বার্ধক্যে গৃহত্যাগ‚ শেষদিন বৃদ্ধাকে ভরিয়ে দিল সম্পর্কহীন নাতিনাতনিরা

820

২০০৭ সালে স্বামীর সঙ্গে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কমক্সে বসবাস শুরু করেন টিনে ডেভিডসন। বর্তমানে তাঁর বয়স অষ্টআশি। কমক্সে-এ তাঁর বাড়ির পাশ দিয়েই চলে গিয়েছে ব্রিটিশ কলোম্বিয়া স্কুলের রাস্তা। এই বাড়িতে আসার প্রথম দিন থেকেই জানলার পাশে একটি চেয়ারে বসে হাসিমুখে স্কুল পড়ুয়াদের দিকে হাত নেড়ে
শুভেচ্ছা জানাতেন তিনি। শুরুটা হয় এভাবেই। এরপর থেকেই স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে টিনে ডেভিডসন-এর গড়ে ওঠে অজানা এক সম্পর্ক।

কলম্বিয়ার কমক্সে-এর এই বাড়িতে এমনভাবেই বৃদ্ধ এই দম্পতির দিন কেটে যাচ্ছিল। তাঁর অনেক পড়ুয়া বন্ধুরা আবার মাঝে মাঝে বাড়িতে এসেও দেখা করে যেতেন এই বৃদ্ধার সঙ্গে। নিঃস্বার্থ সম্পর্কের মাঝে বাধ সাধল বয়স। ডেভিডসন দম্পতির বয়স-এর জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি সহায়ক আবাসনে। ফলে টিনে-এর এই সাধের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাঁর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে আর রোজ সকালে দেখা হবে না।

তাই শেষদিন বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে টিনে ডেভিডসন-কে এক অভিনব উপায়ে বিদায় জানাল স্কুলের পড়ুয়ারা। সেই স্কুলের প্রায় সকল পড়ুয়াই সেদিন উপস্থিত হয়েছিল ডেভিডসন দম্পতির বাড়ির সামনে। হাতে করে ফুল বা নিজের হাতে বানানো কার্ড নিয়ে হাজির হয়েছে তারা। এদের মধ্যে অনেক প্রাক্তন পড়ুয়া এসেছিলেন, তাঁদের প্রিয় এই মানুষটিকে বিদায় জানাতে। স্কুল পড়ুয়াদের এমন কীর্তি দেখে আনন্দে চোখ ভিজে এসেছিল টিনে ডেভিডসন-এর।

টিনে ডেভিডসন এ বিষয়ে জানিয়েছেন, এত ছাত্রছাত্রী যে আমাকে ভালোবাসে, তা আমি ভাবতেও পারিনি। ওরা এসে যেভাবে আমাকে অবাক করে দিয়েছে, এটা আমি কখনও ভাবিনি। আমি সত্যিই অভিভূত। আমি ওদের সবাইকে খুব মিস করবো।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.