এখানে টানা ৪০ দিন সূর্যকে দেখা যায় না‚ হিমশীতল চিররাত্রির শহরেই এগিয়ে চলে জীবন

4833

বর্ষায় দু একদিন মেঘলা আকাশে সূর্য দেখা না গেলেই আমরা হাঁপিয়ে উঠি | আর এই শহরে টানা ৪০ দিন সূর্য ওঠেই না | আকাশে মেঘ নয় | দিগন্ত রেখার ওপরে ওঠে না সূর্যদেব | তখন এখানে চির অন্ধকারের রাত | আবার বছরে দুমাস সূর্য অস্তই যায় না | রাশিয়ার এই শহরের নাম মারমানস্ক |

রাশিয়ার উত্তর পশ্চিম প্রান্তে কোলা উপকূলে মারমানস্কে একশো বছর আগে শুরু হয়েছিল জনবসতি | উত্তর মেরু বৃত্ত বা আর্কটিক সার্কলেরও উপরে থাকা এই শহরে লোকসংখ্যা প্রায় তিন লাখ | এই শহর সাক্ষী থাকে পোলার নাইট এবং পোলার ডে-এর |

সাধারণত ২ ডিসেম্বর থেকে ১১ জানুয়ারি অবধি এই শহরে সূর্য দিগন্তরেখার উপরে ওঠে না | ২৪ ঘণ্টাই নিকষ অন্ধকারে এগিয়ে চলে জীবন | তখন এখানে পোলার নাইটস | আবার ২২ মে থেকে ২৩ জুলাই অবধি মারমানস্কে টানা দু মাস দিন | সূর্য অস্তই যায় না | নরওয়ে-ফিনল্যান্ডের সীমান্তে থাকা রাশিয়ার এই জনপদও তখন মধ্যরাতের সূর্যের দেশ |

এতক্ষণে নিশ্চয়ই আন্দাজ করেছেন এই শহরের আবহাওয়া কীরকম হতে পারে | মে থেকে জুলাই‚ আবহাওয়া হিমাঙ্কের উপরে থাকে | বাকি সময় পারদ কার্যত সবসময় থাকে ০ ডিগ্রির নিচে | হিমশীতল এই প্রান্তে গ্রীষ্ম ক্ষণিকের |

তবে তাই বলে কিন্তু জীবন থেমে থাকে না | ইউরোপের যে কোনও উন্নত শহরের মতো এগিয়ে চলেছে মারমানস্ক | বরফের চাদরের উপর দিয়েই আছে ট্রেন এবং বাসের মাধ্যমে ইউরোপের অন্য শহরের সঙ্গে যোগাযোগ | আজব শহরে ভিড় জমান পর্যটকরা | স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরাও সাক্ষী থাকেন পোলার ডে এবং পোলার নাইটস-এর |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.