‘২.০’ দেখতে যাওয়ার ঠিক আগে নতুন করে একবার দেখতে বসেছিলাম আট বছর আগে তৈরি এই সিরিজের প্রথম ছবি ‘রোবট’ (মূল তামিলে ‘এন্থিরন’)। বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, দেখতে দেখতে একেক সময় তো পুরো মনে হচ্ছিল মেগাস্কেলে তৈরি শঙ্কুর কোন সিনেমা দেখছি যেন।

যাঁদের এটা শুনে বাড়াবাড়ি বলে মনে হচ্ছে, তাঁদের রিকোয়েস্ট করছি ‘প্রোফেসর শঙ্কু ও রোবু’ গল্পটা নতুন করে একবার পড়ে দেখুন প্লিজ। বাংলা ১৩৭৪ সনের মাঘ-ফাল্গুনে ছাপা হয়েছিল ফার্স্ট। গল্পের লাইনে লাইনে যে ট্রিটমেন্ট তার সঙ্গে ওই ‘রোবট’ ছবির যেন কাট-পেস্ট করা মিল! ভাল বিজ্ঞানীর তৈরি রোবট মোটা টাকায় কিনে নিতে চাইছেন দুষ্টু আরেক বিজ্ঞানী। কিংবা রোবট নিজেই নিজের স্রষ্টা-বিজ্ঞানীর অল্টার-ইগো হয়ে বসে চ্যালেঞ্জ করছে তাঁকেই। এই সব প্লট-পয়েন্টগুলো শঙ্কুর ওই কয়েক পাতার ছোট গল্পটাতেই আছে!

Banglalive

অবশ্য শুধু সত্যজিতের শঙ্কু নয়, যদি খুঁটিয়ে দেখতে বসেন তো টের পাবেন অগুন্তি ছবির মশালা পাঞ্চ করা ছিল ওই ‘রোবট’ ছবির মধ্যে! স্পিলবার্গের ‘এ.আই.’ (২০০১) বলুন কিংবা জেমস ক্যামেরনের ‘টারমিনেটর’ সিরিজ (১৯৮৪-১৯৯১), বাদ পড়ে নি কিছুই। কিন্তু মজাটা হল, এতগুলো সোর্স থেকে এলিমেন্ট নেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পুরো ছবিটা দেখে একবারও এটা বলা যাবে না যে ছবিটা ঠিক অমুক ছবির টোকা। সব মশালা মিলিয়ে-মিশিয়ে হাতে-গরম নতুন একটা কাহানি ফাঁদা হয়েছিল যে ছবিটায়!

Banglalive

এবার আট বছর পরে তৈরি এই ‘২.০’ ছবিটায় আসুন। কাণ্ড দেখুন, এবার ছবিটা দেখতে বসে প্রথম মনে পড়ল সেই সত্যজিতেরই কথা।

Banglalive

তবে এবার আর শঙ্কু স্টোরি নয়। মনে পড়ল ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ (১৯৬২) ছবি। সে ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র পক্ষী-প্রেমিক জগদীশ। সেই ভূমিকায় পাহাড়ি সান্যাল। ছবিতে ৪৬ মিনিটের মাথায় পাখি নিয়ে জগদীশ তরুণ যুবক অশোককে (অভিনয়ে অরুণ মুখোপাধ্যায়) কী বলেছিলেন সেটা মনে করে দেখুন প্লিজ।

Banglalive

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পথে পাখির খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে বহু কথা তো বলেই ছিলেন, তার সঙ্গে এটাও বলেছিলেন যে ‘কিন্তু আমার একটা ভয় হয়। তুমি হয়তো শুনলে হাসবে, আমি মাঝে মাঝে রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবি, এই যে টেস্ট চলছে, এই যে নিউক্লিয়ার টেস্ট হচ্ছে, আকাশ বিন্দু বিন্দু বিষাক্ত রেডিয়েশনে ভরে গেছে, একবার হয়তো গিয়ে দেখব (পরিযায়ী) পাখিগুলো আর এল না। হয়তো… হয়তো তাদের মাথা খারাপ হয়ে গিয়ে পথ ভুলে গিয়েছে। কিম্বা হয়তো তারা সেই সেন্সটাই হারিয়ে ফেলেছে… মাঝরাস্তায় তারা মরে বৃষ্টির ফোঁটার মত টুপটুপ করে কোথাও…’।

আজ ২০১৮ সালে বসে ‘২.০’ ছবিতে পকষিরাজন (অক্ষয় কুমার) যখন মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনে পাখিদের সর্বনাশের গল্প শোনাবে, ৫৬ বছর আগের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবির সেই ডায়ালগগুলো তখন মনে না পড়ে যাবে কোথায় বলুন।

শুধু এটুকু না, এরপর আবার আরেকটা মজা আছে। যে বছর সত্যজিৎ বানালেন ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, তার ঠিক পরের বছর, হিচকক বানালেন ‘বার্ডস’ (১৯৬৩)। মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠে শহর জুড়ে পাখিরা দল বেঁধে অ্যাটাক করছে মানুষদেরই সোজা – ভয়ংকর সেই স্টোরি।

আরও পড়ুন:  এই মুহূর্তে হায়েস্ট পেড অ্যাক্টর উনি‚ কিন্তু বার্থেডে বয় সলমন খানের প্রথম পারিশ্রমিক শুনলে চোখ কপালে উঠে যাবে আপনার

এবার বুঝতে পারছেন তো কেন লেখার শিরোনামে এটা লিখেছি যে, ‘২.০’ যতই হাল আমলের গল্প হোক না কেন ছবি জুড়ে লুকিয়ে আছে আসলে ওই দুটো মানুষের ছোঁয়া!

কিন্তু সবচেয়ে বড় আফশোসের জায়গাটা কী, জানেন? এরকম সব ক্লাসিক ছবির ভাবনা ধার করে তৈরি হলেও শেষ-মেশ কিনা এ ছবির গল্পটাতেই খামতি রয়ে গেল!

কলকাতার সবচেয়ে বড় স্ক্রিনে থ্রি-ডি প্রোজেকশনে বসে দেখেছি ‘২.০’। একদম ফার্স্ট ফ্রেম থেকে জাস্ট এটা মনে হল যে কলার ধরে হ্যাঁচকা একটা টান মেরে ডিরেক্টর শংকর যেন আমায় ঢুকিয়ে নিলেন পুরো অন্য একটা জোনে। কী ধুম-ধামাকা শুরু এ ছবির, লিখে বোঝান যাবে না সেটা! থ্রি-ডির এফেক্টে বিগিনিং ক্রেডিটের অক্ষরগুলো পর্যন্ত যেন এসে ধাক্কা দিচ্ছে চোখে। তারপর লাগাতার একের পর এক চমক!

কিন্তু টেকনোলজি দিয়ে এরকম চোখ ঝলসে দিচ্ছিল যে ছবিটা, সেকেন্ড হাফে পৌঁছে সেটা দেখতে গিয়েই আমার হাই উঠতে শুরু করল, ভাবতে পারছেন সেটা?

সবচেয়ে বড় গণ্ডগোল লাগছিল ছবির ভিলেনের জায়গাটা। ছবির একদম প্রথম সিকোয়েন্সেই এটা দ্যাখান হল যে, মোবাইল টাওয়ারে উঠে গলায় দড়ি দিয়ে সুইসাইড করছেন বৃদ্ধ পকষিরাজন। মানুষের এই সভ্যতাতে পাখিদের স্বার্থটাকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন নি, তাই।

এবার এটা যখন ঘটছে, তখন তো এটা মনে হচ্ছিল যে, একেবারে ফার্স্ট সিনে ভিলেন যদি মরেই যায়, তাহলে বাকি পুরো সিনেমা জুড়ে ভিলেনি করবে কে? নাকি এই পকষিরাজন লোকটা এখানে আসলে মরছে না, যেটা স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছি, সেটা একটা চোখের ভুলের মত!

ছবির সেকেন্ড হাফে গিয়ে জানতে পারলাম, না, সত্যি সত্যি মরেই গিয়েছে পক্ষীপ্রেমিক পকষিরাজন নামের সেই লোক। আর পকষিরাজনের মত মুখওয়ালা ভয়ানক যে দানব এসে এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে সারা শহর জুড়ে, সে হল নাকি ওই পকষিরাজনের ‘অরা’।

এখন এই ‘অরা’ মানে কী, সেটা বুঝতে হোঁচট খাবেন না যেন। কেমব্রিজের ডিকশনারি বলছে, ‘আ টাইপ অফ লাইট দ্যাট সাম পিউপল সে, দে ক্যান সি অ্যারাউন্ড পিউপল অ্যান্ড অ্যানিম্যাল্‌স’।

প্রোফেসর শঙ্কুর গল্পে ভূত কিংবা অলৌকিক ব্যাপার-স্যাপার ঘটতে দেখেছি অনেক সময়। ‘শঙ্কুর পরলোকচর্চা’ গল্পে তো পরলোকগত আত্মার সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্যে যান্ত্রিক মিডিয়ম ‘কম্পিউডিয়াম’ আবিষ্কার অবধি করে ফেলেছিল শঙ্কু। তুমুল সব অলৌকিক ব্যাপার ঘটতে থাকে ‘প্রোফেসর শঙ্কু ও হাড়’ বা ‘প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত’-এর মত গল্পে। তাহলে এই সিনেমার আর দোষ কী আছে, বলুন? এখানে এটা দেখতে পাবেন যে, বিজ্ঞানী ভাসিগরন (অভিনয়ে রজনীকান্ত) দিব্যি হল্‌-ভর্তি লোকের সামনে প্রেজেন্টেশন দিয়ে এটা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, পকষিরাজন আর তার সঙ্গে আরও লাখ লাখ মৃত পাখির ‘অরা’ এক হয়ে এক ‘মহা-অরা’ তৈরি করে বীভৎস দানবরূপে সারা শহরের সব মোবাইলের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছে।

আর হ্যাঁ, প্রাচীনকালের মুনি-ঋষিদের শরীর থেকে কী ভাবে যে এই ‘অরা’ বেরিয়ে আসত, সেটাও দেখলাম দু’লাইনে বলা রয়েছে প্রেজেন্টেশনটায়!

আরও পড়ুন:  জানেন কেন রণবীর সিং-এর সঙ্গে 'গল্লি বয়'-এ কাজ করতে নারাজ ছিলেন ঋষি পুত্র

ফ্যান্টাসি সিনেমা দেখতে বসেছি মানে রিয়্যালিটির সেখানে কোন মাথা-মুণ্ডু থাকবে না এটা জানি। বিজ্ঞানীর ওই ‘ভাসিগরন’ নামের মধ্যেই তো ‘বশীকরণ’-এর ছোঁয়া! কিন্তু তাই বলে বিশ্বাস করুন, এতখানি ওভারডোজ এক্সপেক্ট করি নি আমিও।

সিনেমার শেষ দিকটায় কনসেপ্টের গুঁতোর চোটে যখন বেসামাল আছি বেশ, তখন খালি এটা মনে হচ্ছিল যে, এর আগে এত চমৎকার চমৎকার সব স্ক্রিপ্ট লিখেছেন যে ডিরেক্টর, তিনি এই ‘বশীকরণ’ আর ‘অরা’-র বাইরে আর ভেবে পেলেন না কিছু?

সারা পৃথিবীটা কী ভাবে মোবাইল ফোনের কবলে পড়ে পঙ্গু হয়ে পড়ছে আর তার সঙ্গে তাল রেখে রেখে কী ভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পাখ-পাখালি আর ইকোসিস্টেম – চমৎকার ভাবে সেটা দ্যাখান হয়েছে ছবিতে। ওই সিনগুলোতে বলতে চাইছিলাম, সাবাশ ডিরেক্টর, সাবাশ। কিন্তু তারপর তো ধাঁধা লাগছিল এইটে দেখে যে, পৃথিবীকে এই বিশাল সর্বনাশ থেকে বাঁচাতে চায় যে লোকটা, সেই পকষিরাজন লোকটাকে শেষে ভিলেন বানানো হল? জীবদ্দশায় যে লোকটা কার্যত সন্ত প্রকৃতির ছিল, মারা যাওয়ার পর সে কী করে ওরকম রাক্ষস হয়ে উঠতে পারে, বলুন?

সেই ব্যাখ্যাটা ছবির স্ক্রিপ্টে কোন জায়গায় নেই।

আর রাক্ষুসে সেই ‘অরা’কে বিজ্ঞানী ভাসিগরন তাঁর তৈরি যন্ত্রপাতির বোতাম টিপে ঠাণ্ডা করছেন কী করে, সেটাও কিন্তু বুঝতে পারি নি আমি।

মোবাইলের রেডিয়েশন থেকেই পাখিদের সব্বনাশের শুরু। ছবি জুড়ে হিসেব তাই চুক্তা করার পালা। শহরের লক্ষ লক্ষ সেলফোন একসঙ্গে উড়ে গিয়ে হিংস্র সব অবয়ব ধরে যে ভাবে খুন করছিল মোবাইল নেটওয়ার্কের শিল্পপতি মনোজ লুল্লা (কাইজাদ কোটওয়াল) বা অসৎ টেলিকম মিনিস্টারকে (কলাভবন শাজন), সেই দৃশ্যভাবনাগুলোর কিন্তু জবাব নেই কোন। কিন্তু এরপরেই যখন অগুন্তি মোবাইল ফোন দিয়ে অতিকায় পাখির শরীর তৈরি হচ্ছিল স্ক্রিনে, আর সেটার সঙ্গে লড়াই হচ্ছিল সেই সুপার রোবট চিট্টি-র (অভিনয়ে রজনীকান্ত), তখন আবার মনে হচ্ছিল ‘ট্রান্সফর্মার’ সিরিজ থেকে টুকে মারা সস্তা কোন রিমেক দেখছি যেন।

কিছুটা তো মনে হচ্ছিল আগের সেই ‘রোবট’ ছবির রিপিট। এর আগের বার দেখেছিলাম ভিলেন ‘চিট্টি’ নিজের অগুন্তি কপি বানিয়ে আর্মি তৈরি করে ফেলেছে যুদ্ধ জেতার জন্যে। আর এবার দেখলাম হিরো ‘চিট্টি’ ফের নিজের অগুন্তি কপি বানিয়ে ফেলল – ছক একদম সেম! ফারাক বলতে শুধু এইটুকু যে এবারের তৈরি অগুন্তি এই কপি রোবটেরা কেউ পূর্ণাবয়ব নয়, সব মিনিয়েচার মডেল। কায়দা করে তাদের আবার নাম দেওয়া হয়েছে ‘থ্রি পয়েন্ট জিরো’ বলে!

স্ক্রিপ্ট নিয়ে এছাড়াও বড় একটা খটকা আছে আমার। আগের সেই ‘রোবট’ ছবিটা খেয়াল করে দেখুন একটু প্লিজ। ছবির একদম শেষে সেখানে দেখতে পাবেন ২০৩০ সালের টুকরো একটা সিন। সিস্টেমের জন্যে বিপজ্জনক বলে টুকরো টুকরো করে কেটে নষ্ট করে ফ্যালা হয়েছে চিট্টিকে। আর মিউজিয়ামে আলাদা করে সাজিয়ে রাখা চিট্টির কাটা মাথাখানা দেখতে আসছে লোকে।

আরও পড়ুন:  দেখে নিন কেমন বড় করে বড়দিন পালন করলেন বলি সেলেবরা

এখন সেই হিসেব মানতে গেলে এই ছবিরও শেষটা তো সেরকমই হবে ভাই। কারণ এটা তো প্রি-২০৩০ সালের স্টোরি! কিন্তু এখানে যে সেই হিসেব উলটে গেল পুরো! ছবির শেষে আপনি দেখতে পাবেন রাষ্ট্র শুধু চিট্টি নয়, মেনে নিচ্ছে তার তৈরি নিজস্ব সেই রোবট বাহিনীটাকেও! আর সব রোবটকে সরকারি ব্রিফ দেওয়ার জন্যে তলব করা হয়েছে দিল্লির হেড কোয়ার্টার থেকে!

যত ভাবছি, মনে হচ্ছে যে, কী ব্রিলিয়ান্ট ছিল সেই আগের ছবির শেষ! মিউজিয়ামে গিয়ে খুদে দর্শক জানতে চাইছে, কেন টুকরো করে কেটে ফেলতে হয়েছিল ‘মোস্ট অ্যাডভান্সড অ্যান্ড্রয়েড হিউম্যানয়েড রোবট’ নামের সেই বস্তুটিকে। তুখোড় রগড় করে তার উত্তরটা দিয়েছিল চিট্টি-র সেই কাটা মাথাখানা, ‘কারণ আমি ভাবতে শিখেছিলাম যে’।

এক ধাক্কায় তখন ছবিটা অন্য লেভেলে পৌঁছে গেছিল যেন!

আর এখানে? ছবির শেষ হচ্ছে দেখবেন রোবট চিট্টি আর তার প্রেমিকা-রোবট নীলার (অভিনয়ে অ্যামি জ্যাকসন) মামুলি একটা নাচ-গানের সিনে। সেটার পর ফের একটা পোস্ট-এন্ড ক্রেডিট সিন, যেখানে দেখতে পাবেন বিজ্ঞানী ভাসিগরনের কাছে নিজেকে ইন্ট্রোডিউস করছে চিট্টি-র তৈরি করা ‘থ্রি পয়েন্ট জিরো’ ভার্সনের সেই রোবট!

আর এই সিনে ক্যামেরা আবার ফোকাস করছে কয়েকটা স্বাস্থ্যবর্ধক ওষধি প্রোডাক্টের লেবেলের ওপরে গিয়ে!

দেখে মনে হচ্ছিল বলি যে, এরকম মাপের একটা ছবিতে খেলো এই ইন-ফিল্ম অ্যাডভারটাইজিং না করলেই কি চলছিল না, দাদা? অবশ্য এমনিতেও এই সিনটার গুরুত্ব নেই কিছু, কারণ যতক্ষণে এই সিনটা হচ্ছে, ততক্ষণে ‘হল্‌’ খালি করে সকলেই বেরিয়ে গ্যাছেন প্রায়।

আগের ছবি ‘রোবট’-এর শুরু থেকে শেষ অবধি ঐশ্বর্য রাই ছিলেন অবিচ্ছেদ্য পার্ট। বিজ্ঞানী ভাসিগরনের প্রেমিকা ‘সানা’র ভূমিকায় তাঁকে নিয়ে ছবিতে একের পর এক নাটক! সে ছবির ক্লাইম্যাক্স তো তাঁকে নিয়েই হয়!

আর এবার কিনা গোটা ছবিতে সানা মেয়েটা একটা ফ্রেমেও নেই! বার তিনেক সানার ফোন এসেছে বিজ্ঞানী ভাসিগরনের কাছে। সানার তরফে কথাবার্তা তখন যা হচ্ছিল সেটা কিছুটা এরকম যে, তোমার সাহস তো কম নয় ভাসি? এক্কেবারে ভুলেই গেছ আমায়?

ওই সিনগুলো দেখতে গিয়ে হাসি পাচ্ছিল এত যে কী বলব বলুন। মনে হচ্ছিল জানতে চাই যে, ঐশ্বর্য রাই কি এবার আপনাদের কোন ডেট দ্যায় নি নাকি? নাকি দরে পোষায় নি মোটে? ভেতরে ভেতরে যাই ঘটে থাক না কেন, অন স্ক্রিন এরকম তাপ্পি মারা কেস সাজাবেন, দাদা?

বুঝতেই পারছেন, ‘২.০’ আর যাই হোক, প্রথম পার্ট ‘রোবট’-এর মত না! ২ ঘণ্টা ৫৬ মিনিটের ‘রোবট’ দেখে অনিবার্য হাততালি দিতে হয়। আর ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের ‘২.০’ দেখতে বসে শেষ দিকটায় মনে হতে থাকে, বুঝলাম সব, সিনেমা এবার শেষ হবে কখন বলুন।

চোখ ধাঁধানো স্পেশ্যাল এফেক্টস দ্যাখার জন্যে বড় পর্দায় থ্রি ডি-তে ছবিটা দেখতে যান প্লিজ।

কিন্তু দ্যাখার পর মিলিয়ে নেবেন, দ্বিতীয়বার দ্যাখার আর কোন ইচ্ছে আসে না মনে।

2 COMMENTS

  1. Durdanto review.sudhu etukui boler,aamader pranomyo satyajit ray,hitchcocks je samosto chobi korechen ba lekha likechen,se gulo ek ekta sanskritik stambho.tai ja kichui kora hok na keno,onader otikram kora sambhab noy.kono creation er songe onyo creation er mil thaktei pare.tar mane i ki sheta copy pest?

  2. ও অভিলাষবাবু ,
    শুনেছি এক সাংবাদিক লেখকের ভাইপোর কাছে চুকলিবাজি করেছিল কারন ঋতুপন্নো ঘোষ তার ” অন্তরমহল” ছবিটা এক মহান সাহিত্যিকের উপন্যাস থেকে ঝেড়ে দিয়েছিল । তার পর ঋতুপন্নো হেভি কেস খেয়েছিল ।
    আপনি সন্দীপ রায়ের কাছে গিয়ে সেই চুকলিবাজি করুন ।