নীলামঘরে মৃত্যুর কটু গন্ধ | কারণ ফ্রান্সে নীলামে উঠল গিলোটিন | দর ডাকা শুরু হতেই বিক্রি হয়ে যায় | সাড়ে তিন হাজার পাউন্ডে গিলোটিন কিনে নেন শিল্পপতি ক্রিস্টোফার ফেভিয়ার | গিলোটিনের মতো নির্মম স্মারক নীলাম করা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক | অনেকের মতে এমন নির্মম জিনিস নীলামে তোলা মোটেও মানবিকতার পরিচয় নয় | 

ষোড়শ শতকের শেষ দিকে আবিষ্কৃত হয় গিলোটিন | আবিষ্কর্তা চিকিৎসক যোসেফ গিলোটিন | রূপ দানে সাহায্য করেছিলেন জার্মান প্রযুক্তিবিদ টোবিয়াস স্কিমড্ট | এর আগে ফ্রান্সে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত নির্মম | অপরাধীর দেহের উপর দিয়ে চালানো হতো চাকা | প্রকাশ্যে তার দেহের সব হাড় চুরমার হয়ে যেত | এই পোশাচিক প্রথা বন্ধ করতে এগিয়ে আসেন গিলোটিন | বলেছিলেন মৃত্যুদণ্ড হোক কম যন্ত্রণার | যদিও শেষ অবধি তিনি প্রাণদণ্ডের বিরোধী ছিলেন | এর পর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গিলোটিনের রূপ পাল্টেছে | প্রথমে এর নাম ছিল অন্য | কিন্তু কালক্রমে গিলোটিনের নাম জড়িয়ে যায় এর সঙ্গে | যা একেবারেই পছন্দ ছিল না চিকিৎসকের |

ফরাসি বিপ্লবের সময় যথেচ্ছ ব্যবহৃত হয় গিলোটিন | বলা হয়‚ ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৪ অবধি ১৬ হাজার জনকে গিলোটিনে হত্যা করা হয় | ষোড়শ লুই থেকে মারি আঁতোয়ানেত‚ সবাই প্রকাশ্য রাজপথে গিলোটিনে প্রাণ দেন | কাঠের পাটাতনের উপর বেঁধে রাখা হয় অপরাধীকে | উপর থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নেমে আসে একটি ধারাল ইপ্সাত পাত | চোখের নিমেষে দণ্ডিতর মাথা ভূলুণ্ঠিত | এতটাই নিখুঁত ছিল ব্যবস্থা‚ সামনে রাখা নির্দিষ্ট ঝুড়িতে পড়ত ছিন্ন মস্তক | 

আধুনিক যুগেও গিলোটিনই ছিল ফরাসি প্রাণদণ্ড | শেষ বার ব্যবহৃত হয় ১৯৭ সালে | মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় হামিদা জানদোবিকে | ১৯৮১ সালে ফ্রান্সে প্রাণদণ্ডই নিষিদ্ধ হয়ে যায় | যেটা নীলামে বিক্রি হল সেটা ১৫০ বছরের পুরনো একটি রেপ্লিকা | ২০১১ সালেও কয়েকটি গিলোটিন নীলামে বিক্রি হয়েছিল |  

Banglalive
আরও পড়ুন:  বিশেষ পাখি একটি‚ ডিম পেড়েছে চারটি; বন্ধ হতে বসেছে বিখ্যাত মিউজিক ফেস্টিভ্যাল

NO COMMENTS