ভারতের এমন পাঁচটি জায়গা যা আজও রহস্যে ঘেরা

mysterious places in India

রহস্য কি টানে আপনাকে? এমন রহস্য যার যুক্তি বিজ্ঞানও দিতে অক্ষম। তাহলে ছুটিতে সাধারণ গড়পড়তা পর্যটন কেন্দ্রে না গিয়ে বেড়িয়ে আসুন তেমন কোনও জায়গায়। ভারতের মধ্যেই আছে এমন কী কী রহস্যে মোড়া জায়গা , আসুন জেনে নিই।

ভানগড় ফোর্ট (রাজস্থান)

রাজস্থানের রাজধানী শহর জয়পুরের ৩২ মাইল দূরে এই ভানগড় ফোর্টকে ঘিরে রয়েছে অনেক ভূতুড়ে গপ্পো। আশেপাশের মানুষ বলে এক তান্ত্রিকের প্রেতাত্মা নাকি ঘুরে বেড়ায় ওই দুর্গে। রাত্রে কোনও মানুষ ঢুকলেই নাকি অবধারিত মৃত্যু। এমনকী আরকিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া ফোর্টের বাইরে একটা সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে। তাতে সতর্কবাণী – সূর্যাস্তের পর কোনও জনমানব যেন ওই দুর্গে প্রবেশ না করে। অনেক গবেষণা হয়েছে এ’ নিয়ে কিন্তু কেউই কিছু কিনারা করতে পারেনি। এটিই ভারতের একমাত্র সরকারি ভাবে ঘোষিত ভূতুড়ে জায়গা।

ম্যাগনেটিক হিল (লাদাখ)

লাদাখের মত সুন্দর জায়গা ভারতে খুব আছে। পাহাড়ি নির্জনতা, অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে লাদাখের কোনও বিকল্প নেই। এখানেই আছে সেই চুম্বক পাহাড়। চারিদিকে উঁচু পাথুরে পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা একটি বিস্তৃত প্রান্তর ! লে থেকে কার্গিলে যাওয়ার পথে পড়ে এই জায়গাটি। লে-র থেকে ৩০ কিমি দূরবর্তী এই রাস্তাটা যেন চড়াই হয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠে গেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে আপনার যানটি নিজে থেকেই অবিশ্বাস্য ভাবে সেই রাস্তা ধরে উপরে উঠে যেতে চাইবে। চুম্বকের মত কোনও অদৃশ্য শক্তি টেনে নেবে আপনার বাহনটিকে, উঁচু পাহাড়ি পথে। অনেক সময় গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিলেও গাড়ি ওই পথ ধরে চলছে, এমনও দেখা গেছে। হয়ত খুব কাছাকাছি কোনও চুম্বক ক্ষেত্র আছে। এতই শক্তিশালী তা যে বন্ধ গাড়িকেও টেনে নিয়ে যাবে উঁচু পাহাড়ে। এই পথে যাবার সময় অনেকেরই এমন অবিশ্বাস্য অদ্ভুতুড়ে ঘটনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছে। আসলে এই ঘটনার পেছনে কারণ হল দৃষ্টিভ্রম। খালি চোখে মনে হচ্ছে রাস্তাটি পাহাড়ের দিকে উঠে গেছে কিন্তু আসলে রাস্তাটি ঢালু হয়ে নেমে যাওয়া উতরাই একটি পথ। পর্বতের স্বাভাবিক গঠন এমনই যে দিগন্ত রেখা আমাদের চোখকে বিভ্রান্ত করে আর মনে হয় যেন রাস্তাটি চড়াই হয়ে ওপরে উঠে গেছে। যদি নিউটন বেঁচে থাকতেন তাহলে এই রহস্যের একটা কিনারা হলেও হতে পারত হয়ত বা !

জাটিঙ্গা গ্রাম (আসাম)

বৈজ্ঞানিক হোক বা অতিপ্রাকৃতিক, রহস্য সবসময়েই বিস্ময়জনিত শিহরণ জাগায়। কিছু কিছু রহস্য আছে, যেগুলি রোমাঞ্চের পাশাপাশি দুঃখ, হতাশা বা অদ্ভুত শূন্যতার সঞ্চার করে। পূর্ব ভারতে এমনই এক ছোট্ট গ্রাম আছে। আসামের জাটিঙ্গা গ্রামে কোনও এক অজানা কারণে আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি মরে পড়ছে মাটিতে। অনেক দশক ধরে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। সাধারণত বর্ষার শেষে অক্টোবর মাস নাগাদ শুরু হয় পাখিদের অকাল মরণ ! বিকেলের আবছা কুয়াশায় মোটামুটি ছ’টা থেকে রাত ন’টার মধ্যে গ্রামের দিকে উড়ে যাবার সময় পাখিগুলি মরে নীচে পড়তে থাকে। পাখিরা নিশ্চয়ই দলে দলে আত্মহত্যা করে না। বহু গবেষক, পশু কল্যাণ সংস্থার কতৃপক্ষ চেষ্টা করেছেন এর পেছনে আসল কারণ কী তা খুঁজে বের করার। কেউ কেউ দাবি করেছেন, আসলে জাটিঙ্গা গ্রামের লোকরাই জড়িত এই পাখি হত্যার সঙ্গে। কারণ যাই হোক না কেন, যাদের চোখের সামনে পাখিগুলো মরে মাটিতে পড়ে, তাদের জন্য এই ঘটনা খুবই মর্মান্তিক আর দুঃখজনক।

রূপকুণ্ড হ্রদ / কঙ্কাল সরোবর (উত্তরাখণ্ড)

ট্রেক যারা করেন তাদের জন্য এই জায়গাটি রোমাঞ্চকর হতে পারে কিংবা সাঙ্ঘাতিক ভয়ের। তাই আগে থাকতে শুনে নিন এর কাহিনি। মাটি থেকে ৫০২৯ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে এই শান্ত নির্জন চমৎকার বরফ সরবোরটি। হিমালয়ের একটি অন্যতম ট্রেকিং পথে যেতে পড়ে এই হ্রদ। বহু পর্বতারোহী, অভিযানকারী ব্যাকপ্যাক কাঁধে চেপে আসেন এখানে, আর বিস্ময়ে চমকিত হন। কেন? একটি বরফ জমাট হ্রদ ভর্তি মানুষের হাড়গোড় কঙ্কাল !! ১৯৪২ সালে একজন বৃটিশ অরণ্যরক্ষী প্রথম এ’ হেন রূপকুণ্ড হ্রদটি আবিষ্কার করেন। তারপর থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রত্ন মহলে সাড়া পড়ে যায়। এরকম পাহাড়ি এত উঁচু নির্জন একটি জায়গায় হঠাৎ করে এত কঙ্কাল কীভাবে এল তা নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা, গবেষণা হয়েছে। অবশেষে এক গবেষণা থেকে উঠে এসেছে যে, এই হাড়গোড়গুলি আসলে বহু বহু দিন আগের মৃতদেহের, আনুমানিক ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দের। তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। মনে করা হচ্ছে কোনও শিলাঝড়ে একসঙ্গে এদের মৃত্যু হয়েছিল। গবেষকরা মাথার খুলিতে চিড় ধরা দেখে এমনই অনুমান করছেন।

পালি শহরের ওঁ বন্না ওরফে বুলেট বাবা (রাজস্থান)

পাথরের দৈব মূর্তি, পশু, গাছ, পবিত্র জলাশয়ের জল এ সমস্ত মানুষ পুজো করে আমরা জানি। কিন্তু আপনারা কি জানেন বাইককেও পুজো করা যায়? আজ্ঞে হ্যাঁ। ৩৫০ সিসির একটি রয়্যাল এনফিল্ড বাইকই দেবতা হয়েছেন রাজস্থানের ছোটিলা গ্রামে। ১৯৮৮ সাল থেকে এই বাইক দেবতা পুজো পাচ্ছেন গ্রামের লোকেদের। বাইকটি ছিল ওঁ বন্না ওরফে ‘বুলেট বাবা’ বলে এক ব্যক্তির। তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান আর বাইকটি পুলিশের কাছে থানায় জমা দেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন সকালে পুলিশি হেফাজতে থাকা বাইকটিকে থানায় আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কোথায় গেল বাইক? খুঁজতে খুঁজতে উদ্ধার হয়, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার কাছাকাছি একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে বাইকটি। আবার থানায় নিয়ে আসা হলে পরদিন একই ঘটনা ঘটে। তারপরই গ্রামের মানুষদের বিশ্বাস হয় বাইকটির নির্ঘাত পবিত্র দৈব কোনও ক্ষমতা আছে। তাঁরা একেই দেবতা মানেন। গ্রামের মানুষদের বিপদে আপদে রক্ষা করবে এই বাইক দেবতা, এই ভাবনা থেকে তারা মন্দিরও প্রতিষ্ঠা করে তাঁরা। গ্রামের মানুষরা নিত্য পুজো চড়ান ওই বাইক ঠাকুরের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

afgan snow

সুরভিত স্নো-হোয়াইট

সব কালের জন্য তো সব জিনিস নয়। সাদা-কালোয় উত্তম-সুচিত্রা বা রাজ কপূর-নার্গিসকে দেখলে যেমন হৃদয় চলকে ওঠে, এ কালে রণবীর-দীপিকাকে দেখলেও ঠিক যেমন তেমনটা হয় না। তাই স্নো বরং তোলা থাক সে কালের আধো-স্বপ্ন, আধো-বাস্তব বেণী দোলানো সাদা-কালো সুচিত্রা সেনেদের জন্য।স্নো-মাখা প্রেমিকার গাল নিশ্চয়ই অনের বেশি স্নিগ্ধ ছিল, এ কালের বিবি-সিসি ক্রিম মাখা প্রেমিকাদের গালের চেয়ে।