আপনার বাচ্চা স্ট্রেসের শিকার নয় তো? ১০টি উপায়ে আপনি ওকে সাহায্য করতে পারেন

2562

পড়াশোনা‚ হোমওয়ার্ক‚ ক্লাসওয়ার্ক‚ ক্লাস টেস্ট‚ বার্ষিক পরীক্ষা‚ বিভিন্ন ধরণের একষ্ট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি – আজকালকার বাচ্চারা সদাই ব্যস্ত | কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে আপনার বাচ্চা স্ট্রেস আর উৎকন্ঠার শিকার হয়ে পড়ছে না তো? সম্প্রতি একটা সার্ভে করে দেখা গেছে প্রতি তৃতীয় বাচ্চার বাবা মায়েরা জানিয়েছেন তাদের বাচ্চা স্ট্রেস আর উৎকন্ঠায় ভুগছে |

আপনার বাচ্চা স্ট্রেসের মধ্যে আছে কি না বুঝবেন কী করে?

যে বাচ্চারা স্ট্রেস আর উৎকন্ঠায় ভুগছে তাদের মুড আর ব্যবহারের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় | এই সময় বাচ্চা সহজেই খিটখিটে হয়ে উঠবে‚ বেশি কাঁদবে‚ বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেবে‚ সব ব্যাপারেই অনিশ্চয়তা প্রকাশ করবে বা নেগেটিভ কথাবার্তা বলবে | এছাড়াও মাঝে মাধ্যেই আপনার ছেলে বা মেয়ে মাথাব্যথা বা পেটেব্যথার কথা জানাবে | একই সঙ্গে খিদে এবং ঘুম কমে যেতে পারে‚ এমনকি নিয়মিত সকালে উঠে স্কুলে না যাওয়ার বায়নাও করতে পারে |

আপনার বাচ্চা যদি স্ট্রেসের মধ্যে থাকে তাহলে এই ১০টি উপায়ে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করুন |

) নজর রাখুন আপনার সন্তানের জীবনে যেন বিশৃঙ্খলা থাকে : বাচ্চাকে কোনো কাজ করার জন্য তাড়া দেবেন না | তাকে তার মতো করে ধীরে সুস্থে কাজ করতে দিন | স্কুলে যাওয়ার আগে দেখেবেন তার হাতে যেন কয়েক ঘন্টা সময় থাকে | যাতে তার স্কুলে যা দরকার লাগবে তা যেন সে গুছিয়ে নিতে পারে |

) বাচ্চাকে ভালো করে ঘুমোতে দিন : যে বাচ্চার মা বাবারা তাদের বাচ্চাদের যথেষ্ট সময় ঘুমোতে দেন দেখা গেছে তাদের বাচ্চারা সারাদিন বেশি সক্রিয় থাকে | এছাড়াও শরীর ঠিক মত রেস্ট পেলে বাচ্চা সব জিনিসে আগ্রহ প্রকাশ করবে | এবং স্ট্রেসের ঠিকমতো মোকাবিলা করতে পারবে |

) বাচ্চার সঙ্গে কথা বলুন : যদি সন্দেহ করেন আপনার বাচ্চা স্ট্রেসের মধ্যে আছে তাহলে এই বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন | জানার চেষ্টা করুন সে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তায় আছে | বা তার জীবনে এমন কিছু ঘটছে কি না যার ফলে সে উৎকন্ঠার শিকার হচ্ছে | প্রতিদিন খানিকক্ষণ সময় অবশ্যই বাচ্চার সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করুন | বড় বাচ্চারা হয়তো সমস্যার কথা নিজে থেকে জানাবে না তাই আপনাকেই সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে | যত ব্যস্তই থাকুন না কেন সারাদিন বাচ্চা কী করলো তা গল্পের ছলে জেনে নিন |

) বাচ্চাকে রিল্যাক্স করতে শেখান : দেখা গেছে কয়েকটা সহজ যোগ ব্যায়াম‚ ডিপ ব্রিদিং এইসব করলে জীবন থেকে অনেক স্ট্রেস কমে | বাচ্চাকে এগুলো শেখান | এছাড়ও সারাদিনে বাচ্চাকে কিছুক্ষণ অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে উৎসাহ দিন | বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে এমন কিছু করতে পারেন যা দুজনেরই ভালো লাগে | যেমন ধরুন একসঙ্গে বাগান করলেন‚ বা একসঙ্গে ছবি আঁকলেন বা একসঙ্গে গান করলেন‚ এর ফলে কিন্তু আপনাদের দুজনের জীবন থেকেই স্ট্রেস কমবে |

) বাচ্চার জীবন থেকে  এক্সট্রা  কমিয়ে দিন : পড়াশোনা তো আছেই এছাড়াও বাবা মায়েরা বাচ্চাকে নাচ‚ গান‚ ছবি আঁকা‚ ক্যারাটে‚ টেনিস খেলা প্রভৃতি জিনিসে ভর্তি করে দেন | দেখা গেছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চার ইচ্ছা নেই তাও বাবা মাকে খুশি করতে তারা জোর করে এগুলো করে | পড়াশোনা ছাড়াও বাচ্চার বিভিন্ন অ্যাক্টভিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া ভালো কিন্তু তা যেন স্ট্রেসের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় |

) স্কুলের টিচারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন : স্কুলের টিচার বা অন্য বাচ্চার বাবা মায়েদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন | এইভাবে বাচ্চা কীভাবে স্কুল হ্যান্ডেল করছে তার ট্র্যাক রাখতে পারবেন |

) খেয়াল রাখুন আপনার নিজের জীবন যেন স্ট্রেস ফ্রি হয় : আপনি যদি স্ট্রেস কে কন্ট্রোলে না রখতে পারেন আপনার সন্তানও কিন্তু তাহলে কোনদিন স্ট্রেস হ্যান্ডেল করতে পারবে না | একটা উদাহরণ দিচ্ছি‚ অফিসে হয়তো এমন কিছু হয়েছে যার ফলে আপনি স্ট্রেসের মধ্যে আছেন | এই ব্যাপারে নিয়ে বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি না করে বাচ্চা এবং তার বাবা বা মায়ের সঙ্গে শান্তভাবে এই নিয়ে আলোচনা করুন | আপনি কীভাবে স্ট্রেসের মোকাবিলা করছেন তা কিন্তু আপনার থেকেই আপনার বাচ্চা শিখবে |

) তুলনামূলক সমালোচনা করবেন না : অন্য বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করে আপনার বাচ্চাকে বকাবকি করবেন না | এর ফলে সে কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে | সব বাচ্চা তো আর একই রকমের হতে পারে না তাই কেউ হয়তো পরীক্ষায় আপনার বাচ্চার থেকে বেশি নম্বর পাবে‚ বা কোনো প্রতিযোগিতায় প্রথম আসবে‚ এই নিয়ে দিনরাত বাচ্চার কাছে কমপ্লেন করবেন না | এছাড়াও বাচ্চার সঙ্গে সহমত না হলেও জোর করে আপনার সিদ্ধান্ত বাচ্চার ওপর চাপিয়ে দেবেন না | বাচ্চার সঙ্গে স্কুল বা টিচার সম্পর্কে কোনদিন নেগেটিভলি কথা বলবেন না | এর ফলে আপনার বাচ্চার মনে ভয় তৈরি হবে | সব সময় পজিটিভ থাকার চেষ্টা করুন |

) টেকনোলজির ব্যবহার কম করতে শেখান : আজকালকার অনেক বাবা মায়েরাই গর্ব করে যদি তাদের বাচ্চা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারে বা কম্পিউটারে বিভিন্ন জিনিস করতে পারে | এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন | দরকারে অবশ্যই বাচ্চা টেকনোলজির সাহায্য নেবে | কিন্তু তাই বলে নজর রাখুন সে যেন ঘন্টার পর ঘণ্টা ফোন বা কম্পিউটারের সামনে সময় না কাটায় |

১০ ) সাহায্য নিতে লজ্জা পাবেন না : যদি দেখেন আপনার বাচ্চা কিছুতেই স্ট্রেস সামলাতে পারছে না তাহলে অবশ্যই কাউন্সিলারের সাহায্য নিন | এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.