বিদেশের হাতছানি‚ লোভনীয় কেরিয়ার শিকেয় তুলে নিলকে সবুজ করছেন তরুণী

হাওয়ায় ঘেঁটে যাচ্ছে চুল। নাকে আসছে লবণাক্ত বাতাসের গন্ধ। নীল সমুদ্রের কোল ঘেঁষে মনের মধ্যে যখন একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে জীবনের অপার শান্তির স্নিগ্ধতা, তখনই বাধ সেধেছিল প্লাস্টিক। হ্যাঁ, প্লাস্টিকের গ্রাসে হাঁসফাঁস করতে থাকা আন্দামানের নিল আইল্যান্ডের অবস্থা দেখে চমকে উঠেছিলেন তরুণী গরিমা পুনিয়া। তখনই তাঁর মনে বাসা বেঁধেছিল ইচ্ছে। এই সুন্দর এক টুকরো দ্বীপখণ্ডকে বর্জ্যের কবল থেকে বাঁচানোর তীব্র ইচ্ছে।

গরিমা কথা রেখেছিলেন। ২০১৭ সালের সেই অভিজ্ঞতার পরে ২০১৮-তেই তিনি আবার ফিরে আসেন এখানে। শুরু করেন কাজ। ধীরে ধীরে সাফল্য। তরুণীর লড়াইয়ের সুফল ফলতে শুরু করেছে।

গত বছর থেকে গরিমা শুরু করেছেন তাঁর ‘কাচরাওয়ালে’ প্রকল্প। নিল আইল্যান্ডের পাঁচটি সৈকত থেকে সাকুল্যে আড়াইশো কেজি বর্জ্যের পৃথকীকরণ করা সম্ভব হয়েছে। গত বছরই গরিমার বিদেশে পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। গরিমা ভেবেছিলেন দ্রুত কাজটা সেরে পড়াশোনা করতে চলে যাবেন। কিন্তু কাজটা শুরু করে বুঝলেন কাজটা মোটেই সহজ নয়। আর তাই কেরিয়ার ভুলে তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন এই কাজে।

এমনিতে এই খুদে দ্বীপটা মাত্র ৪ কিমি চওড়া ও ৭ কিমি লম্বা। কিন্তু ট্যুরিজম ও তাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়েছে। তার ফলে বিপুল পরিমাণে বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে।

গরিমা জানেন, কাজটা সহজ নয়। প্রথমেই তিনি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করে জানতে চান‌, প্রতিটি পরিবার কতটা করে বর্জ্য উৎপন্ন করে দৈনিক। আর সেগুলির সঙ্গে কী করা হয়। ক্রমে তিনি দেখেন, জমা বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার কোনও ব্যবস্থা এখানে নেই! আর বাসিন্দারাও সেই নিয়ে বিশেষ ভাবিত নন। গরিমা বর্জ্য সংগ্রহ করার পাশপাশি প্রচারও শুরু করেন। বাচ্চাদের আলাদা করে বোঝান, বিপদ কোথায়। প্রায় ৩৩টি বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে লেগে পড়েন কাজে।

কাজটা কঠিন। কিন্তু চোয়াল শক্ত করে লড়ে যাচ্ছেন গরিমা। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে পোস্টার লাগাচ্ছেন সর্বত্র। এবার পরিকল্পনা অটো, রিকশা বা ট্যাক্সিতেও লাগানো। এরপর হ্যাভলক আইল্যান্ডেও একই ভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর তিনি। সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জল ও সোনালি বালির সৌন্দর্যকে কলূসিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বছর ছাব্বিশের এই তরুণী। স্বপ্ন সফল করা কঠিন তিনি জানেন। কিন্তু তারুণ্যের ধর্মই তো কঠিনের চ্যালেঞ্জকে সাগ্রহে গ্রহণ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।