৯৩তেও আকাশে উড়ছেন মলি‚ নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে যৌবনের স্বপ্ন পূরণ

৯৩তেও আকাশে উড়ছেন মলি‚ নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে যৌবনের স্বপ্ন পূরণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Mollie Macartney'

বয়স ৯৩। তরুণ বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করার সময় থেকেই শখ আকাশে ওড়ার। ইংল্যান্ডের বাসিন্দা প্রবীণা মলি ম্যাকার্টনি। বিমানচালনা শিখে নিয়ে এখন একা একাই আকাশে উড়তে পারছেন। সঙ্গে নিয়েছেন ১২ বছরের নাতনিকেও। অ্যাডভেঞ্চারের নেশা ছড়িয়ে পড়ছে তার ভেতরেও।

‘সাধারণ উড়ান বড় একঘেয়ে। আমার মোটেই পছন্দ না। কিন্তু দেখুন, এইভাবে নিজের মত উড়তে পারলে কত কিছুই না দেখা যায় ! আর ইংল্যান্ড এত্ত সুন্দর !! সবুজের কত রকম শেড, প্রায় পঞ্চাশের ওপর, আমি তো কল্পনাই করতে পারিনি’—বলে যান তিনি। তাঁর চোখ চকচক করে ওঠে আনন্দে। ৭০ বছরের পর থেকে প্রতিটি জন্মদিনেই তিনি আকাশে ওড়েন। এত বয়সেও এ হেন কর্মচাঞ্চল্যে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই বয়সে তিনি একজন দুরন্ত অশ্বারোহীও বটে ! এমন ঘটনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছে সারা পৃথিবীতে। তাঁর সাধ আর তার সাধপূরণের এই কাহিনী কতজনকেই না জোগাবে প্রেরণা ! ওড়ার সময় বিমানক্ষেত্রে এবার সঙ্গে নিলেন বয়স বারোর খুদে মাটিলডাকে, মলি ম্যাকার্টনির প্রিয়তমা দৌহিত্রী। মাটিলডা জানায় সে এতদিন ঠাকুমার বিমানচালনার গল্পই শুনে এসেছিল কিন্তু নিজে চোখে দেখছে এই প্রথম। তার বিশ্বাস ঠাকুমা খুব ভালো একজন বিমানচালিকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই মলির আগ্রহ বিমানচালনায়। যুদ্ধের সময় মহিলা বিমানচালকদের দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। বিমান ফ্যাক্টরি থেকে বিমানগুলো ফ্রন্টলাইনে দিয়ে যেতেন তাঁরা। সেদিন থেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজেও কখনও যদি এমন উড়ে যেতে পারতেন!

তরুণ বয়সে যুদ্ধের সময়ে তিনি যোগদান করেছিলেন ‘উইমেন’স রয়্যাল নেভাল সার্ভিস’-নামক সংস্থায়। ‘যখন আমি ওখানে গেলাম তার আগে অবধি জানতাম না মেয়েরাও আকাশে উড়তে পারে বিমান চালিয়ে’—বলেন নব্বই ঊর্ধ্বা প্রবীণা। কিশোর বয়সে তিনি নৌবাহিনীতে যোগদান করার সময় নিজের বয়স বাড়িয়ে জাল জন্মপত্র জমা দিয়েছিলেন কারণ ১৭ বছরের আগে যোগদান করা যেত না। ‘আর তখন অনেকেই চাইত নৌবাহিনীতে যোগ দিতে’—স্বীকার করেন মলি। যেসব জাহাজ যুদ্ধবিমানের জিনিসপত্র যোগান দেওয়ার জন্য পাঠনো হত সেইসব ছোট জাহাজগুলির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দেখভাল করার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। একটি ছোট্ট মোটর বোটে চড়ে তিনি এক অন্ধকার রাতে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে বিদেশে একটি চিঠি পৌঁছে দেওয়া ছিল এই গোপন যাত্রার উদ্দেশ্য। নিকষ কালো অন্ধকার রাতে সেদিন একফোঁটা চাঁদের আলো ছিল না। রোমহর্ষক এই অভিজ্ঞতার বিবরণ দিতে দিতে আজও শিহরিত হন মলি। এরকম আরও নানান সাহসী অ্যাডভেঞ্চারের গল্প আছে তাঁর ভাঁড়ারে, কর্মসূত্রে অর্জন করা। কিন্তু ওরকম একটা দামাল সময় ছিল বলেই হয়ত তিনি এই এত বয়সে তাঁর আকাশে ওড়ার স্বপ্নকে পূরণ করতে পেরেছেন। ‘সবসময় চেষ্টা করে যেতাম কীভাবে আরও এগোনো যায়, আরও ভালো কাজ করা যায়, আর তাও ব্যর্থ হলে সেটাই জীবনের ধর্ম হিসেবে মেনে নিতাম’। যুদ্ধ শেষ হলে মলির কর্মজীবনেরও অবসান হয় কিন্তু যুদ্ধের দিনগুলি তাঁর সারা জীবনে পথ চলার পাথেয় হিসেবে থেকে গেছে। সেই চেষ্টা, সাহস আর জেদটা জীবনের শেষ পর্যায় অবধি ছিল বলেই এই বয়সেও আকাশে উড়তে পারেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধা মলি ম্যাকার্টনি ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।