‘ মঙ্গলগ্রহে জল থাকতে পারে ‘ দেড় হাজার বছর আগে এই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন এক ভারতীয়

2622

মঙ্গলগ্রহে জল আছে না নেই‚ এই নিয়ে নিরন্তর গবেষণায় ব্যস্ত আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান | নাসা‚ ইসরো-সহ একাধিক দেশের গবেষণা সংস্থার অন্যতম লক্ষ্যবিন্দু এখন লালগ্রহ | অথচ আমরা মনে রাখি না আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসে এক জ্যোতির্বিদ বলেছিলেন মঙ্গলগ্রহে জল এবং লোহা থাকার সম্ভাবনা | তিনি হলেন বরাহমিহির |

বাংলার প্রবচনকে সত্যি বলে ধরলে তিনি বাঙালি | এবং মধ্যযুগীয় খনা আসলে তাঁর পুত্রবধূ | চন্দ্রকেতুগড়ে যে খনা-মিহিরের স্তূপ আছে‚ তা নাকি আসলে এই গণিতজ্ঞের ভিটে | তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে‚ বরাহমিহিরের জন্ম হয়েছিল উজ্জয়িনীতে | তাঁর পিতা আদিত্যদাসও ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদ |  মালব্যের গুপ্ত সম্রাট যশোধর্মণ‚ বা ইতিহাস খ্যাত বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় বরাহমিহির ছিলেন নবরত্নের একজন |

বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য | তিনি একাধারে ছিলেন গণিতজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিদ এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে পণ্ডিত | ত্রিকোণমিতি‚ পাটীগণিত-সহ গণিতের একাধিক ক্ষেত্রে বরাহমিহির রচনা করেছিলেন মূল ভিত্তি | জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর রচনা সূর্যসিদ্ধান্ত | আজ থেকে দেড় হাজর বছর আগে ৫৭৫  খ্রিস্টাব্দে তাঁর গণনা বলেছিল‚ সৌরজগৎ সূর্যকেন্দ্রিক | তাঁর ভবিষ্যৎবাণী উচ্চারিত হয়েছিল‚ মঙ্গলগ্রহে থাকতে পারে জল এবং লোহা | মঙ্গল‚ বুধ‚ বৃহস্পতি‚ শনি এবং জুপিটার গ্রহের ব্যাস পরিমাপ করেছিলেন বরাহমিহির | তাঁর হিসেবে মঙ্গলের ব্যাস ৩৭৭২ মাইল | দেড় হাজার বছর আগে খুব একটা ভুল ছিল না তাঁর গণনায় | আধুনিক মহাকাশ গণনা বলছে‚ মঙ্গলের ব্যাস ৪২১৮ মাইল |

পরবর্তী কালে, সূর্যসিদ্ধান্তের প্রকৃত সংস্করণ চুরি যায় বিদেশি হানাদারদের হাতে | আজও‚ পঞ্জিকা রচিত হয় বরাহমিহিরের এই প্রামাণ্য গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে | তবে সেটি মধ্যযুগে গণিতজ্ঞ দ্বিতীয় ভাস্কর দ্বারা পরিমার্জিত সংস্করণ | জ্যোতিষশাখাতেও বরাহমিহির ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান | জ্যোতিষে তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য আকরগ্রন্থ হল বৃহৎ জাতক‚ লঘু জাতক‚ সমাস সংহিতা‚ বৃহৎ যোগযাত্রা এবং যোগযাত্রা |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.