আমন্ত্রণপত্রে লেখা থাকুক আর না-ই থাকুক | সামাজিক মধ্যবিত্ত বিয়ের একটা বড় দিক অবশ্যই প্রীতি উপহার | এর সঙ্গে কতটা প্রীতি জড়িয়ে থাকে জানা নেই | তবে সামাজিকতার দায় বড় বিষম | সেই জন্যই যখন কার্ডে লেখা থাকে উপহার নয়‚ আশীর্বাদই কাম্য‚ তখন একদল নিমন্ত্রিত দ্বিধায় পড়ে যান | খালি হাতে যাওয়া কি ঠিক হবে ?  আর এক দল হাঁফ ছেড়ে বাঁচে | 

Banglalive

পুণের এক জুটি হাঁটলেন অন্য পথে | প্রথমত তাঁরা বিয়ের কার্ড বানালেন না | যাতে কাগজ অপচয় না হয় | নিমন্ত্রণ সারলেন হোয়াটস অ্যাপে | সেখানে স্পষ্ট করে বলে দিলেন কী উপহার আনতে হবে | চেয়েই নিলেন নিজেদের পছন্দসই উপহার‚ তা হল বই | যেকোনও বই নয় | প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রস্তুতির বই | 

এমন অভিনব কাজ করেছেন মহারাষ্ট্রের আহমদনগরের বাসিন্দা অমল এবং রানি | গত প্রায় ২৫ বছর ধরে অমর জড়িত সমাজসেবার সঙ্গে | ‘যুব চেতনা’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান চালান তিনি । এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয় । অমরের সঙ্গেই ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেন পুণা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপিকা রানি কলমকার । এরপরই তাঁরা ঠিক করেন, বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে । আর সমাজসেবার আদর্শ তো ছিলই । ফলে বিয়ের উপহার হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বই ছাড়া অন্যকিছু মনেই আসেনি | 

অমর-রানি মনে করেন‚ মানুষ যে ফুলের তোড়া উপহার দেয় তা রাত পোহালেই জঞ্জাল । অথচ এগুলির দামও বেশ চড়া । ফলে এর বদলে কাজের বই উপহার পেলে, অনেকগুলি ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ আলো ও সুগন্ধে ভরে যাবে ।

তাঁদের স্বপ্নের প্রথম ধাপ পূর্ণ হয়েছে | বিয়ের আসর ভরে গেছে অজস্র বইয়ে | তাঁদের আমন্ত্রণপত্র হোয়াটস অ্যাপে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল | তাঁদের বার্তায় উচ্ছ্বসিত হয়ে অপরিচিত অনেকেই বই নিয়ে গিয়েছিলেন বিয়ের আসরে | উপহারের বই দিয়ে পাঠাগার বানাবেন নব দম্পতি | আঁধারে থাকা ছেলেমেয়েদের জীবন উদ্ভাসিত করতে | অমর-রানির মতো মানুষের জন্যই উজ্জ্বল হয় আঁধারে মানিক | 

আরও পড়ুন:  ফিরে আসেনি সাজু-রূপাই‚ আঙুরলতার নক্সীকাঁথা আপাদমস্তক ঢেকেছে পরিত্যক্ত নিঃসঙ্গ পাহাড়ি গ্রামকে

NO COMMENTS