শীতে অসহায় কুকুরদের জন্য ৪৫০ খানা কম্বল বুনে ফেললেন ৮৯ বছর বয়সী প্রৌঢ়া

123
knitting for shelter dogs

কেউ কখনও দত্তক নেবে‚ এই আশায় থাকা কুকুরদের রাখার ব্যবস্থা আছে অনেক দেশেই। এরা হল ‘শেল্টার ডগ’, যারা নিজেদের সত্যিকারের ঘর খুঁজে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে নির্দিষ্ট আশ্রয়স্থলে। কিন্তু যতক্ষণ না অবধি কেউ তাদের নিতে আসছে, তাদের দেখভাল করার দায়িত্ব থাকে শেল্টারকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর। বাইরের অনেক সারমেয়প্রেমী মানুষই মাঝেমাঝে আসেন ওই কুকুরের ডেরাগুলোতে। তারা খাবার নিয়ে এসে খাওয়ান, যত্ন নেন, সঙ্গে থাকেন। একজন কুকুরপ্রেমী মানুষের জন্য ওইরকম ডগ শেল্টারে গিয়ে সময় কাটানো খুবই আনন্দের।

কুকুরদের দেখতে আসা, তাদের ভালোবাসার মানুষদের ভিড়ে ছিলেন একজন ৮৯ বছরের প্রৌঢ়া। যুক্তরাজ্যের মেইসি গ্রিন। কুকুরদের প্রতি সীমাহীন মমত্ব তাঁর। বুনে ফেলেছেন প্রায় ৪৫০ খানা বাহারি কম্বল, হ্যাঁ, এই বয়সেই। যে কুকুররা পোষ্য হবার জন্য আশ্রয়স্থলে দিন কাটাচ্ছে, তাদের যাতে শীতে কষ্ট না হয়, সেজন্যই মেইসির এই প্রয়াস। শেল্টারগুলিতে অনেক কুকুর থাকে, প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে যত্ন করা শেল্টারকর্মীদের পক্ষে হয়ত সম্ভব নয়। তাই মেইসি ভেবেছেন তাদের কথা। প্রচণ্ড শীতের রাতে কেনেলে থাকার সময়ে ঠাণ্ডায় জমে যায় তারা। সেজন্যই নিজে হাতে কম্বল বুনেছেন মেইসি। যাতে কুকুররা শীতের হাত থেকে একটু রেহাই পায়, কম্বলের ওমে যেন একটু আরাম হয় ওদের। আর একজনকে দেবেন আর একজন কষ্ট পাবে তা তো হয় না। তাই সংখ্যাটা কয়েকশো ছাড়িয়ে গেছে। বছর দুই এক আগে ইংল্যান্ডের ‘ডগ ট্রাস্ট’ নামে একটি ডগ শেল্টার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল, যাতে মানুষদের কাছে কুকুরদের সোয়েটার, কোট বুনে দেওয়ার জন্য সাহায্য চাওয়া হয়েছিল।

বছর দুয়েক আগে তাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কুকুরদের শীত পোশাক বুনে দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল একটি ডগ শেল্টার সংস্থা । উদ্যোগটির নাম ছিল হোপ প্রজেক্ট ক্রিসমাস | এই উদ্যোগের ফলে অসংখ্য গৃহহীন কুকুরদের আশ্রয়দাতারা সাহায্য পেয়েছিলেন যাতে তীব্র ঠাণ্ডায় তাদের একটু উষ্ণ আরাম দেওয়া যায়। কুকুরদের জন্য নিজে হাতে সোয়েটার বুনে দেবার কাজটি বড়ই পছন্দ হয়েছিল এই গ্রিন ঠাকুমার। এমনিতেই সেলাই ফোঁড়াই করতে, উল বুনতে তিনি বেশ ভালোবাসেন। এই কাজে বেশ পারদর্শীও বটে। সারা জীবন অনেক সেলাই ফোঁড়াই করেছেন, কিন্তু অসহায় কুকুরদের জন্য কম্বল বোনাটা তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও পরিতৃপ্তির। ‘আমি সেলাই করতে, বুনতেও ভালোবাসি আবার কুকুররাও খুব প্রিয় আমার। এই দুটো ভালোলাগার জিনিস মিলে যাওয়াতে উৎসাহ যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। একটা কম্বল বুনতে আমার তিনদিন সময় লাগে আর একটা কুকুরের কোট বুনতে লাগে একদিন। এইরকম কাজ আমাকে ব্যস্তও রাখে। টিভি দেখতে দেখতে বুনে ফেলি। কুকুরদের একটু আরাম দেব, আমার ভালোবাসার ছোঁয়া নিয়ে ওরা ঠাণ্ডায় একটু আরামে ঘুমতে পারবে, এটা ভেবেই খুব আনন্দ হচ্ছে’ –জানালেন ৮৯ বছরের বৃদ্ধা। এই কাজটি গ্রিন করছেন প্রায় বছর তিনেক ধরে। বছরে তিনবার তিনি কুকুরদের জন্য কম্বল, সোয়েটার দিতে আসেন। তাঁর পরিবারও সাহায্য করে তাঁকে। যখনই আসেন তখনই নিজের হাতে বানানো আরও নানান জিনিসপত্র নিয়ে আসেন কুকুরদের জন্য।

‘মেইসি নিয়ম করে আসেন তাঁর নিজে হাতে করা দাতব্য সামগ্রী নিয়ে। আমরা খুবই কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে। শীতকালে এখানে হাড় জমানো ঠাণ্ডা পড়ে। কুকুররা খুবই খুশি হয় তাঁর দেওয়া এই কোট, কম্বলগুলো পেয়ে। এগুলো গায়ে দিয়ে ওরা আরাম পায়’ – জানিয়েছেন ডগস ট্রাস্ট বেসিলডনের রিহোমিং সেন্টার ম্যানেজার।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.