ত্রাণ শিবিরেও মহিলাদের শুরু হতেই পারে ঋতুস্রাব‚ এগিয়ে এলেন সমাজকর্মী

সরকারি প্রচেষ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলাগুলিতে পাকা শৌচালয় তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু শৌচালয়গুলি মাটি থেকে খুব বেশি উচ্চতায় না হওয়ায়, বন্যার সময়ে জলের নীচে চলে যাচ্ছে শৌচাগারগুলি। বিশেষত বন্যাপ্রবণ এলাকায় বন্যার সময়ে মহিলারা শৌচালয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানাবিধ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। আর তার মধ্যে ঋতুকালীন সময়ে আরও বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মহিলারা।

বন্যাত্রাণ শিবিরগুলিতে মহিলাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও, মহিলাদের ঋতুকালীন সময়ে পরিস্থিতি খুবই জটিল হয়ে ওঠে। এক বছর আগে এমনই এক ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল পনেরো বছর বয়সী কিশোরীর। জানা যায়, বন্যাপরিস্থিতিতে পিরিয়ড হয়ে গিয়েছিল তাঁর। এই অবস্থায় কোনও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার না করে, কেবলমাত্র নিজেকে বাঁচানোর তাগিদে সে তার নিজের গ্রাম মধ্য আসামের হাটবোর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌঁছেছিল ত্রাণ শিবির কেন্দ্রে। বেশিরভাগ ত্রাণ শিবিরগুলির মতো, হাটবোর সেন্টারের মহিলাদের জন্য কোনও পৃথক শৌচালয়ের ব্যবস্থা ছিল না এবং ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনারও কোনও সুবিধা ছিল না।

আর এই সমস্যার সুরাহা করতেই পথে নেমেছেন সমাজকর্মী ময়ূরী ভট্টাচার্য। পনের থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সী মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি রাজ্যের দশটি বন্যাপ্রবণ জেলায় কমপক্ষে পঞ্চাশটি মহিলা-বান্ধব ত্রাণ শিবির গড়ে তোলার জন্য #DignityIn Floods নামে একটি অভিযান শুরু করেছেন। এই অভিযানের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৬,০০০ মানুষের স্বাক্ষর জমা পড়েছে। আসামের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রকের তরফ থেকে ভবেশ কালিতা এই অভিযানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

ময়ুরী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ত্রাণ শিবিরে মহিলাদের জন্য যেমন পৃথক শৌচালয়ের ব্যবস্থা থাকে না, তেমনই থাকে না স্যানিটারি ন্যাপকিনও। বন্যার সময়ে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে ত্রাণ শিবির গঠন করা হলেও, সেখানে নারী-পুরুষ এবং অন্যান্য গবাদি পশুও একসঙ্গে আশ্রয় নেয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে বন্যার সময়ে প্রায় চল্লিশ শতাংশ মহিলাই খোলা স্থানে শৌচকর্ম করে থাকে। বন্যার সময়ে বিপর্যয় মোকাবিলার দ্বায়িত্বে থাকেন মূলত পুরুষরা। ফলে তাঁদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় একজন মহিলার ঋতুকালীন সময়ে ঠিক কী পরিস্থিতির মধ্যে কাটাতে হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Illustration by Suvamoy Mitra for Editorial বিয়েবাড়ির ভোজ পংক্তিভোজ সম্পাদকীয়

একা কুম্ভ রক্ষা করে…

আগের কালে বিয়েবাড়ির ভাঁড়ার ঘরের এক জন জবরদস্ত ম্যানেজার থাকতেন। সাধারণত, মেসোমশাই, বয়সে অনেক বড় জামাইবাবু, সেজ কাকু, পাড়াতুতো দাদা