ঝাপসা স্মৃতি‚ ছোট্ট মেয়েকে নিতে ছুটির সময় স্কুলের গেটে অপেক্ষায় অশীতিপর মা

মা ! এই একটা শব্দ আমাদের জীবনে সমান ।  আমাদের জীবনে মা একটা এমন জায়গা যা আমরা সঠিক শব্দে সুস্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না । মা এমন একজন, যে নিজে না খেয়ে তার সন্তানকে খাওয়ালেই তার খিদে মিটে যায়। সন্তানের হাসি মুখ দেখলেই তার প্রাণ খুশিতে ভরে ওঠে। মায়েরা সারা জীবন আমাদের সন্তানদের জন্য তাদের জীবনের সুখ শান্তি স্বাচ্ছন্দ ত্যাগ করে, কী ভাবে তার সন্তান ভাল থাকবে তার চিন্তায় দিন কাটিয়ে দেয়। মায়ের সঙ্গে শুধু কথা বলে এক এমন শান্তি পাওয়া যায় যা আমাদের সারা দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয়, এক অদ্ভুত ভাললাগায় ভরে যায় আমাদের মন। এরকমই মা ও সন্তানের এক ঘটনা যা চোখে জল এনে দিয়েছে গোটা বিশ্বের।

ঘটনাটা চিনের জিয়াংসু প্রদেশের । মহিলার বয়স ৮৪ বছর । অ্যালঝাইমার রোগে আক্রান্ত তিনি । এই রোগ ঝাপসা করে দিয়েছে তাঁর স্মৃতির পাতাগুলো । একে একে মুছে গিয়েছে চেনা মানুষগুলোর মুখ সহ নাম । জীবনের সুখ-দুঃখের কোনও স্মৃতিই তাঁর মনে নেই । এই ঝাপসা অতলের মধ্যেও শুধু মনে রয়েছে তাঁর সন্তানের কথা। তাঁর ছোট্ট মেয়ের কথা। মেয়ের বয়স মনে নেই তবে স্কুলের ইউনিফর্ম পড়া সেই ছোট্ট চেহারাটা ভাসে তাঁর চোখের সামনে। তাই এখনও কিন্টারগার্টেনের সামনে ছুটির সময় হাজির হয়ে যান । প্রতিদিন ওই নির্দিষ্ট সময়েই লাঠি হাতে বাসে চেপে পৌঁছে যান স্কুল গেটের সামনে।

মেয়ে স্কুলের গন্ডি পেরিয়েছে ত্রিশ বছর হয়ে গিয়েছে । তাও স্কুলে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীর কাছে শুধু মেয়ের পদবি বলেন তিনি ‘বাই’। সেইমত স্কুলের খাতা খুঁজেও মেয়ের সেই নাম খুঁজে না পেয়ে শেষে একদিন স্কুল কর্তৃপক্ষ খবর দেন পুলিশে । পরে পুলিশই তাঁর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃদ্ধাকে বাড়ি ফেরত পাঠান । তখন জানা যায় গোটা ঘটনা ।

সব কিছু ভুলে বৃদ্ধা মায়ের স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে শুধু তাঁর ছোট্ট মেয়ের স্কুলছুটির সময়টুকু। বৃদ্ধার মেয়ে জানিয়েছেন, “এক জন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হঠাৎ করে সব কিছু ভুলে গিয়েছেন। কেমন করে খাবারের গ্রাসটা মুখ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয় তাও মনে নেই। শুধু মনে রয়েছে, আমার কথা। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছি ত্রিশ বছর হয়ে গেল। কিন্তু, মার মনে নেই সে সব কথা। এখনও ভাবেন আমি সেই ছোট্টটি রয়েছি। চোখের জলে ভেসে ওঠে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও আবেগ।  বলেন, ‘‘মাকে যখন জিজ্ঞেস করি কেন গিয়েছিল স্কুলে? বলে, তোকে স্কুল থেকে আনতে।”

স্মৃতি-বিস্মৃতির এই গল্প চোখ ঝাপসা করে দিয়েছে অনেকের । এই খবরও তাই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভেসে গিয়েছে সহানুভূতিতে ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

pakhi

ওরে বিহঙ্গ

বাঙালির কাছে পাখি মানে টুনটুনি, শ্রীকাক্কেশ্বর কুচ্‌কুচে, বড়িয়া ‘পখ্শি’ জটায়ু। এরা বাঙালির আইকন। নিছক পাখি নয়। অবশ্য আরও কেউ কেউ