সংক্ষিপ্ত দাম্পত্য থেকে দীর্ঘ মুখ্যমন্ত্রিত্ব‚ বিতর্ক সর্বত্র সঙ্গী রাজকন্যা বসুন্ধরার

রাজপরিবারের মেয়ে | রাজপরিবারের বধূ | রাজার নীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে দ্বিধা করেননি | বিবাহিত জীবন থেকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব‚ পিছু ছাড়েনি বিতর্ক | তিনি বসুন্ধরা রাজে |

# পুরো নাম বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া । ভারতের রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব । ২০০৩ সালে তিনি রাজস্থানে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন, এবং জয়ী হয়ে রাজস্থানের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হন । তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রটি হল রাজস্থানের ঝালওয়ার । ২০০৩ থেকে ২০০৮ এবং ২০১৩ থেকে ২০১৩ থেকে ২০১৮-র পর্বে তিনি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে ছিলেন।

# জন্ম ১৯৫৩ সালের ৮ই মার্চ, মুম্বই শহরে । জন্ম হয়েছিল গোয়ালিয়রের মারাঠা রাজা সিন্ধিয়া পরিবারে । তাঁর বাবা জিবাজীরাও সিন্ধিয়া ছিলেন গোয়ালিয়রের রাজপুত্র এবং মা বিজয়া রাজে সিন্ধিয়া ছিলেন রাজমাতা।

# প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনা করেন তামিলনাডুর কোডাইকানাল থেকে পরে মুম্বই -এর সোফিয়া কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক পাশ করেন।

# বসুন্ধরা বিয়ে করেন ঢোলপুরের রাজবংশীয় জাঠ পরিবারের মহারাজ রানা হেমন্ত সিংহ-কে, ১৯৭২ সালে । কিন্তু এক বছর কাটতে না কাটতেই বিবাহবিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তাঁরা । তাঁর ছেলে দুশ্যন্ত সিং-ও ১৬ত ম লোকসভাতে একজন সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঝালওয়ার থেকেই ।

# ভারতের জরুরি অবস্থা চলাকালীন তাঁর মা বিজয়া রাজেকে গ্রেফতার করা হয় । এবং তাঁর জেল হয়। এই ঘটনার পরেই সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ ।

# ১৯৮৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন বসুন্ধরা রাজে । প্রাথমিকভাবে তাঁকে ভারতীয় জনতা পার্টি দলের জাতীয় কার্যনির্বাহকের পদে নিযুক্ত করা হয় ।

# ঢোলপুর থেকে তাঁকে অষ্টমতম রাজস্থান বিধানসভা পরিষদের সদস্য করা হয় । এবং একইসঙ্গে রাজস্থান যুবমোর্চার সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

# ২০০৩ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি । ২০১৩ সালে ৬০ বছর বয়সে প্রথমবারের থেকেও বেশি ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন তিনি।

# মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকাকালীন তিনি রাজস্থানে বেশকিছু প্রকল্প করেছিলেন । এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রাজস্থান গৌরব যাত্রা, ভামসা যোজনা ইত্যাদি।

# গত বছরের পরিসংখ্যান অনুসারে, তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের উপর অত্যাচারের পরিসংখ্যানে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার রাজ্য দেশের প্রথম পাঁচে ! ভোটের মুখে যা বিরোধী দলগুলির কাছে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছিল।

# এবছর নির্বাচনের আগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বসুন্ধরা রাজে সরকারের বিরুদ্ধে ৷ তিরিশ বছরের শাসনে সাধারণ মানুষের জন্য নাকি কিছুই করেনি সরকার, দুর্নীতির হার ক্রমশ বাড়ছে,  এরকম একাধিক অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ঝালওয়ার ৷

# পাঁচবারের নির্বাচিত সাংসদ তিনি, ঝালাওয়ার থেকে বিধায়ক হিসেবে তিন বার জিতেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসুন্ধরা, তারপরেও কোনও কাজই হয়নি ৷ দাবি বিক্ষুদ্ধদের ৷ এমনকি বিজেপির সংহতি নষ্ট করে দেওয়ার পিছনেও রাজে সরকারের হাত রয়েছে বলে দাবি তাঁদের৷

# বসুন্ধরা রাজের জীবনের ওপর একটি বই প্রকাশিত হয়, যার নাম ‘বসুন্ধরা রাজে অউর বিকশিত রাজস্থান’। ঐতিহাসিক বিজয় নাহার-এর লেখা ওই বইতে বসুন্ধরা রাজের রাজনীতিতে পা রাখার গল্প এবং তার পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবনের নানান গল্প তুলে ধরেছেন । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

afgan snow

সুরভিত স্নো-হোয়াইট

সব কালের জন্য তো সব জিনিস নয়। সাদা-কালোয় উত্তম-সুচিত্রা বা রাজ কপূর-নার্গিসকে দেখলে যেমন হৃদয় চলকে ওঠে, এ কালে রণবীর-দীপিকাকে দেখলেও ঠিক যেমন তেমনটা হয় না। তাই স্নো বরং তোলা থাক সে কালের আধো-স্বপ্ন, আধো-বাস্তব বেণী দোলানো সাদা-কালো সুচিত্রা সেনেদের জন্য।স্নো-মাখা প্রেমিকার গাল নিশ্চয়ই অনের বেশি স্নিগ্ধ ছিল, এ কালের বিবি-সিসি ক্রিম মাখা প্রেমিকাদের গালের চেয়ে।