আজন্ম নেই দুটি হাত, হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম দশ বছরের বিস্ময়-বালিকা

শরীরের খামতিকে জয় করে নজির গড়ল দশ বছরের বিস্ময়বালিকা। জন্ম থেকেই কবজির পর থেকে দুটি হাত নেই দশ বছরের সারা হিনসেলের। কিন্তু সে স্কুলে যায়, ছবি আঁকে, রঙ করে। এই বছরই প্রথম টানা হাতের লেখা শিখেছে সারা। আর এর পরেই জাতীয় স্তরে একটি হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী হল সারা।

কিন্তু এই একরত্তি মেয়ের পক্ষে শরীরের খামতি উপেক্ষা করে সেরার শিরোপা পাওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছানোটা কি খুব সহজ ছিল? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ফ্রেডেরিকের সেন্ট জন’স রিজিওনাল ক্যাথলিক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছোট্ট সারার শিক্ষিকা শেরিল চুরিল্লার কথায়, বরাবরই নিজের কাজ নিয়ে মগ্ন থাকত ছোট্ট সারা। কোনওদিনও কোনও কাজ ‘পারব না’ বলত না সে। আপাতভাবে ওর পক্ষে অসম্ভব কোনও কাজও ধৈর্য ধরে করার একটা তাগিদ রয়েছে বলেও জানান সারার শিক্ষিকা।

সারার স্কুলের শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের জন্য সবথেকে গর্বের বিষয় হল এই বছর নিকোলাস ম্যাক্সিম পুরস্কার পেয়েছে। প্রসঙ্গত প্রতি বছরই এই পুরস্কার দু’জন বিশেষ পড়ুয়াকে দেওয়া হয়ে থাকে। একটি ক্যাটেগরি থাকে সুন্দর হাতের লেখার জন্য, আরেকটি থাকে স্ক্রিপ্টের জন্য। সুন্দর হাতের লেখার ক্যাটেগরিতে এই পুরস্কার জিতেছে সারা। সারার মা’য়ের কথায়, সে কখনও প্রস্থেটিক হাত ব্যবহার করেনি। কারণ সে কোনও কিছুর ওপরেই নির্ভরশীল হতে চায় না। বরং সব কাজ নিজে করার চেষ্টা করে সে। হাত না থাকার খামতিকে কখনওই বিশেষ গুরুত্ব দেয় না সারা। লেখার সময়ে দুই বাহুর মাঝে পেন্সিলটিকে শক্ত করে ধরে নিয়ে এক মনে লিখে যায় সে। বলাবাহুল্য, সারার মনের জোরের কাছে হেরে গিয়েছে তার প্রতিবন্ধকতা। মনের জোর দিয়ে জীবনের খামতিগুলিকে জয় করতে পেরেছে এই একরত্তি মেয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here