দুদিন ধরে পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করে একজন ভোটারের কাছে পৌঁছলেন ভোটকর্মীরা

উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ছোট্ট এক গ্রাম মালোগাম। তিব্বত সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত সেই মালোগামে পৌঁছনোর একমাত্র উপায় দু’দিন ধরে পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করা। সেই গ্রামেই থাকেন গামের একমাত্র নথিভুক্ত ভোটার ৩৯ বছর বয়সী সোকেলা ট্যায়াং। ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর সেই কারণেই এই একজন ভোটারের জন্যই অরুণাচলের জনা চারেক সরকারি কর্মী এবং দু’জন নিরাপত্তাকর্মী পৌঁছে গিয়েছেন নির্দিষ্ট বুথে।

জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী, ওই গ্রামে একটি মাত্র পরিবারের বাস। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে সেখানকার নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন দু’জন। সোকেলা ট্যায়াং ও তাঁর স্বামী। কিন্তু, এবারে স্বামী কাজের ক্ষেত্রে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তাঁর ভোটটি অন্য কোথাও ট্রান্সফার করিয়ে নিয়েছেন। ফলে মালোগামে একমাত্র ভোটার সোকেলা। সকাল সাড়ে নটার সময় এসে তিনি নিজের ভোটটি দিয়ে গিয়েছেন।


আনজাও জেলার যে এলাকায় মালোগাম অবস্থিত সেখানে কোনও যানবাহন চলাচল করে না। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দুর্গম পথ পেরিয়ে পৌঁছতে হয় সেখানে। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী, গ্রামে কোনও স্কুল, বা হাসপাতালের মতো সরকারি জায়গা ছিল না। তাই অস্থায়ী একটি ভোটকেন্দ্রও তৈরি করতে হয়। এবারেও তাই পাহাড়ি রাস্তায় ওঠানামা করতে দক্ষ এমন পাঁচজনের একটি দলকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা ইভিএম নিয়ে উক্ত ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে সোকেলা-র ভোটদানের ব্যবস্থা করেন। তবে খারাপ নেটওয়ার্কের জন্য জেলা প্রশাসনকে জানাতে সন্ধে হয়ে যায়। ফলে সন্ধেবেলার পরেই সেখান থেকে ফেরেন বুথকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.