ছায়ার বাইরে

202

বুড়ো শর্িরে যেমন শ্িত জাঁ্কিয়ে বসে | আমাদের পুরোনো বাড়ির গায়েও তাই | বাগানের গাছেরাও যেন কুঁ্কড়ে আছে | সকাল আটটা | সদ্য় কুয়াশা গলিয়ে রোদ এসে পড়েছে বারান্দায় | উবু হয়ে বসে কাগজ পড়ছি, এন্ডির চাদরে মাথা অব্দি মোড়া | আবহাওয়ার খবরে লিখছে, গতকাল পনেরো ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল | আমাদের মফস্বলে নিশ্চয়ই দুই কম |

, মুখে ক্িসের দুশ্চিন্তা | একটুক্সণ তাকিয়ে থাকতে মালত্িদি নিজেই বলল, এবার তো অনেকদিন হয়ে গেল | একটা খবর নিলে হয় না?

, বলে গেছে | বারোদিন হতে চলল | এর আগেও এরকম করেছে | তবে এতদিন হয়তো নয় |

, দাদার বিয়ে এবং সং্সার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া, সবই চোখের সামনে দেখেছে | সন্গত কারণেই অধিকার তৈরি হয়েছে সং্সারের ভালমন্দ নিয়ে চিন্তা করার্ | মালত্িদিকে আশ্বস্ত করে বলি, বাবাকে তো চেনো, মর্জি মতো চলে | নিজে যেটা ঠিক করবে সেটাই — দেখছি ক্ি করা যায় |

, বুড়ো মানুষ, এই ঠান্ডায় গাঁ্-গঞ্জে পড়ে আছে

, একটা স্কুল আর আই হসপিটাল আছে | স্কুল হোস্টেলের পেছনে রামস্িতা পাহাড়্ | ঠিক পাহাড় বলা যায় না, ওই টিলা আর ক্ি | আশ্রম চৌহদ্দি দেখলেই বোঝা যায় খুব বড়লোকদের দানধ্য়ান তেমন পায় না | বাবার মতো মধ্য়বিত্ত ধার্মিক মানুষদের পয়সাতেই চলে | কারণটা বোধহয় বাবার গুরুদেবের সাদামাটা ভাবম্ুর্তি | কোনও অলৌকিক ক্সমতা ছিল না | এককালে স্বাধ্িনতা সং্গ্রাম্ি ছিলেন পরে সন্ন্য়াস নেন্ | আমার বাবাকেও খুব একটা ধার্মিক বলা যায় না | মায়ের আমলে কিছু ঠাকুর দেবতার ফটো দেওয়ালে ঝুললেও ধ্ুপধুনো পায় না নিয়মিত | আমার ধারণা, আশ্রমে যাওয়াটা বাবার কাছে চেঞ্জে যাওয়ার মতো | চাকরি জ্িবনে উৎ্সব্-টুৎ্সব থাকলে যেত, রিটায়ারমেন্টের পর প্রায়ই চলে যায় | কটা দিন থেকে ফিরে আসে | এবার যে কেন এতদিন

, মন দিতে পারছি না | ফোন করে খবর দেওয়ার কোনও অভ্য়াস নেই বাবার্ | বাড়িতে ফোন না থাকলেও, পাশের বাড়িতে আছে | আমার কাজের জায়গায় আছে | সে সব পাত্তাই দেয় না | আরে বাবা বাড়িতে চিন্তা করার তো কেউ আছে — কথাটা ভাবার পরেই মনে হল, আচ্ছা, মালত্িদি কথাটা তোলার আগে তো খুব একটা চিন্তিত ছিলাম না আমি | সন্গে সন্গে খেয়াল হল, আমার গায়ে বাবার চাদর | বারান্দায় বসে রোজ সকালে বাবাই প্রথম কাগজটা পড়ে | অবচেতন মনে কখন যেন বাবার জায়গাটা দখল করে বসে আছি, তাই হয়তো বাবার অনুপস্থিতি বোধ করছিলাম না |

, লুন্গি, গামছা ভাঁ্জ করে রাখা, হ্য়াঙ্গারে ঝুলন্ত পাঞ্জাবিতে বাবার আদল | জানলার সামনে টেবিল চেয়ার্ | টেবিলে বই খাতা পেন, যেন এইমাত্র কেউ সাজিয়ে রেখে উঠে গেছে | ঘরটা দেখলেই মানুষটার চরিত্র আন্দাজ করা যায় | সব নিজের হাতে করে | পারফেক্টশনিস্ট, তবে অতি মাত্রায় | এই স্বভাবটার জন্য়ই কারোর সন্গে বনে না | প্রতিবেশ্িরা বাবাকে বেশ অপছন্দ করে | পাড়ার ক্লাব চাঁ্দা চাইতে আসে না |

, এক ফোঁ্টা রক্ত যেন নষ্ট না হয়, ভাল করে প্রিজারভেশন করুন্ | পাড়ার ছেলেরা আড়ালে বাবাকে খোচো-বাড়ুজ্জ্য়ে বলে ডাকে |

, চায়ে চিনি কম কেন্? আমার কি ডায়াবিটিস হয়েছে? রুটির দু

, লক্স্ম্িপুজো নানা ঝামেলা | বউদি বলত, শাশুড়ি নেই দেখে এ বাড়িতে বিয়ে দিল বাবা-মা, শ্বশুর দেখছি শাশুড়িদেরও টেক্কা দেয় |

, বাবার খাতাপত্তরগুলো এখন একটু ঘাঁ্টাঘাঁ্টি করতে হবে | কদিন আগে কথায় কথায় বলেছিল, আশ্রমে ফোন এসেছে, এবার বাড়িতেও একটা নিতে হবে | ফোনের বিলটা দিতে পারবি তো দেবু?

, বাবা টেরই পায়নি |

, অনেক অচেনা নাম, ঠিকানা, চিঠি, ডায়েরি | পাঁ্চ-দশ দিন তফাতে দু, যদি আমার জন্য় কোনও অনুতাপ লেখা থাকে | প্রায়ই বলে, তুই এখনও মানুষ হলি না

, অবাক হচ্ছি | এক ছাদের তলায় থেকেও বাবার জগতটা আমার কাছে কত অজানা | একটা মানুষের হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা না দেখা দেওয়া অব্দি আমরা তার জগতে ঢুকি না |

, এ ক্ি সব লন্ডভন্ড করছ কেন

, আমি দেখছি |

, যাওয়ার আগে কি দেরি হবে-টবে কিছু বলেছিল?

, না, সেরকম কিছু তো বলেনি | বরং বাড়িতে ধুমধাম করে সরস্বত্ি পুজো করবে বলছিল | সেও তো বেশিদিন বাকি নেই | দাদুভাইয়ের হাতেখড়ি হবে এখানেই |

, তোর ওই হ্য়াবলাভাবটা ধরে রাখ | আর ভাল করে সেবা করে যা বাবার্ | ডেখবি, বাড়ি টাকাপয়সা সব তোর নামেই করে দেবে | এবার তো আমার সন্গে কথাই বলল না |

, নইলে হাতেখড়ি

, সেই আগ্রহে বলি, ক্ি ব্য়াপার্?

, বাড়ি করে থাকবে | সং্সারে নাকি মন টিকছে না |

, মালত্িদি তো লেখাপড়াই জানে না, ক্ি করে খুঁ্জে পাবে

, সরো, আমি দেখছি |

, রান্নাবান্না তো তেমন কিছু জানে না | তারপর কাচাকুচি | পারবে একা থাকতে?

, মালত্িদি কি ধরেই নিয়েছে, বাবা সত্য়িই আশ্রমের পাশে ঘর করে থাকবে

, অনন্তদা তো দুদিন হল ফিরে গেছেন্ | এখনও বাড়ি যাননি নাকি

, ওষুধ, ঘুম চাই | একবার মনে হয়েছিল খবরটা দাদাকে জানানো দরকার্ | সন্গে সন্গে কেমন যেন অন্িহা কাজ করল | দশম্ির খোঁ্চাটা ভুলতে পারিনি | আমি যদি হ্য়াবলা ভাব ধরে রেখে বাবার সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য় বসে থাকি, তাহলে বাবার জন্য় দুশ্চিন্তাটাও আমার্ |

, ঘাট, কুঁ্ড়েঘর, গাছপালা প্রাণান্ত দৌড় লাগিয়েছে | আমার জার্নিটা ঠিক বেড়াতে যাওয়া নয় বলে তাদের দিকে মন দিতে পারছি না | খাঁ্টি শ্িতের রোদ ছড়িয়ে আছে প্রান্তর জুড়ে, হু হু করে নিষ্কলুষ বাতাস ঢুকে আসছে ট্রেনের কামরায় | যতদ্ুর মনে পড়ে ওরকমই এক আবহাওয়া ভেদ করে দাদার জন্য় মেয়ে দেখতে এসেছিলাম্ | তখন সদ্য় ব্য়াঙ্কের চাকরিতে ঢুকেছে দাদা | আচমকা একদিন দাদাকে ডেকে বাবা বলল, তোমার জন্য় আমি পাত্র্ি ঠিক করে রেখেছি | আমি জানি তুমি সেভাবে এখনও কাউকে পছন্দ করে রাখনি | এই পাত্র্িটি আমার গুরুভাইয়ের মেয়ে | ব্রাহ্মণ্ | সদবং্শ | এতদিন তোমার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অপেক্সায় ছিলাম, তাই কথাটা তুলিনি | যদি মনে করো মেয়েটিকে একবার দেখে আসতে পারো | সন্গে ভাইকেও নিও | সে বাড়ির কনিষ্ঠ সদস্য় হলেও তার মতামতটাও জরুরি |

, কোনও ফল হল না | অগত্য়া বেরিয়ে পড়েছিলাম দুজনে |

, খুব ফর্সা, হাঁ্টলে পায়ের চেটো থেকে রক্ত উঠে এসে আলতার মতো হয়ে যায় | আমার এইটুকুই মনে আছে | আর মনে পড়ছে, সামনের দাঁ্ত সামান্য় উঁ্চু ছিল | ওইটুকু খুঁ্তে অনেক সময় কাউকে কাউকে ভালও লাগে | আমার তখন কেমন লেগেছিল মনে নেই | ফেরার সময় সারা ট্রেনপথ জুড়ে দাদা আমাকে কনভিন্স করে গেল, গ্রামের মেয়ে আমাদের সন্গে কালচারে মিলবে না | তাছাড়া দাঁ্তটা বড্ড উঁ্চু | দেখেশুনেই যদি বিয়ে করব, সুন্দর্ি দেখেই করব | ক্ি বলিস্?

, নিশ্চিতভাবে গুরুজন | তাছাড়া “কালচার, যা অবশ্য়ই ওই মেয়েটির মধ্য়ে ছিল না |

, যতটুকু সময় পাত্র্ির বাড়িতে ছিলাম, আমার সন্গেই মেয়েটার বন্ধুত্ব হয়েছিল সব থেকে বেশি | আমাকে সন্গে নিয়ে ওদের গ্রামের পাহাড়, টিলা, ছিটেবেড়ার সিনেমা হল দেখিয়েছিল | সেই হল দেখে তো হেসে মরি, মেয়েটাও হাসছিল | … কত সহজে সে সব বিস্মৃত হলাম্ | আমাদের মতামতে বাবা গুম মেরে গেল | পরে দাদা নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছে | বউদি আগের মেয়েটির থেকে যথেষ্ট সুন্দর্ি | বেশি শিক্সিত, কালচারড বাড়ির মেয়ে | শুধু বাবার সন্গে বনল না | গুরুভাইয়ের মেয়ের সন্গেও বনত না, তা আমি গ্য়ারান্টি দিয়ে বলতে পারি |

, মায়ের সন্গেও নাকি বাবার খিটিরমিটির লেগে থাকত | তাই বোধহয় মা তড়িঘড়ি স্বর্গের পথে হাঁ্টা দিয়েছে |

, অনাবিল হাওয়ার মধ্য়ে বৈরাগ্য়ের হাতছানি আছে | আমি যেন মানসচক্সে দেখতে পাচ্ছি, লালমাটির পথঘাট, রুখু জমি মাড়িয়ে এক বুক অভিমান নিয়ে বাবা যেন কোথায় চলে যাচ্ছে |

, আসানসোল এসে গেল |

, হসপিটাল একই রকম আছে | এখানে এলে মনে হয় পৃথিব্িটা বুঝি ঘুরছেই না |

, গুরুদেবের বড়ছেলে একটা কুঁ্ড়েঘরের চাল ছাওয়ার তদারকি করছেন্ | এগিয়ে পরিচয় দিলাম্ | শশব্য়স্ত হয়ে বললেন, আরে, কাল থেকে তোমার সন্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি | ভালই হয়েছে চলে এসেছ |

, অনন্তদা রঘুনাথপুরে গেছেন্ | যাওয়ার সময় ঋষিদাকে বলে গেছেন, এবার ক

, যাবেন যান, কাউকে বলে যান্ | তা নয়, খালি ঋষিদাকে বলে উধাও | ঋষিদা আশ্রমের লোক হতে পরে, কিন্তু দোকান ছেড়ে বেরিয়ে খবরটা দেবে কখন, জানো তো …

, রঘুনাথপুরের বাস কটায়?

, আধঘন্টা পরেই | শিবুদাকে চিনতে পারছ তো? আমাদের গুরুভাই | অনন্তদা আশ্রমে এলে শিবুদার বাড়ি একবার যাবেই |

, উপযুক্ত পাত্রস্থ হয়েছে সে | কিন্তু ঠিকানা তো জানি না | জিজ্ঞেস করতে গুরুদেবের ছেলে বললেন, ও এমন কিছু না | জয় মা চন্ড্ি পাহাড়ের পরেই রঘুনাথপুর স্টপেজ্ | বাস থেকে নেমে যে কোনও লোককে বলবে, ধানকলের পাশে শিবপদ ভট্টাচার্যের বাড়ি যাব | দেখিয়ে দেবে |

, এসো‚ চা-টা অন্তত খেয়ে যাও |

, আজ থাক, দেরি হয়ে যাবে |

, আশ্রম চত্বরে সন্ধে নেমে যাচ্ছে, রামস্িতা পাহাড়ের ছায়া | এবার আর ঢোকাই হল না আশ্রমে |

, আশাই করিনি | একই সন্গে নামটাও মনে পড়ল কুন্তলা | কিন্তু একটা ব্য়াপার দেখে আশ্চর্য হচ্ছি, কুন্তলার শর্িরে বিবাহিতের কোনও চিহ্নই নেই | বাবা কি তাহলে বিয়ের গল্পটা বানিয়ে বলেছিল? আমাদের কাছে জিতে থাকা হল |

, ঘরটার আসবাব সজ্জা একটুও পাল্টায়নি | পাল্টে গেছে কুন্তলা | শর্িরে সেই লাবণ্য় আর নেই | আমি কিছু বলার আগে কুন্তলাই বলল, আজ দুপুরে খেয়েদেয়ে রওনা দিয়েছেন্ | আমি জানতাম, এবার এরকম কিছু একটা হবে | , এতদিন আছেন, বাড়িতে একটা খবর দিন্ | উত্তরে যা বললেন — থাক ওসব কথা | তুমি আজ রাতটা থেকে কাল সকালে রওনা দিও |

, আমাকে হতভম্ব করে ভেতর ঘর থেকে একটা বছর চারেকের মেয়ে এসে কুন্তলার আঁ্চল ধরে দাঁ্ড়াল | অবিকল কুন্তলার আদল্ | তবে দাঁ্তটা স্বাভাবিক্ |

, করুণা ভিক্সা করছে না, শুধু বলে যাচ্ছে, এমনক্ি একবারের জন্য়েও িশ্বরকে দায়্ি করছে না | একেই কি নিয়তি বলে বাবা? নিয়তি কে না বাহ্য়তে — কুন্তলাও মেনে নিয়েছে তার ভবিতব্য় | তা হলে বাবা কেন বারবার আসে এখানে? কুন্তলার কাছে এখন অব্দি যা জানা গেল, স্বাম্ির মৃত্য়ুর পর শ্বশুরবাড়িতে থাকতে পারেনি | মেয়েটাকে সন্গে নিয়ে বাপের বাড়িতে উঠেছে |

, তা এই জ্ির্ণ বাড়ি দেখেই আন্দাজ করে নেওয়া যায় | ইতিমধ্য়ে কাকিমা একবার এসে চা মিষ্টি দিয়ে গেছেন্ | পাশের ঘরে শিবুকাকাকে এখনও দেখতে যাওয়া হয়নি | বেরনোর আগে ঘুরে যেতে হবে |

, কুন্তলা আর তার মেয়েকে আমাদের বালির বাড়িতে নিয়ে যাবে | ওখানে থেকে ওর আবার বিয়ের সম্বন্ধ দেখবে | অথবা কোনও চাকরি-টাকরি | বাবার নাকি প্রচুর চেনা-জানা | যার এম এ পাস ছেলে প্রায় বেকার্ | কুন্তলা বলে যাচ্ছে, এবার যেন একটু বেশিই অস্থির মনে হল | বারবার বলতেন আমার দুর্ভাগ্য়ের জন্য় তিনিই নাকি দায়্ি | ঘুরেফিরে এক কথা, প্রায়শ্চিত্ত করতে দাও | — থামল কুন্তলা | ক্ি যেন ভেবে নিয়ে বলল, দেবু, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে‚ ওঁ্র মানসিক অবস্থা ভাল নয় | তুমি বাড়ি গিয়ে, কেমন আছেন দেখে আমাদের একটা খবর দিও | উৎ্কন্ঠায় থাকব |

, কুন্তলাদের বাড়ি … সব যেন বাবার ডায়েরির না পড়া অক্সরের মতো | আলাদা একটা জগত্ | বাবার সন্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বুঝতে পারছি না | সদর থেকে নেমে রাস্তায় আসি | আর একবার কুন্তলাদের বাড়ির দিকে তাকাই | কুন্তলার পাশে ওর মেয়ে এসে দাঁ্ড়িয়েছে | ওদের দ্ির্ঘ ছায়া পড়েছে সামনে | ছায়াটা যেন এক্সুনি ছুঁ্য়ে ফেলবে আমায় | তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে দিই |

, কোনও চিত্ত চাঞ্চল্য় দেখছি না | অত্য়ন্ত স্বাভাবিক্ | গেটের আওয়াজ শুনে তাকাল, কোথায় ছিলি রাতে?

, বন্ধুর বাড়ি | , বারান্দার দিকে পা বাড়ালাম্ |

, শোন্ | তোর সন্গে জরুরি কথা আছে |

, এবার তো তোকে বিয়ে থা করতে হয় |

, বয়স তো হল | বাড়িটাও কেমন শ্র্িহ্িন হয়ে পড়ে আছে | পাত্র্ি অবশ্য় আমি ঠিক করেই রেখেছি |

, আমার দৃষ্টিতে নিশ্চিতভাবে ফুটে উঠেছে, এই রোজগারে বিয়ে, সে তোকে ভাবতে হবে না | সং্সার আমি চালিয়ে নেব | তবে মেয়েটির সামান্য় খুঁ্ত আছে | সেটা তোকে আগেই বলে নিই, একবার বিয়ে হয়েছিল তার্ | একটি কন্য়া সন্তান …

, বাবা কাদের কথা বলছে | হতবাক হয়ে আমার গোঁ্য়ারগোবিন্দ বাবাকে দেখে যাচ্ছি | এক নিশ্বাসে বলে চলেছে, আসলে ক্ি জানিস, নিয়তি বড় নিষ্ঠুর জিনিস্ | লড়তে গেলে, তার সন্গেই লড়া উচিত্ | নইলে জ্িবনটা পানসে লাগে | ক্ি রে, হ্য়াবলার মতো দাঁ্ড়িয়ে আছিস যে, কিছু বল | এক ছেলে তো নিজের সুখটা বুঝে নিয়ে পৃথগন্ন হয়েছে | বাবার দু

, বাবাও বলছে | প্রস্তাবটা এত আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না | তবে এক্সুনি যেটা করা দরকার, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রঘুনাথপুরে একটা খবর দেওয়া | বড় উৎ্কন্ঠায় আছে সে | তাদের বাড়িতে ফোনও নেই যে বলব, বাবা একদম সুস্থ আছে | অনেকের থেকে সুস্থ |

, একটা দিন সময় নে | ভেবে দ্য়াখ্ |

, স্নিগ্ধ লাগছে | মুরারির আশ্রম চত্বরে রামস্িতা পাহাড়ের ছায়া পড়লেও এই শিষ্য়টির গায়ে পড়ে না | এতটাই নিখুঁ্ত এঁ্র জ্িবনযাপন্ | এতটাই পারফেক্টশনিস্ট্ |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.