নয় নয় করে সাতজন পুরুষ এসেছিলেন মধুবালার জীবনে কিন্তু মৃত্যুশয্যায় পাশে ছিলেন না কেউ

বলিউডের সুন্দরীদের কথা যখনি ওঠে তখন সব থেকে প্রথমে যে নামটা মনে আসে তা হল‚ মধুবালা  | মধুবালার সৌন্দর্যের জন্য তাঁকে ভেনাস কুইন বলে সম্বোধন করা হতো | বলাই বাহুল্য এই কারণে মাঝে মধ্যেই সহ নায়কেরা এবং পরিচালকেরা প্রেমে পড়তেন ওঁর | এমনকি ওঁর আত্মজীবনী দ্য মিস্ট্রি অ্যান্ড দ্য মিস্টিক-এ মধুবালা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে লেখক মোহনদীপ লেখেন ওঁকে সবাই নিজের করে নিতে চাইতো | কিন্তু মধুবালা জীবনের শেষ অবধি নীরপত্তাহীনতায় ভুগলেন | উনি পুরুষদের ভালবাসতেন | কিন্তু কাউকে ধরে রাখতে পারেননি | 

২৩ ফেব্রুয়ীরি‚ ১৯৬৯ মধুবালা মারা যান | ওঁর জীবনে এসেছিলেন অসংখ্য পুরুষ কিন্তু সব থেকে দুঃখের ব্যাপার হলো, মৃত্যুশয্যায় কিন্তু মধুবালার পাশে কেউ ছিলেন না | আজকে রইলো মধুবালার জীবনে বিভিন্ন পুরুষদের আসা যাওয়ার গল্প |

) ছোটবেলার বন্ধু লতিফ : মুম্বইতে আসার আগে মধুবালা দিল্লিতে থাকতেন | সেখানেই জন্ম এবং বড় হয়ে ওঠা | কিন্তু মধুবালা যখন মুম্বইতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওঁর ছোটবেলার প্রেমিক লতিফ খুবই ভেঙে পড়েন | যাওয়ার আগে নিজেদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে লতিফকে একটা লাল গোলাপ উপহার দেন মধুবালা | শোনা যায় সেই গোলাপ সারাজীবন নিজের কাছে রেখেছিলেন লতিফ | পরে মধুবালার কবরে সেই গোলাপ রেখে আসেন লতিফ | এরপর প্রতি বছরই উনি মধুবালার মৃত্যু দিনে মধুবালার সমাধিতে একটা লাল গোলাপ রেখে আসতেন |

) পরিচালক কিদার শর্মা : মধুবালাকে বলিউডে প্রথম ব্রেক দেন কিদার শর্মা | মধুবালার বাবার বয়সী ছিলেন কিদার শর্মা | কিন্তু গুজব শোনা যায় প্রথমাবার মধুবালাকে দেখা মাত্র ওঁর প্রেমে পড়েন কিদার | কিন্তু মধুবালা সেই প্রেমে কোনদিনই সাড়া দেন নি | অগ্যতা মধুবালার প্রতি কিদারের প্রেমে একপেশে হয়েই রয়ে যায় |মধুবালার ছোট বোন মধুর ব্রিজ ভূষণ অবশ্য মধুবালার প্রতি কিদার শর্মার দুর্বলতাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন |

) পরিচালক কমল আমরোহী : এরপর মধুবালার প্রেমে পড়েন কমল আমরোহী | উনি বলিউডের কাল্ট ছবি মহল এর পরিচালক ছিলেন | বলিউডের ইতিহাসে এই ছবি সর্বকালের সেরা সুপারহিট ছবির মধ্যে একটা | এই ছবির সেটেই দুজনে প্রেমে পড়েন | শোনা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা ছবির সেটে সময় কাটাতেন মধুবালা ও কমল | মধুবালার বাবাও ওঁদের সম্পর্ক মেনে নেন | উনি নাকি একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন পরে যদি ওঁরা বিয়ে করেন তাহলে তাতে কোনো আপত্তি নেই ওঁর |

মধুবালার সঙ্গে যখন কমলের সম্পর্ক হয় তখন কিন্তু উনি বিবাহিত ছিলেন | তাও মধুবালা এবং উনি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন | কিন্তু কমল ওঁর প্রথম স্ত্রী বলিউডের সেই সময়কার বড় অভিনেত্রী মীনা কুমারীকে ছাড়তে চাইলেন না | উনি মধুবালাকে নিজের দ্বিতীয় পত্নী বানাতে চেয়েছিলেন | আর এতে মত ছিল না মধুবালার | মধুবালা নাকি কমলকে ৯ লক্ষ টাকাও দিয়েছিলেন যাতে উনি মীনাকুমারীকে ডিভোর্স দিয়ে ওঁকে বিয়ে করেন |

) অভিনেতা প্রেমনাথ : প্রেমনাথ ও মধুবালার আলাপ হয় বদল ছবির সেটে | কিন্তু ৬ মাসের মাথায় মধুবালা নিজেকে সরিয়ে নেন | মধুবালার বোন মধুর জানিয়েছিলেন মধুবালাকে নিজের ধর্ম পাল্টে নিতে বলেছিলেন প্রেমনাথ | আর এই কারণেই ওঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায় |

) দিলীপ কুমার : মধুবালা ও দিলীপ কুমারের আলাপ হয় তরানা ছবির সেটে | দীর্ঘ নয় বছর সম্পর্ক ছিল ওঁদের | শোনা যায় মধুবালার বাবা আতাউল্লা খানের কারণে নাকি ওঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায় | মধুবালা দিলীপকে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোনো ফল হয় নি | দিলীপ কুমার নাকি মধুবালাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন মধুবালা যদি ওঁর বাবার সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে দেন তাহলে সেই মুহূর্তে মধুবালাকে বিয়ে করবেন উনি | তবে অনেকেই মনে করেন দুজনের অসম্ভব জেদের কারণেই মধুবালা ও দিলীপের সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছিল |

অন্যদিকে আবার এও শোনা যায় মধুবালা একই সঙ্গে প্রেমনাথ এবং দিলীপ কুমারের সঙ্গে প্রেম করছিলেন | দিলীপ ও প্রেমনাথ একসঙ্গে আন  ছবিতে অভিনয় করেন | দুজনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হয় | এবং একদিন দুজনেই জানতে পারেন ওঁরা একই মহিলার সঙ্গে প্রেম করেছেন | তবে সত্যিটা যাই হোক না কেন মধুবালার শেষকৃত্যের সময় কিন্তু প্রেমনাথ এবং দিলীপ কুমার দুজনেই উপস্থিত ছিলেন |

) জুলফিকার আলি ভুট্টো : জুলফিকারের কিন্তু বি-টাউনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না | উনি বম্বে হাইকোর্টের একজন ব্যারিস্টার ছিলেন | উনি একজন খুবই ধনী ব্যক্তি ছিলেন যাঁর বম্বেতে অসংখ্য জমি এবং বাড়ি ছিল | উনি নিয়মিত মুঘল-এ-আজম ছবির সেটে উপস্থিত থাকতেন মধুবালাকে দেখার জন্য | তবে মধুবালা ও জুলফিকারের সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী ছিল | কারণ সদ্য দিলীপ কুমারের সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়াতে মধুবালা তখনো নিজেকে সামলে উঠতে পারেন নি | তবে মধুবালা ও জুলফিকারের সম্পর্ককে এখনো রহস্যে ঘেরা |

) কিশোর কুমার : অসংখ ব্যক্তির সঙ্গে প্রেম করে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন মধুবালা | উনি একজন এমন সাথী খুঁজছিলেন যার সঙ্গে সম্প্রক দীর্ঘস্থায়ী হয় | কিশোর কুমারের সঙ্গে ওঁর আলাপ এবং প্রেম হয় চলতি কা নাম গাড়ি  এবং হাফ টিকিটছবির শ্যুটিং চলাকালীন | ১৯৬০ সালে ওঁরা বিয়ে করেন | বিয়ের পর লন্ডনে গিয়ে ধরা পড়ে মধুবালার হৃদযন্ত্রে ফুটো আছে | ডাক্তাররা জানিয়ে দেন বড়জোর আর ২ বছর বাঁচবেন মধুবালা | এরপর কী হয়েছিল তা মধুবালার বোন মধুরের মুখেই শুনে নিন কিশোর দিদিকে আমাদের বাড়িতে দিয়ে যান | উনি বলেন আমি মধুবালার দেখাশোনা করতে পারব না | আমি ছবির শ্যুটিং-এ ব্যস্ত থাকি | কিন্তু দিদি ওঁর সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল | কিশোর কুমার দুমাসে একবার দিদিকে দেখতে আসতো | উনি হয়তো ইচ্ছা করেই দিদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন যাতে দিদির মৃত্যুতে ওঁর কষ্ট না হয় | তবে এটা একদম মিথ্যে যে উনি দিদির সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছেন | দিদির চিকিৎসার পুরো খরচাটাই উনি দিয়েছেন | ওঁরা ৯ বছর বিবাহিত ছিলেন |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here