ | পাঁ্চ বছরের এই প্রোজেক্টের প্রাথমিক উদ্দেশ্য় ইলিশের উৎ্পাদন বৃদ্ধি |

ব্য়ারাকপুরের Central Inland Fisheries Research Institute বা ICAR-এর অধিকর্তাAnil Prakash Sharma-র কথায়, ইলিশের প্রাকৃতিক উৎ্পাদনের উপর নির্ভর করা ছাড়া এখন উপায় নেই | সেই উৎ্পাদন এখন প্রায় তলানিতে এসে পৌঁ্ছেছে | ১৯৭০-এ যখন প্রতি মরসুমে ইলিশ ধরা হত ৬০ হাজার টন, সেটা এখন নেমে দাঁ্ড়িয়েছে ১০ হাজার টনে | যা রীতিমতো উদ্বেগের্ |

সেই দুশ্চিন্তা কাটাতে অবশেষে কোমর বাঁ্ধছেন সাতটি ICAR এবং বিশ্ব ভারতীর বিজ্ঞানীরা | এই প্রথম ইলিশের জীবন্-চক্র এবং খাদ্য়াভাসের উপর গবেষণা করা হবে | আশা, এর ফলে বেশ কিছু অজানা তথ্য় প্রকাশিত হবে | যার ফলে হয়তো আগামী দিনে সম্ভব হবে ইলিশ্-চাষ্ |

অতীতে নাকি ডিম পাড়ার মরসুমে মোহনা থেকে ভাগীরথীর উজান বেয়ে প্রায় বারাণসী পর্যন্ত চলে যেত ইলিশের ঝাঁ্ক্ | কিন্তু কোনও কোনও মহলের অভিযোগ, ফরাক্কা ব্য়ারেজ হওয়ার পর পাল্টে গেছে ছবিটা | এছাড়াও আছে নির্বিচার ইলিশ্-নিধন, দূষণ আর জলাশয়ের অদৃশ্য় হয়ে যাওয়া | এতসব সমস্য়ার কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীরা এবার নিটোল গবেষণার পথ ধরে এগোতে চান্ | তাই কোনও দিক বাকি রাখছেন না তাঁ্রা | মুম্বইয়ের Central Institute of Fisheries Education গবেষণা করবে ইলিশের physiology নিয়ে | অন্য়দিকে লখনৌ-এর National Bureau of Fish Genetic Resources-এর বিজ্ঞানীরা মন দেবেন ইলিশেরgenetic আর genomic studies-এর উপর্ |

এতসব কাণ্ড করে ফের চকচকে আঁ্শের পাহাড় জমবে তো কুবের মাঝিদের নৌকোর গলুইতে?
ইলিশ অবতারের প্রত্য়াবর্তনের আশায় অপেক্সায় রইল মেছো বাঙালি | ভেতো বাঙালি |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.