‘ মঙ্গলগ্রহে জল থাকতে পারে ‘ দেড় হাজার বছর আগে এই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন এক ভারতীয়

মঙ্গলগ্রহে জল আছে না নেই‚ এই নিয়ে নিরন্তর গবেষণায় ব্যস্ত আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান | নাসা‚ ইসরো-সহ একাধিক দেশের গবেষণা সংস্থার অন্যতম লক্ষ্যবিন্দু এখন লালগ্রহ | অথচ আমরা মনে রাখি না আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসে এক জ্যোতির্বিদ বলেছিলেন মঙ্গলগ্রহে জল এবং লোহা থাকার সম্ভাবনা | তিনি হলেন বরাহমিহির |

বাংলার প্রবচনকে সত্যি বলে ধরলে তিনি বাঙালি | এবং মধ্যযুগীয় খনা আসলে তাঁর পুত্রবধূ | চন্দ্রকেতুগড়ে যে খনা-মিহিরের স্তূপ আছে‚ তা নাকি আসলে এই গণিতজ্ঞের ভিটে | তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে‚ বরাহমিহিরের জন্ম হয়েছিল উজ্জয়িনীতে | তাঁর পিতা আদিত্যদাসও ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদ |  মালব্যের গুপ্ত সম্রাট যশোধর্মণ‚ বা ইতিহাস খ্যাত বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় বরাহমিহির ছিলেন নবরত্নের একজন |

বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য | তিনি একাধারে ছিলেন গণিতজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিদ এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে পণ্ডিত | ত্রিকোণমিতি‚ পাটীগণিত-সহ গণিতের একাধিক ক্ষেত্রে বরাহমিহির রচনা করেছিলেন মূল ভিত্তি | জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর রচনা সূর্যসিদ্ধান্ত | আজ থেকে দেড় হাজর বছর আগে ৫৭৫  খ্রিস্টাব্দে তাঁর গণনা বলেছিল‚ সৌরজগৎ সূর্যকেন্দ্রিক | তাঁর ভবিষ্যৎবাণী উচ্চারিত হয়েছিল‚ মঙ্গলগ্রহে থাকতে পারে জল এবং লোহা | মঙ্গল‚ বুধ‚ বৃহস্পতি‚ শনি এবং জুপিটার গ্রহের ব্যাস পরিমাপ করেছিলেন বরাহমিহির | তাঁর হিসেবে মঙ্গলের ব্যাস ৩৭৭২ মাইল | দেড় হাজার বছর আগে খুব একটা ভুল ছিল না তাঁর গণনায় | আধুনিক মহাকাশ গণনা বলছে‚ মঙ্গলের ব্যাস ৪২১৮ মাইল |

পরবর্তী কালে, সূর্যসিদ্ধান্তের প্রকৃত সংস্করণ চুরি যায় বিদেশি হানাদারদের হাতে | আজও‚ পঞ্জিকা রচিত হয় বরাহমিহিরের এই প্রামাণ্য গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে | তবে সেটি মধ্যযুগে গণিতজ্ঞ দ্বিতীয় ভাস্কর দ্বারা পরিমার্জিত সংস্করণ | জ্যোতিষশাখাতেও বরাহমিহির ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান | জ্যোতিষে তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য আকরগ্রন্থ হল বৃহৎ জাতক‚ লঘু জাতক‚ সমাস সংহিতা‚ বৃহৎ যোগযাত্রা এবং যোগযাত্রা |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।