Holi Hai

শীতকাল এলেই বাজার ভরে ওঠে পালং শাকে | হরেক রকম পদে‚ হরেক রকম ভাবে বাঙালির পাতে ওঠে পালং | এই পালং-এর জন্ম কিন্তু হয়েছিল মধ্য প্রাচ্যে‚ হাজার হাজার বছর আগে তা চাষ করা হতো পারস্যে | প্রায় ১৫০০ বছর আগে চিনে পাড়ি দেয় পালং | তারও কয়েকশো বছর পরে পালং পাড়ি দেয় ইউরোপে | যাই হোক‚ পালং-কে একরকম সুপার ফুডই বলা যায় | কী নেই এতে? মিনারেল‚ ভিটামিন‚ ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস থেকে আরম্ভ করে পিগমেন্টস | আসুন দেখে নেওয়া যাক পালং শাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ১০টি গুণাগুণ |

1)দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় : পালং শাক-এ আছে বিটা ক্যারোটিন‚ লিউটেনিন এবং জ্যানথিন | ভিটামিন A-এর ডেফিসিয়েন্সি কমায় পালং শাক | চোখের শুষ্কতা দূর করতে‚ চোখের আলসার সারাতে কাজ করে | এমনকি চোখ কড়কড় করা থেকে শুরু করে ফোলা ভাবও কমায় পালং | 

2)ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে : ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রনে রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেয় পালং শাক | উচ্চ পরিমাণে পটাসিয়াম এবং অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ সোডিয়াম আছে পালং শাক-এ | এচাড়াও উপস্থিত ফোলেট হাইপারটেনশন কমায় ও রক্ত জালিকাকে রিল্যাক্স করে | 

3)ছানি পড়া প্রতিরোধ করে : উপস্থিত লিউটেনিন ও জ্যানথিন খুব শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে‚ যা সূর্যের ক্ষতিকর ÚV রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচায় | এছাড়াও পালং-এ উপস্থিত ফ্রি রেডিকাল-এর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে চোখের অন্যান্য সমস্যা ও ছনি পড়া আটকায় | 

4)ক্যানসার প্রতিরোধী : পালং-এ উপস্থিত টোকোফেরল‚ ফোলেট ও ক্লোরোফাইলিন ক্যানসার প্রতিরোধে ও রোগীর চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী | ব্লাডার‚ প্রস্টেট‚ লিভার ও লাং ক্যানসারের প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় পালং-এর ভূমিকা প্রমাণিত | 

5)ত্বকের সুরক্ষা : বিভিন্ন ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট্স ও পিগমেন্টের উপস্থিতি ত্বককে ক্ষতিকর UV রশ্মির হাত থেকে সুরক্ষা দেয় | এবং ত্বকের ক্যানসারের প্রতিরোধ হিসেবেও কাজ করে | 

6)মেটাবলিজম বাড়ায় : পালং-এ উপস্থিত বিভিন্ন ভিটামিনকে খুব সহজেই এনজাইম ভেঙে দিয়ে তৈরি করে অ্যামাইনো অ্যাসিডস | যা আমাদের বিভিন্ন ক্ষত নিরাময়ে‚ পেশীর বৃদ্ধি ও সার্বিক মেটাবলিজম বাড়ায় | 

7)ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট : পালং শাক-এ থাকা আলফা লিপোয়িক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গ্লোকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ও শরীরে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায় | 

8)অ্যাজমা প্রতিরোধ করে : এমন কিছু পুষ্টিকর পদার্থ আছে যা অ্যাজমা প্রতিরোধে সাহায্য করে | তার মধ্যে একটি হলো বিটা ক্যারোটিন | পালং শাক-এ প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন আছে | 

9)কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : ফাইবার এবং প্রচুর পরিমাণে জল আছে পালং শাক-এ | ফলে পালং শাক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এবং ডাইজেস্টিভ ট্র্যাক-কে সুস্থ রাখে |

10)হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে : পালং শাক-এ বেশ ভালো পরিমাণে ভিটামিন K থাকে | মজবুত হাড়ের গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান ভিটামিন K | যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন K আমাদের খাদ্যতালিকায় থাকলে তা ক্যালসিয়াম অ্যাবজর্পশনে সাহায্য করে এবং মূত্রের মাধ্যমে ক্যালসিয়ামের অতিরিক্ত বেরিয়ে যাওয়া আটকায় |

 

আরও পড়ুন:  মাটন ভিন্ডালু

NO COMMENTS