নিভাননীর উপত্যকা (পর্ব ২)

কেউ হতেন , খুব কেউ হতেন এই চাটুজ্যে বংশের | কিন্তু হবেন কী করে? তিনি তো আজও কুমারী ! যদি অক্ষয় কুমার তাঁর এটুকু হরণ করে যেত তাহলে তিনি এ বাড়ির সঙ্গে, এ বংশের সঙ্গে সেই সংযোগ অনুভব করতে পারতেন | কিন্তু অক্ষতযোনির কিসের শ্বশুরঘর? কিসের স্বামীর ভিটে শুনি? আজ নব্বইয়ের দুব্বো গজিয়ে যাওয়া হাড়েও এই কথায় চিরফাট দেয় ! না মরা অব্দি এই আপশোষ যাবে তাঁর? যাবে না গো, যাবে না! তিনি বুদ্ধিমতী বলে এই সত্যি সব বুকের অন্ধকারে লুকিয়ে রেখে প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করে গেলেন | যুগ, যুগ | সবাই ভাবল নিভাননী চাটুজ্যে বংশের গায়ে আঁচ লাগতে দেওয়ার মানুষ নয়, নেহাত এদের আয়ুর খাটে বরাদ্দ কম তাই !

তিনি যে কুমারী এ কথা শাশুড়ি, জা কেউ জানত না | জানত এক এবং একমাত্র বাঁশি ! বাঁশি তাঁর জন্য চোখের জল ফেলত | বাঁশি তাকে প্ররোচনা দিত যন্ত্রনা থেকে মুক্তির | বাঁশির একটা অকর্মণ্য দেওর ছিল শৈলেন! আলাভুলা মত | মানুষ ভালো, তাকে দেখলে কেমন শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকত | ঘুরে ঘুরে বেড়াত ছেলেটা, আবার এসে পড়ত ঠিক | বাঁশি তাঁকে হাতে পায়ে ধরেছিল ওকে নিয়ে দরজায় খিল দিতে | তিনি এমন রাগ করেছিলেন যে কথাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন বাঁশির সঙ্গে | বাঁশি তখনকার মত নাক কান মুলে ছিল, কিন্তু সুযোগ পেলেই শৈলেনকে তাঁর দিকে লেলিয়ে দিত | বাধ্য হয়ে শৈলেনকে একদিন খুব ধমক দিলেন নিভাননী | সেই যে চলে গেল শৈলেন তারপর ফিরল বিশ বচ্ছর বাদে, বুড়ো হয়ে | হাড় জ্বালানি তখনও আশা ছাড়েনি, তাঁকে বলল, ‘দ্যাখ, নিভা এখনও সময় আছে ! রক্ত ধরে গেছে, এখন তোর ভয়েরও কিছু নেই রে মুখপুড়ি!’ কিন্তু নিভাননী বেরোতে পারেননি !

কেন তিনি বেরোতে পারেননি? সংস্কার কি? সতীত্ব? কুল লঙ্ঘন? না | না | না | এ সব নয় | এ হল অভিমান | ভয়ংকর অভিমান | এই অভিমানই তাঁকে সারা জীবন চালিত করেছে | তিনি জীবনে যাই করেছেন এই অভিমানবশত: করেছেন | বাঁশি প্রাণাধিকা তাঁর, খুব দুঃখ পেত তাঁর জন্য, কিন্তু তিনি বান্শিকে কখনও বোঝাতে পারেননি শাঁখা সিঁদুরও যা, থান কাপড়ও তা, স্বামীর চিহ্ন | তেমনি তিনি এও কখনও বাঁশিকে বোঝাতে পারেননি যে অক্ষয় কুমার নিক বা না নিক তাঁর শরীর মন সব ওরই | ‘তুমি নাও না নাও এ তোমার’, এ কথাই মন্ত্রের মত আউড়েছেন নিভাননী জ্বলে পুড়ে যেতে যেতে | গোটা জীবন |

এসব হয়ত এমনি এমনি বুঝতে পারা সম্ভব ছিল না তাঁর পক্ষে | কিন্তু শাশুড়ি থাকতে সংসারের ভার এসে চাপেনি কাঁধে , তখন বুদ্ধি করে কিছুটা লেখাপড়া শিখে নিয়েছিলেন তিনি | অলোক, মহাশ্বেতাকে পড়াতে আসত বুড়ো নকুড় মাস্টার, শাউড়িকে বলে কয়ে তার কাছেই অঙ্ক শিখে নিয়েছিলেন বেশ থার্ড স্ট্যান্ডার্ড-এর মত | তাঁর অত আগ্রহ দেখে পাড়ার শেষ প্রান্তের উকিল বাড়ির ছোট মেয়ে যুথিকাদি নিজে যেচে তাকে শেখাতে শুরু করল বাংলা, ইংরিজি | দিব্যি শিখে গেলেন | ঢ্যাং ঢ্যাং করে পড়তে লাগলেন বই | বই ছিলও বটে উকিল বাড়িতে, কিন্তু তখন স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে, উকিল বাড়ির সবাই তখন কথায় কথায় সত্যাগ্রহ করছে, তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজারে পাড়ায় অনেক অপরিচিত লোকের আনাগোনা শুরু হল, এ সন দেখে শুনে শ্বশুরমশাই তাঁর উকিলবাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিলেন | কিন্তু ততদিনে লেখাপড়া তাঁকে, তাঁর ভেতরের মানুষটাকে অনেক বদলে দিয়েছে | যা মূর্খ লোকে বুঝবে না এমন কথা ভাবতে শিখে গেছেন তিনি!

উকিলবাড়ি যাওয়া বন্ধ করা ছাড়া অবশ্য শ্বশুর শাশুড়ি তাকে কোন ব্যাপারেই শাসন করেননি  | দুধ, ফল বলে বলে খাইয়েছেন | নাটক, নভেল, যাত্রা, থিয়েটারে বাধ সাধেননি | দেশ ভ্রমণে নিয়ে গেছেন | তারপর যখন তারা গত হলেন তখনও নির্বিরোধী ভাসুর, ভাসুরপো , ভাসুরঝি, দাস-দাসী আর চার পাঁচজন পোষ্য নিয়ে অনেক দায় দায়িত্বের মধ্যেও নিভাননী বই পড়া, থিয়েটার দেখা চালিয়ে গেছেন | দল বেঁধে মেয়ে বউরা এ পাড়া থেকে যেত সিনেমা দেখতে, তিনি জাহ্ছেন বলেই তাদের ছাড়া হত | বয়েসের সঙ্গে সঙ্গে তার দাপট চাটুজ্যে বাড়ির চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ল পাড়ায় | তাঁকে মান্য করার লোক বাড়তে লাগল, বয়েসের সঙ্গে সবাইকে পদ মর্যাদা হারাতে দেখলেন তিনি কিন্তু তাঁকে কখনও কেউ যোগ্য সমাদর না করে পারেনি | জোর করে নয়, সকলেই মন থেকে ভালোবেসেছে তাঁকে | পূর্নেন্দুর বউও আনলেন এমন যে সংসারের ব্যাপারে টার তেমন মনই নেই, নিভাননী যা বলেন সে তাতেই রাজি | একবারে সরল সাদাসিধে মেয়ে তিথি | তাকে খুশি করাও সহজ, দুঃখ দেওয়াও সহজ! কিন্তু এই যদি ডালিয়া অস্ত এ বাড়িতে? তাহলে কী হত? পূর্ণেন্দু তো মজে গেছিল ডালিয়ায় | তিনি কত যুক্তি করে আটকালেন নাতিকে! কিন্তু আসল কারণ বাঁশি জানত | ডালিয়া এই পাড়ারই মেয়ে, ও এই বাড়িতে ঢুকলে পেছন পেছন এসে জুটত ওদের পুরো সংসারটা | তাঁর সব কিছুর বিনিময়ে রক্ষা করা এই সংসার লুটেপুটে নিত ওরা তাঁর চোখের সামনে |

পূর্ণেন্দু মানত বলে ওরা তাঁকে মানত কি? কে না কে, বাবার কাকিমা | সংসারে শেষে আশ্রিতার আসন জুটত তাঁর | ডালিয়ার মা, ডালিয়ার ভাইয়েরা তাঁর ওপর হুকুম চলত | পাড়ার মেয়ে যে বউ করে এনেছে সেই ভুগেছে কিনা? বাঁশি ভোগেনি? তবে? তাও যদি না ডালিয়ার মা জগদম্বাকে চিনতেন নিভাননী ভালো করে, ভাড়াটে হয়ে ঢুকে বসাকদের বাড়িটা কেমন দখল করে নিল! শেষ বয়েসে বসাক গিন্নীকে ওদের হাত তোলা হয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছিল | নিজের এটুকু স্বার্থচিন্তা , তাও একেবারে শেষ বয়েসে এসে…কিছুই তো পাননি তিনি, শুধু এই ভূমিকাটুকুই সার, কি না সব কিছুর রক্ষাকর্ত্রী | অধিকার, রক্ষার অধিকার ! সেটুকু ছাড়তে পারেননি এ কি খুব দোষ হল নিভাননীর? বাঁশি জোর দিয়ে বলেছিল, না হয়নি | বাঁশিই পরামর্শ দিয়েছিল, ‘মা নেই, ভাই নেই, এমন দেখে মেয়ে আনবি পূর্ণেন্দুর জন্য | আর কক্ষনো যেন শহরের মেয়ে আনিস না নিভা |’ ঠিক তেমনই তো মেয়ে তিথি | আজ আর বাঁশি নেই, আজ নিভাননীকে জোর করে সব বুঝিয়ে দেওয়ারও কেউ নেই | বাঁশিকে সময়মত জিজ্ঞেসও করা হয়নি যে, মরার আগে এই ছলনাটুকুর কথা পূর্নেন্দুকে জানিয়ে যাবেনা কিনা ! বুকে করে আগলে বড় করেছেন, পূর্ণেন্দু কি এইটুকুর জন্য ঠাকুমাকে চিরকাল অপরাধী ভাববে? তিনি কি নিজেও নিজেকে অপরাধী ভাবেন?

পায়ের চাদরটা পা অব্দি টেনে নিতে নিতে নিভাননী ঘড়ি দেখলেন | দেড়টা বাজে, -তবে আর শুয়ে লাভ নেই | দুটো ভাত খাওয়ারই  চেষ্টা করা যাক | কি আর খান এখন, দুটো গলা গলা ভাত, একটু আলু ভাতে এক ছিতেখানি ঘি, শেষ পাতে একটু দুধ, পাটালি! এক আধটা কলা | তাও সহ্য হয় না!

খেতে খেতে তিনি অনেক কথা ভাবতে লাগলেন | তাঁর সময়কার লোকদের এখন যাওয়ারই কথা | কিন্তু ব্রজেন, মন্মথ, অবনী – এদের চোখে মুখে যে ভয় তিনি অহরহ দেখতে পান সেই ভয় তাঁর নেই! হ্যাঁ, কাতরতা আছে, এই সব কিছু ছেড়ে চলে যাওয়ার সংবেদনশীলতা আছে! – তো তা থাকবে না? মানুষ তো রে বাবা! কিন্তু নিভাননী এও জানেন যে মানুষের ওপর মৃত্যুর আধিপত্য ততক্ষণ, যতক্ষণ জীবনের ওপর তার অধকার আছে | যে পা বাড়িয়েই আছে মৃত্যু তার করবেটা কী? ঘন্টা! এই যে তিনি আরও বাঁচতে চান এ কি মৃত্যুকে ভয় খান বলে? ধুর! – বাঁচতে চান কারণ এখন আর কোন রকম কিছুর ভয় নেই বলেই বাঁচাটা  কত আনন্দের তা বুঝতে পারেন! এই বেঁচে থাকাটাকে শৌখিন বেঁচে থাকা বলা যায় |

খাওয়া হতে শেফালির মা তাঁকে ধরল, হাত ধুয়ে পালঙ্কে উঠে বসলেন, শেফালির মা পান ছেঁচে দেবে, সেই রস একটু গালে দেবেন, তাই অপেক্ষা করতে লাগলেন | ভাত খেলেই তাঁকে শীতে ধরে, আর বসে থাকতে পারেন না, লেপ মুড়ি দিয়ে কাঁপতে শুরু করেন তিনি | সত্যি শীত আসতে এখনও দেড় মাস | আজকাল শীত পড়ে কই? তবে এমনটা থাকলে ছেলেপুলেরা খুব খুশি হয়, কেউ বেশী কাপড় ব্যবহার করতে চায় নাত আজকাল ! পাড়ায় পাড়ায় শালওয়ালাদের হাঁকও কট কমে গেছে, গরম পোশাকের ব্যাপারীদের মোটেও ভালো বাজার নেই এখন |

এই চাটুজ্যে বাড়ির গা ঘেঁষেই এ পাড়ার ফুসফুস পার্কটা, তিনটে সাড়ে তিনটে থেকেই ছেলের দোল হইহই করে এখানে ফুটবল খেলবে | জমিটা তাঁর শ্বশুরেরই দান করা | এখন তিনি বুড়ো হয়েছেন, আর আগের মতো বেরোতে পারেন না, এই তো আজ দশদিন পরে বেরোলেন, তাও দু পা গিয়েই ফিরে আসতে হল | পূর্নেন্দুকে বলে তাই মাঠের দিকের তাঁর ঘর বরাবর পাঁচিলটা ভাঙিয়ে নিয়েছেন নিভাননী | ভাঙিয়ে কাঁটা তার দিইয়ে নিয়েছেন | এখন বিকেলটা মাঠের দিকে তাকিয়েই বসে থাকেন | ছেলেগুলো দৌড়ায় | এ দৌড় আজ তিনি কত বছর দেখছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই! সেদিন যারা দৌড়তো আজ তাদেরই একজনের মৃত্যু সংবাদ শুনলেন, সেদিন যারা নাটক নামাত, আর্টিস্ট আনিয়ে গান গাওয়াত, তারাই সব আজ শয্যাশায়ী ! সেদিন যারা গাঁটের কড়ি যোগাত কাঙালী ভোজনে, কম্বল দানে, আজ তাদের কত জনের নাম কেউ মনেও রাখেনি!

এ সব ভাবতে ভাবতেই তাঁর চোখ পড়ল সবুজ দেওয়ালে ঝুলে থাকা মা কালীর ক্যালেন্ডারের দিকে | ও মা, কাল কার্তিক পুজো? – শরীরে ক্ষীণ একটা তাপ অনুভব করলেন নিভাননী | কার্তিক পুজো মানে এ পাড়ায় একটা রগড়ের দিন | মহা গন্ডগোল আর চাপান উতোরের ব্যাপার | পাড়ায় পাড়ায় শত্রুদের সক্রিয় হয়ে ওঠার ব্যাপার | এই সব দিনে পুরোনো কত স্মৃতি জেগে ওঠে | মধুর স্মৃতি সব, যেন ভাসতে ভাসতে চলে যাওয়া পুরোনো দিনে | আর তখন কেমন আনচান করে ওঠেন নিভাননী! কিসের অস্থিরতা বোঝেন না | মাথা কি আর কাজ করে এত এ বয়েসে?

অপরাহ্নের কাকগুলো ভিড় করেছে মাঠের রেলিং-এ | একটা খাবার-টাবার নিয়ে জোর ঝগড়া লেগেছে মনে হয় ব্যাটাদের | তিনি কখনও কারো সঙ্গে ঝগড়া করতে পারলেন না ! এই তবে তাঁর অন্তিম আপশোষ? –তাই নিয়েই চোখ সুদূরে মেলে দিয়ে পরের দিনটার প্রতীক্ষায় জানলার গরাদে বুক ঠেকিয়ে চুপচাপ বসে রইলেন নিভাননী!

ভর সন্ধেবেলা যোগেশ চন্দ্র ছেলের বউ বাবলিকে টেনে একটা শালা বলতে শুনলেন! বাবলি চিৎকার করল , ‘শা-আ-আ-লা! নিকুচি করেছে আমার কার্তিকের!’ সেই চিৎকার শুনে পিলে চমকে উঠল যোগেশের! আবার বাবলি গালাগালি শুরু করল কেন? সর্বনাশ এ এখন চট করে থামলে হয়!

এই সময়টা, এই সাতটা সাড়ে সাতটা নাগাদ যোগেশ ন্যাংটো বয়েসের দুই ইয়ার বুদ্ধু আর গঙ্গাকে নিয়ে সবে সমস্ত সাজিয়ে গুছিয়ে বসেন | দু এক চুমুক দিতে দিতে পাড়া বেপাড়া থেকে আরও চার পাঁচজন এসে জড়ো হয় | পান, আড্ডা চলে বেশ রাত অব্দি | এ আজকের ব্যাপার নয়, বিষ বচ্ছরের ব্যাপার | যবে থেকে প্রাচুর্য্যের মুখ দেখেছেন, পুরোনো ভাড়াবাড়ি কিনে নিয়ে এই চারতলা, উঁচু গেটওলা বাড়ি দাঁড় করিয়েছেন তবে থেকেই এমন ব্যবস্থা চালু আছে | অর্থ আগমনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক মোসাহেব জুটেছে তাঁর | প্রথম প্রথম যোগেশ তাদের নিয়ে বাইরে মদের আসর বসাতেন | তারপর তাঁর ইচ্ছে হল জমিদারী মেজাজে সন্ধেবেলা গা-টা ধুয়ে পাট ভাঙা পাজামা পাঞ্জাবি পরে, সেন্ট ফেন্ট ছড়িয়ে বাড়িতেই আরাম করে বসবেন | তিনি যখন তৈরি হবেন তখন বন্ধু বান্ধবরা বাইরে জড়ো হতে থাকবে | তিনি ঘরে প্রবেশ মাত্র হইহই পড়ে যাবে তাদের মধ্যে, যোগেশ চাকর বাকরদের এটা ওটা আনতে হুকুম করবেন, কেউ একটু বেগম আখতার চালিয়ে দেবে প্লেয়ারে, হলের এক প্রান্তে টিভিতে ছাড়া থাকবে একটা নিউজ চ্যানেল | বড় বড় আলো জ্বেলে দেওয়া থাকবে | তিনি যতক্ষণ না গ্লাস হাতে তুলবেন ততক্ষণ অন্যরা কেউ গ্লাস ধরতে পারবে না | ফলে মদিরা সম্মুখে বসে সব উসখুশ করবে, এ সোফা ছেড়ে ও সোফায় বসবে | তিনি চিয়ার্স বলে প্রথম চুমুক দিলে হাত পা ছেড়ে যাবে সকলের | তিনি ঢালাও খাওয়াবেন সবাইকে | আর এ তো যে সে মদ নয়, মূল্যবান সব স্কচ, হুইস্কি ! যেদিন যাকে গেলাসে মদ পরিবেশনের অনুরোধ করবেন যোগেশ, সেদিন সে-ই তাঁর সবচেয়ে পেয়ারের লোক!

তা এমনটাই চলে আসছে তাঁর জীবনে আজ কত কাল | এ বাড়ি বানানোর সময়ও এই বিষয়টাকে মাথায় রেখেই এগিয়েছিলেন | জমিটা ছিল কাটা সাতেকের | তিনি একতলায় পাঁচটা বড় বড় গাড়ি ঢুকে যাওয়ার মত বিশাল গ্যারেজ আর অফিস রাখলেন | দোতলাটা তৈরি করলেন বিয়ে বাড়ি ভাড়া দেবেন বলে, তিন তলার অর্ধেকটা তাঁর, অর্ধেকটা স্ত্রী ইভার, আর চারতলাটা একমাত্র ছেলে যুগলের | এই প্ল্যানটার মধ্যে পরে দুটো ভুল খুঁজে পেয়েছেন তিনি, দুটোই মারাত্মক ভুল! এবং তার সংশোধন সম্ভব নয় | প্রথম ভুলটা বাড়ির ভেতর বিয়ে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা | বাড়িটা একেবারে হট্টমন্দির হয়ে গেছে | সর্বক্ষণ অচেনা লোকের ভিড় লেগেই আছে যারা ত্বত্তের ট্রে  হাতে ছুটতে গিয়ে তাঁকেই ধাক্কা দিয়ে চলে যায় | আর অন্য ভুলটার  দায় পুরোটাই অবশ্য প্ল্যানের ঘাড়ে চাপানো যাবে না! সে ভুলটা ভাগ্য বিড়ম্বনা ছাড়া কিছু নয় |

ক্রমশঃ….

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.