মা দুর্গা নিজে শাড়ি কিনলেন বাড়ির তাঁতির কাছ থেকে‚কিংবদন্তির স্মরণে আজও সপ্তমীতে সিঁদুরখেলা এই ঠাকুরদালানে

1795

একটা সময় বাঙালি মধ্যবিত্তের ঠিকানা হতো দুটো | একটা তার বাসা | যেখানে সে চাকরি কিংবা অন্যান্য কাজকর্মের সূত্রে পরিবার নিয়ে থাকে | অন্যটা হল বাড়ি | যেখানে তার শিকড়‚ তার পৈতৃক বাসভূমি | শিকড় থেকে চিরতরে উৎখাত হওয়ার ব্যপারটার সঙ্গে তখনও আমাদের তেমনভাবে পরিচয় ছিল না | বাসা আর বাড়ির এই প্রসঙ্গটা খুব জোরালভাবে সামনে আসত পুজোর সময় | কারণ তখন জিনিসপত্র বাঁধাছাঁদা করে‚ বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে অনেকেই রওনা দিত বাড়ির দিকে | কারণ সেখানেই তো পুজোর আয়োজন | ভাইবোন‚ আত্মীয়স্বজন সকলের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ | দেশবিভাগ যখন হয়নি‚ তখন যাঁরা পূর্ববঙ্গের মানুষ তাঁরা রওনা দিতেন ঢাকা‚ বরিশাল‚ খুলনার দিকে | পরবর্তী কালে দেশ ভাগ হওয়ার ফলে‚ যখন ওপার বাংলায় যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল‚ তখন এই খুব সাধারণ বাৎসরিক নিয়মটাই ক্রমশ পর্যবসিত হল মধুর স্মৃতিতে |

বহু বিখ্যাত মানুষের লেখায় আমরা তাঁদের পুজোর সময় গ্রামের বাড়িতে যাওয়া‚ বাড়ির পাছদুয়ারের ঘাটে নৌকা থেকে নামা‚ চাষি‚ মুনিশদের কাপড় আর জোড়া নারকোল বিতরণের চমৎকার বিবরণ পাই |

মজার ব্যাপার হল‚ যাঁরা পূর্ববঙ্গীয় নন‚ দেশ বিভাগের ফলে যাঁদের গ্রামে ফেরার পথ বন্ধ হয়নি‚ তাঁদেরও অনেকেরই গ্রামের বাড়িতে পুজো আজও হয় | কিন্তু সম্ভবত সেটা তাঁদের কাছে একটা গতানুগতিক ব্যাপার বলেই‚ সাহিত্যে তার বর্ণনা সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না | আজ আমি এরকমই এক পশ্চিমবঙ্গীয় কিংবা সাদা বাংলায় বললে ঘটি বাড়ির পুজোর গল্প শোনাব | আমার নিজের বাড়ি‚ আমার পিতৃপুরুষের পুজোর গল্প | যেটুকু আমার নিজের চোখে দেখা‚ সেটুকু তো আছেই | কিন্তু তার থেকেও বড় একটা অংশ আছে ঠাকুমা‚ বাবা-কাকা-পিসিদের মুখে শোনা | রাঢ়বঙ্গের রায় পরিবারের পুজোর গল্প |

শুরুতেই একটু ইতিহাসের পাতা উল্টে নেওয়া জরুরি | পারিবারিক ইতিহাসের নথিপত্রে যেটুকু পাওয়া যায়‚ তাতে পুজোর বয়স চারশ পেরিয়েছে বলে অনুমান করতে অসুবিধে নেই | তবে অত পিছনে যাওয়ার দরকার নেই | নির্দিষ্ট প্রমাণ যেখান থেকে আছে সেখান থেকেই শুরু করা ভাল | সেও প্রায় তিনশ বছর আগেকার কথা |

সেই সময় রায় বংশের হরিনারায়ণ রায় ওলাউঠার প্রাদুর্ভাবে নিজের গ্রাম থেকে পালিয়ে ভাগ্যান্বেষণে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন | দামোদর নদের ধারে জগুরবাঁধ নামে এক সমৃদ্ধ গ্রাম ছিল | সেখানকার বাসিন্দা ছিল অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ | তাঁরা সেই যুবককে দেখে তাঁর পরিচয় জানতে চায় এবং ব্রাহ্মণ জেনে গ্রামে আশ্রয় দেন‚ কারণ সেই গ্রামে তখন কোনও ব্রাহ্মণ পরিবার ছিল না | কালক্রমে এই রায় পরিবারই গ্রামের মধ্যে মান্যগণ্য হয়ে ওঠে | তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয় | তারই ফলস্বরূপ পরিবারে শুরু হয় দুর্গাপুজো |

তবে রায় পরিবারের খ্যাতি বা বোলবোলাও অনেকটাই বাড়ে ১৭৬০ সাল নাগাদ রামভদ্র রায়ের আমলে | তিনি ছিলেন বুদ্ধিমান মানুষ | তাঁর আমলে পরিবারের আর্থিক সমৃদ্ধিই শুধু বাড়েনি‚ নাম-ডাকও ছড়িয়ে ছিল অনেকদূর | রামভদ্র রায়ের দুর্গাপুজো ছিল এলাকার সাত গাঁয়ে বিখ্যাত | সেই পুজো দেখতে মানুষ আসত দূরদূরান্ত থেকে | রামভদ্র রায়ের পুজো নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত আছে এক অদ্ভূত গল্প | সমৃদ্ধ পরিবার | তাই পুজোর আগে তাঁতি আসত গাঁটরিভরা শাড়ি নিয়ে | বাড়ির গিন্নি আর মেয়ে বউরা শাড়ি পছন্দ করে নিলে বার বাড়িতে কর্তামশাই টাকা দিয়ে দিতেন | কিন্তু রামভদ্র ছিলেন বৈষয়িক মানুষ | হিসেবে গোলমাল পছন্দ করতেন না | তাই শাড়ি বাছা শেষ হলে গিন্নিকে গিয়ে জানিয়ে আসতে হত কখানা শাড়ি তাঁরা নিয়েছেন |

তা‚ সে বছরও তাঁতি শাড়ি নিয়ে এসেছে | বাছা-বাছির পর্ব শেষ হলে গিন্নি গিয়ে শাড়ির সংখ্যা বলেও এসেছেন | কিন্তু দাম নেওয়ার সময় তাঁতি বলে বসল‚

–একখানা লালপেড়ে গরদের দাম বেশি দেবেন কর্তামশাই |

রামভদ্র একটু আশ্চর্য হয়ে কারণ জানতে চাইলে‚ তাঁতি বলল‚

–আসার সময়ে পথে আপনার বাড়ির এক বউয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল | একখানা লালপেড়ে গরদের শাড়ি সে বেছে নিয়েছে |

–আমার বাড়ির বউ তুমি জানলে কী করে হে ?

তাঁতি হাতজোড় করে বললে‚

অমন সুন্দর বউ‚ আপনার ছাড়া আর কার বাড়িতে হবে বলুন ? এ তল্লাটে আপনার মতো মানিগণ্যি লোক আর কটা আছে ! আহা‚ রূপে যেন চারদিক আলো করে ছিল | তাছাড়া সে তো নিজেই শাড়িখানা বেছে নিয়ে বলল‚ জগুরবাঁধের রায়বাড়ি হল গিয়ে আমার শ্বশুরবাড়ি | ওখান থেকেই টাকা নিয়ে নিও | আমি আবার শুধোলাম‚ এখানে কি তাহলে মায়ের বাপের বাড়ি? সে কিন্তু আর কোনও উত্তর না দিয়ে বলল‚ বাবাকে বোলো‚ ছেলেপুলে নিয়ে আমি ঠিক সময়ে পৌঁছে যাব |

রামভদ্র রায় ভারী আশ্চর্য হলেন | তাঁতি অনেক দিনের পুরনো লোক | বছরে অনেক টাকার কারবার করে | সে খামোখা মিথ্যে কথা বলতে যাবে না | কিন্তু বাড়ির কোন বউ রাস্তায় ডেকে এমন করে শাড়ি নিল‚ জানতে ইচ্ছে হল তাঁর | তাই তাঁতিকে একটা দিন অপেক্ষা করতে বলে গিন্নিকে নির্দেশ দিলেন এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে | কিন্তু অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করেও যে পথে তাঁতি আসছিল‚ সেখানে কোনও বউয়ের বাপের বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেল না | একটু চিন্তিতভাবেই সে রাতে ঘুমোতে গেলেন রামভদ্র আর মধ্যরাতে দেখলেন এক অদ্ভূত স্বপ্ন | দেবী দুর্গা একখানা লালপেড়ে গরদের শাড়ি পরে তাঁকে বলছেন‚

আমি পছন্দ করে কিনেছি‚ শাড়ির দাম তুই দিয়ে দিস রামভদ্র |

স্বেদ-কম্প দিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হল রামভদ্রের | সারা বাড়িতে হৈচৈ পড়ে গেল | তাঁতিকে সোনার মোহর দিয়ে বিদায় করা হল | সব কথা শুনে রামভদ্রর স্ত্রী বললেন‚

মা নিজে জানিয়েছেন যে তিনি বধূরূপে আমার বাড়িতে আসবেন | আমরা তাঁকে বরণ করে নেব | সে বছর সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্নানের পর যখন দোলায় চেপে দেবী এলেন ঠাকুরদালানে‚ তখন বাড়ির সধবা মেয়ে-বউরা বেনারসী শাড়ি পরে‚ বরণডালা সাজিয়ে তাঁকে বরণ করে ঘরে তুলল | দেবীর কপালে সিঁদুর দিয়ে‚ পরস্পরকে সিঁদুর পরাল | সেই থেকে আজও রায় পরিবারে সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকাকে বরণ করে মন্দিরে তোলা হয় | নবপত্রিকা বরণের পর বাড়ির মেয়েরা পরস্পরের সঙ্গে সিঁদুর খেলে |

রামভদ্র রায়ের পর রায় পরিবারের সমৃদ্ধিতে ভাঁটার টান শুরু হয় | অবস্থা ক্রমশ পড়তে থাকে | ঠিক একশ বছর পর পরিবারের কর্তা হন বিন্দুগিরি রায় | তিনি ছিলেন খ্যাতনামা চিকিৎসক | জগুরবাঁধ গ্রামটা ছিল‚ দুর্গাপুর থেকে কিছু দূরে অন্ডালের কাছে | কিন্তু বিন্দুগিরির নামডাক এতটাই ছড়িয়েছিল যে আসানসোল‚ কুলটি‚ আদ্রা‚ ধাতকা প্রভৃতি অঞ্চলেও তাঁকে নিয়মিত রোগী দেখতে যেতে হত | মনে রাখতে হবে সময়টা হচ্ছে‚ ১৮৬০ সাল | দুর্গাপুর তখন ঘোর জঙ্গল | দিন দুপুরে ডাকাত পড়ে | রাস্তা বলতে শুধুই গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড | আসানসোলদুর্গাপুর লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে | এই বিন্দুগিরি রায়ের আট ছেলে | তার মধ্যে ষষ্ঠজন ছিলেন আমার দাদু শিবশঙ্কর রায় |

বিন্দুগিরি রায়ের আমলে পরিবারের সমৃদ্ধি এবং পুজোর জাঁকজমক দুইই বেশ ভালরকম বজায় ছিল | নিজে ডাক্তার মানুষ | তাই মনের প্রসারতাও ছিল যথেষ্ট | আট ছেলেকেই তিনি পড়াশোনা শিখিয়েছিলেন | সাত ছেলে চাকরি করতেন বাইরে | বাড়িজমি দেখাশোনা করার জন্য বড়ছেলে গ্রামেই থাকতেন | কিন্তু পুজোর সময় ছেলে‚ পুত্রবধূ‚ মেয়ে-জামাই‚ সবাই এসে জড়ো হতেন জগুরবাঁধের বাড়িতে | পঞ্চমীর দিন থেকেই শুরু হত আসার পালা | বাড়ির গরুর গাড়ি গিয়ে অপেক্ষা করত অন্ডাল স্টেশনে | দিন বেলাবেলি যাঁরা এসে পৌঁছলেন‚ তাঁদের চিন্তা নেই | কিন্তু সন্ধে হলে গাড়ির সঙ্গে একখানা লেঠেলও পাঠাতে হত | আমার ঠাকুরদাঠাকুমা ছেলে পিলে নিয়ে শেষ বিকেলে নামতেন অন্ডাল স্টেশনে |

গরুর গাড়িতে জিনিসপত্র গুছিয়ে একটু এগোতে না এগোতেই অন্ধকার নামত | গাড়ির নিচে ঝোলানো হ্যারিকেনের টিমটিমে আলোয় রাস্তা দেখে গাড়ি চালাত গাড়োয়ান | পাকা বাঁশের লাঠি হাতে লেঠেলের সঙ্গে গল্প করতে করতে দাদু হাঁটতেন পাশে পাশে | গরুর গাড়ির ছইয়ের ভিতর ভিতর ছেলেমেয়েরা ততক্ষণে ঘুমিয়ে কাদা | শহরের মানুষ ঠাকুমার বুক ঢিপঢিপ করত | রাস্তার দুপাশে থৈথৈ অন্ধকারে গোছা গোছা জোনাকির চকমকি | হঠাৎ চারপাশটা একটু ফাঁকা হয়ে ঢালু জমিতে গড়গড়িয়ে নামত গরুদুটো | ঠাকুমাও স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলতেন | এসে গেছে | আমবাগান পেরোলেই দেখা যেত রায়বাড়ির বড় ফটক | শাশুড়ি দাঁড়িয়ে থাকতেন ছাদে | লন্ঠনের আলো দেখা গেলেই হাঁক পাড়তেন‚

–কে এল রে?
লেঠেল উত্তর দিত‚
–তোমার নছেলে এল গো মা ঠাইরেন |

পুজোর কদিন একশোর বেশি পাত পড়ত বাড়িতে | ঘণ্টা পিটিয়ে খাওয়ার ডাক | প্রথমে ছোটরা | তারপর ছেলে মেয়েরা | তারপর কর্তারা | সব শেষে বউরা | কিন্তু বউদের ভাগে যাতে কম না পড়ে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর ছিল গিন্নিমার | তাঁর হুকুমে বেলা বেশি গড়ানোর আগেই সব খাওয়া দাওয়া সেরে নিতে হত | দুপুর পেরোতেই আসত নাপতেনি | মেয়ে বউদের পায়ের নখ কেটে‚ আলতা পরানো হত | তারপর অল্পবয়েসীরা পাতা কেটে চুল আঁচড়ে‚ সেই চুলে ভিজে গামছা জড়িয়ে যেত পাছদুয়ারের পুকুরে গা ধুতে | সেই পুকুরের নাম জরুলি | মস্ত পুকুর | তাঁর একদিকে ছেলেদের‚ অন্যদিকে মেয়েদের স্নান করার বাঁধানো ঘাট | ঘাটের সিঁড়ির দুপাশে মস্ত ছাতিম আর অমলতাসের ছায়া | হাসি আর গল্পে মেতে বিকেলের সেই গা ধোয়ার পালা চলত অনেকক্ষণ ধরে | তারপর পাড়ে উঠে নতুন শাড়ি‚ গয়না পরে তৈরি হয়ে নিত সবাই |

ঠাকুরের সন্ধ্যারতির সময় সবাইকে হাজির হতে হত দালানে | গিন্নিমার কড়া হুকুম | তবে দালানে যাওয়ার আগে সধবা মেয়েবউদের জন্য একটা মিষ্টি উপহারের ব্যবস্থা ছিল | সেজে গুজে সবাই এক এক করে এসে দাঁড়াতেন গিন্নিমার সামনে | তিনি ছিলেন মোটাসোটা হাসিখুশি মানুষ | কারুকার্য করা মস্ত উঁচু মেহগিনি কাঠের পালঙ্কে পা ঝুলিয়ে বসতেন | পাশে থাকত দাসী | কাঁসার থালায় একটা বড় সিঁদুরকৌটো আর একটা ছোট্ট বটুয়া নিয়ে | গিন্নিমা সবার সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে বটুয়া থেকে একটা করে সোনার টিপ নিয়ে কপালে পরিয়ে দিতেন | শুনেছি সেই সময় সেই টিপের দাম ছিল ২৫ পয়সা | স্যাঁকরাকে বরাত দিয়ে ডজনখানেক বানিয়ে রাখা হত | তবে মেয়ে বউরা কেউ কিন্তু তাঁকে প্রণাম করত না | কারণ দালানে ঠাকুর এসে গেলে‚ তাঁকে ছাড়া আর কাউকে প্রণাম করা নিষেধ |

তখন পুজোর দিনে গ্রামে যাত্রাপালার অয়োজন হত | রায় বাড়িতে অবশ্য সেরকম কোনও ব্যবস্থা ছিল না | কিন্তু তাঁদের সাহায্যেই পাড়ার ভিতরেই যাত্রার আসর বসত | ছেলেরা তো সন্ধে নামতেই সেখানে গিয়ে হাজির | বউদেরও খুব যাওয়ার ইচ্ছে | কিন্তু শ্বশুরের অমত না থাকলেও বড় ভাসুর অর্থাৎ বিন্দুগিরির যে ছেলে দেশেই থাকতেন তাঁর আপত্তি ছিল | তিনি গোঁড়া মানুষ | মেয়েদের বাড়ির বাইরে যাওয়া পছন্দ করতেন না | কিন্তু ঘরের পাশে যাত্রা‚ সে কি আর না দেখলে চলে ! তাই সবাই মিলে ধরে পড়ত গিন্নিমাকে | তিনি তখন বড় ছেলেকে নিজের ঘরের ডেকে গল্প জুড়তেন | আর সেই সুযোগে পায়ের নূপুর খুলে কোমরের গেঁজেতে বেঁধে নিয়ে মেয়েরা চুপিচুপি খিড়কির দরজা দিয়ে বেরিয়ে এক দৌড়ে যাত্রার আসরে |

জগুরবাঁধ গ্রাম উঠে যায় ১৯৫৭ সালে | রায়েদের বাড়ি‚ ঠাকুরদালান‚ জরুলি পুকুর যেখানে ছিল‚ এখন সেখানে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা | সরকার থেকে অবশ্য কিছুটা দূরে জমি দেওয়া হয়েছিল | কিন্তু যৌথ পরিবার একবার উৎখাত হলে জোড়া লাগানো কঠিন | ততদিনে বিন্দুগিরি গত হয়েছেন | তাঁর আট ছেলে নতুন জায়গায় আটটি আলাদা বাড়ি করলেন | পরিবারের অন্য তুতো আত্মীয়স্বজনরাও নিজেদের বাড়ি ঘর গুছিয়ে নিলেন | তবে পরিবার আলাদা হলেও পুজো বন্ধ হল না | আজও রায়বাড়ির দুর্গাপুজোয় সপ্তমীতে সিঁদুর খেলা হ্য় | সন্ধিপুজোয় বন্দুক ফাটে‚ নবমীর যজ্ঞে পূর্ণাহূতি দেওয়া হয় | আজও কার্তিক মাসে আকাশ যখন তারার ফুলে ছেয়ে যায়‚ যখন কামিনী ফুলের সৌরভে ভরে ওঠে বাতাস‚ ষষ্ঠীর সন্ধেয় ঠাকুরদালানে বিল্ববরণের ঘণ্টা বাজে‚ তখন ঠাকুমার কোলের কাছে শুয়ে জগুরবাঁধের পুজোর গল্প শোনার জন্য আমার মন কেমন করে | ইচ্ছে করে সেই সোনার টিপটা হাতে নিয়ে একবার দেখতে | যেটি বিয়ের পর প্রথম পুজোয় ঠাকুমা নিজে‚ আদরের বড় নাতনির কপালে পরিয়ে দিয়েছিলেন |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.