ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে কত কিছুই না চেষ্টা করি কিন্তু, আমাদের রোজকার ধুলো-ময়লা ভরা জীবনে নিজেদের ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে দামি ক্রিম লাগানো‚ নিয়মিত ফেসিয়াল অনেক কিছুই করে থাকি | কিন্তু, কখনওই আমরা অ্যারারুটের কথা কেউই ভেবে দেখিনা। সস, স্যুপ, পুডিং, বেকিং-এর ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত অ্যারারুট ব্যবহার করে থেকি, কিন্তু কখনওই ত্বক বা চুলের যত্নে যে অ্যারারুট ব্যবহার করা যেতে পারে তা তা ভেবে দেখি না |

প্রথমেই জানতে হবে কী এই অ্যারারুট। অ্যারারুটএর ২৩%-ই হল শ্বেতসারজাতীয় বা স্টার্চ। এই স্টার্চ বের করে নেওয়ার আগে এর মূলগুলিকে ভাল করে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এরপর তা থেকে স্টার্চ বের করে নেওয়ার পরে তা সূর্যের আলোতে শুকিয়ে নেওয়ার পর তা দুধসাদা একটি পাউডারএর আকারে পাওয়া যায়, তাকেই বলে অ্যারারুট পাউডার।

তাহলে এবার দেখে নেওয়া যাক অ্যারারুটএর সাহায্যে কীভাবে ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া যায়।

# ফেস মাস্ক হিসেবে অ্যারারুট

Banglalive-8

ঘরোয়া ফেস মাস্কে অ্যারারুট ব্যবহার করলে তা ত্বকের হারানো ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। এর জন্য যে যে উপকরণগুলি প্রয়োজন সেগুলি হল৮ থেকে ১০টি কালো আঙুর, চা চামচ অ্যারারুটের গুড়ো, চা চামচ ইওগার্ট এবং এক চাচামচ লেবুর রস ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ওই মিশ্রণ ত্বকের উপরে প্রলেপ দিয়ে নিতে হবে। ১৫২০ মিনিট পর্যন্ত রেখে তা ত্বকের উপরেই শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর ঈষৎউষ্ণ জলে আলতো ভাবে মুখ ধুয়ে নিলেই  হবে ।

Banglalive-9

# অ্যাকনে দূর করতে অ্যারারুট

বয়ঃসন্ধিকালে বা তার পরেও ত্বকে র‍্যাশ, পিম্পল বা অ্যাকনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু অ্যারারুটএর সাহায্যে এইধরনের সমস্যারও চটজলদি সমাধান পাওয়া সম্ভব। সামান্য জলের সঙ্গে অ্যারারুট মিশিয়ে একটু ঘন পেস্ট তৈরি করে নিয়ে ওই মিশ্রণ পিম্পল বা অ্যাকনের উপরে লাগালেই তাতে ভাল ফল পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এই মিশ্রণ ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমিয়ে ত্বকের তৈলাক্তভাব কমাতে সাহায্য করে।

# প্রাকৃতিক মেকআপ

রাসায়নিক মেক আপের হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক মেকআপ। বেস মেকআপ হিসেবে অ্যারারুট পাউডারের জুরি মেলা ভার। অ্যারারুটএর সঙ্গে কোকো পাউডার, দারুচিনির গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে বেস। আবার এই মিশ্রণ থেকে দারুচিনির গুঁড়ো বাদ দিয়ে দিলেই তৈরি করে নিতে পারেন ব্রোঞ্জার, হাইলাইটার এমনকী আইশ্যাডোও।

# বেবি পাউডার এবং ট্যালকম অ্যারারুটএর ব্যবহার

দক্ষিণ আমেরিকায় মূলত বেবি পাউডারে অ্যারারুট স্টার্চ ব্যবহার করা হয়। এটা অত্যন্ত হালকা, রঙ সাদা, এবং ত্বকে লাগালে একটি নরম মোলায়েম অনুভূতি হয়। শুধু বেবি পাউডারেই নয়, সাধারণ ময়েশ্চারাইজার বা ট্যালকম পাউডারেও অ্যারারুট পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যারারুট ত্বকের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

সংক্রমণ রুখতে অ্যারারুট

গুটি বসন্ত বা গ্যাংগ্রিনএর ফলে ত্বকে নানারকম সংক্রমকজনিত সমস্যা দেখা যেতে পারে। ত্বকের সংক্রমণ এড়াতে বা ত্বকের যেকোনওরকম অস্বস্তি এড়াতে অ্যারারুট ব্যবহার করা যেতে পারে।

# ডিওডোর‍্যান্ট

দামী ডিওডোর‍্যান্ট না লাগিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনার পছন্দের ডিওডোর‍্যান্ট। এর জন্য লাগবেঅ্যারারুট পাউডার, বেকিং সোডা, নারকেল তেল, আপনার পছন্দমতো এক বা একাধিক এসেন্সিয়াল তেল (যা মূলত সুগন্ধী হিসেবে ব্যবহার করা হয়)। প্রত্যেকটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে একটি স্প্রেবোতলে ভরে নিয়ে ব্যবহার করুন ইচ্ছেমতো।

# চুলে ডাই করার কাজে অ্যারারুট

মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে? চুলের ঘনত্ব কমে যাচ্ছে? চুল পড়ে যাচ্ছে? ইত্যাদি নানা সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে অ্যারারুট। আর এজন্যই বহু নামীদামী কোম্পানী হেয়ার ডাই পাউডারে অ্যারারুট মিশিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন:  ঘি তো নয়‚ যেন অমৃত !

NO COMMENTS